পানিতে ভাসছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, টাঙ্গাইল
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পানি বৃদ্ধির ফলে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় পাকা ধান ডুবে যাচ্ছে।

রোববার (২২ মে) সকালে বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ও বাসাইল সদর ইউনিয়নের রাশড়া, মিরিকপুর, হান্দুলী, জিকাতলী পাড়া, সৈয়দামপুর, পৌলী, যৌতুকীতে গিয়ে দেখা যায়, হাঁটু পানিতে নেমে ধান কাটছে কৃষকরা। আবার কেউ কাটা ধান নৌকাযোগে উঁচু স্থানে তুলছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে এক লাখ ৭১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেখানে চাষ হয়েছে এক লাখ ৭২ হাজার ৫৫৩ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন। জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে ভূঞাপুর, নাগরপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর, দেলদুয়ার ও বাসাইলের বিভিন্ন এলাকার জমিতে পানি প্রবেশ করেছে।

বাসাইল কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কৃষক প্রদীপ সরকার বলেন, দুই বছর আগে পানিতে ধান ডুবে গেছিল। এবারও জমিতে পানিতে ঢুকছে। এবছর ৩০০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। এক বিঘা জমি আবাদ করতে খরচ হয়েছে ৫-৬ হাজার টাকা। আর ধান কাটতে ৮-৯ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এই ধান যদি ডুবে যায় আমরা কি খামু। আমরা বছরে দুইটা ফসল ফলাই। চকে সব ধান রয়ে গেছে। কি করুম কিছু বুঝতাছি না। দু-তিন দিনের মধ্যে পানি এসে পরলো। ধান কাটা এখনো শেষ করতে পারি নাই। ১০০০-১২০০ টাকা করেও শ্রমিক পাওয়া যায় না।

কাটা ধান নৌকাযোগে উঁচু স্থানে নেওয়া হচ্ছে

জিকাতলী পাড়া গ্রামের চাষি সাধন সরকার বলেন, আমার প্রায় জমিতে পানি উঠেছে। এক হাজার টাকা মজুরিতে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে। যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে উঁচু জমিগুলোতে পানি উঠে যাবে। আর নিচু জমির ধান না কাটতে পারলে ডুবে যাবে। বাতাসে ধান নুয়ে গেছে। ধানের দাম কম আর শ্রমিকের দাম বেশি।

কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী বিজয় সরকার বলেন, জমিতে পানি উঠেছে, হাঁটু জলের মধ্যে ধান কাটতেছে। যদি ধান না কাটতে পারি তাহলে জমির ধান ডুবে যাবে।১২০০ টাকা করে শ্রমিক তাও পাওয়া যায় না। যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে উঁচু জমিতেও পানি উঠবে। এবার ধান আবাদে কৃষক লোকসানের মুখে পড়বে।

ঈদের আগে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল নয়



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র ঈদুল আজহার আগে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচলের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

রোববার (৩ জুলাই) মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন ক্যামেরা বসবে, বসানো হবে স্পিডগানও। তারপর পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত ২৭ জুন ভোর ৬টা থেকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরদিন সকাল থেকে সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

 

;

ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

নির্বাচনের সময় জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ক্ষমতায় গিয়ে ভুলে যায়নি মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা একেবারে তৃণমূল থেকে। বিশেষ করে আমাদের লক্ষ্যটা হলো আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছি তা বাস্তবায়ন করতে চাই।

রোববার (০৩ ‍জুলাই) মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলোর ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর এবং ‘বার্ষিক কর্মসম্পাদন পুরস্কার ২০২২’ ও ‘শুদ্ধচার পুরস্কার ২০২২’ বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব বলেন তিনি।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, উন্নয়ন কাজের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন সবাইকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনারা আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করেছেন বলেই আমরা কাজটা করতে পেরেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের লক্ষ্যটা হলো আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছি সেটা আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা রাজনীতি করি, আমাদের দল আছে। আমরা যখন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সময় একটা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলো দেয়নি, আমরা বিনাপয়সায় সবাইকে করোনা টেস্ট ও ভ্যাকসিন দিয়েছি। বুস্টার ডোজও দেওয়া হচ্ছে। আমি আশা করি সবাই এ ভ্যাকসিন নেবেন।

এ সময় মুজিব বর্ষের গৃহনির্মাণ কর্মসূচির বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িতদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান সরকার প্রধান।

;

বিদেশ থেকে আনা ১৭ প্রাণী চিড়িয়াখানার দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানার জন্য নতুন করে ১৭টি প্রাণী বিদেশ থেকে আনা হয়েছে। কিন্তু কোয়ারেন্টাইন সময় ২১ দিন শেষ হওয়ার আগেই প্রাণীগুলো দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু নিয়মানুযায়ী কোয়ারেন্টাইন সময় পার হলেই দর্শনাথীদের জন্য উন্মুক্ত করতে হয়।

চিড়িয়াখানা সূত্র জানায়, দর্শনার্থীদের বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ করতে আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় আনা হয়েছে সিংহ, পেনিক্যান, লামা ও উইল্ড বিস্ট।

এ বিষয়ে চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মুজিবুর রহমান বার্তা২৪.কমকে জানান, আমরা সম্প্রতি বেশ কিছু প্রাণী হাতে পেয়েছি। তবে এগুলো এখন কোয়ারেন্টাইন সময় পার করছে। কিছু প্রাণী গ্রহণ করা হয়েছে। কিছু প্রাণী ঠিকাদারদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়নি। কোয়ারেন্টাইন সময়ে কোনও প্রাণি মারা গেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নতুন প্রাণী সরবরাহ করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন প্রাণীকে নিজেদের হাসপাতালে নিবির পরিচর্যা কেন্দ্রে না রেখে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা ঠিক হয়নি। এতে করে দর্শনার্থীরা বিরক্ত করলে নিজেদের মধ্যে মারামারিসহ অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ হতে পারে।

সূত্র আরও জানায়, গত ৩ জুন চার সিংহকে বুঝে নিয়েছে জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। আর তিনটি পেনিক্যান, চারটি লামা, দুটি ক্যাঙ্গারু ও তিনটি উইল্ডিবিস্টকে এখনেও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বুঝে নেওয়া হয়নি। গত ২৪ জুন এই প্রাণীগুলোকে শেডে দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এদের ২১ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এরমধ্যে কোনো ধরনের সমস্যা হলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এর দায়দায়িত্ব নেবে। ২১ দিন পর প্রাণীগুলোকে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বুঝে নেবে।

প্রতিটি লামা ৩ লাখ ৭৮ হাজার টাকা, পেনিক্যাল ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা, সিংহ ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ক্যাঙ্গারু ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা আর উইল্ডিবিস্ট ৬ লাখ টাকায় সরবরাহ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১২ সালের মে মাস থেকে আগস্ট পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফেলকন ইন্টারন্যাশনাল ঢাকা চিড়িয়াখানার জন্য ৩০ প্রজাতির ২৩০টি প্রাণী সরবরাহ করেছিল। তখন প্রায় ৫ কোটি টাকার প্রাণী সংগ্রহ করা হয়েছিল।

;

গলায় জুতার মালা পরে শিক্ষক হেনস্তা ও হত্যার প্রতিবাদ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
গলায় জুতার মালা পরে শিক্ষক হেনস্তা ও হত্যার প্রতিবাদ

গলায় জুতার মালা পরে শিক্ষক হেনস্তা ও হত্যার প্রতিবাদ

  • Font increase
  • Font Decrease

সাভারে আশুলিয়ায় শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা ও নড়াইলে পুলিশের সামনে শিক্ষককে হেনস্তার ঘটনায় গলায় জুতার মালা পরে প্রতিবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রামের এক স্কুলশিক্ষক।

শনিবার (২ জুলাই) শহরের আন্দরকিল্লা মোড়ে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে তিনি এই প্রতিবাদ জানান।যদিও রোববার তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ছবিতে দেখা যায়, এক শিক্ষকের গলায় ঝুলানো ছিল কয়েকটি জুতা এবং ‘শিক্ষক শিক্ষাগুরু মনিষী কথন, শিক্ষক বিহনে শিক্ষা নহে কদাচন’ বাণী লেখা একটি ফেস্টুন।

ওই শিক্ষকের নাম শেখর ঘোষ। তিনি বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি রাউজানের (দক্ষিণ) যুগ্ম সম্পাদক ও রাউজান মহামুনি এংলো-পালি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

এমন ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ সম্পর্কে মোবাইল ফোন জাইতে চাইলে শিক্ষক শেখর ঘোষ বলেন, শিক্ষকদের জাতির বিবেক বলা হয়। বিভিন্ন থানায় ওসি, এসপি হিসেবে যারা আছেন তারাও কোনো না কোনো শিক্ষকের ছাত্র। তাদের সামনে যদি কোনো শিক্ষককে জুতার মালা পরানো হয়, এটা তো মেনে নেওয়া যায় না। এটা শিক্ষকের গলায় না, পুরো জাতির গলায় জুতার মালা পরানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আরেকজন শিক্ষককে তারই ছাত্র পিটিয়ে হত্যা করেছে। শিক্ষক হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই এসব আমি মেনে নিতে পারি না। আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এসব দেখে। তাই শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে গলায় জুতার মালা পরে আমার এই প্রতীকী প্রতিবাদ।

;