ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বেড়েছে হাতপাখার চাহিদা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

তাল পাখার গ্রাম আড়োলায় নতুন করে ব্যস্ততা বেড়েছে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বাসা বাড়িতে হাতপাখার চাহিদা বেড়ে গেছে। ফলে হাতপাখা বিক্রেতারা ভিড় করছেন কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নে আড়োলা গ্রামে। এই গ্রামের প্রতিটি ঘড়ে ঘড়ে নারী- পুরুষ থেকে শুরু করে শিশুরাও তালের পাতা দিয়ে তৈরি করে থাকে রকমারি হাতপাখা।

সাধারণত ফাল্গুন-চৈত্র মাস থেকে হাত পাখা তৈরির কাজ শুরু হয়ে চলে ভাদ্র মাস পর্যন্ত। জৈষ্ঠ্য মাস পার হলে কাজের চাপ কমতে থাকে। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম।

আড়োলা গ্রামের পাশাপাশি আতালপাড়া, যোগীরভবনসহ আশে পাশের গ্রামগুলোতে বিভিন্ন প্রকারের তালপাতার পাখা তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কারিগররা।

হাতপাখা তৈরির গ্রামগুলে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ফাল্গুন মাস থেকে তালপাতার পাখা তৈরির কাজ শুরু করেছে এখানকার পাখা তৈরির কারিগররা। ঠিক কত বছর আগে এই এলাকায় হাতপাখা তৈরির কাজ শুরু হয় তার কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও প্রবীণ ব্যক্তিদের মতে একশ বছর বা তারও বেশি আগে আড়োলা গ্রামে তাল পাতা দিয়ে হাতপাখা তৈরির কাজ শুরু হয়। আর তখন থেকেই গ্রামের পেশা হিসেবে বেছে নেয় হাতপাখা তৈরির কাজ। এক সময় হাত পাখা তৈরির কাজ ছড়িয়ে পড়ে পাশের গ্রামগুলোতে।

গ্রামগুলো ঘুরে দেখা যায়, শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত বসে নেই। নারী-পুরুষ মিলে সবাই তৈরি করছে বিভিন্ন প্রকারের সৌখিন তালপাতার হাতপাখা।পুরুষেরা কাঁচা বাশের কাজ করছেন। আর নারীরা সুই-সুতা দিয়ে পাখা বাঁধানো ও রঙের কাজ করছেন। পাখার চাহিদা মেটাতে গরম মৌসুমে নারী-পুরুষের নিশ্বাস ফেলার সুযোগ নেই। চুলায় ভাত-তরকারি তুলে দিয়ে পাখা তৈরির কাজ নিয়ে বসেন তারা। শিশু-কিশোরেরাও লেখাপড়া ও খেলাধুলার পাশাপাশি মা-বাবার সঙ্গে পাখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারেরা আসেন পাখা নিতে। আবার অনেকে কারিগরদের আগাম টাকা দিয়ে পাখা তৈরি করিয়ে নেন।

প্রতি বছরের মতো এবারও ভাদ্র মাস পর্যন্ত এখানকার পাখা তৈরি কারিগরদের এই ব্যস্ততা থাকবে জানা গেছে। গরমের তীব্রতা যত বাড়বে ততই বাড়বে পাখা তৈরি কারিগরদের ব্যস্ততা। কারণ এ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় মানুষজন যখন গরম সইতে না পারে তখন একমাত্র ভরসা এই তালপাতার পাখা। বর্তমানে রোদের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় এবং লোডশেডিংয়ের ফলে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। যার ফলে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা ছুটে আসছেন পাখা কেনার জন্য। এখানকার ৪/৫টি গ্রামের প্রায় ৫’শ পরিবার তালপাতার পাখা তৈরি করে থাকে। এদের মধ্যে কেউ শ্রমিক হিসেবে আবার কেউ নিজের তহবিলে পাখা তৈরি করেন। আবার স্থানীয় কয়েকজন মহাজন শ্রমিক খাটিয়ে প্রতি মৌসুমে ৩০/৪০ হাজার পাখা তৈরি করে নিয়ে বড় বড় ব্যাবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে থাকে।

এখানে ৫ প্রকারের পাখা তৈরি হয়। এসব পাখার নাম দেওয়া হয়েছে ডাটা পাখা, হরতন পাখা, ঘুরকি পাখা, পকেট পাখা ও আমান পাখা। এখানে পাখা তৈরির কাজে নারীরা অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। নারীরা সংসারের কাজের পাশাপাশি এই পাখা তৈরি করে বাড়তি আয় করে থাকেন। নারীরা বাড়তি আয়ের জন্য বিভিন্ন মহাজনের পাখা তৈরি করে। চুক্তি ভিত্তিক ১’শ পাখা তৈরি করলে তারা পাখার প্রকারভেদে ৬০ থেকে ১০০ টাকা পায়। চুক্তিভিত্তিক পাখা তৈরিকারক পারভীন, সহিদা, বৃষ্টি সহ একাধিক মহিলা বলেন, পাখা তৈরি থেকে শুরু করে পাখা তৈরির আনুষঙ্গিক কাজের উপর নির্ভর করে তারা পারিশ্রমিক পায়।

মহাজন সালাম জানান, তারা সারা বছরই ব্যস্ত থাকেন তালপাতা সংগ্রহ করাসহ পাখা তৈরির কাজে। পাখা তৈরির শুরুর ২/৩ মাস আগে থেকে নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে তালপাতা কিনে এনে মজুদ করেন। পাখা তৈরি করে বড় বড় ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করেন। সালাম বলেন, এখানকার তৈরি করা তালপাখা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়। প্রতি মৌসুমে এখানকার স্থানীয় মহাজনেরা এই ব্যবসায় ৫০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করে।

পাবনা জেলা থেকে পাখা কিনতে আসা ব্যবসায়ী মামুন শেখ ও মিরাজুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশে যত তালপাতার পাখা তৈরি হয় তার বেশির ভাগই এখানকার। সালামের মতো আজগর শেখ বলেন, তালপাতার এই সৌখিন পাখাগুলো সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় বিভিন্ন মেলাতে। আগে শখের বসে এলাকরা নারীরা পাখা তৈরি করতো, সেগুলো কেউ কেউ মেলাতে বিক্রি করতো। আর এখন এই পাখা তৈরির কাজ অনেকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। এলাকার লোকজন বলে এই এলাকায় তাল গাছ বেশি। তাদের বাপ দাদার আদি পেশা এই তাল পাতা দিয়ে পাখা তৈরির কাজ। এখানে ৭/ ৮ বছরের শিশু পর্যন্ত পাখা তৈরি করতে পারে।

পাখা তৈরির কারিগররা বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়া সব জায়গাতে ছড়িয়ে পরলেও তাদের তৈরি করা পাখার চাহিদা এখনও কমেনি।

মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়কের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ, মামলা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মাসুদ রানা

মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মাসুদ রানা

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালের মালিককে চাঁদার দাবিতে জিম্মি করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের দুই সহ সভাপতির বিরুদ্ধে। মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি মাসুদ রানার নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

গত শনিবার ১৩ আগস্ট মিরসরাইয়ের বড় তাকিয়া চক্ষু হাসপাতালে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পরে ১৪ আগস্ট রোববার হাসপাতালের মালিক জসিম উদ্দিনের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন মিরসরাই থানায় এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেন।

তবে এ ঘটনায় কোন আসামি গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  মো. কবির হোসেন।

মামলার আসামিরা হলেন, মো. তুরিন (২৭), ইউসুফ (২৮),  মো. মাসুদ রানা (২৭),  আবির (৩৫), সোহেল মেম্বার (৩৫) ও মো. হাসান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদের মধ্যে তুরিন ও মাসুদ রানা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি। জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতির পদ ছাড়াও মাসুদ মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও তুরিন ১০ নম্বর মিঠানালা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তারা দুজনই খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বাকিরা তাদের কর্মী।


জসিম উদ্দিনের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, 'গত ১৩ আগস্ট সকালে আমার স্বামী এবং আমার দুই মেয়ে মুনতাহা কারিনা বৃষ্টি (২০) এবং নুসরাত আফরিন বিথী (১৭) সহ আমাদের বড়জোর  তাকিয়া চক্ষু হাসপাতালে যাই। আমরা হাসপাতালে থাকা অবস্থায় দুপুরে তুরিন ও মাসুদ সহ ৮/১০ জন হাসপাতালে ঢুকে আমার স্বামীকে একটা কক্ষে নিয়ে মারধর শুরু করে।'

স্বামীকে বাঁচাতে রুমে ঢুকার চেষ্টা করলে তাকে ও তার মেয়েদের গালিগালাজ করার অভিযোগ করে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, 'আমি এবং আমার দুই মেয়ে সহ আমার স্বামীকে উদ্ধার করতে গেলে আসামিরা আমাদেরকে রুমে প্রবেশ করতে না দিয়া উল্টো গালিগালাজ করে এবং আমাদেরকেও মারধর করা চেষ্টা করে।'

স্বামী জসিম উদ্দিনকে ওই রুমে ৩ ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, 'তারা আমার স্বামীকে প্রায় তিন ঘন্টা অফিস কক্ষে মারধর করে। এসময় তারা বলে যে, আমার স্বামী নাকি হাসপাতালের রিসিপশনিস্ট নাদিমা সুলতানাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে। তাকে ৩০ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে করত হবে। এ সময় আমার স্বামী নাদিমাকে তার সামনে এনে এই বিষয়ে কথা বলার অনুরোধ করলে তারা বিয়ের বদল ১৫ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করার প্রস্তাব দেয়।'

'পরে তারা আমার স্বামীকে মারধর করে সে নাদিমাকে বিয়ে করবে এই মর্মে ৩০০ টাকার স্টাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে যায়। পরদিন তারা ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে তারা হাসপাতাল ভাংচুর করবে বলে হুমকি দেয়। এই ঘটনায় আমরা মিরসরাই থানায় একটা মামলা দায়ের করেছি।'-- যোগ করেন সাবিনা ইয়াসমিন।

মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি ওসি মিরসরাই।

;

বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজে জাতীয় শোক দিবস পালিত



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজে জাতীয় শোক দিবস পালিত

বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজে জাতীয় শোক দিবস পালিত

  • Font increase
  • Font Decrease

শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় জাতীয় শোক দিবস এবং স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন করেছে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজ।

এ উপলক্ষে সোমবার শোকাবহ ১৫ আগস্ট দিনের কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, শোকের প্রতীক কালোব্যাজ ধারন, জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণী।

বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজের অধ্যক্ষ সুদীপ কুমার মণ্ডলের সভাপতিত্বে অশ্রুসিক্ত দিনের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজের রেক্টর প্রফেসর বাঞ্ছিতা চাকমা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান এবং রক্তাক্ত ১৫ আগস্ট নিয়ে বক্তব্য রাখেন কলেজের উপাধ্যক্ষ মতিয়া খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো আমাদের নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন সফল করার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি প্রফেসর বাঞ্ছিতা চাকমা বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রচিত বই এবং মহান নেতাকে নিয়ে লেখা অন্যান্য লেখকদের বইগুলো পাঠ করার জন্য উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ জানান। শোকাবহ দিনের অনুষ্ঠান শেষে রচনা ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা বই পুরস্কার হিসেবে তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো।

;

আং‌শিক বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা, প্রতিমন্ত্রী বলছেন ‘স্লিপ অব টাঙ’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুডিগ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শোক দিবস উপলক্ষে আয়ো‌জিত দলীয় অনুষ্ঠানে দেওয়া প্রাথ‌মিক ও গণ‌শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জা‌কির হোসেনের বক্তব্যের এক‌টি অং‌শ ‌নি‌য়ে সামা‌জিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার সৃ‌ষ্টি হ‌য়েছে। তবে প্রতিমন্ত্রী বলছেন, 'এটা স্লিপ অব টাঙ'। তি‌নি পরক্ষণেই দুঃখ প্রকাশ ক‌রে তার বক্তব্য সং‌শোধন করে‌ছেন।

‌সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকা‌লে কু‌ড়িগ্রা‌মের রাজীবপুর উপ‌জেলা আওয়ামী লীগ আয়ো‌জিত জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী ভুল বশত বলেন, আমরা কায়মনে তার (বঙ্গবন্ধু) জন্য দোয়া করবো, বঙ্গবন্ধুকে আল্লাহ যেন জাহান্নামের ভালো জায়গায় স্থান করে দেন।

তবে প্রতিমন্ত্রীর দা‌বি, ভুলবশত তার মুখ থেকে এমন বাক্য বের হয়ে‌ছিল। তি‌নি তৎক্ষণাত তা বুঝ‌তে পেরে দুঃখ প্রকাশ করে‌ছেন এবং বক্তব্য সং‌শোধন ক‌রে বঙ্গবন্ধু‌কে জান্নাত দানের দোয়া করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হ‌লে প্রতিমন্ত্রী জা‌কির হোসেন ব‌লেন, 'ওটা স্লিপ অব টাঙ’। আ‌মি আজ তিন উপ‌জেলায় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে‌ছি। ক্লা‌ন্তি ছিলাম, অ‌নিচ্ছাকৃত ভাবে জান্নাত শব্দের স্থলে জাহান্নাম বলে ফেলে‌ছি। সঙ্গে সঙ্গে স‌রি বলে বক্তব্য ঠিক ক‌রে‌ছি। বিষয়‌টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃ‌ষ্টির সুযোগ নেই।

এ‌ নিয়ে কোনও লি‌খিত সং‌শোধনী দেবেন কিনা, এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'সং‌শোধনী দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আ‌মি সঙ্গে সঙ্গে স‌রি বলে বক্তব্য সং‌শোধন করে‌ছি।

অনুষ্ঠানে উপ‌স্থিত নেতাকর্মীরা বলছেন, মন্ত্রী ভুলবশত মুখ ফসকে জাহান্নাম বললেও তি‌নি পরক্ষণে দুঃখ প্রকাশ করে তা সং‌শোধন করে বক্তব্য ঠিক করেছেন। কিন্তু এক‌টি পক্ষ তার বক্তব্যের ভুল অংশটুকু ‌কেটে নি‌য়ে সামা‌জিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রা‌ন্তি ছড়াচ্ছে। পুরো ভি‌ডিও প্রকাশ করলে বিষয়‌টি প‌রিষ্কার হতো।

এ বিষয়ে রাজীবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই সরকার বলেন, বিষয়টি আসলেই স্লিপ অব টাঙ হয়েছে। তিনি পরক্ষণেই সংশোধিত বক্তব্য দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, প্রাথ‌মিক ও গণ‌শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জা‌কির হো‌সেন কু‌ড়িগ্রাম-৪ আস‌নের (‌রৌমারী,রাজীবপুর ও চিলমারী) সংসদ সদস‌্য। তি‌নি রৌমারী উপ‌জেলা আওয়ামী লী‌গের সভাপ‌তি।

;

সাতজনের মধ্যে বেঁচে রইলেন শুধু নবদম্পতি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের এক্সপ্রেসওয়ের গার্ডার চাপায় প্রাইভেটকারে নবদম্পতিসহ ৭ জন ছিলেন। এ দুর্ঘটনায় পাঁচজন মারা গেছেন। বেঁচে রয়েছেন শুধু নবদম্পতি হৃদয় (২৬) ও রিয়া মনি (২১) ।

সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় বাস র‍্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) উড়াল সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ক্রেন থেকে গার্ডার পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- বর হৃদয়ের বাবা রুবেল (৬০), কনে মা ফাহিমা (৪০), খালা ঝরনা (২৮), ঝরনার দুই সন্তান জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২)। শুধু বেঁচে গেছেন হৃদয় ও রিয়া। তাদের গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিহতের স্বজনরা জানান, শনিবার হৃদয় ও রিয়ার বিয়ে হয়। তারা সোমবার ছেলের বাড়ি থেকে মেয়ের বাড়ি যাচ্ছিলেন। হৃদয়ের পরিবার
উত্তরার দক্ষিণখান থানার কাওলা আফিল মেম্বারের বাড়ির ভাড়াটিয়া। আর কনে রিয়া মনির বাড়ি আশুলিয়ার খেজুরবাগানে আসরাফউদ্দিন চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নিহতরা তিন নম্বর সেক্টরের বিআরটি প্রকল্প এলাকায় সিয়াম টাওয়ারের সামনে প্রাইভেটকারে ছিলেন। নির্মাণ কাজের ক্রেনের তার ছিঁড়ে গার্ডার পড়ে যায়। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।

বিআরটি প্রকল্পের প্রকৌশলী কায়সার হামিদ বলেন, এখনও গাড়িটি চাপা পড়ে আছে। ক্রেন দিয়ে গার্ডার ওঠানোর সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। পরে মারা যায় আরও একজন। গার্ডারের নিচে গাড়ির ভেতরে চাপা রয়েছেন, এর মালিক রুবেল, একজন নারী ও দুই শিশু।

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, নিহত পাঁচজনের লাশ গাড়ির ভেতরেই চাপা পড়ে রয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

;