নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ শুরু



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী ‘নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২২। নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সচেতনতা বাড়াতে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে চলবে ২৫ মে পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) বিকাল ৩টায় সদরঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌ নিরাপত্তা দিবসের উদ্বোধন করবেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

এবারের নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘প্রশিক্ষিত জনবল ও নিরাপদ জলযান, নৌ নিরাপত্তায় রাখবে অবদান।

নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেছেন, নৌ-যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক পরিবহন নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের বিকাশমান অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’। বর্তমান সরকারের শাসনামলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, কূটনৈতিক সাফল্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ প্রতিটি সেক্টরে আমরা নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ব্যাপক উন্নয়ন করেছি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার নৌ সেক্টরের উন্নয়নের লক্ষ্যে নৌপথের সংরক্ষণ ও নৌপরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের সকল নদীকে দখলমুক্ত করা এবং নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন নদীবন্দর স্থাপনসহ সকল নদীবন্দরকে আধুনিকীকরণ, নদীবন্দরের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা, নৌ পথের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, পটুয়াখালী জেলায় তৃতীয় সমুদ্রবন্দর স্থাপন, উপকূলীয় দুর্গম পথে যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা চালুকরণ, কন্টেইনার টার্মিনাল স্থাপন, স্থলবন্দরের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নসহ আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন ও কুতুবদিয়ায় অবস্থিত লাইট হাউজসমূহ আধুনিকীকরণ এবং নিঝুম দ্বীপ, ঢালচর, দুবলারচর ও কুয়াকাটায় নতুন লাইটহাউজ ও কোস্টাল রেডিও স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে মেরিটাইম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নসহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় এলাকায় দুর্ঘটনা কবলিত সকল ধরনের নৌযান উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করা যাবে।

সরকার প্রধান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই পঞ্চাশের দশক থেকে নদী ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ভাবতেন। তিনি সদ্য স্বাধীন মাতৃভূমির শাসনভার হাতে নিয়েই নদীমাতৃক বাংলাদেশের নৌচলাচল ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নৌপথের পলি অপসারণ ও নদী খননের জন্য স্বাধীন দেশে ৭টি ড্রেজার আমদানির মতো সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নদীর প্রতি তাঁর ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নৌ সেক্টরের গুরুত্ব অনুধাবন করে উন্নয়নের যে ধারা শুরু করেছিলেন, তা অনুসরণ করে বর্তমান সরকার নৌ পরিবহণের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রেখেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা নৌপথের উন্নয়নে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করেছি। বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হতে চলেছে। সরকার বিশ্বে প্রথম শত বছরের ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, নদীবেষ্টিত বাংলাদেশে নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ পালনের গুরুত্ব অপরিসীম। অন্যান্য পরিবহনের তুলনায় নৌপথ অধিকতর সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। সরকার নৌ পথের উন্নয়ন ও চলাচল উপযোগী রাখতে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। এ লক্ষ্যে নৌপথের নাব্যতা রক্ষায় খনন কাজ পরিচালনা, নৌযানের চলাচল নিরাপদ ও দুর্ঘটনামুক্ত করতে আধুনিক নৌযান এ লক্ষ্যে নৌপথের নাব্যতা রক্ষায় খনন কাজ পরিচালনা, নৌযানের চলাচল নিরাপদ ও দুর্ঘটনামুক্ত করতে আধুনিক নৌযান তৈরি ও তাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ নদী বন্দরসমূহ আধুনিকীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নৌপথের নিরাপত্তা বিধানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরিতে এগিয়ে আসার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, নৌপরিবহন নিরাপদ ও আধুনিক করতে নদীপথে চলাচলকারী লঞ্চ মালিক, শ্রমিক ও যাত্রীসাধারণকে আরো অধিক সচেতন হতে হবে। নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌযানে পর্যাপ্ত সংখ্যক জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম সংরক্ষণ, ধারণ ক্ষমতার অধিক যাত্রী ও মালামাল পরিবহণ রোধসহ নৌপরিবহণ সংক্রান্ত আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ খুবই জরুরি। আমি আশা করি, কালবৈশাখী ও বর্ষা মৌসুমসহ বছরব্যাপী নৌপথে চলাচলকারী সকল যাত্রী ও নৌযানসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে নৌ নিরাপত্তা পালন ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

কোম্পানীগঞ্জে অটোরিকশা-পিকঅ্যাপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
কোম্পানীগঞ্জে অটোরিকশা-পিকঅ্যাপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২

কোম্পানীগঞ্জে অটোরিকশা-পিকঅ্যাপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২

  • Font increase
  • Font Decrease

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ব্যাটারী চ্যালিত অটোরিকশা ও বেপরোয়া গতির পিকঅ্যাপ ভ্যানের মুখোমুখি সংষর্ষে ২ অটোরিকশা যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় অটোরিকশা চালক মামুন (৪৫) গুরুতর আহত হয়েছে।  

নিহত জালাল উদ্দিন মিলন (৪৮) কবিরহাট উপজেলার চাপরাশিরহাট ইউনিয়নের হানিফ বিএসসি বাড়ির মন্নান দরবেশের ছেলে ও লিলি বেগম (৩৫) কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের বাদামতলী এলাকার আলী সওদাগরের স্ত্রী।  

সোমবার (৪ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের বিজয় নগরের বাংলাবাজার টু সোনাপুর সড়কের তের চোরার বেড়ি দোকান ঘর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।  

চরফকিরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জায়দল হক কচি জানান, দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকা থেকে একটি পিকঅ্যাপ ভ্যান সোনাপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এসময় পিকঅ্যাপ ভ্যানটি চরফকিরা ইউনিয়নের তের চোরার বেড়ি দোকান ঘর এলাকায় পৌঁছলে চাপরাশিরহাট সংযোগ সড়ক থেকে একটি অটোরিকশা বাংলাবাজার টু সোনাপুর সড়কে উঠলে পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মিলন গুরুত্বর আহত হয়ে মারা যায়। অপরদিকে, গুরুতর আহত অবস্থায় অটোরিকশা যাত্রী লিলি বেগম ও অটোরিকশা চালক মামুনকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক লিলি বেগমকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শ (তদন্ত) এসএম মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। স্থানীয় লোকজন পিকআপ ভ্যান ও ঘাতক চালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

;

ডেঙ্গুতে রাজধানীতে আক্রান্ত ৩১ জন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ডেঙ্গুতে রাজধানীতে আক্রান্ত ৩১ জন

ডেঙ্গুতে রাজধানীতে আক্রান্ত ৩১ জন

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীসহ সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩১ জন ও ঢাকার বাইরে পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছেন। সারা দেশে মোট ১৪৪ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ডেঙ্গু বিষয়ক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ১৪৪ জন ভর্তি রোগীর মধ্যে ঢাকার ৪৭টি ডেঙ্গু ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১২৫ জন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরে ১ জানুয়ারি থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় সর্বমোট এক হাজার ২৩৮ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ১ হাজার ৯৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কোনো রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

;

২৪ ঘণ্টায় করোনায় ১২ জনের মৃত্যু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু দাঁড়াল ২৯ হাজার ১৭৪ জনে। 

সোমবার (৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

একই সময়ে ২ হাজার ২৮৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৮০ হাজার ৯৭৪ জনে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৩ হাজার ৮৪২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৫১ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৪৮২ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৮ হাজার ৭৭৯ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের ৯ জন ঢাকা বিভাগের। চট্টগ্রাম, খুলনা ও ময়মনসিংহে ১ জন করে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী। 

দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত (কোভিড-১৯) প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। তার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

;

টাঙ্গাইলে দেড় বছর পর ক্লু-লেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন পিবিআই’র



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলে দেড় বছর পর ক্লু-লেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন পিবিআই’র

টাঙ্গাইলে দেড় বছর পর ক্লু-লেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন পিবিআই’র

  • Font increase
  • Font Decrease

 

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার দেওভোগ দক্ষিনপাড়া এলাকার ক্লু-লেস হযরত আলী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) টাঙ্গাইল। হত্যাকান্ডে জড়িত হযরত আলীর নাতি আসিফকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সোমবার(০৪ জুলাই) দুপুরে এক প্রেসবিফিং এর মাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশ করেছে পিবিআই। পিবিআই জানিয়েছেন জায়গা জমির ভাগ বাটোয়ার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাপ-ছেলের মধ্যে বিরোধ চলছিল। আর এ কারনেই এই হত্যাকাণ্ড।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, বিগত ২০২১ সালের (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হযরত আলী ও তার বড় ছেলে জাহাঙ্গীর এবং নাতি আসিফ কুমুল্লির বিলে নিজেদের জায়গায় পানি সেচে মাছ ধরতে যায়। সেখান থেকেই নিখোঁজ হয় হযরত আলী। পরে ২০২১ সালের (৩ মার্চ) সকালে বাদীর চাচাতো ভাই মোস্তফা ঘটনাস্থলের পাশে ইরি ক্ষেতে সার দিতে গিয়ে দূর্গন্ধ পায়। পরে সে তার ক্ষেতের পাশে পুকুরে কচুরী পানার মধ্যে একটি লাশ দেখতে পায়। এ সময় তার ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। পরে বাদী সুজন মোল্লা তার পিতার লাশ সনাক্ত করে। এ বিষয়ে মির্জাপুর থানায় অজ্ঞাতনামা একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলাটি পিবিআই তদন্তভার গ্রহণ করে। পিবিআই এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমিনের দিক নির্দেশনায় তথ্য প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পরিদর্শক খন্দকার আশরাফুল কবির ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নি:) ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি চৌকশ দল অভিযান পরিচালনা করে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি এলাকা থেকে আসিফ (১৮) কে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার হওয়া আসিফ জানায়, ডিসিস্ট হযরত আলী, সে ও তার মামা জাহাঙ্গীর মোল্লা ঘটনার রাতে মাছ ধরতে যায়। পরে জাহাঙ্গীর পিছন থেকে তার বাবা ডিসিস্ট হযরত আলীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। এ সময় আসিফকে তার মামা জাহাঙ্গীর হত্যার বিষয়ে কাউকে কিছু বলতে নিষেধ করে এবং লাশ গুম করার জন্য সহযোগিতা করতে বলে। লাশ গুম করতে যদি সহযোগিতা না করে তাহলে তাকেও হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয় জাহাঙ্গীর। পরে অফিস ও তার মামা হযরত আলীর লাশ পুকুরের এক পাশে কচুরি পানা দিয়ে ঢেকে রাখে এবং ডিসিস্টের রক্ত পানি ও কাঁদা দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখে। পরে তারা বাড়ি চলে যায়।

পিবিআই আরো জানায়, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ডিসিস্টের বড় ছেলে আসামি জাহাঙ্গীর মোল্লা কারাগারে রয়েছে।

;