অবশেষে দুই যুগ পর ভাঙল ‘কালিতলা পার্কিং সিন্ডিকেট’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বেনাপোল (যশোর)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

অবশেষে দুই যুগ পর ভারতের কালিতলা পার্কিংয়ের সিন্ডিকেট কবল থেকে মুক্তি মিলেছে আমদানিকারকদের। পেট্রাপোলে দালাল চক্রের গাড়ি পার্কিং নিয়ে রমরমা ব্যবসা বন্ধ হওয়ায় দেড় মাস থেকে কমে এখন তিন দিনেই ট্রাক ঢুকছে বাংলাদেশে। বনগাঁ পৌরসভার হাত থেকে নিয়ে সেই দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে পরিবহন দফতরকে। এই সিদ্ধান্তেই পরিবর্তন সাধিত হয়েছে পেট্রাপোল ও বেনাপোল সীমান্তের।

আগে এক থেকে দেড় মাস সীমান্তে আটকে থাকত পণ্যবাহী গাড়ি। এখন প্রায় দিনের দিনই মালপত্র নিয়ে বাংলাদেশ ঢুকছে ভারতীয় ট্রাক। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ-ভারত সকল ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ীরা। তাদের বক্তব্য, গত দুই যুগ ধরে দুষ্টচক্রের জাঁতাকলে ফেঁসে দিনের পর দিন পণ্যবাহী ট্রাক আটকে থাকতে হতো সীমান্তে। ভারতের রাজ্য সরকারের নয়া সিদ্ধান্তে এশিয়ার বৃহত্তম স্থলবন্দর পেট্রাপোল সিন্ডিকেটের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে।

বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, একটা সময় কোনও পণ্যবাহী ট্রাক এন্ট্রি নেওয়ার পর প্রায় ৩৯ দিন আটকে থাকতো। তারপরও দালালদের টাকা দিয়ে ঢুকতো বাংলাদেশে। ব্যবস্থা পাল্টাতে মাস্টার স্ট্রোক দেয় ভারত রাজ্য সরকার। পৌরসভার হাত থেকে পার্কিং নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কেড়ে তা তুলে দেওয়া হয় পরিবহন দফতরের হাতে। নয়া সিদ্ধান্তের পর দেখা গিয়েছে, জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে আটকে থাকা গাড়ি এবং দিন সংখ্যা ভালো রকম হ্রাস পেয়েছে। এখন ৩৯ দিন নয়, তা কমে তিনদিনে নেমে এসেছে, বলছেন চালকরা। চলতি সপ্তাহে তা আরও কমে আসবে। এন্ট্রি হওয়ার দিনই গাড়ি ঢুকছে বাংলাদেশ । আগের ব্যবস্থায় দিন প্রতি পণ্যবাহী গাড়ির এন্ট্রি হতো ৮৪৬টি করে। বর্তমানে তা কমে ২৯৯টি হয়েছে। আগে লাইনে পণ্যবাহী গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকত ৯ হাজারের মতো। নয়া ব্যবস্থার পর তা কমে ১ হাজার ৫৮৭টিতে এসে দাঁড়িয়েছে। এতে বাণিজ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী জানান, সরকারের এমন পদক্ষেপে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা সহজ হওয়াতে স্বস্তি ফিরেছে আমদানিকারকদের মাঝে। দ্রুত পরিবহন করা যাচ্ছে পণ্য। এতে বাণিজ্য সহজ হয়েছে।

ভারতীয় ট্রাক চালক অনিমেষ জানান, আগে দেড় মাস পর্যন্ত কালিতলা পার্কিংয়ে থাকতে হতো। এখন ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে বাংলাদেশে ঢোকা যাচ্ছে। দ্রূত পণ্য পৌঁছাচ্ছে বন্দরে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশেন সহসভাপতি কামাল হোসেন জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এমন উদ্যোগে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা খুশি। তবে ট্রাক প্রতি এ ধরনের সেবা চার্জ পণ্যবাহী ট্রাক ১০ হাজার রুপি ও ট্রাক চ্যাচিজ চার্জ ৫ হাজার রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থের পরিমাণ কিছুটা কমালে আরও উপকৃত হবেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ-ভারত ল্যান্ড পোর্ট চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান, পণ্যের মূল্য ও ট্রাক ভাড়া ছাড়া প্রতি বছর কমপক্ষে ২ হাজার কোটি টাকা শুধু কালিতলা পার্কিং ডিটেনশন চার্জ বাবদ দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সদ্বিচ্ছা ও মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে বনগাঁ কালিতলা পার্কিং সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়া হয়। দিল্লি, বোম্বে সহ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ হতে একটি ট্রাক আসার পর লোকাল গোডাউনে আনলোড করে রাখা হয়। পরবর্তীতে সেই একই পণ্য দুইটি ট্রাকে লোড করে বেনাপোলে পাঠানো হয় যা ঋণ পত্রের শর্ত বহির্ভূত। এলসি তে পার্ট শিপমেন্ট অনুমোদন থাকলেও ট্রান্সশিপমেন্টের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকে। বনগাঁ পার্কিং সিন্ডিকেট ট্রাকের ভুয়া নম্বর দিয়ে এন্ট্রি করে রাখা হত। পরবর্তীতে সেই সিরিয়াল নম্বর ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হত।

তিনি বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন পণ্যের ইনভয়েজের মূল্যের সঙ্গে মালবাহী ট্রাকের চার্জের উল্লেখ করা হয়েছে। তা বিশ্লেষণ করে যায়, একটি গ্লশ ইন্ড্রাস্টিজের আমদানি করা কেমিক্যাল ব্রীক্স ৪টি ট্রাকে আমদানি হয়েছে। সেখানে ডিটেনশনসহ মালবাহী চার্জ ৮ হাজার ডলার অর্থাৎ একটি ট্রাকের ভাড়া ও ডিটেনশন চার্জ বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার টাকা। আবার সে ভাড়া পণ্যের মূল্যের সঙ্গে যোগ করে শুল্ক পরিশোধ করা হয়।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, একটি ওষধ শিল্পের ২ টন পণ্য আমদানি হয়েছে, যার ডিটেনশনসহ মালবাহী চার্জ ৩ হাজার ১০০ ডলার। অর্থাৎ একটি ট্রাকের ভাড়া ২ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। আবার একটি ইলেকট্রনিকস প্রতিষ্ঠানের নামে ১২০টি কেমিক্যাল চালানের ডিটেনশনসহ মালবাহি চার্জ ৩ হাজার ২০০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ২ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা।

ভারতের যে কোনো প্রদেশ হতে বেনাপোলে পণ্য আসলে সাধারণত ডিটেনশন ছাড়া দেড় লাখ টাকা ভাড়া হয় জানিয়ে মতিয়ার রহমান বলেন, পশ্চিম বাংলা সরকারের পরিবহন দফতর অনলাইনে স্লট বুকিং চালু করায় ভারতের যেকোনো প্রদেশ হতে ট্রাক কলকাতায় এসে পৌঁছানোর পর ১ থেকে ২ দিনের মধ্যে বেনাপোলে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে খুশি ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে উভয় দিকে সরকারি কর্মকর্তারা বিশেষ করে ভারতীয় পরিবহন দফতর, বন্দর কাস্টমস এবং বেনাপোল কাস্টমসও পোর্ট এলপিআই নিয়মিত তদারকি করলে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশে বনগাঁ পার্কিং সিন্ডিকেটের ডিটেনশন হতে চিরতরে মুক্তি পাবে এবং বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা উপকৃত হবে বলে আশা করেন তিনি।

অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, ভুয়া এন্ট্রি বন্ধ হওয়ায় এখন দু থেকে তিনদিনের মধ্যে গাড়ি বাংলাদেশ পৌঁছে যাচ্ছে। আগামী দিনে এই বন্দরে কাজের পরিমাণও বাড়বে। রফতানি বাণিজ্য করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ীদের উৎসাহ বাড়বে বলে মনে করছেন শুল্ক দফতরের আধিকারিকরাও।

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার বলেন, দুই দেশের সরকারের চেষ্টায় ভারতের রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশে পেট্রাপোলের আমদানি বাণিজ্যে গতি এসেছে বেনাপোলে। এতে বাণিজ্যে গতি ফিরেছে।

চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী আজ ১০ আগস্ট বুধবার। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও দিনটি উপলক্ষে রয়েছে নানা আয়োজন।

এসএম সুলতান ফাউন্ডেশনের আয়োজনে কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- কোরআনখানি, শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা পুষ্পমাল্য অর্পণ, দোয়া মাহফিল ও এস এম সুলতান আর্ট ক্যাম্পের উদ্বোধন।

এসএম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট তৎকালীন মহকুমা শহর নড়াইলের চিত্রা নদীর পাশে মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মো. মেছের আলী ও মাতা মোছা. মাজু বিবি। পিতা-মাতার দেয়া আদুরে ডাকনাম ছিল লাল মিয়া।

সুলতানের ৭০ বছরের বোহেমিয়ান জীবনে তিনি তুলির আঁচড়ে দেশ, মাটি, মাটির গন্ধ আর ঘামে ভেজা মেহনতী মানুষের সঙ্গে নিজেকে একাকার করে সৃষ্টি করেছেন পাট কাটা, ধানকাটা, ধান ঝাড়া, জলকে চলা, চর দখল, গ্রামের খাল, মৎস শিকার, গ্রামের দুপুর, নদী পারা পার, ধান মাড়াই, জমি কর্ষণে যাত্রা, মাছ ধরা, নদীর ঘাটে, ধান ভানা, গুন টানা, ফসল কাটার ক্ষণে, শরতের গ্রামীণ জীবন, শাপলা তোলা মত বিখ্যাত সব ছবি।

১৯৫০ সালে ইউরোপ সফরের সময় যৌথ প্রদর্শনীতে তার ছবি সমকালনী বিশ্ববিখ্যাত চিত্র শিল্পী পাবলো পিকাসো, ডুফি, সালভেদর দালি, পলক্লী, কনেট, মাতিসের ছবির সঙ্গে প্রদর্শিত হয়। সুলতানই একমাত্র এশিয়ান শিল্পী যার ছবি এসব শিল্পীদের ছবির সঙ্গে একত্রে প্রদর্শিত হয়েছে।

মহান এই শিল্পী ১৯৫৩ সালে দেশে ফিরে আসেন। কিছুদিন ঢাকা আর্ট কলেজের ছাত্রাবাসে অবস্থান করে ফিরে আসেন মাতৃভূমি নড়াইলে। ১৯৫৫ সালে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চাচুড়ি-পুরুলিয়ায় নন্দন কানন স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। শিল্পী ১৯৫৬ সালে পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের সঙ্গে কয়েকদিন আবস্থান করেন। ১৯৬৮ সালে যশোর-খুলনা ক্লাবে তার একক চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। ১৯৬৯ সালের ১০ জুলাই সুলতানের মাছিমদিয়ার বাড়িতে দি ইনস্টিটিউট অফ ফাইন আটর্স উদ্বোধন করেন।

১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় শিল্পী জেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে-ঘুরে যুদ্ধের ছবি আঁকেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শিল্পী নিজ শহরে ঘুরে বেড়িয়েছেন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে। ১৯৭৬ সালে ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমিতে তার একক চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। মুলত: এই প্রদশর্নীর মাধ্যমে এ দেশের সুশীল সমাজের তার নতুন ভাবে পরিচয় ঘটে।

কালোর্ত্তীণ এই চিত্রশিল্পী ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্স আটির্স্ট হিসেবে স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা এবং ১৯৯৩ সালে রাষ্টীয় ভাবে স্বাধীনতা পদক প্রদান করা হয়েছিল।

১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোরের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শিল্পী সুলতান মৃত্যুবরণ করেন।

;

লঞ্চভাড়া কত বাড়বে, সিদ্ধান্ত আজ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে লঞ্চের ভাড়া কত বাড়বে সে বিষয়ে আজ বুধবার (১০ আগস্ট) জানা যাবে।

গত সোমবার (৮ আগস্ট) লঞ্চমালিকদের সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠকে বসেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। বৈঠকে লঞ্চের ভাড়া পুনর্নির্ধারণে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে দেয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। কমিটির সদস্যরা ওই দিন বেলা তিনটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত লঞ্চমালিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

আলোচনায় লঞ্চের ভাড়া বাড়াতে সর্বনিম্ন ১৯ দশমিক ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আটটি স্তরের সুপারিশ করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গঠিত সাত সদস্যের কমিটি। এর মধ্যে যে স্তরটি নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী ঠিক করবেন, সে অনুযায়ী নতুন ভাড়া নির্ধারণ করে আজ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

এর আগে, সরকার গত শুক্রবার (০৫ আগস্ট) জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর লঞ্চমালিকেরা ভাড়া শতভাগ বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির আটটি সুপারিশ হলো- প্রথম ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বর্তমান ভাড়া ২ টাকা ৩০ পয়সা। কমিটি সর্বনিম্ন স্তরে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বাড়বে ৪৫ পয়সা। দ্বিতীয় স্তরে ২২ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। তাতে প্রতি কিলোমিটারে ৫১ পয়সা বেড়ে ভাড়া হবে ২ টাকা ৮১ পয়সা। তৃতীয় স্তরে ২৫ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর সুপারিশ করেছে কমিটি। তাতে ৫৭ পয়সা বেড়ে ভাড়া দাঁড়াবে ২ টাকা ৮৭ পয়সা।

৩০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি হলে প্রতি কিলোমিটারে বাড়বে ৬৯ পয়সা। তাতে কিলোমিটারে ভাড়া হবে ২ টাকা ৯৯ পয়সা। ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি হলে ভাড়া হবে ৩ টাকা ১০ পয়সা। ৪০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি পেলে ভাড়া হবে ৩ টাকা ২২ পয়সা। ৪২ শতাংশ বাড়লে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বেড়ে দাঁড়াবে ৩ টাকা ২৬ পয়সা। আর ৫০ শতাংশ বাড়ানো হলে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বেড়ে হবে ৩ টাকা ৪৫ পয়সা।

লঞ্চ মালিক সমিতি বলছে, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৩৪ টাকা বেড়েছে। তাতে এমনিতেই প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ার কথা।

;

এক বছরে টাকার মূল্য ১২ শতাংশের বেশি কমেছে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আমদানি মূল্য বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ কমায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে মার্কিন ডলারের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করছে। তবুও কমছে না ডলারের তেজি ভাব, কাটছে না সংকট।

ডলারের বাজারে অস্থিরতা চলছে গত কয়েক মাস ধরেই। ফলে টাকার বিপরীতে এর দাম বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ৯৫ টাকা দরে ডলার বিক্রি করছে। গত বছরের জুলাইয়ে প্রতি ডলারের বিপরীতে বিনিময় হার ছিল ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরে টাকার মূল্য ১২ শতাংশের বেশি কমেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়ে যাওয়া, এলএনজি আমদানির দেনা পরিশোধ, রফতানি আয়ের চেয়ে আমদানি ব্যয় মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি এবং দেশ থেকে টাকা পাচারসহ নানা কারণে বাজারে ডলারের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে ডলারের দাম বেড়ে যাচ্ছে। ডলারের দাম বাড়ায় আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ফলে ভোগ্যপণ্য, জ্বালানি তেল, শিল্পের কাঁচামালসহ সব আমদানি পণ্যের ব্যয় বাড়ছে। এতে মূল্যস্ফীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে সরকার ডলারের লাগাম টেনে ধরতে বিলাসী পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করা এবং সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তবুও পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটছে ডলারের মূল্য।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত রিজার্ভ থেকে ১৫০ কোটি (দেড় বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স কমে যাওয়ায় দেশে ডলারের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এ জন্য প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডলারের দাম। এতে রিজার্ভ থেকে ডলার ছেড়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবুও প্রতিনিয়ত দামও বাড়াচ্ছে। এর পরও সংকট কাটছে না।

;

কোথায় কখন লোডশেডিং আজ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতির জন্য দেশজুড়ে এলাকাভিত্তিক আজও লোডশেডিং শুরু হচ্ছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বুধবারের (১০ আগস্ট) তালিকা প্রকাশ করেছে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো।

ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো), ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউসন কোম্পানি (ওজোপাডিকো), বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এর ওয়েবাসাইটের নির্দিষ্ট লিংককে গিয়ে এই তালিকা দেখতে পারবেন গ্রাহকরা।

আজকে কোন এলাকায় কখন লোডশেডিং হবে, এর সূচি দেওয়া হয়েছে। দেখে নেওয়া যাক।

https://www.desco.org.bd/bangla/loadshed_b.php

http://www.wzpdcl.org.bd/

https://nesco.portal.gov.bd/site/page/13ccd456-1e1d-4b24-828d-5811a856f107

http://reb.portal.gov.bd/site/page/c65ac273-d051-416f-9a93-5cd300079047

https://bpdb.portal.gov.bd/site/page/cafea028-95e6-4fca-8fea-e4415aef9a60

https://www.desco.org.bd/bangla/loadshed_b.php

জ্বালানি সাশ্রয়ে উচ্চ ব্যয়ের ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের পর সরবরাহ সংকটে দেশজুড়ে প্রতিদিন সূচি ধরে কোথাও এক ঘণ্টা আবার কোথাও ২ ঘণ্টা করে লোডশেডিং করা শুরু হয় মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) থেকে।

এর আগে ১৮ জুলাই লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিবিষয়ক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

;