আইএমএফ বললে কি দেশের মানুষকে কোরবানি করবেন প্রশ্ন জিএম কাদেরের



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, আইএমএফ বললে কি দেশের মানুষকে কোরবানি করবেন! আমার মনে হয় করবে, কারণ টাকার দরকার।

সোমবার (৮ আগস্ট) জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। তেলে দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। ১০ আগস্ট দেশব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল।

জিএম কাদের আরও বলেন, নজিরবিহীন ভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে। এটাকে আমরা বলেছি নির্দয় সিদ্ধান্ত। এরশাদের সময়ে পেট্রোল অকটেন, ডিজেলের দাম কমিয়েছিলেন। এরশাদ তেলের উপর ট্যাক্স নিতেন না। তেল এমন জিনিস এর দাম বাড়লে জনগণের হৃদয়ে আঘাত করতো। তেলের দাম যখন নিম্নমূখী তখন হঠাৎ করে দাম বাড়াতে হলো।

আমি এক সময় এ সেক্টরে কাজ করেছি, সে কারণে দায়িত্ব নিয়ে বলছি আমদানির পর সবখরচ ও ডিউটি যোগ করেও যা দাঁড়ায় তার চেয়েও বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে। যখন কম ছিল, তখন লাভ করলেন, সেই টাকা গেলো কোথায়, লুটপাট হয়েছে বলে মন্তব্য করেন জাপা চেয়ারম্যান।

তিনি আরও বলেন, ডিজেলের দাম বাড়লে বাস মালিকরা হরতাল কল করেনা। তারা ঘোষণা ছাড়াই বাস বন্ধ করে দেয়। সরকার তাদের হাতে পায়ে ধরে নামান, কিছু পয়সা বাড়িয়ে। আপনারা টের পান না, জনগণ হাড়ে হাড়ে টের পায়। সরকার নির্ধারিত টাকায় বাসে উঠতে পারে না, নামিয়ে দেওয়া হয়।জ্বালানি দাম বৃদ্ধি মানে সব জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি। জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি মানে আপনার বেতন অর্ধেক হয়ে গেছে। এই সময়ে তেলে দাম বৃদ্ধি মরার,  উপর খাঁড়ার ঘা।

তিনি বলেন, রেন্টাল কুইক রেন্টালের নামে কিছু মানুষকে হাজার হাজার কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের লোককে দেওয়া হচ্ছে। মাসে ২ হাজার কোটি টাকা, বিদ্যুৎ ছাড়াই দিতে হচ্ছে। বিশ্ব ব্যাংকে সকাল সন্ধ্যা গালাগাল করলো, তাদের কাছে টাকার জন্য ধর্না দিচ্ছে। শুধু বিশ্ব ব্যাংক নয় জাইকাসহ অনেকের কাছে ছুটছে। আমি ছয়-সাত মাস আগে যখন বলেছি শ্রীলঙ্কার দিকে যাচ্ছেন। তখন আমাকে বলা হলো আমি নাকি মুর্খ। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে দুটি মিল রয়েছে সেখানেও শাসকের কোন জবাবদিহি নেই, মেগা প্রকল্পের বাড়তি খরচ। আমরা শ্রীলঙ্কার মতো স্বৈরশাসন চাই না, মেগা প্রকল্প চাই না। 

তিনি বলেন, ডিজেল, পেট্রোলের দাম পুর্বের জায়গায় আনতে হবে। জনগণের জন্য রেশন চালু করতে হবে। ভারতে দাম বাড়িয়েছে তারা রেশন পায়, তাদের নিজস্ব গাড়ি ব্যবহার করতে হয় না। কানাডা আমেরিকায় ক্যাশটাকা দেওয়া হয়, তাদের দেশে জনগণের সরকার রয়েছে। আমরা প্রতিনিধি বানিয়েছি, তারা হয়ে গেছে শাসক, আমরা প্রজা। প্রত্যেকটি ব্যাংকে লুটপাট করা হয়েছে। টাকা না দিলেও খেলাপি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। আমরা এই তালিকা চাই।

সরকার বলছে, রিজার্ভ রয়েছে, কিন্তু আমরা দেখছি সরকার টাকার জন্য এদিক ওদিক ছুটাছুটি করছে। বড় বড় ভবন করা হচ্ছে, সেখানে ডাক্তার নেই, কেনো ভবন করলেন, ভবন করলে টুপাইস পাওয়া যায়।  ধরে নিলাম রিজার্ভ রয়েছে, তাহলে ঋণের জন্য ছুটছেন কেনো, বলছে মেগা প্রকল্প করবে। কেনো মেগা প্রকল্প, এখানে টুপাইস মিলবে, বিদেশে পাচার করা যাবে যে কারণে তাদের মেগা প্রকল্পে আগ্রহ বলে মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ থেকে ৮০ হাজার কোটির টাকা সুদ দিতে হয়। এনবিআর রাজস্বের যে চার্গেড নিয়েছে, এটা না হলে বেতনভাতা দিতে পারবে না। ঋণ করতে হবে। আমরা জনগণের সরকার চাই, স্বাধীনতা ৫০ বছর পর বলতে হচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ত বৃথা গেছে। দেশে প্রজাতন্ত্র নেই, গণতন্ত্র নেই, রাজার শাসন চলছে। এখন তন্ত্র মন্ত্র নিয়ে বেশি বলতে চাই না, বললে এখানেই কি হয় বলা যায় না। তোমাদের কি হয় বলতে পারি না। তোমরা বুঝে নাও কি তন্ত্র চলছে।

জিএম কাদের বলেন, মিছিলের কর্মসূচি ছিল, এখন অফিস ছুটি হয়েছে রাস্তায় জ্যাম হবে। মিছিল বাতিল করতে চাইলে তখন না না ধ্বনি ওঠে। তখন বলেন, সামনে অনেক কঠিন সময় আসবে। সেদিনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তখন জনগণ যেভাবে চায় সেভাবে সাড়া দিতে হবে।

সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, গতবাজেটে বললেন, সব ঠিক আছে। ২ মাসের মধ্যে কি হলো, আইএমএফ থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে কেনো। বিনিয়োগকারীরা জানেন না, তাদের কি হবে। কানাডার বেগমপাড়ায় হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার মানুষের কথা চিন্তা করছে না, কৃষকের কথা চিন্তা করছে না। কেনো ডলারের এ অবস্থা, কেনো অর্থনীতিতে ধ্বস নামছে। সরকারকে বলবো, অনতিবিলম্বে তেলের দাম কমান। মেগা প্রকল্পের খরচ কমান, মানুষের কথা ভাবুন। পার্টির চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করবো, চলুন আমরা রাজপথে থাকি, যতক্ষণ দাবী আদায় না হয়।

মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, মানুষের আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের ইতিহাসে এতো বেশি পরিমাণে কোন পণ্যের দাম বাড়েনি। আমরা সরকারের সঙ্গে নির্বাচনী জোট করেছিলাম। তারা এতো লুটপাট, দুর্নীতি করবে এটা ভাবতেও পারি নি। গতকাল পরিকল্পনা মন্ত্রী বললেন, তারা আইএমএফ'র পরামর্শে দাম বাড়িয়েছে, অর্থমন্ত্রী বললেন আমরা আন্তর্জাতিক বাজার বেড়ে যাওয়ায় বৃদ্ধি করেছি। তাদের কারো কথার ঠিক নেই। প্রধানমন্ত্রী আপনি গণভবনে গন্ডির মধ্যে সঠিক অবস্থা জানতে পারছেন না।আপনার দলের লোকজন কিভাবে লুটপাট করছে। সঠিক অবস্থা জেনে নিন, না হলে জাপা মাঠ থেকে সরে যাবে না।

বিএনপির নাম উচ্চারণ করে বলেন, খাম্বাওয়ালা বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে বিদ্যুতের জন্য মানুষ খুন করেছে। মানুষ বিএনপি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তারা জাটাকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।

কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি বলেন, আমার মনে হয় দেশে সরকার নেই, সরকার থাকলে এভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে পারতো না। সরকার জনগণের কথা ভাবে না। সরকারকে ঘিরে রেখেছে কিছু আমলা ব্যবসায়ী। তাদের কথায় চলে সরকার। সমস্ত ব্যাংক লুটপাট করে বিদেশে টাকার পাহাড় গড়ছে।

কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইদুর রহমান টেপা, ফকরুল ইমাম এমপি, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভুঁইয়া, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, আলমগীর সিকদার লোটন, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, জহিরুল ইসলাম রুবেল, ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ খান, আসিফ শাহরিয়ার, যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল আহসান শাহাজাদা, দপ্তর সম্পাদক-১ এম এ রাজ্জাক প্রমুখ। জাপার শ্লোগান অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে কড়া লক্ষ্যণীয়। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আগে কখনও এমন কড়া ভাষা ব্যাবহার করতে দেখা যায়নি।

বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার পীঠস্থান: হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার পীঠস্থান: হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর

বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার পীঠস্থান: হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর

  • Font increase
  • Font Decrease

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের অষ্টমীতে নগরের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর।

সোমবার (৩ অক্টোবর) রাতে অষ্টমী পূজায় নগরের এনায়েত বাজার কেদার নাথ তেওয়ারী কলোনী দূর্গা পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

এসময় তিনি বলেন, যুগ যুগ ধরে চিরায়ত বাংলা সর্বজনীন বোধে অসাম্প্রদায়িক চেতনার পীঠস্থান। ধর্মীয় ভেদ বুদ্ধিতে এই দেশ স্বাধীন হয়নি। বঙ্গবন্ধু এই দেশ স্বাধীন করেছেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভিত্তিতে। যার ধারাবাহিক রক্ষা করে যাচ্ছে বঙ্গকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর পরশে বাংলাদেশ এখন সুসজ্জিত একটি দেশ। ধর্মীয় ভাবধারায় যার যার ধর্ম সেই নির্বিঘ্নে পালন করে যাচ্ছে শেখ হাসিনার বদৌলতে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মহাদেব ঘোষ, বিপু ঘোষ বিলু, শিবু প্রসাদ চৌধুরী,সুজিত ঘোষ, দিপু নাথ, রতন ঘোষ, মোরশেদ আলম, মোঃ ফরিদ, দেলোয়ার হোসেন ও সনাতন ধর্ম সংসদ এর উত্তম দে, প্রকাশ ষোষ, অজিত ভট্টাচায.অরুন দে,বিপ্লব দে, টুটুল মজুমদার, পিন্টু প্রসাদ, রাহল ভট্টাচার্য, সৌরভ চৌধুরী বাহাদুর প্রমুখ।

;

অশ্লীল ছবি-ভিডিও পাঠিয়ে নারীদের উত্ত্যক্ত, ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ



কল্লোল রায়, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুড়িগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নে বশির উদ্দিন (২২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে ওই এলাকার একাধিক গৃহবধূকে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে বিভিন্ন অশ্লীল ভিডিও ও ছবি পাঠিয়ে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে গত ৫ দিন আগে ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে উলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও সোমবার বিকাল পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। ভুক্তভোগীরা বলছেন, থানায় অভিযোগের পর তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে অভিযুক্ত যুবক ও তার পরিবারের সদস্যরা।

আইনজীবীরা বলছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরও মামলা রেকর্ড না হওয়া আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অথচ পুলিশের কাছে পেশকৃত সকল মামলা প্রথম দৃষ্টিতে মিথ্যা বা সত্য, গুরুতর কিংবা সাধারণ দন্ডবিধির অধীনে শাস্তিযোগ্য, যাই হোক না কেন তার এফআইআর গ্রহণ করার বিধান রয়েছে। মামলা রেকর্ড না হওয়ায় পুলিশ রেগুলেশন্স ভঙ্গ হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত বশির দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই মন্ডল পাড়া গ্রামের ছামছুল হক-মর্জিনা বেগম দম্পতির ছেলে। গত তিন চার মাস আগে সে এক গৃহবধূর ম্যাসেঞ্জারে বিভিন্ন অশ্লীল ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে তাকে কু-প্রস্তাব দেয়। বিষয়টি বশিরের পরিবারকে জানিয়ে কোনও সুরাহা না পেয়ে ওই গৃহবধূ তার স্বামীকে জানান এবং ওই যুবকের আইডিটি ব্লক করে দেয়। পরে অভিযুক্ত যুবক বিভিন্ন নামে-বেনামের আইডি থেকে ওই গৃহবধূকে বিরক্ত করতে থাকে। এর মধ্যে ওই গৃহবধূর স্বামীর ভাতিজিকে একই ভাবে বিরক্ত করা শুরু করেন বশির। তাকেও বিভিন্ন সময় অশ্লীল ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে কু-প্রস্তাব দিতে থাকেন তিনি। বিষয়টি ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের নজরে আসলে তারা এ নিয়ে অভিযুক্ত বশিরকে জিজ্ঞসাবাদ করেন এবং বশির সকল ঘটনা ‘স্বীকারও’ করেন। কিন্তু তাকে এসব থেকে বিরত থাকার কথা বলা হলে তিনি উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকে নানা ভাবে হুমকি দেন। পরে পরিবারটি বাধ্য হয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর উলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করে। কিন্তু অভিযোগ দেওয়ার পাঁচ দিন হয়ে গেলেও বিষয়টি নিয়ে কোনও আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।

ভুক্তভোগী এক গৃহবধূ বলেন, ‘আমার আইডির ম্যাসেঞ্জারে বিভিন্ন সময় অশ্লীল ছবি আর ভিডিও পাঠিয়ে আমাকে কু-প্রস্তাব দেয় বশির। তার পরিবারকে বললেও কোনও কাজ হয়নি। পরে আমি আমার স্বামীকে বিষয়টি জানায় এবং বশিরের আইডি ব্লক করি। কিন্তু পরে অন্য আইডি খুলে আমাকে একই ভাবে বিরক্ত করতে থাকে। কয়েকদিন থেকে আমার স্বামীর বিবাহিত ভাতিজিকেও একই ভাবে বিরক্ত করছে সে। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করলেও কোনও প্রতিকার পাচ্ছি না।’

এসব ঘটনায় নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই পরিবারের এক সদস্য। তিনি বলেন, ‘বশির এর আগে আমাদের গ্রামের আরও এক কিশোরীকে ফোনে উত্তক্ত করতো। ওই কিশোরীর পরিবার এর প্রতিবাদ করায় বশির ওই কিশোরীর নামে ফেসবুক আইডি খুলে বিভিন্ন ছেলেদেরকে খারাপ খারাপ ম্যাসেজ দিতো। পরে ওই কিশোরী গ্রাম ছেড়ে ঢাকা যেতে বাধ্য হয়। এখন আমার ভাবি এবং ভাতিজিকে খারাপ খারাপ ছবি আর ভিডিও পাঠিয়ে কু-প্রস্তাব দিচ্ছে। এ নিয়ে আমার ভাতিজির বিবাহিত জীবনে অশান্তি তৈরি হয়েছে। তার স্বামী তাকে ভুল বুঝতেছে। অথচ বশিরের ঘরেও স্ত্রী আছে।’

থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনও প্রতিকার পাচ্ছেন না জানিয়ে অভিযোগকারী এই যুবক বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু পুলিশ এখনও মামলা নেয়নি, কোনও ব্যবস্থাও নেয়নি। আমরা তাহলে কার কাছে যাবো। ’

এই যুবক আরও বলেন, ‘বশিরের এক ভাবি পুলিশে চাকরি করেন। তিনি প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছেন বলে মনে হচ্ছে। আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হুমকিও দিচ্ছে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত বশির উদ্দিনকে ফোন দিলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়া মাত্র সংযোগ কেটে দেন। এরপর তাকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গত ২৯ সেপ্টেম্বর উলিপুর থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন ওই থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রুহুল আমিন। তিনি অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘ আমরা বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরও মামলা রেকর্ড না করায় আইনের লঙ্ঘন হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ অভিযোগটিতে ভুক্তভোগী পরিবার সম্মানহানীর অভিযোগ করেছে। এজন্য আমরা তদন্ত করে জিডি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

অভিযোগ পাওয়ার পাঁচ দিনেও জিডি করেছেন কিনা, এমন প্রশ্নে ইন্সপেক্টর রুহুল আমিন বলেন, ‘এখনও করা হয়নি। তদন্ত করে জিডি করা হবে।’

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরও মামলা রেকর্ড না করা আইনের লঙ্ঘন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘মামলা না নেওয়া একটি ক্রিমিনাল অপরাধ। ১৮৬১ সালের পুলিশ আইন এর ২৯ ধারা অনুযায়ী যার শাস্তি তিন মাসের কারাদন্ড অথবা তিন মাসের বেতন জরিমানা অথবা উভয় দন্ড।’

তদন্ত করে জিডি এন্ট্রির বিষয়ে এই আইনজীবী বলেন, ‘সেক্ষেত্রেও আগে জিডি এন্ট্রি করে তদন্ত করতে হবে।’

উলিপুর থানার নব নিযুক্ত অফিসার ইন চার্জ (ওসি) শেখ আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘আমি গতকাল (রবিবার) বিকালে যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।’

;

বগুড়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১, আহত ১৫



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
বগুড়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১, আহত ১৫

বগুড়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১, আহত ১৫

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ার শাজাহানপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার(০৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের শাজাহানপুর উপজেলার  জামালপুর এলাকায়  ফারহান ফিলিং স্টেশন সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, বগুড়া থেকে ঢাকাগামী আর কে ট্রাভেলস পরিবহনের একটি বাসের সাথে বিপরীত মুখি বগুড়াগামী এ খালেক পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।সংঘর্ষে আর কে ট্রাভেলস বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা দুই বাসের চালকসহ  ১৬ জনকে  উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ভর্তি করে দেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সাড়ে ১১ টায় একজন মারা যান।

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওমর ফারুক (২৭) নামের একজন যান। তিনি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সরো গ্রামের জামাল হোসেনের  ছেলে।

শেরপুর  হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জয়নাল আবেদীন সরকার বলেন, দুর্ঘটনা কবলিত বাস দুইটি হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

;

মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা, নিহত ৪



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিরাজগঞ্জ
মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা, নিহত ৪

মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা, নিহত ৪

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কায় ৪ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ সময় মাইক্রোবাসে প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) সকালে জেলা ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) সালেকুজ্জামান খান সালেক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এরআগে, সোমবার রাত পৌনে ১২ টার কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ওভারব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, নাটোর জেলার বনপাড়া উপজেলার বনপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন (৫৫), তার স্ত্রী পান্না খাতুন (৪৫), মাইক্রোবাস চালক সেলিম শেখ (৪০) এবং মানিকগঞ্জের রফিকুল ইসলাম (৩৮)। সকালে আহতদের মধ্যে ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত মশিউর রহমান বলেন, রাতে বাড়ি ফিরছিলাম। ঝাঐল ওভারব্রীজ এলাকায় মাইক্রেবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে আমার বোন পান্না খাতুন, দুলাভাই জাহাঙ্গীরসহ ৪ জনের মৃত্যু হয়।

জেলা ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) সালেকুজ্জামান খান সালেক জানান, বনপাড়া থেকে একটি মাইক্রোবাস ১৪ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দ্যেশে যাচ্ছিলো। মাইক্রোবাসটি কামারখন্দের ঝাঐল ওভার ব্রিজ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা দেয়। এসময় ঘটনাস্থলে ২ জন নিহত হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মরদেহ সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানায় রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।

;