তিতাস কেনো আবাসিকের গ্যাস বিল বাড়াতে চায়!



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম ঢাকা
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

লালমাটিয়ার বাসিন্দা ডা. মনিরুল ইসলাম গ্যাসের প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করেন। মাসে ৫০০ টাকার গ্যাসেই শেষ করতে পারেন না। মিটার ভাড়াসহ কোন কোন মাসে ৪০০ টাকাতেই চলে যায়।

ডা.মনিরুল ইসলামের আরেকটি বাসা রয়েছে সাভারের অরুনা পল্লীতে। সেখানে কেউ না থাকলেও প্রতিমাসে ১০৮০ টাকা করে বিল দিয়ে যেতে হচ্ছে তাকে। অথচ তার দু’টি সংযোগেই একই বিতরণ প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি অধীনে। মাত্র কয়েক মাইলের ব্যবধানে তার এই দুই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বার্তা২৪.কমকে। আবার তার বাসার উল্টোদিকে ধানমন্ডিতেই মিটারবিহীন গ্রাহকদের বাড়তি বিল দিতে হচ্ছে গ্রাহককে।

তিনি বলেন, আমার লালমাটিয়ার বাসায় ৫ জনের রান্না হয়। কখনই ৫০০ টাকার বেশি রিচার্জ করতে হয়নি। আর যেখানে আমরা থাকি না তারজন্য টানা ৩ বছর ধরে বিল দিয়ে যাচ্ছি। তাও আবার দ্বিগুণের চেয়ে বেশি।

মনিরুল ইসলাম আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, পত্রিকায় নিউজ দেখি গ্রাহকের পকেট কেঁটে প্রফিট বোনাস নেওয়া হচ্ছে। পত্রিকায় দেখেছিলাম কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গতবছর প্রত্যেকে ১৮ লাখ টাকা করে বোনাস পেয়েছে। আমরা বিল দিয়ে মরি আর তারা টাকার পাহাড় গড়ছে।

প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী রূপনগর আবাসিক এলাকার (রোড ১৯) বাসিন্দা আবেদ আলী বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৪ জন। সাড়ে ৩’শ থেকে সাড়ে ৪’শ টাকার রিচার্জে মাস পার হয়ে যায়। গ্যাসের প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা কমবেশি এমনই। যাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি তাদের সর্বোচ্চ ৬’শ টাকা খরচ হচ্ছে।

মিটারবিহীন আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিল আদায় করা হয়। যা বর্তমানে দুই চুলা ৬০ ঘনমিটার ও এক চুলা ৫৫ ঘনমিটারের সমান। গ্রাহক ব্যবহার করুক, না করুক অথবা বেশি ব্যবহার করলেও । গ্যাসের বিতরণ কোম্পানিগুলো দশকের পর দশক ধরে বলে আসছে মিটারবিহীন আবাসিক গ্রাহকরা গ্যাস বেশি পুড়ছে। এ কথা বলে দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে নেওয়া হয়। তাদের বক্তব্য ছিল মিটার স্থাপন করলে তাদের রাজস্ব বেড়ে যাবে। কিন্তু লালমাটিয়া (২০১৬ সালে) এলাকায় প্রথম প্রিপেইড মিটার বসানো হলে রেজাল্ট এলো উল্টো। দেখা গেলো প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারকারিদের বিল আসছে দেড়’শ থেকে আড়াই’শ টাকা (তখন মিটারবিহীন গ্রাহকদের বিল ছিল দুই চুলা ৪৫০ টাকা )।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ২০১৬ সালে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বলেছিলেন, প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের পাইলট প্রকল্পের রেজাল্ট ভালো। দুই চুলায় মাসে ৩৩ ঘন মিটার গ্যাস সাশ্রয় হচ্ছে। তখন দুই চুলায় ৭৭.৪১ ঘনমিটারের বিল নির্ধারিত ছিল। অর্থাৎ ৪৫ ঘনমিটার গ্যাস পুড়ছে গ্রাহকরা।

পাইলট প্রকল্পের আগে গ্যাসের প্রিপেইড মিটার স্থাপনের তৎপরতা ছিল লক্ষ্যণীয়। কিন্তু এখন যতটা পারা যায় বিলম্বিত করার কৌশলী অবস্থান নিয়েছে বিতরণ কোম্পানিগুলো। ৩৮ লাখ আবাসিক গ্রাহকের মধ্যে ৮ বছরে মাত্র ৪ লাখের মতো মিটার স্থাপন হয়েছে। কোম্পানিগুলোর ধীরে চলো নীতির কারণে গ্রাহক যাতে নিজে কিনে বসাতে পারে সে জন্য চাপ দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

বিইআরসি-২০১৮ সালে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির আদেশে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের দ্রুত করার আদেশ দেন। গ্রাহক যাতে নিজেরা মার্কেট থেকে মিটার কিনে স্থাপন করতে পারে সেই সুবিধা উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর ২০২১ সালে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। সেই নীতিমালায় বলা হয়েছে গ্রাহক নিজের পছন্দমতো দোকান থেকে মিটার ক্রয় করে বিতরণ কোম্পানিতে জমা দেবেন। বিতরণ কোম্পানিগুলো পরীক্ষা করে গ্রাহকের আঙ্গিনায় স্থাপন করবে। তবে নানা জটিলতা দেখিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। বাজারের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে মিটার স্থাপন করছে কোম্পানিগুলো। তাও আবার ঢিমেতালে। কোম্পানিগুলো একে লুটপাটের নতুন খাত হিসেবে ভাবতে শুরু করেছে।

বিইআরসি গত বছরের মার্চে সর্বশেষ গ্যাসের দাম বৃদ্ধির উপর গণশুনানি গ্রহণ করে। তখন বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রিপেইড গ্রাহকের ব্যবহারের পরিসংখ্যানের উপর ভিত্তি করে এক চুলা ৭৩.৪১ ঘনমিটার ও দুই চুলা ৭৭.৪১ ঘনমিটার থেকে কমিয়ে যথাক্রমে ৫৫ ও ৬০ ঘনমিটার করা হয়।

তিতাস গ্যাস বিদ্যমান এক চুলা ৫৫ ঘনমিটার (৯৯০ টাকা) বাড়িয়ে ৭৬.৬৫ ঘনমিটার (১৩৭৯.৭০ টাকা), দুই চুলা ৬০ ঘনমিটার (১০৮০ টাকা) থেকে বাড়িয়ে ৮৮.৪৪ ঘনমিটার (১৫৯১.৯২) করার আবেদন করেছে বিইআরসির কাছে। আবেদনটি চলতি বছরে মে মাসে জমা দিলেও ব্যাপক বিতর্কের পর বিষয়টি অনেকটা ধামাচাপা পড়ে যায়। তবে সম্প্রতি বেশ গোপনে এ বিষয়ে আবার তৎপরতার শুরুর কথা জানা গেছে।

তিতাসের গ্যাস বিল বাড়ানোর প্রস্তাব শিগগিরিই কমিশনের সভায় তোলা হবে বলে জানিয়েছেন বিইআরসি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন।

তিতাস দাবি করেছেন, নির্ধারিত পরিমাণের (৫৫ ও ৬০ ঘনমিটার) চেয়ে মিটারবিহীন গ্রাহকগন বেশি গ্যাস ব্যবহার করে। ফলে সিস্টেম লস বৃদ্ধি পেয়েছে। এক চুলা ৭৬.৬৫ ঘনমিটার ও দুই চুলা ৮৮.৪৪ ঘনমিটার করার আবেদন করা হয়েছে। বিইআরসি আগে যে আদেশ দিয়েছে তা বাস্তব সম্মত ছিল না।

বিইআরসির সাবেক সদস্য (তৎকালীন সদস্য- গ্যাস) মকবুল ই-এলাহী চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আমারতো মনে হয় ৫০ ঘনমিটারের নিচে করা উচিত ছিল। প্রথমবার জন্য যথাক্রমে ৫৫ ও ৬০ ঘনমিটার করা হয়েছিল। তখন শর্ত দেওয়া হয়, প্রিপেইড মিটার বসানো এবং পরবর্তীতে কমিয়ে আনার।

কিসের ভিত্তিতে ৫৫ ও ৬০ ঘনমিটার করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, তাদের যে সাড়ে ৩ লাখ প্রিপেইড মিটার ছিল সেখানে দেখা গেছে গড়ে ৪৫ এর নিচে ব্যবহৃত হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাড়ে ৩ লাখ মিটারকে বিবেচনা করবেন, নাকি তাদের (তিতাস গ্যাস) ১০০ মিটারকে। কোন বিশেষ এলাকায় যদি বেশি গ্যাস ব্যবহার হয়, তাহলে সেখানে দ্রুত মিটার বসিয়ে দিলেই হয়, তার জন্য ৩৪ লাখ গ্রাহকের বিল বাড়ানো যৌক্তিক হবে না।

মিটারবিহীন আবাসিক গ্রাহকের গ্যাস বিল বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু করেছে বিইআরসি। দু’একজন কর্মকর্তা তিতাস ও পেট্রোবাংলার সঙ্গে যোগসাজসে মাঠে নেমেছেন বলে জানা গেছে। তারা চান দ্রুততার সঙ্গেই তিতাসের আবেদন বাস্তবায়ন করতে।

কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, তিতাসের ওই আবেদনে সাড়া দিতে গেলে বিইআরসিকে অবশ্যই গণশুনানি করতে হবে। গণশুনানি ছাড়া বিল বাড়ানোর কোন সুযোগ নেই। গণশুনানি শুরু হলে সেখানে এ বিষয়ে তথ্য উপাত্ত দিয়ে কথা বলা হবে। বিল বাড়ানোর কোন যৌক্তিকতা দেখি না।

 

   

মেরিনারদের সাথে ইসলামী ব্যাংকের মতবিনিময় সভা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির উদ্যোগে ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সহযোগিতায় মেরিনারদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণে উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন মো. ইবনে কায়সার তৈমুরের সভাপতিত্বে ইসলামী ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মিফতাহ উদ্দীন প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির সিইও খালিদ মাহমুদ, চীফ ইঞ্জিনিয়ার আতিকুর রহমান, ইসলামী ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম নর্থ জোনপ্রধান মোহাম্মদ নুরুল হোসাইন এবং সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেস উইংপ্রধান মোহাম্মদ ইহসানুল ইসলাম।

স্বাগত বক্তব্য দেন এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আগ্রাবাদ কর্পোরেট শাখার প্রধান আবদুল নাসের ও বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির অ্যাডজুট্যান্ট গোলাম মোস্তফা।

অনুষ্ঠানে ব্যাংকে হিসাব খোলা ও বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইফুদ্দীন মোহাম্মদ খালেদ ও মো. মাইনুল ইসলাম। এ সময় মেরিনারসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

;

আইবিসিএফের ‘ফান্ড ও তারুল্য ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামিক ব্যাংকসমূহের শীর্ষ সংগঠন আইবিসিএফের রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত “ফান্ড ও তারুল্য ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শনিবার (২ মার্চ) বিএবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় ১৩টি ব্যাংকের ২৭ জন মধ্যম পর্যায়ের নির্বাহী অংশগ্রহণ করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে সার্টিফিকেট বিতরণ করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) এর মহাপরিচালক ড. মোঃ আখতারুজজ্জামান।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা বিশ্বব্যাপী যেমন গণমানুষের আস্থা অর্জন করছে তেমনি তার কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। দক্ষ জনশক্তিই কেবল ইসলামী শরী’আহ পরিপালনের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা ইসলামী ব্যাংকসমূহের জনশক্তির দক্ষতা ও যোগ্যতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আইবিসিএফের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। দিনব্যাপী এই কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ব্যাংকের নির্বাহীগণ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান তাদের কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসু করতে সক্ষম হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আইবিসিএফ এর ভাইস চেয়ারম্যান এ কে এম নুরুল ফজল বুলবুল এর সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এর চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ।

এছাড়া সমাপনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এবং এক্সিম ব্যাংক লিঃ এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোঃ ফরিদউদ্দিন আহমেদ, যমুনা ব্যাংক পিএলসি এর অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রহমান সরকার, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এর সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আল-আরাফাহ রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এর প্রিন্সিপাল নুরুল ইসলাম খলিফা, বাংলাদেশের আওফি ফেলো ফোরামের এর প্রেসিডেন্ট ড. মোঃ মোহাব্বত হোসেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এর সিএফও ফরিদউদ্দিন এফসিএ এবং আইবিসিএফ এর সহকারী সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

;

ভিসা কার্ড থেকে নগদ-এ অ্যাড মানি করলে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশ-বোনাস



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের জনপ্রিয় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদ লিমিটেড দারুণ এক অফার নিয়ে এসেছে। এখন ভিসা কার্ড থেকে নগদ-এ অ্যাড মানি করলে গ্রাহকেরা ৫০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশ-বোনাস পাবেন।

অফারটি পেতে একজন নগদ গ্রাহককে নগদ ওয়ালেটে গিয়ে ‘অ্যাড-মানি’ অপশনে যেতে হবে। এরপর অ্যাপে থাকা ‘কার্ড টু নগদ’ অপশনে গিয়ে ভিসা কার্ড অপশনটি নির্বাচন করে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ টাকা নগদ ওয়ালেটে আনতে পারবেন। গ্রাহক তার অ্যাড মানির ক্যাশ-বোনাস পরবর্তী তিন কর্মদিবসের মধ্যে পাবেন।

১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পেইন চলবে ৩১ মার্চ ২০২৪ পর্যন্ত। শুধু অ্যাকটিভ এবং ফুল প্রোফাইলে থাকা নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে এই অফার উপভোগ করা যাবে।

বিভিন্ন অঙ্কের টাকা অ্যাড মানি করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশ-বোনাস পেতে পারবেন গ্রাহকেরা। প্রতি লেনদেনের জন্য একজন গ্রাহক একবারই ক্যাশ-বোনাস পাবেন।

দারুণ এই ক্যাম্পেইনের বিষয়ে নগদ লিমিটেডের ডিএমডি ও সিসিও সিহাব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তুলতে নগদ কাজ করে যাচ্ছে, যার অংশ হিসেবে আরো বেশি মানুষকে ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সেবায় যুক্ত করতে চেষ্টা করে যাচ্ছে নগদ। আমরা মানুষের ডিজিটাল লাইফস্টাইলকে আরো সহজলভ্য করতে বিভিন্ন ধরনের অফার নিয়ে আসছি, যার অংশ হিসেবে আমরা ভিসা কার্ড থেকে নগদ-এ অ্যাড মানি করলে ক্যাশ-বোনাস অফার নিয়ে এসেছি।’

নগদের পক্ষ থেকে কখনো কোনো গ্রাহকের কার্ড নম্বর, সিভিভি, পিন নম্বর অথবা ওটিপি চাওয়া হয় না। এ ছাড়া নগদের পক্ষ থেকে কাউকে কোথাও কোনো ধরনের পেমেন্ট অথবা কোনো নম্বরে অ্যাড মানি করতে বলা হয় না।

;

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে বাণিজ্যের আধুনিকায়ন অপরিহার্য



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

২০৪১ সালে একটি আধুনিক, সুখী-সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে বাণিজ্যের আধুনিকায়ন অপরিহার্য। এক্ষেত্রে বাণিজ্য হতে হবে স্মার্ট।

এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘স্মার্ট ট্রেড ফর স্মার্ট বাংলাদেশ: ওয়ে ফরওয়ার্ড’ বিষয়ক এক সেমিনারে ব্যবসায়ীরা একথা বলেন। রোববার (৩ মার্চ) বিকেল ৪টায় এফবিসিসিআই’র বোর্ড রুমে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুখ্য সচিব বলেন, সরকার সবসময় ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হলো ব্যবসা-বাণিজ্য। তাই সরকার দেশের ব্যবসা ও বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সুষ্ঠু ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিতে সরকার অতীতের মতো ভবিষ্যতেও ব্যবসায়ীদের নীতি সহায়তা প্রদানে বদ্ধ পরিকর। আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভ্যালু চেইন উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্ব অর্থনীতিতে এক উদীয়মান শক্তি। এই টেকসই প্রবৃদ্ধির মূলে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সাহসী পদক্ষেপ। সেই সাথে ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে গত দেড় দশক ধরে আইসিটি খাতকে উৎসাহিত করার মাধ্যমেই সূচিত হয়েছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায়।

তিনি বলেন, বিশ্বের অর্থনীতির সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশের পর স্মার্ট বাংলাদেশের পরিকল্পনা সরকারের একটি দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সিদ্ধান্ত, কেননা উন্নত বিশ্বের দেশগুলো ইতোমধ্যে স্মার্ট দেশে রূপান্তরিত হয়েছে, এমনকি অনেক উন্নয়নশীল দেশও স্মার্ট দেশে রূপান্তরের পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। সাশ্রয়ী, টেকসই, বুদ্ধিদীপ্ত, জ্ঞান ভিত্তিক এবং উদ্ভাবনী প্রাযুক্তিগত সমাধানই হচ্ছে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’।

স্মার্ট ইকোনমি গড়ে তুলতে স্মার্ট কৃষি, স্মার্ট বাণিজ্য, স্মার্ট পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বের কথা তুলে ধরে মাহবুবুল আলম আরও বলেন, কৃষিক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে স্মার্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং এসব পণ্য সরবরাহ ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ই-কমার্স ও ডিজিটাল পেমেন্টের প্রচার ও প্রসারের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডাব্লিউটিও) এলডিসি থেকে উত্তরণের পর যে ধরনের চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে তা মোকাবিলায় অন্যতম হাতিয়ার হবে জিআই পণ্য ও প্যাটেন্ট। পণ্যের জিআই সার্টিফিকেট দেবার অন্যতম উদ্দেশ্য হল এর রফতানি বাড়ানো। তাই ক্রস বর্ডার ট্রেড বাড়াতে জিআই পণ্যগুলো অনেক বেশি ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, পণ্য আমদানি ও রফতানিতে এলসি খোলার ক্ষেত্রে এখন বর্তমানে যথেষ্ট শিথিলতা অবলম্বন করা হচ্ছে। আমাদের এখন সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। এসময় বিভিন্ন খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে স্থিতিশীল উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের কোন বিকল্প নেই। কৃষকরা যেন সহজে ও ঝামেলামুক্তভাবে প্রয়োজনীয় সার পান সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ‘স্মার্ট ফার্টিলাইজার ডিস্ট্রিবিউশন’ অ্যাপ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি আমরা। এটি কার্যকর করতে পারলে একদিকে যেমন কৃষকের হয়রানি কমবে অন্যদিকে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। চতুর্থ শিল্প বিল্পবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনগ্রসর এলাকায় শিল্প কারখানা স্থাপনে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি ব্যবসার জন্য বাধা সৃষ্টি করে এমন কোন নীতিমালা করবে না সরকার।

এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি ও ইক্যাব সভাপতি শমী কায়সার বলেন, স্মার্ট অর্থনীতি গড়ে তুলতে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে পণ্য পরিবহন খরচ কমাতে হবে। পণ্য পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। পণ্য মূল্য বেড়ে যাওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের নারী উদ্যোক্তা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাত এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই খাতগুলোর সমৃদ্ধির জন্য গবেষণা ও উন্নয়নে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এফবিসিসিআই’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশে প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রত্যেকটি নাগরিক হবে দক্ষ। অর্থনীতি পরিচালিত হবে প্রযুক্তির মাধ্যমে। সরকারের সকল কার্যক্রম এবং সমস্ত সমাজ ব্যবস্থাই স্মার্টভাবে পরিচালিত হবে। কাজেই স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্মার্ট বাণিজ্যের কোন বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল ওয়াহেদ তমাল। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই’র প্যানেল উপদেষ্টা পলিসি এক্সচেঞ্জ অফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাশরুর রিয়াজ, ড. অনন্য রায়হান প্রমুখ। এসময় অন্যান্যের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি মো. খায়রুল হুদা চপল, রাশেদুল হোসেন চৌধুরী (রনি), মো. মুনির হোসেন, এফবিসিসিআই পরিচালকবৃন্দ এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

;