শিক্ষানগরী ময়মনসিংহকে প্রযুক্তির নগরীতে রূপ দেওয়া হচ্ছে: পলক



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক

  • Font increase
  • Font Decrease

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, শিক্ষানগরী ময়মনসিংহকে প্রযুক্তির নগরী তৈরি করার জন্য হাইটেক পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যে ময়মনসিংহকে বোমা, সন্ত্রাস, দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছিল বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসী জোট সরকার, সেই ময়মনসিংহকে আজ শিক্ষা নগরী থেকে প্রযুক্তি নগরী তৈরিতে জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে হাইটেক পার্ক উপহার দিয়েছেন।

বুধবার (২২ জুন) দুপুরে সাত একর জমির ওপর ময়মনসিংহ সদরের কিসমত রহমতপুরে ‘হাইটেক পার্ক’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে ১৩ বছর আগে প্রযুক্তির কোন কনসেপ্ট আমাদের তরুণদের সামনে ছিল না। ডিজিটাল কর্মসংস্থানের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে দেশে তা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ব্রেন চাইল্ড।

তিনি আরও বলেন, এখানে প্রায় ৩০০০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় প্রতিবছর ১০০০ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, খুব দ্রুত এই হাইটেক পার্কের নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে যাবে এবং দুই বছরের মধ্যে এখানে আমরা কার্যক্রম শুরু করবো। এখান থেকে এক হাজার তরুণ-তরুণী প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে। এই তরুণ-তরুণীরা ময়মনসিংহের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসেই ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে ডলার আয় করবে। নিজেরা উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের তরুণরা আর জব সিকার নয়, জব ক্রিয়েটর হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করবে। ডলার আয়ের জন্য এখন আর বিদেশে পাড়ি দেওয়ার প্রয়োজন নাই। এটাই শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল। বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি, কাজেই বাংলাদেশকে শ্রীলংকা-পাকিস্তান বা অন্য কোনো ব্যর্থ রাষ্ট্রের সাথে তুলনার সুযোগ নেই।

এসময় গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, ময়মনসিংহ সিটি কপোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু, জাতীয় সংসদের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য বেগম মনিরা সুলতানা ও ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু, বিভাগীয় কমিশনার শফিকুর রেজা বিশ্বাস, রেঞ্জ ডিআইজি শাহ আবিদ হোসেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক, পুলিশ সুপার মোহা.আহমার উজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে নির্বাচনের ইতিহাসে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক)-এর নির্বাচনকে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, তাঁর সরকার জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।

একটি উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যদিয়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখনে মানুষ কেবল স্বতস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকারই প্রয়োগ করেনি নির্বাচনটাও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে। আমি মনে করি, নির্বাচনের ইতিহাসে এটা একটা দৃষ্টান্ত।’

জনসাধারণ যাতে তাদের ভোটাধিকার যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে পারে সেজন্য তাঁর সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশেরই মধ্যেই দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিহিত।

প্রধানমন্ত্রী আজ অপরাহ্নে কুসিক-এর নবনির্বাচিত মেয়র এবং কাউন্সিলরগণের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

তিনি গণভবণ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের এই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

শেখ হাসিনা মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখতে এবং তাদের প্রতি যথাযখ ভাবে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করার জন্য কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এটা চাই জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের প্রতি আপনার যে কর্তব্য ও  দায়িত্ব রয়েছে তা আপনারা যথাযথভাবে পালন করবেন, যাতে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আপনাদের উপর থাকে।

তিনি বলেন, যে বিশ্বাস নিয়ে আপনাকে ভোট দিয়েছে সেই বিশ্বাসে যেন কখনো চিড় না ধরে, সেই বিশ্বাস যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেই বিশ্বাসকে ধরে রেখে আরো বিশ্বাস যাতে অর্জন করতে পারেন সেদিকে আপনারা বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী আওয়ামী লীগের বিজয়ী প্রার্থী আরফানুল হত রিফাতকে ভার্চুয়ালি শপথ বাক্য পাঠ করান। অন্যদিকে, সংরক্ষিত আসনের নয় জন মহিলাসহ ৩৬ জন নির্বাচিত কাউন্সিলরদের শপথ বাক্য পাঠ করান এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান যুগ মূলত প্রযুক্তিনির্ভর এবং বেশিরভাগ দেশই তাদের নির্বাচনে প্রযুক্তি ও নির্বাচনী ভোটিং মেশিন ব্যবহার করছে। নির্বাচনের ক্ষেত্রে জনগণ যেন তাদের ভোটের অধিকারটা উপভোগ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে যা যা করার আওয়ামী লীগ সরকার করে যাচ্ছে। কেননা, আওয়ামী লীগ জন্মলগ্ন থেকেই মানুষের অধিকার নিয়ে সংগ্রাম করেছে এবং দলটির প্রতিষ্ঠাই হয়েছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে।

তিনি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স প্রতিস্থাপন, ছবিসহ নির্বাচনী ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং ভোটার তালিকা থেকে ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটারকে বাদ দিয়ে নির্বাচন ব্যাবস্থাকে স্বচ্ছ ও যুগোপযোগীকরণে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় মহাজোটের অবদানের কথার স্মরণ করেন। ’৭৫ পরবর্তী সময়ের সামরিক সরকারের অধীনে এদেশে সংঘটিত নির্বাচনের নামে প্রহসন এবং জিয়াউর রহমানের বিতর্কিত, ‘হ্যাঁ’ ‘ন’া ভোট, রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচনসহ খালেদা জিয়ার ২০০৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটার বিহীন নির্বাচনের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।

দেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে যার সুফল দেশের মানুষ পাচ্ছে জানিয়ে বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রায় ৯০ ভাগ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হয় বলেও জানান সরকার প্রধান।

‘ঋণ করে ঘি খাওয়ার পলিসি’তে তাঁর সরকার বিশ^াসী নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে তিনি এমনও দেখেছেন নিজের দেশের অর্থ অন্যের হাতে তুলে দিয়ে সেখান থেকে আবার কমিশন খেয়ে অর্থ নিয়ে আসছে। কিন্তু, এই টাকা তো জনগণের টাকা।

 দেশে কোন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহনের আগে মানুষ কিভাবে তার সুফল পাবে সেটা বিবেচনায় রাখা হয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ইতোপূর্বে তাঁর সরকার কুমিল্লার টেকসই উন্নয়নে ১ হাজার ৫শ’ ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। যদিও সে সময় কুমিল্লার মেয়র অন্য দলের ছিল।

তিনি বলেন, মেয়র কোন দলের আমরা সেটা দেখি নাই আমরা কুমিল্লার উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়েছি।

তিনি প্রকল্প গ্রহণকালে সেটা যেন জনগণের উপযোগী হয়, সেই বিষয়ে লক্ষ্য রাখার জন্য নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু একটা অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য গড়ে তোলা না। এর মাধ্যমে জনগণের কি লাভ হবে, এর মধ্যদিয়ে আমরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কতটুকু অবদান রাখতে পারছি বা ওই এলাকার উন্নয়নে কতটুকু অবদান রাখতে পারছি। সেটাই বিবেচ্য হতে হবে।

কুমিল্লা নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বাস ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ সংক্রান্ত উন্নয়নমূলক কাজের বিষয়ে তিনি নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি কথা মাথায় রাখুন আপনি যদি সততার সাথে কাজ করেন তাহলে জনগণ সুফল পাবে এবং জনগণকে সন্তুষ্ট করতে পারলে এমনিতেই তারা আপনাকে ভোট দেবে।

প্রধানমন্ত্রী কোভিড-১৯ মহামারী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির কারণে জ্বালানি-পেট্রোল ও ডিজেল-এবং বিদ্যুতসহ দ্রব্যসামগ্রী ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য জনগণকে পরামর্শ দেন।

তিনি জনগণকে আরও ফসল ফলানোর জন্য এবং এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি না রাখার আহ্বান জানান। কারণ, বিশে^র অনেক দেশই এখন খাদ্য সংকটের মুখোমুখি।

 কোভিড-১৯ সংক্রমণের নতুন তরঙ্গের পরিপ্রেক্ষিতে, প্রধানমন্ত্রী জনগণকে সেই অনুযায়ী স্বাস্থ্য প্রোটোকল অনুসরণ করতে এবং করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ নিতে বলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের সকল জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজেই বিজয়ী জাতি হিসেবে এদেশে সকল মানুষ তার সকল রকম অধিকার ভোগ করবে। তাদের মৌলিক অধিকার, ভোটের অধিকার, গণতন্ত্রের অধিকার নিশ্চিত হবে।

তাছাড়াও, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে একেবারে অনগ্রসর জাতিসহ সকলের কল্যাণে আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে।

 শেখ হাসিনা বলেন, আমরা অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাস করি। আমরা চাই, বাংলাদেশ সব সময় এই অসাম্প্রদায়িক চেতনায়ই গড়ে উঠবে। সকল ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা থাকবে, সেটা আমাদের পবিত্র কোরআন শরীফেও দেওয়া আছে। সেটা হল, কেউ কারো ধর্মীয় অনুভূতির উপর আঘাত দেবে না বা ধর্ম পালনে বাঁধা-নিষেধ দেবে না।

বাংলাদেশ সেই চেতনায়ই বিশ্বাস করে এবং সেই চেতনা নিয়েই আমরা এগিয়ে যাব বলেন প্রধানমন্ত্রী।

;

রংপুরে ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত বেড়ে ৫



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
রংপুরে ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত বেড়ে ৫

রংপুরে ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত বেড়ে ৫

  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুরে ডাম্প ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫ জনের দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ জুলাই).সন্ধ্যায় রমেক হাসপাতালের চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মাসুদ উল আলম। এর আগে মঙ্গলবার দুপুর একটার দিকে ওই সড়কের সরেয়ার তল নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন পীরগাছা উপজেলার দেবী চৌধুরাণী এলাকার অটোচালক রাজা মিয়া (৪৬), শাহজাহান মিয়া (৫৫), গীতা রানী (৬০) ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তালুক বেলকা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফয়জার রহমান(৭০) ও তার নাতনী জান্নাত মাওয়া (৭)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, চৌধুরানী থেকে একটি অটোরিকশায় করে ৮ যাত্রী রংপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে সরেয়ারতল নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ড্রাম ট্রাক অটো রিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন জনের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজনের মৃত্যু হয়।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মাহিগঞ্জ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

;

পুকুরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
পুকুরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনের মুত্যু

পুকুরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনের মুত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে একই পরিবারের দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১ টায় উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের বানিয়াখোলা ৬ নম্বর ওয়ার্ড পূর্ব পাড়া আহমদ সৈয়দ মেম্বার বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই শিশুর নাম লাবিবা আকতার (৫) ও মো. আলিফ (৪) । লাবিবা ওই এলাকার মাহাবুবুল আলমের মেয়ে ও ইউনিয়নের এলাকার সৈয়দুল আলমের ছেলে আলিফ। তারা সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই-বোন।

জানা গেছে, সকালে দু'জনে খেলা করার সময় একপর্যায়ে পুকুরের পাশে চলে গেলে বাবা মায়ের অগোচরে পানিতে ডুবে যায়। পরে স্বজনরা পানিতে লাশ ভেসে থাকতে দেখলে সেখান থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রফিক উদ্দীন তালুকদার বলেন, শিশু দুটির পানিতে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে এসে দেখি তারা মারা গেছে। এমন অকল্পনীয় মৃত্যুতে আমরা মর্মাহত ও শোকাভিভূত।

রাঙ্গুনিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ফাহিমা আক্তার বলেন, দুপুর সোয়া ১টার দিকে দুই শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়। আমরা দুজনকেই মৃত অবস্থায় পেয়েছি। হাসাপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়।

;

সহসা কমছে না বিদ্যুতের লোডশেডিং!



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সহসা কমছে না বিদ্যুতের লোডশেডিং!

সহসা কমছে না বিদ্যুতের লোডশেডিং!

  • Font increase
  • Font Decrease

গরমে যখন দেশের মানুষের ত্রাহী অবস্থা তখন সারাদেশ থেকেই বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনেক জায়গায় দিনে ও রাতে দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। পাবনা থেকে একজন তার ফেসবুকে লিখেছেন পনের দফায় লোডশেডিংয়ের কথা।

হঠাৎ করেই শুরু হওয়া লোডশেডিং কবে দূর হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কেউই কিছু বলতে পারছেন না। তবে লোডশেডিংকে শৃঙ্খলায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার সেল’র মহাপরিচালক মোহম্মদ হোসাইন।

তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আমাদের বুঝতে হবে পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিকে ভুলে গেলে চলবে না। ইউক্রেন যুদ্ধের পর জ্বালানির বাজারের যে অবস্থা এখানে আমাদের কারও হাত নেই। যে এলএনজি ৫ ডলারে পাওয়া যেতে সেটুকু কিনতে হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ ডলারে। জার্মানি, ইতালির মতো উন্নত রাষ্ট্র লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে।

জার্মানিতে কি যখন তখন লোডশেডিং করা হয়? জবাবে বলেন, আমরা লোডশেডিংকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার পরিকল্পনা নিয়েছি। যাতে গ্রাহকরা আগে থেকেই প্রস্তুতি রাখতে পারেন। দিনে পনের দফায় লোডশেডিং প্রসঙ্গে বলেন, দেখেন কোথাও টানা দুই ঘণ্টা লোডশেডিং করা কঠিন। ২ ঘণ্টা লোডশেডিং করা হলে ফ্রিজের খাবার নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আবার একটানা ফ্যান ছাড়া থাকাও কষ্টের। তাই টানা ৩০ মিনিটের বেশি লোডশেডিং না করার বিষয় শৃঙ্খলায় আনার পরিকল্পনা চলেছে।

অতীতে তুলনামুলক রাতে কম লোডশেডিং হতো। এখন মধ্য রাতেও কেনো লোডশেডিং হচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, এখন চাহিদার প্যাটানটা বদলে গেছে। পিক আওয়ারের (রাত ৯টা) কাছাকছিই থাকছে ভোররাতেও চাহিদা। ৪ জুলাই রাত ৯টায় উৎপাদন করা হয়েছে ১২ হাজার ২৩৬ মেগাওয়াট, ওই দিন ভোর ৪টায় ১১ হাজার ৫৯১ মেগাওয়াট। অতীতে দেখা যেতো ভোর রাতের দিকে ৬ থেকে ৭ হাজার মেগাওয়াটের নিচে চাহিদা নেমে আসত।

তিনি বলেন, ১৪’শ এমএমসিএফডির মতো গ্যাস সরবরাহ পেলে সমস্যা হতো না। কয়েকমাস আগেও ১ হাজারের উপর গ্যাস পাওয়া গেছে। এখন ৯’শ এমএমসিএফডির নিচে নেমে এসেছে। সে কারণে গ্যাস ভিত্তিক অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র বসে থাকছে। বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল জ্বালানি তেল ব্যবহার করেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। ৪ জুলাই রাত ৯ টায় ৪ হাজার ৮০৯ মেগাওয়াট গ্যাস দিয়ে, তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৫ হাজার ৪৯৫ মেগাওয়াট, কয়লা থেকে ৭৯৭, হাইড্রো থেকে ১২২ মেগাওয়াট এবং আমদানি থেকে ১ হাজার ১৩ মেগাওয়াট। ওই সময়ে চাহিদার প্রাক্কলন ছিল ১৫ হাজার মেগাওয়াটের মতো।

ঠিক কবে নাগাদ এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি আসবে এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি। তিনি বলেছেন, আমরা চেষ্টা করছি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে। বিশ্ববাজার এখন যে দাম বিরাজ করছে, তা স্বাভাবিক বলা যায় না। পরিস্থিতি যাই থাকুক একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে একটা সিস্টেম গড়ে উঠবে। তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে আমাদেকও।

অন্যদিক বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনেকদিন ধরেই বলে আসছেন। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে দু’টি জটিলতা বাংলাদেশের সামনে। একটি হচ্ছে পণ্যের উচ্চমূল্য, আরেকটি হচ্ছে পণ্যের প্রাপ্যতা। অনেক উন্নত দেশ ডলার নিয়ে বসে আছে দাম যা হোক তাদের গ্যাস চাই। আমরা গ্যাস চাই আবার দামও কম চাই। বিষয়টি খুবই জটিল সে কারণে গ্রাহকদের মিতব্যায়ী হতে হবে। গ্যাসের ঘাটতি মোকাবেলা করা হতো তেল দিয়ে সেই তেলের দামও চড়া।

বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুতের উৎপাদন (আমদানিসহ) সক্ষমতা রয়েছে ২১ হাজার ৩৯৬ মেগাওয়াট। এরমধ্যে কয়লা ভিত্তিক ১ হাজার ৬৮৮ মেগাওয়াট, গ্যাস ভিত্তিক ১০ হাজার ৮৭৮, ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক ৫ হাজার ৯২৫, ডিজেল ভিত্তিক ১ হাজার ২৮৬, একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কাপ্তাইয়ে ২৩০, আমদানি ১ হাজার ১৬০ ও সৌর বিদ্যুৎ থেকে ২২৯ মেগাওয়াট। ৪ জুলাই রাতে গ্যাস দিয়ে অর্ধেকের ও কম অর্থাৎ ৪ হাজার ৮০৯ মেগাওয়াট উৎপাদন করা হয়েছে।

পেট্রোবাংলার তথ্যে দেখা গেছে ৪ জুলাই গ্যাস সরবরাহ করা হয় ২ হাজার ৭৩৫ এমএমসিএফডি। ওই দিন বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২ হাজার ২৫২এমএমসিএফডির বিপরীতে সরবরাহ করা হয় মাত্র ৮৭৯ এমএমসিএফডি, সার উৎপাদনে ৩১৬ এমএমসিএফডির বিপরীতে ১৩৪, ননগ্রিডে ৮৭.৪ এবং অন্যান্য খাতে ১ হাজার ৬৩৩ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হয়।

তবে গ্যাসের যে সংকটের কথা বলা হচ্ছে অনেকেই এরসঙ্গে দ্বিমত পোষন করেছেন। তারা বলেছেন, আমাদের সিস্টেমে কমবেশি ৩ হাজার এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এরমধ্যে ২৩’শ দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে বিদেশ থেকে গড়ে প্রায় ৮’শ এমএমসিএফডি গ্যাস আমদানি করা হতো।

আমদানিকৃত এলএনজির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় ৭’শর মতো আর মাত্র ১’শ আমদানি করা হয় স্পর্ট মার্কেট থেকে। দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির গ্যাসের দাম বাড়েনি, দাম বেড়েছে শুধু স্পর্ট মার্কেটে। যে কারণে স্পর্ট মার্কেট থেকে গ্যাস না আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। মাত্র ১’শ গ্যাস আসছে না বলে এমন ভয়াবহ অবস্থা হতে পারে এ কথা অনেকেই বিশ্বাস করতে চান না।

;