উৎপাদন কমে যাওয়ায় বেকায়দায় রেশম চাষিরা



মোঃ আব্দুল হাকিম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
উৎপাদন কমে যাওয়ায় বেকায়দায় রেশম চাষিরা

উৎপাদন কমে যাওয়ায় বেকায়দায় রেশম চাষিরা

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশে বিগত তিন দশকে রেশম উৎপাদন তলানিতে নেমেছে। ১৯৯০-২০২০ অর্থবছর পর্যন্ত রেশম গুটি উৎপাদন, তুঁত চারা উৎপাদন ও রোপণ, রোগমুক্ত ডিম উৎপাদন ও বিতরণ এবং রেশম সুতা উৎপাদন প্রায় ৫ গুণ কমেছে। এদিকে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জে বীজাগারের উৎপাদন কমে যাওয়ায় শ্রমিকরা পড়েছে বেকায়দায়।

মীরগঞ্জ গ্রামের শ্রমিক আবদুর রহমান বলেন, এক সময় এলাকার লোকজন জমিতে রেশম চারা উৎপাদন করত। বীজাগার থেকে ডিম এনে চাষ করতেন বাড়িতে। এখন তা আর হয় না। স্থানীয়রা রেশম চাষ করতে আগ্রহ হারিয়েছে। যেটুকু হচ্ছে সরকারিভাবে। হারিয়ে যাচ্ছে বীজাগারের ঐতিহ্য। তাই কাজ কমে যাওয়ায় বেকায়দায় পড়েছি।

জানা গেছে, ১৮৬০ সালে উপজেলার মীরগঞ্জে নীলচাষের জন্য আগমন ঘটে ইংরেজদের। এই গ্রামে তারা গড়ে তোলে নীলকুঠি। আজও সেই নীল চাষের সাক্ষ্য বহন করছে উপজেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী মীরগঞ্জ গ্রাম। এই গ্রামে রয়েছে শ্রমিকগোষ্ঠী ও কুঠির ধ্বংসাবশেষ নীল কুঠি। তবে শোষকগোষ্ঠী ইংরেজদের পতন ঘটেছে অনেক আগে। তাদের শোষণের নানা স্মৃতি চিহ্ন আজও বহন করে চলছে মীরগঞ্জ গ্রামের মানুষ। এই গ্রামে নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী আজও ভোলেনি সাধারণ মানুষ। তবে এই নীল কুঠি বর্তমানে রেশম বীজাগার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। বাঘার মীরগঞ্জে ৮ থেকে ১০ বছর আগে ব্যাপকভাবে রেশম চাষ হতো। বর্তমানে রেশম চাষ কমে গেছে। কমেছে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান। তাই তালিকাভুক্ত শ্রমিকরা সারা মাস কাজ পাচ্ছেনা। মাসে ১৫ দিন কাজ করে ৪৫০ টাকা হাজিরা হিসাবে মজুরি নিতে হচ্ছে।

১৮৮৯ সালে মীরগঞ্জ নীলকুঠির আশপাশের গ্রামের কৃষক একত্রিত হয়ে নীলচাষ বন্ধ করে দেয় এবং নীলকুঠি আক্রমণ করে। নীল চাষের জন্য নীলকররা এ অঞ্চলে অনেকগুলো যৌথ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছিল। ওইসব প্রতিষ্ঠানকে বলা হতো কনসার্ন। কনসার্নের অধীনস্থে হাজার হাজার বিঘা জমি ছিল। ন্যায্য মূল্য না দেয়া ও বাধ্যতামূলক নীল চাষ করানোর প্রতিবাদে এ অঞ্চলে বিভিন্ন সময় নীল চাষ করতে স্থানীয় লোকজন অনাগ্রহ ও বিদ্রোহ করতে থাকলে নীলকররা আদিবাসীসহ ভারতের বিহার প্রদেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ভুক্ত অধিবাসীদের এনে শ্রমিক হিসেবে নীলকুঠিতে নিয়ে আসে। এরা বুনো ও সাঁওতাল শ্রেণীভুক্ত। যেখানে নীল কুঠি ছিল সেখানেই এই বুনো ও সাঁওতাল বসতি এখনো লক্ষ্য করা যায়।

এই এলাকার পাশের গ্রামে অর্ধশতাধিক সাঁওতাল সম্প্রদায়ের লোকজন তখন থেকে বসবাস করে আসছে। বুনোরা দীর্ঘদিন ধরে এদেশে বসবাস করলেও এদের আচার-আচরণ, হালচাল, সামাজিক কর্মপদ্ধতি, উচ্চারণ ভঙ্গি ও জীবণযাত্রার বৈশিষ্ট্য প্রমাণ করে এরা স্থানীয় নয়। এদের মধ্যে এক শ্রেণী মাছ ধরে জীবিকা-নির্বাহ করে। অপর শ্রেণী গাছ কাটা, মাটি কাটা ও শ্রমিকের কাজ করে। কঠিন ও পরিশ্রমী কাজ করতে এরা শারীরিকভাবে অসুবিধা বোধ করে না। এদের অনেকে সাপ নিয়ে খেলা করত। মেয়ে পুরুষ উভয়ে সমান ভাবে কাজ করতে পারে। একটি অংশ সর্দার হিসেবে পরিচিত।


মীরগঞ্জের তোয়ায়েল হোসেন বলেন, নীল চাষের সুবিধার্থে ইংরেজরা এই অঞ্চলের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ঘটায়। নীলকররা বেশিরভাগ সময় ঘোড়ায় যাতায়াত ও চলাফেরা করত। ব্যাপক কষ্টদায়ক ও নির্যাতনমূলক নীলচাষ করতে কৃষকরা একপর্যায়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করে।

মীরগঞ্জ রেশম বীজাগারের (ভারপ্রাপ্ত) ব্যবস্থাপক আবদুল মালেক বলেন, এ বছর বীজাগারের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দেড় লাখ ডিম। যা চারটি স্কিমে উৎপাদন করা হবে। ইংরেজদের শাসনামলে যে নীল চাষ করা হয়েছিল, সেই নীলগাছের নমুনা হিসাবে কয়েকটি গাছ রাখা হয়েছে। বর্তমানে নতুন প্রজন্মের সন্তানরা দেখতে আসে। স্থানীয়দের সহায়তা পেলে আগের মতো রেশম চাষের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে। ভবনগুলো কালের সাক্ষী হয়ে আছে, ইংরেজদের সেই নীল চাষ আর নীলকুঠি। তবে ১০০ বিঘা জমির উপর বর্তমানে রেশম বীজাগার স্থাপন করা হয়েছে।

কারিগরি শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সরকার: লিটন



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
কারিগরি শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সরকার: লিটন

কারিগরি শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সরকার: লিটন

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র জননেতা এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করছেন। বর্তমান সরকার কারিগরি শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বঙ্গবন্ধু কলেজের এইচএসসি ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য রিসেপশন এন্ড ওরিয়েন্টশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়ে গেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের পরবর্তী ধাপ হচ্ছে স্মার্ট বাংলাদেশ। স্মার্ট বাংলাদেশের পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক নির্মাণ করে দিয়েছেন। যার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সেখানে কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইনে অর্থ আয় করছেন তরুণরা। আর অনেকে ঘরে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং করে নীরবে অর্থ আয় করছেন। রাজশাহীতে প্রায় ১০ হাজার ফ্রিল্যান্সার তৈরি হয়েছে। সরকারের টার্গেট হচ্ছে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে ২০ থেকে ২৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার তৈরি করা, যারা চাকুরির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরবে না, বরং অন্যকে চাকুরি দেবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার ও বঙ্গবন্ধু কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি এ.এম.এম. আরিফুল হক কুমার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ কামরুজ্জামানসহ শিক্ষার্থী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

;

ভোট দেননি নিখোঁজ আসিফের স্ত্রী মেহেরিন



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের উপ-নির্বাচনকে অসুষ্ঠু এবং অসুস্থ উল্লেখ করে নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন 'নিখোঁজ' স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু আসিফ আহমেদের স্ত্রী মেহেরুর নিছা মেহেরীন।

বুধবার (০১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আশুগঞ্জ উপজেলার শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে এসে সাংবাদিকদের কাছে এ দাবি জানান তিনি। তবে ভোটকেন্দ্রে 'অনিয়ম দেখে' ভোট না দিয়েই কেন্দ্র ছেড়ে যান তিনি।

মেহেরুন নিছা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, আমি এই কেন্দ্রে এসে দেখলাম- ভোটারের ফিঙ্গার রেখে অন্যরা ভোট চেপে দিচ্ছে। যতটুকু খবর পেয়েছি- সব কেন্দ্রেই এমন হচ্ছে এবং আমার কর্মীদেরকে বের করে দিচ্ছে। এজেন্টদেরকেও ঢুকতে দিচ্ছে না। আমি ডিসি সাহেবকে (রিটার্নিং কর্মকর্তা) এই বিষয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছি।

তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি এটা অসুস্থ নির্বাচন। যেহেতু নির্বাচনটা সুষ্ঠু না, সেহেতু আমাদের রেজাল্টটা কী আসবে আপনারা বুঝতে পারছেন। যদি সুষ্ঠু ভোট হতো, তাহলে আসিফ বিপুল ভোটে বিজয়ী হতো। ওনি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। আমাদের কর্মীরা এখনও মাঠের বাইরে। এ অবস্থায় আমি আর কী বলতে পারি! এটা কি নির্বাচন? ভোটের এই পরিবেশ দেখে আমি ভোট দেইনি।

;

মিরপুরে গম চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের



এসএম জামাল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
মিরপুরে গম চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের

মিরপুরে গম চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের

  • Font increase
  • Font Decrease

বর্তমান মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কুষ্টিয়ার মিরপুরে কৃষকদের মাঝে গম চাষে আগ্রহ বেড়েছে। ফলে এ মৌসুমে ব্যাপক মুনাফার আশা করছেন তারা।

জানা গেছে, আগে এই অঞ্চলে প্রচুর তামাকের আবাদ হতো। এছাড়াও একটা সময় গমের চাষও করা হতো। কয়েক বছর আগে গমের ব্লাস্ট রোগের কারণে চাষিরা গম চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। পরবর্তীতে আবার কৃষি অফিসারের পরামর্শে কৃষকেরা গম চাষে ঝোঁকেন। তবে এই মৌসুমে গম চাষে বাম্পার ফলন হওয়ার আশা কৃষি অধিদপ্তরের।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এ বছর আবারও গম চাষে ঝুঁকেছেন কৃষকরা। তবে এবছর জেলায় কোথাও ব্লাস্টের আক্রমণ দেখা দেয়নি। তবে শহরের কয়েকটি এলাকার গমে মরিচা রোগ দেখা দিয়েছে। কৃষি অফিসের তৎপরতায় তা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছেন কৃষকরা।

মিরপুর উপজেলার মশান এলাকার কৃষক. আব্দুল মান্নান জানান, এবছর তিনি এক বিঘা জমিতে গমের আবাদ করেছেন। সাধারণত শীতে গমের ক্ষেত নষ্ট হলেও এবার তেমন কোনও ক্ষতি হয়নি। ফলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

মিরপুর উপজেলা উপসহকারী কৃষি অফিসার ময়নুল ইসলাম রাজিব বলেন, ‘রাজস্ব খাতের অর্থায়নে গম প্রদর্শনী বারিগম:৩৩ আবাদ করে বেশ সাড়া পাওয়া গেছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


জানা গেছে, মিরপুর উপজেলার চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মিরপুর উপজেলার আমলা গ্রামের গম চাষি আশিকুল ইসলাম জানান, আগের কয়েক মৌসুমগুলোতে গমের রোগ (ব্লাষ্ট) হওয়ায় লোকসান হয়েছিল। এখন কৃষি অফিসের পরামর্শে আবারও গম চাষ শুরু করেছেন। গেলো বছর গমের আবাদ ভালো হওয়ায় এবারও গমের আবাদ করেছি। সবকিছু ঠিক থাকলে এই মৌসুমে গমের চাষে লাভের মুখ দেখবেন তারা।

চাষি ফারুক মৃধা জানান, এই বছর রোগের আক্রমণ না হওয়ায় ভালো ফলন ও মুনাফার আশা করছেন তিনি।

মিরপুরের কৃষি অফিসার মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলে ব্যাপকহারে গমের চাষ হয়েছে। কৃষি অফিসের পরামর্শে এই মৌসুমে কৃষকদের গম চাষের প্রতি আগ্রহী করে তোলা হয়।’ এই উপজেলায় বিপুল পরিমাণ তামাক চাষ হয়ে থাকে। আমরা তামাকের বিকল্প ফসলে উৎপাদনে কৃষকদের অন্যান্য ফসল আবাদের জন্য সহায়তার পাশাপাশি উদ্বুদ্ধ করছি।‘চলতি মৌসুমে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা অনেকগুণ বেড়েছে বলেও জানান তিনি।’

;

পায়ে হেঁটে তিস্তা পারাপার!



আমিনুল ইসলাম জুয়েল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,বার্তা২৪.কম, রংপুর
পায়ে হেঁটে তিস্তা পারাপার!

পায়ে হেঁটে তিস্তা পারাপার!

  • Font increase
  • Font Decrease

কয়েক মাস আগেও তিস্তা নদী পরাপারে একমাত্র ভরসা ছিল নৌকা। এখন শুষ্ক মৌসুমে নদীতে হাঁটু পানি। ছোট বড় অসংখ্য চর জেগে ওঠায় নৌকাও ঠিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। ফলে মানুষজন বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে নদী পারাপার করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, খরস্রোতা তিস্তা নদী ভারতে উৎপত্তি হয়ে লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে এসে মিলেছে। তিস্তার ভারতীয় অংশে গজলডোবায় স্থাপিত বাঁধের কারণে নদীটির বাংলাদেশ অংশে প্রায়ই পানি সংকট দেখা দেয়। এ ছাড়াও খনন কাজ না করায় দিন দিন ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহের গতি প্রকৃতি বদলে যাচ্ছে। এ নদীর নাব্যতা হারানোর কারণে বর্ষা মৌসুমে দুই কূলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে প্রায় শতশত একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়। ফলে এ অঞ্চলের কৃষিকাজ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
অথচ প্রতিবছর বর্ষায় একতরফাভাবে ভারতের ছেড়ে দেওয়া পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয় অসংখ্য মানুষকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বর্ষা মৌসুমে তিস্তা নদীর দুই তীর প্লাবিত হয়ে রংপুরের পীরগাছা, কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়ে। শত শত একর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে নষ্ট হয়। একই সাথে তীব্র নদী ভাঙনের ফলে অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। ফলে দুই পাড়ের মানুষজনকে চরম ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। নদী পারাপারে এক মাত্র ভরসা নৌকা হয়ে দাঁড়ায়। চলতি শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি না থাকায় খরস্রোতা তিস্তা এখন মরা খালে পরিনিত হয়েছে। দীর্ঘ চরের মাঝখান দিয়ে বয়েচলা সামান্য খালের মধ্যে হাঁটু পানি পার হলেই এখন তিস্তা নদী পাড়ি দেয়া সম্ভব।

বুধবার (০১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ও তাম্বুলপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায়, তিস্তা নদী শুকিয়ে মরা খালে পরিনত হয়েছে। জেগে উঠেছে অসংখ্য ছোট বড় চর। এসব চরে এখন সোনা ফলছে কৃষকরা। এছাড়া বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে মানুষজন পায়ে হেঁটেই পারি দিচ্ছে নদী। অথচ বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন নৌকা যোগে শত শত লোক নিত্য প্রয়োজনী জিনিস পত্রসহ নদী পারাপার করতেন।

উলিপুর থেকে পায়ে হেঁটে নদী পার হয়ে পীরগাছা উপজেলার শিবদেব চর গ্রামে আসা মজিরন বেগম বলেন, হামার বাপের বাড়ি শিবদেব চরে। আগত নৌকাত করি যাওয়া আইসা করছি। এখন নদীত পানি নাই, সেইজন্যে হাটির পার হইনো নদী।
তিস্তর ভাঙনে বাড়িঘর হারিয়ে নিঃস্ব আফছার আলী নামে এক কৃষক বলেন, তিস্তার ভাঙনে বাড়িঘর নদীতে গেইছে। তিস্তা হামার জন্য অভিশাপ। ভাঙন থামাতে সরকার কিছুই করতেছে না।
গাবুড়া এলাকার মৎস্যজীবী আতোয়ার রহমান ও আব্দুল জলিল জানান, তিস্তা নদীতে মাছ ধরে শতশত পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। কিন্তু নাব্যতা কমে যাওয়ায় মৎস্য শিকার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছে মৎস্যজীবী পরিবারগুলো । অনেকে বাধ্য হয়ে পেশা বদল করে অন্য পেশায় গিয়ে কোন রকমে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

তিস্তা নদীর তীরের বাসিন্দা হবিবর রহমান বলেন, প্রতি বছর খরস্রোত তিস্তা উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশী করে যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে বন্যাসহ নদী ভাঙন দেখা দেয়। আর শুষ্ক মৌসুমে পানির অভারে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।

;