শিক্ষাক্রম প্রণয়ন কমিটি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেছে: শিক্ষামন্ত্রী



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি

  • Font increase
  • Font Decrease

 

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, নতুন শিক্ষাক্রমের পাঠ্যবই প্রণয়নে আমরা কিছু ছবি ও পাঠ বাদ দেওয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু শিক্ষাক্রম প্রণয়ন কমিটি মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেছে। আমাদের নির্দেশনার পরও সেগুলো রয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে নতুন শিক্ষাক্রমের পাঠ্যবইয়ে ভুল-ভ্রান্তি সংশোধন সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, এসব ইচ্ছাকৃত নাকি ভুলবশত হয়েছে সেগুলো খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি। কারো বিরুদ্ধে গাফিলতির প্রমাণ মিললে মন্ত্রণালয় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এক বছরে এ পাঠ্যবই একেবারে সঠিক করে ফেলা দুরূহ কাজ। এ বছর আমরা বইগুলো পরীক্ষামূলক হিসেবে দিয়েছি। সারা বছর আমরা সবার কাছ থেকে মতামত নেব এবং সেখানে পরামর্শ অনুযায়ী পরিমার্জন পরিশীলনের সুযোগ থাকবে। বইগুলো প্রণয়নের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন তাদের বইয়ের কোথাও যেন ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি, পেশা, লিঙ্গ বিদ্বেষ-বৈষম্য না থাকে সেজন্য সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ভুলটা হয়তো বড়, যা আরও আগে চিহ্নিত হওয়া দরকার ছিল, সংশোধন হওয়া দরকার ছিল। আগে না হলেও এটি নিয়ে এখন যে আলোচনা হচ্ছে, সে অনুযায়ী সংশোধন হচ্ছে।

তিনি বলেন, আজকাল সামাজিক মাধ্যম অনেক সরব, সেই মাধ্যম থেকে শুরু করে গণমাধ্যম, রাজনীতির মাঠ সব জায়গা থেকেই আমরা বইয়ের ভুলগুলো নিয়ে আলোচনা শুনছি। আমরা আগেও বলেছি, আমাদের এই বইগুলো নতুন শিক্ষাক্রমে পরীক্ষামূলকভাবে আমরা প্রণয়ন করেছি। আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে মতামত পাচ্ছি, সব জায়গা থেকে পাচ্ছি। আমরা শিক্ষার দায়িত্বে যারা আছি, এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা আছি, মানুষের মধ্যে বইগুলো নিয়ে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে সেটিকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি।

সিরাজগঞ্জে ২৯ অস্ত্র মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জে ২৯ অস্ত্র মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন

সিরাজগঞ্জে ২৯ অস্ত্র মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন

  • Font increase
  • Font Decrease

সিরাজগঞ্জে দুই অস্ত্র ব্যবসায়ীকে ২৯টি অস্ত্র মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জ স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৬ বিচারক সুপ্রিয়া রহমান এ দণ্ডাদেশ দেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- পাবনা জেলা সদরের ভাউডাঙ্গা কালুরপাড়ার মৃত ইমান আলী বিশ্বাসের ছেলে মো. আব্দুল ওহাব (৩২) ও একই খয়ের বাগান গ্রামের মো. আব্দুল হেলাল খাঁর ছেলে মিজানুর রহমান ওরফে মিজান। এদের মধ্যে আব্দুল ওহাব পলাতক।

সিরাজগঞ্জ জজ আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট ওয়াছ করণী লকেট এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৯ সালের ৬ নভেম্বর জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশের একটি দল সিরাজগঞ্জ-কড্ডা আঞ্চলিক সড়কের কাদাই সিলভার ডেল পার্কের সামনে অভিযান চালিয়ে আব্দুল ওহাব ও মিজানকে আটক করে। ওই সময় তাদের কাছ থেকে দু’টি বন্দুক ও এক রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইয়াসিন আরাফাত বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশের সেই সময়ের অপর এসআই নাজমুল হককে। তদন্তকালে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাবনায় আব্দুল ওহাবের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও ২৭টি পাইপ গান উদ্ধার করা হয়। মামলা চলাকালে জামিনে বের হয়ে আত্মগোপন করেছে আব্দুল ওহাব।

মামলার তদন্ত শেষে দু’জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক। রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ শুনানি ও যুক্তিতর্ক শেষে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার আসামি মিজানুর রহমান ওরফে মিজান এর উপস্থিতিতে এ রায় দেন আদালত।

;

‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার মূল হাতিয়ার হবে ডিজিটাল সংযোগ: প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশে’ পরিণত করার মূল হাতিয়ার হবে ডিজিটাল সংযোগ।

তিনি বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার মূল চাবিকাঠি হবে ডিজিটাল সংযোগ। স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার এবং স্মার্ট সমাজের জন্যে ডিজিটাল সংযোগ মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।’

প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা-২০২৩ এর উদ্বোধন উপলক্ষে এক ভিডিও বার্তায় এ কথা বলেন। ভিডিও বার্তায় ডিজিটাল পণ্য বিনিয়োগ ও রফতানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় তিন দিনের এই ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলার আয়োজন করে। দেশের আইটি ও আইটিইএস পণ্য ও সেবাসমূহ প্রদর্শনই এ মেলার লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন একটি বাস্তবতা। স্মার্ট বাংলাদেশ ও স্মার্ট জাতি গঠনই আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য পূরণে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।’

শেখ হাসিনা আরো বলেন, সরকারি বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট, ভার্চুয়াল বাস্তবতা, উদ্দীপিত বাস্তবতা, রোবোটিকস অ্যান্ড বিগ-ডাটা সমন্বিত ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতের মাধ্যমে সরকার বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে চায়।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শিল্পাঞ্চলে ফাইভ-জি সেবা নিশ্চিত করা হবে।’

ডিজিটালাইজেশনে বাংলাদেশে বিপ্লব ঘটে গেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্ম এখন ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন দেখছে।

সরকার প্রধান বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন রাঙামাটি জেলার বেতবুনিয়ায় দেশের প্রথম স্যাটেলাইট আর্থ স্টেশন স্থাপন করেন। যার মাধ্যমে বাংলাদেশে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচনী অঙ্গীকারে রূপকল্প-২০২১ ঘোষণা করেছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশী জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, তার সরকার ২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ কক্ষপথে উৎক্ষেপণ করেছে, যা সম্প্রচার ও টেলিযোগাযোগ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত বছর সিত্রাং ঘুর্ণিঝড়ের সময়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলায় বিচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় চালু করতে সক্ষম হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের স্যাটেলাইট পরিবারের ৫৭তম গর্বিত সদস্য।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যে বহুমুখী কার্যক্ষমতা সম্পন্ন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট -২ স্থাপনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, তার সরকার ২০২৪ সালের মধ্যে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করতে যাচ্ছে। কারণ ইতোমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৩৪০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ক্ষমতা অর্জন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, এই বছরের মাঝামাঝি সময়ে ব্যান্ডউইথের সক্ষমতা ৭২০০ জিবিপিএসে উন্নীত করা হবে। তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের পর এটি ১৩২০০ জিবিপিএসে উন্নীত হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, সৌদি আরব, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া ও ভারতকে ব্যান্ডউইথ লিজ দেয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতি বছর ৪.৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আর বিদেশী স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভর করতে হবে না।

সরকার প্রধান উল্লেখ করেন যে, সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত প্রায় ৯৫৬২৯৮ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন করা হয়েছে। এদিকে প্রতিটি ইউনিয়নে ১০ গিগাবাইট ক্ষমতা নিশ্চিত করা হয়েছে যা জনগণ ও সরকারি অফিসগুলোতে উচ্চ গতির ইন্টারনেট সরবরাহ করতে সহায়তা করে।

তিনি বলেন, সারাদেশে মোট ৮৬০০টি পোস্ট অফিসকে ডিজিটালে পরিণত করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে ১৮ কোটি মোবাইল সিম ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ কোটি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের মধ্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ডিজিটাল বৈষম্য এবং দামের পার্থক্য দূর করা হয়েছে।

প্রত্যন্ত এবং দুর্গম এলাকায় টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে তার সরকারের সাফল্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সারাদেশে ‘এক দেশ এক দরের’ একটি সাধারণ শুল্ক চালু করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে বৈষম্যহীন ‘এক দেশ এক দর’ শুল্ক ব্যবস্থা চালু করার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ অ্যাসোসিও (এএসওসিআইও)-২০২২ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে টেলিকম খাতে প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২২টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ে ১৪টি ক্যাটাগরিতে প্রথম প্রবর্তিত পোস্ট অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন অ্যাওয়ার্ড বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ মন্ত্রী মুস্তাফা জব্বার, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি একেএম রহমতুল্লাহ এবং ডাক টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আবু হেনা মোর্শেদ জামান বক্তব্য রাখেন।

;

দুইদিন বন্ধ আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি 



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি বন্ধ দুইদিন

আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি বন্ধ দুইদিন

  • Font increase
  • Font Decrease

সরস্বতী পূজা ও শুক্রবার বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটির কারণে দুই দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) আখাউড়া স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরো জানান, শনিবার সকাল থেকে আবারো আমদানি-রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে। তবে এসময়ে বৈধ পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক থাকবে।

আখাউড়া স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, হিন্দু ধর্মালম্বীদের সরস্বতী পূজা উপলক্ষে ভারতের ত্রিপুরার আগরতলা স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী সংগঠন ‘ইন্দো-বাংলা এক্সপোর্টার-ইমপোর্টার কমিউনিকেশন সেন্টার’র সাধারণ সম্পাদক শিব শংকর দেবের স্বাক্ষরিত একটি প্যাডে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধের বিষয়টি বাংলাদেশের আখাউড়া স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীদের জানানো হয়। এছাড়াও পরেরদিন শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় দুইদিন বন্ধ থাকবে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম।

আখাউড়া স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশনের সহকারী ইনচার্জ দেওয়ান মোর্শেদুল হক জানান, আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকলেও বন্দর দিয়ে বৈধ পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক থাকবে।

;

সিরাজগঞ্জে আড়াইশো বছরের ঐতিহ্যবাহী দইমেলা অনুষ্ঠিত



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জে আড়াইশো বছরের ঐতিহ্যবাহী দইমেলা অনুষ্ঠিত

সিরাজগঞ্জে আড়াইশো বছরের ঐতিহ্যবাহী দইমেলা অনুষ্ঠিত

  • Font increase
  • Font Decrease

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে প্রায় আড়াইশো বছরের ঐতিহ্যবাহী দইমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিদ্যাদেবী সরস্বতী পূজা উপলক্ষে এ দই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তাড়াশ বাজার ও সিরাজগঞ্জ শহরের মুজিব সড়কে এ দইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। সাজ সাজ রব পড়ে যাওয়া মেলায় ক্ষীরসা দই, শাহী দই, টক দই, শ্রীপুরী দইসহ বাহারি নাম ও স্বাদের দই কিনতে ভিড় করেন বিভিন্ন স্থানের ক্রেতারা। এ মেলায় বাহারি আকার ও স্বাদের দইয়ের পসরা সাজিয়ে বসেন দই বিক্রেতারা। একই দিনে সিরাজগঞ্জ শহরের মুজিব সড়কে দইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় যুগ যুগ ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা এই মেলা আগামী দিনে আরও প্রসারিত হবে এমনটাই প্রত্যাশা দই প্রেমীদের।

জানা যায়, চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশের তৎকালীন জমিদার পরম বৈঞ্চব বনোয়ারী লাল রায় বাহাদুর প্রথম দই মেলার প্রচলন করেছিলেন। এলাকায় জনশ্রতি আছে জমিদার রাজা রায় বাহাদুর নিজেও দই ও মিষ্টান্ন পছন্দ করতেন। তাই জমিদার বাড়িতে আসা অতিথিদের আপ্যায়নে এ অঞ্চলে ঘোষদের তৈরি দই পরিবেশন করতেন। আর সে থেকেই জমিদার বাড়ির সম্মুখে রশিক রায় মন্দিরের মাঠে স্বরস্বতী পূজা উপলক্ষে দিনব্যাপী দই মেলার প্রচলন শুরু করেন। সে থেকে প্রতি বছর শীত মৌসুমের মাঘ মাসে সরস্বতী পূজার দিন শ্রী পঞ্চমী তিথিতে দই মেলার শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জ শহরেও বসে দইয়ের মেলা।

মেলায় দই নিয়ে আসা এনায়েতপুরের রনি মিষ্টান্ন ভান্ডারের রনজিত ঘোষ বলেন, আজ ১০ মণ দই নিয়ে এসেছি। দইয়ের চাহিদা থাকায় দুপুরের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। তবে দুধের দাম, জ্বালানি, শ্রমিক খরচ, দই পাত্রের মূল্য বৃদ্ধির কারণে দইয়ের দামও বেড়েছে।


বেলকুচি উপজেলার রাজাপুরের রনজিত ঘোষ বলেন, জেলার রাজাপুরের দইয়ের একটা সুনাম রয়েছে। তাই আমাদের দইয়ের চাহিদা বেশি। মেলা এক দিনব্যাপী হওয়ায় কোনো ঘোষের দই অবিক্রিত থাকে না।’

রায়গঞ্জের চান্দাইকোনা থেকে আসা দই বিক্রেতা দিলীপ ঘোষ জানান, বাপ-দাদার আমল থেকেই তিনি দই নিয়ে মেলায় আসেন। প্রতিবছর ১০ থেকে ১২ মণ দই বিক্রি করেন তিনি।

দই কিনতে আসা অমল সাহা বলেন, ‘প্রতি বছর সকালে এই মেলা থেকে দই কিনি। স্বরস্বতি পূজা উপলক্ষে বাড়িতে অনেক অতিথি এসেছে। তাদের আপ্যায়নের জন্য দই কিনছি।’

দই কিনতে আসা সঞ্জয় সাহা বলেন, ‘গতকাল বোন ও জামাইসহ অনেক আত্মীয় স্বজন এসেছে। এখানকার দই খুব সুস্বাদু। প্রতি বছর ১০ থেকে ১২ কেজি দই কিনে থাকি। তবে এবার একটু দাম বেশি।’

সিরাজগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সন্তোষ কুমার কানু বলেন, ‘শীত মৌসুমের মাঘ মাসে শ্রী পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে এ দই মেলা বসে থাকে। সিরাজগঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলার এই মেলা প্রায় আড়াইশো বছরের ঐতিহ্য।’

;