লক্ষ্মীপুরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবলীগ নেতা নিহত



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, লক্ষ্মীপুর
নিহত আলাউদ্দিন পাটওয়ারী

নিহত আলাউদ্দিন পাটওয়ারী

  • Font increase
  • Font Decrease

লক্ষ্মীপুরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আলাউদ্দিন পাটওয়ারী নামের এক যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের রশিদপুর পোদ্দার দিঘীর পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। রাত ১১টায় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক কমলাশীষ রায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতালে আনার পথেই তার মৃত্যু হয়। তার কানে ও পেটে গুলিবিদ্ধ হয় বলে জানান চিকিৎসক।

নিহত আলাউদ্দিন একই এলাকার হামিদ উল্যাহ পাটওয়ারী বাড়ির সাদেক পাটওয়ারীর ছেলে ও বশিকপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি।

পুলিশ নিহতের মরদেহ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। রাত ১২টা পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়নি। তবে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানান নিহতের স্বজনরা।

নিহতের চাচা জামাল হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে যুবলীগ নেতা আলাউদ্দিন মোবাইল ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন। দুর্বৃত্তরা ওই সময় পাশের বাগানে অন্ধকারে ওঁৎ পেতে ছিল। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি জানান।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন নিহতের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে বিএনপির সন্ত্রাসীরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। এ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়, ফের তারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি ।

লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ বলেন, নিহতের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে।

   

ক্ষমতায় গেলে ক্ষমতা দেখাতে নেই: তথ্যমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

  • Font increase
  • Font Decrease

ক্ষমতায় গেলে ক্ষমতা দেখাতে নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, আমি সবসময় ভেবেছি, যখন এমপি পদে প্রার্থী ছিলাম তখন আমি দলীয় প্রার্থী। আর যখন নির্বাচিত হয়েছি তখন আমি সবার এমপি। আমি মনে করি ক্ষমতায় গেলে ক্ষমতা দেখাতে নেই। আমার বিরুদ্ধে মাইকিং করেছে এমন ছেলের চাকরিও আমার হাত দিয়ে হয়েছে।

শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর নাসিরাবাদ কনভেনশন হলে নিবার্চনী এলাকা রাঙ্গুনিয়ার বিশিষ্টজনদের নিয়ে আয়োজিত সুধী সামাবেশে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন।

সুধীজনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা আমাকে এমপি নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছেন, আমিও চেষ্টা করেছি সবসময় আপনাদের পাশে থাকার, জনগণের এমপি হিসেবে কাজ করার। দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য আমার দুয়ার খোলা রেখেছি। কেউ আমার কাছে এসে খালি হাতে ফিরে যায়নি। আমি কখনো দেখিনি সে কোন দল করে, সে কি আমাকে ভোট দিয়েছিল, না ভোট দেয়নি।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় শুধু এলজিইডির মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছি। আরও অনেক ডিপার্টমেন্ট আছে, সে হিসাব আজকে আনিনি। এমন কোন স্কুল, মাদরাসা নাই যেখানে ভবন পায়নি। সরকারি কাজের কথা বাদ দিলাম, পরিবেশ মন্ত্রী থাকাকালে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১ কোটি টাকার টিন বিতরণ করেছি। প্রতিটি ইউনিয়নে ১টি করে পাওয়ার টিলার, কোন কোন ইউনিয়নে ৩টি করেও দিয়েছি। আমার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তহবিল থেকে ২৪টি নতুন মসজিদ ভবন করে দিয়েছি। প্রতি বছর কয়েকজনকে ওমরা হজ করতে পাঠানোর চেষ্টা করি। এখন রাঙ্গুনিয়ায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫০টির বেশি ঘর করে দিচ্ছি। প্রতিটা ঘরে প্রায় ৩ লাখ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে।

তিনি বলেন, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় জনগণের দাবি ছিল দু’টি সেতু । একটি শিলক সরফভাটা, আর একটি হল রাজারহাট সেতু। সেখানে দু’টি জায়গায় শুধু শিলক নদীতে ৫টি সেতু হয়েছে। কেউ কেউ বলে ছিল হাছান মাহমুদ দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার ছেলে সে উত্তর রাঙ্গুনিয়া কাজ করবে না। সে সময় আমি কথা দিয়েছিলাম নির্বাচিত হলে উত্তর রাঙ্গুনিয়ার কাজ আগে করবো। আমি কথা রেখেছি। কালীন্দিরাণী সড়ক আর মরিয়মনগর ডিসি সড়ক প্রসস্থকরণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে, সেটিও হবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে রাঙ্গুনিয়ায় কোন বাড়িতে বিদ্যুৎ নাই সেটি অনুসন্ধানের বিষয়। অথচ ২০০৯ সালের আগে আমার বাড়িতেই বিদ্যুৎ ছিল না। এখন ১০ বছরের ছেলেকে চেরাগ ও হারিকেনের কথা জিজ্ঞেস করলে সে বলতে পারবে না। কারণ হারিকেন ও চেরাগ সে কখনো দেখেনি। আর এখন বাড়িতে বাড়িতে টেলিভিশন, ফ্রিজ, ব্রডব্যান্ড কানেকশন, আবার কারো কারো বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনও আছে। এগুলো এমনি এমনি হয়ে যায়নি। এটি শেখ হাসিনার সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে সম্ভব হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন খান স্বপন ও আবদুল জব্বারের সঞ্চালনায় সুধী সমাবেশে চট্টগ্রার প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. রফিকুল আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সেকান্দর চৌধুরী, অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন তালুকদার, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, ডা. রেজাউল করিম, দীপেন সাহাসহ প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

;

২৭ বছর পর ‘খুঁজে পাওয়া’ হাসানকে খুন করে টুকরো টুকরো করল স্ত্রী-সন্তান



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম ব্যুরো
মোহাম্মদ হাসান

মোহাম্মদ হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

২৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন মোহাম্মদ হাসান। ৬১ বছরের মানুষটা কোথায় ছিলেন তা-ও অজানা ছিল স্ত্রী-সন্তানদের কাছে। কিছুদিন আগে হুট করে বাড়ি ফিরে আসেন ‘নিখোঁজ’ হাসান। সেই ফেরাটাই কাল হলো তার জন্য। কোথায় বহুদিন পর খুঁজে পাওয়া হাসানকে মায়ায় জড়াবেন। উল্টো সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা হাসানকে হত্যা করে মরদেহ ‍টুকরো টুকরো করে ফেলে দিয়েছেন খাল ও নালায়।

চট্টগ্রামে দুই দিন আগে ট্রলিব্যাগ থেকে উদ্ধার হওয়া মানবদেহের খণ্ডগুলো এই হাসানের। তার পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

স্ত্রী-সন্তান ও পুত্রবধূর হাতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হাসানের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কাথারিয়া ইউনিয়নের বড়ইতলী গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের সাহাব মিয়ার ছেলে। তবে পিবিআইয়ের উদ্ধার করা জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) হাসানের অস্থায়ী ঠিকানা লেখা আছে, সিলেট সদরের সাধুর বাজার সংলগ্ন রেলওয়ে কলোনির জামাল মিয়ার গ্যারেজ। ধারণা করা হচ্ছে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সিলেটের এই এলাকায় এতবছর ধরে থাকছিলেন হাসান।

পিবিআই নদী ও নালা থেকে ৮টি খণ্ডাংশ উদ্ধার করলেও মাথার হদিস এখনো পায়নি। সেটির খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর পতেঙ্গা বোট ক্লাবের অদূরে ১২ নম্বর গেটে একটি ট্রলিব্যাগ পায় পুলিশ। কফি রঙের সেই ট্রলিব্যাগে মানবদেহের ২ হাত, ২ পা, কনুই থেকে কাঁধ এবং হাঁটু থেকে উরু পর্যন্ত অংশ ছিল। এই ঘটনায় পতেঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কাদির বাদী হয়ে এক বা একাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এরপর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উম্মোচনে মাঠে নামে পিবিআই।

আঙুলের ছাপ ও নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে প্রথমে হাসানের পরিচয় নিশ্চিত হন পিবিআই। এরপর আকমল আলী রোড এলাকায় হাসানের ছোট ছেলের বাসার সন্ধান পান তারা। পরে বাসার আশপাশের সিসি ক্যামরার ফুটেজ সংগ্রহের পর পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায় পিবিআইয়ের কর্মকর্তাদের কাছে। তারা সিসি ক্যামেরায় দেখতে পান হত্যার পর ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে শরীরের অংশবিশেষ বস্তায় ভরে বের করছিলেন হাসানের ছোট ছেলে সফিকুর রহমান জাহাঙ্গীর। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে পিবিআই জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডে শুধু ছোট ছেলে নয় ওই বাসায় হাসানের স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম, বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান ও ছোট ছেলের স্ত্রী আনারকলিও সেই বাসায় ছিলেন। হাসানের অবস্থানও ছিল সেখানে।

মূলত হাসানকে হত্যার পর লাশ টুকরো টুকরো করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে তথ্যপ্রমাণ গায়েব করতে। তবে পিবিআইয়ের তদন্তের জালে হাসানের স্ত্রী ও বড় ছেলে আটকা পড়ার পর বেরিয়ে আসে কোথায় ফেলা হয়েছে লাশের খণ্ডাংশ।

১৯ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানার আকমল আলী সড়কের পকেট গেইট এলাকার জমির ভিলার ৭ নম্বর বাসায় হাসানকে খুন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিটের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) একেএম মহিউদ্দিন সেলিম। তিনি বলেন, বাসাটি ছিল হাসানের ছোট ছেলের। সেখানে তিনি স্ত্রী-সন্তানসহ থাকেন। হত্যাকাণ্ডের দশদিন আগে চিকিৎসার নামে হাসানের স্ত্রী ছোট ছেলের সেই বাসায় আসেন। ঘটনার দিন বড় ছেলে মোস্তাফিজুরও সেই বাসায় যান। কৌশলে ডেকে নেওয়া হয় হাসানকেও। জমি নিয়ে রাতে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে স্ত্রী, দুই ছেলে এবং ছোট ছেলের স্ত্রী মিলে পরিকল্পিতভাবে হাসানকে খুন করেন।

লাশটি কেটে টুকরো টুকরো করা হয় জানিয়ে পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রথমে ট্রলিব্যাগে করে লাশের আট টুকরো ফেলা হয় পতেঙ্গা ১২ নম্বর ঘাট এলাকার খালে। মাথা এবং বুকসহ শরীরের আরও কিছু অংশ ফেলা হয় নানা স্থানে। ছোট ছেলেই লাশের টুকরোগুলো নানাস্থানে ফেলার কাজটি করেন।

স্ত্রী ও বড় ছেলেকে হেফাজতে নেওয়ার পর তাদের তথ্য অনুযায়ী শনিবার আকমল আলী সড়কের খালপাড়ে একটি খাল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় টেপে মোড়ানো শরীরের একটি খণ্ড উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মাথাটি এখনো পাওয়া যায়নি।

পিবিআই সূত্র জানায়, বিচ্ছিন্ন থাকার ২৭-২৮ বছর পর সম্প্রতি ঘরে ফিরে আসেন হাসান। বাঁশখালীতে তার কিছু পৈতৃক সম্পদ আছে। ফেরার পর স্ত্রী-সন্তানেরা সম্পদগুলো তাদের নামে লিখে দিতে হাসানকে চাপ দিচ্ছিলেন। তবে হাসান তাদের কথা শোনেননি। এ কারণেই মূলত হত্যার শিকার হতে হলো তাকে। স্ত্রী ও বড় ছেলেকে আটক করা হলেও পালিয়ে গেছেন ছোট ছেলে ও তার স্ত্রী। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পিবিআই।

;

মার্কিন ভিসা বিধিনিষেধ বাণিজ্যে প্রভাব ফেলবে না: সালমান এফ রহমান



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বাধা প্রদানে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মার্কিন ভিসা বিধিনিষেধের কারণে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক একটি কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার পর সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা সময়ে তিনি এ কথা বলেন।

মার্কিন ভিসা বিধিনিষেধকে খুব ভালো বলে উল্লেখ করে সালমান এফ রহমান বলেন, আমি মনে করি, এটা খুব ভালো। যারা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করবে তাদেরকে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। সরকার পক্ষ থেকে আমরা সবসময় বলেছি, গতকাল প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে তার বক্তব্যেও এটা বলেছেন। তারা নিরপেক্ষ-সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলছে। আমরাও তাই চাই। আমরা তো বাধা দিতে চাই না। যারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বাধা দেবে তাদের বিরুদ্ধে ভিসা স্যাংশন হবে।

এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তারা (যুক্তরাষ্ট্র) শুধু বাধা না, সহিংসতার কথাও বলেছে। আপনারা জানেন, প্রধান বিরোধী দল, তারা প্রকাশ্যে বলছে যে ‘আমরা নির্বাচন হইতে দিব না।’ গতকালও বলেছে যে, শেখ হাসিনার অধীন নির্বাচন হইতে দিব না। কেমনে হইতে দিবেন না? একটাই পথ, ভায়োলেন্স করে বাধা দিবেন। আমি মনে করি, যারা বাধা দিবে তাদের বিরুদ্ধে স্যাংশন দিবে। এটা খুবই ভালো। ডোনাল্ড লু যে ইন্টারভিউ দিয়েছেন সেখানে বলেছেন, বিরোধী দল, ক্ষমতাসীন দল ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য— যারা বাধা দিবে তাদের বিরুদ্ধেই নেবে

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর বলে দিয়েছে যে, স্যাংশন আসছে, সেটা বিরোধীদল, সরকারি দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। সুতরাং সবাই তালিকায় থাকছে। দেখা যাক, কাদের নাম আসে!

ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি পর্যবেক্ষক না পাঠায় তাহলে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‌‌‌‌‌‌‌মোটেও না। পর্যবেক্ষক পাঠাবে কিনা, সেটা তো তাদের ব্যাপার। আমার ইলেকশন আমি সংবিধান অনুযায়ী করবো।

;

এক কেজি ইলিশের দামে দুই কেজি গরু!



মোঃ আব্দুল হাকিম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীর বিভাগীয় শহরের অন্যতম মাছ বিক্রয় কেন্দ্র নগরীর সাহেববাজার। এ বাজারে এখন এক কেজি ইলিশের মূল্য ১৭৫০ থেকে ১৮০০ টাকা। আর গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৭৫০ টাকায়। সে হিসেবে এক ইলিশের দামে দুই কেজিরও বেশি গরুর মাংস পাওয়া যাবে।

শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বাজারে গিয়ে দেখা যায় নিরবতা। আগের মতো সরগরম নেই। মাত্র কয়েকজন ব্যবসায়ী কিছু ইলিশসহ অন্যান্য জাতের মাছ বিক্রি করছেন। বিক্রির জন্য নেই আগের মত হাঁকডাক। ক্রেতা-বিক্রেতার সংখ্যা খুবই কম। অনেক ব্যবসায়ী আর শ্রমিকরা অবসরে বসে আছেন, আবার কেউ আড়তেই ঘুমাচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, নদীতে মাছের পরিমাণ কমে গেছে। জেলেদের জালে মাছ আটকা পড়ছে না। সারাদিন নদীতে মাছ শিকার করে অল্প পরিমাণে নিয়ে আড়তে ফিরছেন জেলেরা। ইলিশের পরিমাণ একেবারেই কমে গেছে। দু-একটি ধরা পড়লেও তা সাইজে খুবই ছোট। একারণেই মূলত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

নগরীর শিরোইল এলাকা থেকে কয়েকজন যুবক ইলিশ কিনতে এসেছেন। দরদাম করছেন। কিন্তু তাদের বাজেটের মধ্যে না হওয়ায় কিনতে পারছেন না। আড়ত ঘুরে ঘুরে দেখছেন। প্রায় প্রত্যেক আড়তেই ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকায়।

নগরীর উপশহর এলাকা থেকে বাজার করতে এসছেন আব্দুল আজিজ মিয়া। তিনি বলেন, গরু খাবো নাকি ইলিশ, দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে আছি। এক কেজি ইলিশের বিনিময়ে দুই কেজির বেশি গরুর মাংস পাওয়া যাচ্ছে। তাহলে ইলিশ না খেয়ে গরু খাওয়া তো অনেক ভালো।


রাজশাহী শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ইলিশ প্রতিকেজি ১৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় কেজি প্র্রতি ২০০ থেকে ৩০০ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। শুধু ইলিশ মাছ নয়; ছোট বড় প্রায় সব মাছ কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কাতলা মাছ বিক্রি ১৩০০ টাকা, পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে, রুই ৪০০ টাকা, চিংড়ি ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছে দাম বাড়লেও মাংসের বাজার রয়েছে স্বাভাবিক। গরুর মাংস কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায়। আর খাসির মাংশ ১২০০ টাকা করে কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগী ১৮০ ও দেশি মুরগি ৪০০ টাকা।

রাজশাহীর সাহেব বাজারের মাংস বিক্রেতা আফজাল হোসেন বলেন, গত এক বছর ধরে গরুর মাংস সাতশত থেকে আটশো টাকার মাঝেই আছে। আমরা সব সময় চেষ্টা করি মাংসের বাজার স্বাভাবিক রাখার। যাতে করে, নিম্ন থেকে উচ্চবিত্ত সব শ্রেণি-পেশার মানুষ মাংস খেতেও কিনতে পারে।

;