তরুণদের সৃজনশীল উদ্যোক্তা করার প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রাখা হবে: সীমা হামিদ



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
তরুণদের সৃজনশীল উদ্যোক্তা করার প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রাখা হবে: সীমা হামিদ

তরুণদের সৃজনশীল উদ্যোক্তা করার প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রাখা হবে: সীমা হামিদ

  • Font increase
  • Font Decrease

ইয়ুথ বাংলা কালচারাল ফাউন্ডেশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সীমা হামিদ বলেছেন, বাংলাদেশের তরুণদের সৃজনশীল-সংস্কৃতিমনা ও উদ্যোক্তা করার প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রাখা হবে। তরুণ তৃণমূল উদ্যোক্তাদের জন্য আমরা যে প্লাটফর্ম তৈরি করেছি তার বিস্তৃতি আরও বাড়ানো হবে।

শুক্রবার (২৪ জুন) ব্যাংককে গ্লোবাল ইয়ুথ পারলামেন্ট কর্তৃক আয়োজিত গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ সামিট ২০২২  এ ‘গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২২’ গ্রহণকালে এসব কথা বলেন।

সীমা হামিদ আরও বলেন, বাংলা সংস্কৃতির বিকাশ, উদ্যোক্তা শ্রেণি তৈরি ও তরুণদের সঙ্গঠিত করতে আমরা কাজ করছি। আর্তমানবতার সেবা ও হতদরিদ্র মানুষদের স্বাবলম্বী করার জন্য আমাদের স্বপ্নকুটির শীর্ষক প্রকল্প রয়েছে। বাংলা সংস্কৃতি বহিবিশ্বে  ছড়িয়ে দেয়ার জন্য ২৭টি দেশে আমাদের শাখা রয়েছে। সাংস্কৃতিক গবেষণার উদ্যোগকে আমি সামনে থেকে উৎসাহিত করি এবং করবো। 


তরুণ-তরুণীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, তাদের ক্ষমতায়ন, তারুণ্যকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অসাধারণ অবদান রাখায় গ্লোবাল ইয়ুথ পারলামেন্ট, ইয়ুথ বাংলা কালচারাল ফাউন্ডেশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সীমা হামিদকে গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২২ প্রদান করেছেন।

গ্লোবাল ইয়ুথ পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট দিবাকর আরিয়াল সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে থাইল্যান্ডের শিক্ষা উপমন্ত্রী ডঃ কালায়া সফনপানিচ , ইউনাইটেড পিস কিপার্স ফেডারেল কাউন্সিল এর প্রেসিডেন্ট ডঃ আফিনিতা চাইচানা ও ইয়ুথ বাংলা কালচারাল ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুনা চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে উত্তাল শ্রীমঙ্গল



আবুজার বাবলা, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪কম, মৌলভীবাজার
চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে উত্তাল শ্রীমঙ্গল

চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে উত্তাল শ্রীমঙ্গল

  • Font increase
  • Font Decrease

চা শ্রমিক জনতা, আমরা সবাই একতা "চা শ্রমিক, চা শ্রমিক, এক হও, লড়াই কর", ৩০০ 'টাকা মজুরি, দিতে হবে দিতে হবে',  মালিক পক্ষের টালবাহানা,  চলবে না,  চলবে না"

শনিবার (১৩ আগস্ট) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জেরিন চা বাগান, ভাড়াউড়া চা বাগান, ফুল ছড়া চা বাগান, সোনাছড়া চা বাগান, রাজঘাট চা বাগান, খেজুরি ছড়া চা বাগান, খাইছড়া চি বাগানসহ ৪২টি চা বাগানে এরকম স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।

১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করার দাবিতে চা শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের প্রথম দিনে গতকাল তাল হয়ে ওঠে শ্রীমঙ্গল উপজেলা। শুধু শ্রীমঙ্গলে নয় দেশের চট্রগ্রাম সিলেটসহ ২৩১ টি চা বাগানে ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট করছেন শ্রমিকরা।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার বেশ কয়েক জায়গায় ঘুরে দেখা যায় আন্দোলনরত চা শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মহাসড়কে নেমে পড়েন। এমন চিত্র দেখা যায় শ্রীমঙ্গল শহরের চৌমোহনা চত্বরে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাতগাঁও চা বাগান এলাকায় ও ভৈরবগঞ্জ বাজারে। এদিকে ভাড়াউড়া চা বাগানের শ্রমিকরা

সড়ক অবরোধ করে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। এতে সড়কের চারিপাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরে যেতে দেখা গেছে।

সমাবেশে আসা নারী চা শ্রমিক উষা রানী বলেন, আমাদের দুঃখ কেউ বুঝে না। আমরা ৪ দিন ২ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি করেছি। কিন্তু কেউ আমাদের এসে আশ্বাস দিলো না। আমরা এত কষ্ট করে কাজ করি কিন্তু আমাদের নায্য মজুরি দেয়া হয় না।  চাল ডাল, তেল, মসলা সব কিছুর দাম বেড়েছে। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ আছে, অসুখ হলে চিকিৎসা করাতে হয়, প্রতিদিনই জিনিসের দাম বাড়ছে। কিন্তু আমাদের মজুরি বাড়ছে।

জেরিন চা বাগানের আরেক নারী শ্রমিক সাদরমনি বলেন, আমরা সকাল থেকে সন্ধ্যা অনেক কাজ করি। আমরা রোদে পূড়ে বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করি। আমাদের দাবি জানানোর আগেই বাগান মালিকদের উচিত আমাদের খোঁজ খবর নিয়ে সুযোগ সুবিধা দেয়া। আমরা কাজ ফেলে কেন আন্দোলন করবো। দুই বছর আগে যে জিনিস ১০০ টাকায় পাওয়া যেতো এখন সেটা ২০০ টাকা। আমাদের তো আলাদা কোন রোজীর ব্যবস্থা নাই। এটা তো বাগান মালিকরা জানে। আমরা ছেলেমেদের আশা পুরন করতে পারি না। ভালো জামাকাপড় কিনে দিতে পারি না। যখন ছেলে মেয়ে এসে বলে অমুক ভালো জামা পড়েছে আমাকে কিনে দেও, তখন মনের ভিতর আঘাত পাই। ছেলেমেয়েদের জীবন আমাদের কষ্টের জীবনের সাথে মিশে গেছে। আমরা চাই চা বাগান ভালো থাকুক আমরাও ভালো থাকি। কিন্তু বাগান মালিকরা ভালই আছে, আমরা ভালো নেই। আমাদের দাবি না মানলে আমরা আন্দোলন বন্ধ করব না, আন্দোলন চলছে চলবে।

জেরিন বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নিতাই গোয়ালা বলেন, একটা ভালো সমাধান দরকার। পৃথিবীর বড় বড় সমস্যার সমাধান হয়েছে। চা শ্রমিকদের এই দুর্দশার সমাধান কেন হবে না। আন্দোলনের আজ ৫ম দিন। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আমরা গত ৪ দিন ধরে দুইঘণ্টা করে কর্মবিরতি করে আসছি। মালিক পক্ষ থেকে কোন সারা আসেনি, তাদের টনক নড়ে নি। চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা দেয়ার জন্য আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা দুই বছর আগ থেকে দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু ১৯ মাস গত হয়ে গেলেও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী  মালিক পক্ষ মজুরি বৃদ্ধির ব্যাপারে গড়িমসি করছে। তারা মাত্র ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এই দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত উর্ধগতির বাজারে মাত্র ১৪ টাকা দিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালী সভাপতি বিজয় হাজরা বলেন, আমরা গত মঙ্গলবার থেকে ৪ দিন দুইঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করছি ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে।  কিন্তু মালিক পক্ষ আমাদের এই কর্মবিরতি পাত্তাই দেয় নি। মালিক পক্ষের কোন সারা মিলেনি। আজ আমরা আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট করছি।  দেশের ২৩১ টি চা বাগানে এই ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। ৩০০ টাকা মজুরি বৃদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আন্দোলন কঠোর থেকে কঠোর হবে। আমাদের বিভিন্ন বাগানে চা শ্রমিকরা একত্রিত হয়েছি। সব বাগানে বাগানে সমাবেশ হবে। আমরা  শ্রীমঙ্গল শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করবো।

শ্রমিক নেতারা আরো বলেন, আজ বাংলাদেশের চা শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজ নিজ এলাকায় আন্দোলন করছেন। আমাদের দাবি না মানলে আমরা ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করবো। আমরা ঢাকা শহরে চা শ্রমিকরা অবস্থান নিবো।

সমাবেশ শেষে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি পংকজ কন্দ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা  রোববার ও আগামী সোমবার (জাতীয় শোক দিবস) উপলক্ষে আন্দোলন স্থগিত করেছি। আগামীকাল সভা, সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল হবে না। রোববার ও সোমবার চা বাগানে ছুটি থাকায় কাজ বন্ধ থাকবে। আগামী মঙ্গলবার থেকে আবারও ধর্মঘট চলবে।

বাংলাদেশিয় চা সংসদের সিলেট বিভাগের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী বলেন, মালিক পক্ষের সাথে শ্রমিকপক্ষের আলোচনা কালে এভাবে কাজ বন্ধ করে আন্দোলন করা বেআইনি, এ আন্দোলন শ্রম আইনের পরিপন্থী। আমরা আশা করছি তারা আন্দোলন বন্ধ করে কাজে যোগ দিবে। এখন চা বাগানে ভরা মৌসুম। কাজ বন্ধ রাখলে সবার ক্ষতি। তারাও এই সিজনে কাজ করে বাড়তি টাকা উপার্জন করেন।

আন্দোলন চলাকালীন অবস্থায় নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর অবস্থানে ছিলেন শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ।

;

‘বেহেশতে আছি’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন মোমেন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
‘বেহেশতে আছি’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন মোমেন

‘বেহেশতে আছি’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন মোমেন

  • Font increase
  • Font Decrease

‘আমরা সুখে আছি, বেহেশতে আছি’ মন্তব্যের পর আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সাংবাদিকরা বিষয়টি নিয়ে ‘টুইস্ট করার চেষ্টা’ করেছেন এবং ‘এক্কেবারে উল্টা’ লিখেছেন।

শুক্রবার সিলেটে এক অনুষ্ঠান শেষে মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, বৈশ্বিক মন্দায় অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ বেহেশতে আছে। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবে, একটি পক্ষ প্যানিক ছড়ানোর জন্য এমন কথা বলে। বাস্তবে এর কোনো ভিত্তি নেই। বাংলাদেশ অনেক ভাল আছে।

সংবাদমাধ্যমে এই বক্তব্য প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ ব্যঙ্গও করেন।

শনিবার দুপুরে সিলেট জেলা পরিষদ আয়োজিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বেহেশত প্রসঙ্গে টেনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি বলেছি, কম্পারেটিভ টু আদার কান্ট্রি। আর আপনারা সব জায়গায় বেহেশতে বলেছেন। মানে টুইস্ট করার চেষ্টা...বলেন নাই যে, আমাদের মূল্যস্ফীতি অন্য দেশের তুলনায় কম।

তখন উপস্থিত সাংবাদিকরা বলেন, ‘আপনি গতকাল যা বলেছেন, তাই অন-এয়ার হয়েছে।”

এরপর মোমেন বলেন, মুদ্রাস্ফীতি ইংল্যান্ডে ১২ ভাগ, টার্কিতে ৬৭ ভাগ, পাকিস্তানে ৩৭ ভাগ, শ্রীলঙ্কায় ১৫০ ভাগ আর আমরা সাত ভাগ...সেই দিক দিয়ে আমরা ভালো আছি। আমি বলেছি, অন্য দেশের তুলনায় আমরা অনেক ভালো আছি। এবং তাদের তুলনায় আমরা বেহেমতে আছি, এই কথা বলেছিলাম। কিন্তু আপনারা (সাংবাদিকরা) এক্কেবারে উল্টা! যাই হোক।

;

ফজলে রাব্বী মিয়ার আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছন্দা রাব্বী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
লুদমিলা পারভীন ছন্দা রাব্বী

লুদমিলা পারভীন ছন্দা রাব্বী

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার মৃত্যুর পর তার আসনটি (গাইবান্ধা-৫, সাঘাটা-ফুলছড়ি) শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এরেই মধ্যে নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণা জমে উঠেছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা গণসংযোগও চালাচ্ছেন।

ফজলে রাব্বীর আসনে নৌকার মাঝি হওয়ার দৌড়ে আছেন তারই ছোটভাইয়ের স্ত্রী লুদমিলা পারভীন ছন্দা রাব্বী। শনিবার (১৩ অগাস্ট) ছন্দা রাব্বী  গণমাধ্যমেকে তার প্রার্থিতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে ফজলে রাব্বী মিয়ার ছোটমেয়ে ফারজানা রাব্বী বুবলীও বাবার আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। এছাড়াও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান ওরফে রিপন এবং ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম সেলিম পারভেজ এই আসনে মনোনয়ন চান।

এদিকে নিজের প্রার্থিতার বিষযে নিশ্চিত করে ছন্দা রাব্বী বলেন, নেত্রী (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) যদি আমাকে মনোনীত করেন আমি নির্বাচন করবো। নির্বাচনের মনোনয়ন ফর্মও তুলব।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট সাইন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২২ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন ফজলে রাব্বী মিয়া। এরপর ২৪ জুলাই জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কোনো সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষিত হলে ৯০ দিনের মধ্যে উপ-নির্বাচনের কথা সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে। যদিও এখনো উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। তবে নির্বাচনের মাধ্যম ইতিমধ্যে সরগরম হয়ে উঠেছে।


আসনটিতে মনোনয়ন প্রত্যাশী  ফজলে রাব্বী মিয়ার মেয়ে ফারজানা রাব্বী বুবলী কয়েক মাস আগে স্থানীয় ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে রাজনীতিতে পা রেখেছেন। অন্যদিকে তার চাচী ছন্দা রাব্বী জেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সভাপতি। রাজনীতিতে অভিজ্ঞতায় বুবলীর থেকে বেশ এগিয়ে।

একই পরিবার থেকে দুজনের প্রার্থিতার বিষয়ে জানতে চাইলে ছন্দা রাব্বী বলেন, আমরা দুজনেই নমিনেশন ফর্ম নেব। সেক্ষেত্রে নেত্রী আমাদের যাকে ভালো মনে করবেন, তাকেই দেবেন।

বুবলীর বিষয়ে তিনি বলেন, ওর পদচারণা শুরু হয় সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে। খুব বেশিদিন আগের কথা না। চার-পাঁচমাস হলো আমরা ওকে পেয়েছি রাজনীতির অঙ্গনে। ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছিল সেটা আমাদের পারিবারিক সিদ্ধান্ত ছিল। আমরা রাখতে চেয়েছি এই কারণে যে নির্বাচনী প্রচারণায় আমাদের (ফুলছড়িতে) একটা অংশ থাকা দরকার। এজন্য আমরা ওকে এখানে এনেছি।

তাছাড়া ও তো (বুবলী) এখন অন্য পরিবারের বউ, বলেন ছন্দা রাব্বী।

গাইবান্ধা-৫ আসনে এক সময় জাতীয় পার্টির প্রভাব ছিল। ফজলে রাব্বী মিয়া নিজেও জাতীয় থেকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। পরে তিনি আওয়ামী লীগে চলে আসেন। তার হাত ধরেই আওয়ামী লীগের প্রভাব শুরু হয এই আসনে।


এদিকে এই আসনে আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী মাহমুদ হাসান রিপন। তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার পর এই অঞ্চলের তরুণদের ভেতর একটা প্রভাব সৃষ্টি করেন। ফজলে রাব্বী মিয়া সংসদ সদস্য থাকার সময়ই সেখানে কাজ করছেন তিনি। গত কয়েকটি নির্বাচনে মনোনয়ন নেওয়ারও চেষ্টা করেছিলেন।

ছন্দা রাব্বীও রিপনের প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের নৌকার মাঝি যদি বলেন, সে হলো রিপন। রাব্বিভাই যখন রাজনীতি করতেন তিনি তখন ছাত্রলীগের সেন্ট্রালের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তখন থেকেই ভাইয়ের সঙ্গে একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছেন। এখন নৌকার মাঝিরা ছাড়াও আমাদের অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী। নৌকার মাঝি শুধু রিপনকে বলছি না। সে দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সংযুক্ত ছিল, আমিও সংযুক্ত আছি। এখন নিউকামার (একদম নতুন) হিসেবে যোগ হয়েছে বুবলী।

ছন্দা রাব্বী নমিনেশন চাইলেও না পেলে বিদ্রোহী হবেন না বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘না পেলে নির্বাচন করবো না। নৌকার কাজ করবো। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন ক্ষুদ্র সৈনিক। নৌকা যে-ই আনুক আমি তার পক্ষে কাজ করবো।’

একই পরিবার থেকে দুজন প্রার্থী হতে চাচ্ছেন। পারিবারিকভাবে কার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, জানতে চাইলে ছন্দা রাব্বী বলেন, ‘পারিবারিকভাবে তেমন কোনো আলোচনা হয়নি। আমি ফজলে রাব্বী ভাইয়ের সঙ্গে অনেক দিন রাজনীতি করেছি। তার অনুপ্রেরণায়ই মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েছি। এরআগে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ছিলাম।’

এই সিদ্ধান্তে পরিবার দুইভাগ হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পরিবারটাকে আমি দুভাগ হতে দেব না। কারণ আমি সেই ৯০ সালে এই পরিবারে বধূ সেজে এসেছি। তখন থেকেই পরিবারটাকে একটা গাছের নিচে ধরে রেখেছি। আমার শাশুড়ি বেঁচে নেই। রান্নাঘর থেকে রাজনৈতিক মঞ্চ- সব জায়গায় সহযোগিতা করেছি। রাব্বী ভাইয়ের যেকোনো কর্মকাণ্ডে আমি জড়িত ছিলাম। তার অসমাপ্ত কাজটা যাতে আমি সমাপ্ত করতে পারি সেদিকেই এগোচ্ছি।’

শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রাখার কথা জানিয়ে ছন্দা রাব্বী বলেন, আমরা যারা দীর্ঘদিন গাইবান্ধায় রাজনীতি করছি, তাদেরই তিনি মনোনয়ন দেবেন। এটা আমার বিশ্বাস। যারা নতুন এসেছে, তাদের দেওয়ার মতো কোনো ভুল তিনি করবেন না।

;

খালে নেমে দুপুরে নিখোঁজ, বিকেলে ২ জনের মরদেহ উদ্ধার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
খালে নেমে দুপুরে নিখোঁজ, বিকেলে ২ জনের মরদেহ উদ্ধার

খালে নেমে দুপুরে নিখোঁজ, বিকেলে ২ জনের মরদেহ উদ্ধার

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের বাকলিয়ার চাক্তাই খালে লাফ দিয়ে নিখোঁজ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর আগে দুপুরের দিকে তারা ওই খালে নিখোঁজ হন।

শনিবার (১৩ আগস্ট) চারদিকে দিকে চাক্তাই খালের খাতুনগঞ্জের লোহার ব্রিজ এলাকা থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ। 

মৃতরা হলেন- মো. মামুন (১৮) ও মো. হৃদয় (১৩)। তাদের বাড়ি বাকলিয়া মহাজের কলোনীতে।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম বিষয়টি বার্তা২৪.কম-কে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, দুপুরের দিকে চাক্তাই খালের ওই এলাকায় জোয়ারের পানি লাফ দিয়ে রিদয় ও মামুন নামের দুজন নিখোঁজ হন। পরে বিকেলে চারটার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। 

;