পবিত্র রমজানে অসহায় মানুষের সহায়তায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

  • Font increase
  • Font Decrease

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষিতে আসন্ন পবিত্র রমজানে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসতে বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, ‘আর কিছুদিন পরই আসছে পবিত্র রমজান মাস। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দেখা দিয়েছে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি। এ প্রেক্ষিতে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও দুর্দশাগ্রস্থ মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসতে আমি বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। পরম করুণাময় সকল সংঘাত-সংকট থেকে বিশ্ববাসীকে রক্ষা করুন।’

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ‘পবিত্র শবে বরাত’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি একথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি পবিত্র শবে বরাত মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মহিমান্বিত ও বরকতময় এক রজনী উল্লেখ করে এ উপলক্ষে দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, মাহে রমজান ও সৌভাগ্যের আগমনী বারতা নিয়ে পবিত্র লায়লাতুল বরাত আমাদের মাঝে সমাগত। উপমহাদেশে শবেবরাত প্রধানত সৌভাগ্যের রজনী হিসাবে পালিত হয়। পবিত্র এ রজনী আল্লাহ্ তা’য়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ও ক্ষমা লাভের অপার সুযোগ এনে দেয়। ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। মানুষের ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তির জন্য ইসলামের সুমহান আদর্শ আমাদের পাথেয়।

শবে বরাতের এই পবিত্র রজনীতে আমরা সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে অশেষ রহমত ও বরকত কামনার পাশাপাশি দেশের অব্যাহত অগ্রগতি, কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্যের প্রার্থনা জানাই। সৌভাগ্যমণ্ডিত পবিত্র শবে বরাতের পূর্ণ ফজিলত আমাদের ওপর বর্ষিত হোক।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘পবিত্র শবে বরাত সকলের জন্য রহমত, বরকত, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বয়ে আনুক, মহান আল্লাহর দরবারে এ প্রার্থনা করি।’

   

চার দিনের ন্যাপ এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
চার দিনের ন্যাপ এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

চার দিনের ন্যাপ এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

  • Font increase
  • Font Decrease

আগামী ২২ থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ জলবায়ু অভিযোজন সম্মেলন ন্যাশনাল এডাপটেশন প্লান (ন্যাপ) এক্সপো ২০২৪ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) ন্যাপ এক্সপো ২০২৪ উপলক্ষ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এতে আরও উপস্থিত থাকবেন ইউএনএফসিসিসির এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি সাইমন স্টিয়েল উক্ত ন্যাপ এক্সপোতে উপস্থিত থাকবেন।

এসময় তিনি জানান, ন্যাপ সম্মেলন আগামী ২২ এপ্রিল শুরু হয়ে শেষ হবে ২৫ এপ্রিল। সম্মেলনটি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) অনুষ্ঠিত হবে। ইউএনএফসিসিসির তত্ত্বাবধানে স্বল্পোন্নত দেশগুলির বিশেষজ্ঞ গ্রুপ এবং বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় এ এক্সপোর আয়োজন করা হচ্ছে।

পরিবেশমন্ত্রী জানান, ন্যাপ এক্সপো ২০২৪ এ অংশগ্রহণের জন্য ১০৪টি দেশের ৩৮৩ জন ইউএনএফসিসিতে রেজিস্ট্রেশন করেছে। এছাড়া, দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, জলবায়ু বিশেষজ্ঞবৃন্দ, এনজিওর প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষার্থীসহ ৫৫০জন অংশগ্রহণ করবেন। এ সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের অভিযোজন কার্যক্রম সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় থেকে সবাই পারস্পরিকভাবে উপকৃত হতে পারবে।

সাবের চৌধুরী বলেন, ন্যাপ এক্সপো একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম যেখানে বিভিন্ন দেশ, সংস্থা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা ন্যাপ প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পারস্পরিক যোগাযোগ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় করে। বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা, সর্বোত্তম অনুশীলন, বাস্তবায়নের চ্যালেন্জ, চাহিদা এবং ন্যাপ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কিত প্রদত্ত এবং প্রাপ্ত সহায়তা সম্পর্কিত তথ্য বিষয়ে আলোচনার জন্য বিশেষজ্ঞগণের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং বিভিন্ন দেশের ন্যাপসমুহের বাস্তবায়ন অগ্রগতির মূল্যায়ন করার সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়াও, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিপদাপন্ন দেশগুলোর ন্যাপ-প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য জিসিএফসহ আন্যান্য জলবায়ু তহবিল হতে অর্থায়ন নিশ্চিতের লক্ষ্যে এটি একটি গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম। এই এক্সপো উন্নয়নশীল দেশগুলির ন্যাপ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত গ্যাপ এবং চাহিদা চিহ্নিতকরণের জন্য প্রশিক্ষণেরও আয়োজন করবে। ন্যাপ এক্সপো ২০২৪ এ বাংলাদেশ বিভিন্ন সেশন আয়োজন করবে।

মন্ত্রী জানান, এ সম্মেলনে মোট ২০টি স্টল থাকবে যেখানে বিভিন্ন দেশের অভিযোজনমূলক কর্মকাণ্ড প্রদর্শিত হবে। এছাড়াও, ৪ দিনে ১টি সেশনে বিশেষজ্ঞগণ ট্রান্সফরমেশনাল এডাপটেশন, ফিনান্সিয়াল মেকানিজম, এডাপ্টেশন একটিভিটি মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশন টুলস, জেন্ডার রেস্পন্সিভ এডাপটেশন প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা করবেন।

বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দকৃত ১০টি স্টলে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং, পাহাড়ি অঞ্চলে সোলার এনার্জির মাধ্যমে পানি উত্তোলনের ব্যবস্থা, জলবায়ু সহিষ্ণু বীজ, প্রাণিসম্পদ সংরক্ষণ এবং অন্যান্য কৃষি কার্যক্রম সংক্রান্ত বিষয়, অভিযোজন কর্মকাণ্ডের সমর্থনে ডেল্টা প্লানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, জলবায়ু অভিযোজনের জন্য সাইক্লোন সেল্টার, মুজিব কিল্লা, রাস্তাঘাট, কালভার্ট নির্মাণ, জলবায়ু সহিষ্ণু নগর ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু উদ্বাস্তু, ইত্যাদি জলবায়ু অভিযোজনের বিষয়সমূহ প্রদর্শন করা হবে। বিদেশি স্টলে প্রদর্শিত অভিযোজন কর্মকাণ্ড থেকেও আমরা অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারবো। এ এক্সপোতে দেশের জলবায়ু অভিযোজন প্রদর্শনের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দেশি বিদেশি সংস্থা অংশগ্রহণ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুন, অতিরিক্ত সচিব (পদূনি) তপন কুমার বিশ্বাস, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড আবদুল হামিদ এবং বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ আমীর হোসাইন চৌধুরী প্রমুখ।

;

চৈত্রের খরতাপে বিপর্যস্ত বরেন্দ্র অঞ্চল



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চৈত্র মাসের প্রখর সূর্যতাপ বরেন্দ্র অঞ্চলের জীবনযাত্রা ও কৃষি কার্যক্রমকে তীব্রভাবে প্রভাবিত করেছে। তীব্র খরতাপ এবং অনবরত খরা অবস্থার কারণে রাজশাহী অঞ্চলের কৃষকরা ফসল উৎপাদনে গভীর সংকটে পড়েছেন। এ অঞ্চলটি এই সময়ে প্রায় প্রতি বছরই প্রচণ্ড তাপদাহের মুখে পড়ে। এ বছর অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ তাপমাত্রা ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক মৌসুমের ফলে জলাভাব সৃষ্টি হয়েছে। যা কৃষি জমিগুলিতে পানির প্রাপ্যতা হ্রাস করেছে। সেচের অভাবে ফসল উৎপাদন ব্যাপক হ্রাস পাচ্ছে। উত্তপ্ত আবহওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। মানুষের পাশাপাশি পশু-পাখিরাও হাঁসফাঁস করছে। ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই। প্রখর রোদে পথ-ঘাট-মাঠ সবকিছুই উত্তপ্ত।

একটু শীতল প্রশান্তির আশায় শিশু-কিশোররা পুকুর, নদী-নালার পানিতে নেমে খেলা করছে। পথচারীরা টিউবওয়েলের পানিতে মুখ ভিজিয়ে উত্তপ্ত আবহাওয়ার ক্লান্তি থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন। প্রচণ্ড গরমে তাদের মুখে স্বস্তির ছায়া নেই। বরেন্দ্র অঞ্চলের এমন উত্তপ্ত আবহাওয়া শুধু দৈনন্দিন জীবনের উপরই নয়, জনস্বাস্থ্যের উপরেও গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, অত্যধিক গরমে জলশূন্যতা ও হিট স্ট্রোকের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে অপর্যাপ্ত পানির যোগান এই সমস্যাকে আরও জটিল করছে। বিশেষজ্ঞরা এই প্রেক্ষাপটে জরুরী পানীয় জল ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরামর্শ দিচ্ছেন।

রাজশাহীতে বুধবার (১৭ এপ্রিল) সর্বোচ্চ ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেলা ১১টা গড়াতেই রাস্তা-ঘাট জনশূন্য হয়ে পড়ে। কিন্তু আগুনঝরা আবহাওয়ায় স্বস্তি মিলছে না ঘরেও। তাই ভোগান্তিতে থাকা মানুষ প্রশান্তির বৃষ্টির জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছেন।

স্থানীয় পবা উপজেলার কৃষক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, এবারের তাপমাত্রা আগের চেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। আমাদের ধানের ফসলে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, ফলে ফসলের অবস্থা খুবই খারাপ। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যত উৎপাদন ও অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব পড়বে।

নগরীর অটোরিকশা চালক ইদ্রিস আলী বলেন, রাজশাহী শহরে দুই শিফটে অটো চলাচল করে। সকালের শিফটে লাল চললে বিকেলের শিফটে চলে সবুজ রঙের অটোরিকশা। সকালের শিফটে গরম অত্যন্ত প্রখর হয়। আমি বর্তমানে সকালের শিফটে গাড়ি চালাই। দিনের বেলা যত বাড়ে, ততই তাপদাহ ও কষ্ট বাড়তে থাকে। কঠিন রোদ সত্ত্বেও, অটোরিকশা চালানো আমার কাছে একটি অনিবার্য কর্তব্য।

এই বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যেও স্বস্তির বার্তা নেই আবহওয়া অফিসের কাছে। রাজশাহী আবহওয়া অফিসের তথ্যমতে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ২৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৩০ শতাংশ।।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক রাজীব খান বলেন, আপাতত রাজশাহীতে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে মেঘের সঙ্গে বজ্রপাত হতে পারে। মার্চের শেষের দিকেও রাজশাহীতে এমন আবহাওয়া ছিল না। ওই সময় রাতের দিকে শীত অনুভব হত। তাপমাত্রা উঠানামা করত ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। তবে এপ্রিলের পথম সপ্তাহ থেকেই তাপমাত্রা বাড়তির দিকে। আরও কিছুদিন এমন থাকতে পারে।

এদিকে, হঠাৎ পরিবর্তিত এই অবহওয়ায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে বলে জানা গেছে। আর এ সময় সর্তক থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সাবেক-বিভাগীয় প্রধান ডা. খলিলুর রহমান বলেন, গত কয়েক দিন থেকে হঠাৎ করে আবারও তাপমাত্রা বাড়ায় ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এসব রোগে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি এ তীব্র গরমে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ও হৃদরোগে আক্রান্তদের দুর্ভোগও বেড়েছে।

তিনি বলেন, এ সময় সতর্ক থাকতে হবে। পর্যন্ত বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। যাতে শরীর ঠিক মতো হাইড্রেটেড থাকে। ঘামের মাধ্যমে হারানো তরল ও খনিজ উপাদানগুলো যেন পুনরায় পূরণ হতে পারে। সানস্ক্রিনের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যেহেতু সূর্যের ক্ষতিকর আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষা পায়। গরমের সময় হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা উচিত যা শরীরের তাপ নির্গমনে সহায়ক। তাপমাত্রা যখন চরমে পৌঁছায়, তখন যতটা সম্ভব শীতল ও ছায়াশীতল স্থানে থাকা উচিত এবং দুপুরের দিকে বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। এই সব পদক্ষেপ মেনে চললে গরমের প্রভাব থেকে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব।

;

যুগলের পেটের ভাত কেড়ে নিল ‘ধানের ব্লাস্ট রোগ’



মৃত্যুঞ্জয় রায়, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সাতক্ষীরা
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সবাই যখন ইরি ধান কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত। ঠিক তখনই যুগল মাথায় হাত দিয়ে জমির আলের উপর বসে আছে। এদিকে চোখ দিয়ে জলের ধারা বয়ে যাচ্ছে আর অপার দৃষ্টিতে ধানের দিকে তাকিয়ে একা একা বিরবির করে কি যেনো বলছেন। শুনতে কাছে যেতেই গলা ছেড়ে কান্না করে বলতে লাগলেন, সারাবছর কি খাবো? সমিতি থেকে লোন নিয়ে ইরি ধান করেছি। আশা ছিলো ধান ঝেড়ে ঝুড়ে বিক্রি করে লোন শোধ করবো। কিন্তু ধানে ‘ব্লাস্ট’ রোগে শেষ সব। ধান বাড়ি নিয়ে যাওয়া তো দূরে থাক শুধু খর গুলো শেষ সম্ভল। তিন মাসের শ্রম, কষ্ট সব পুড়ে ছাই। মনে হচ্ছে ধানের শীষে আগুন লেগেছে। কত ভালোই না ধান হয়েছিলো তাকালে যেন খিলখিল করে হাসতো বাতাসে। কিন্তু রাতারাতি ধানে পোকা লেগে সব কিছু শেষ।

সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার কলাগাছি গ্রামে স্ত্রী পুত্রকে নিয়ে যুগলের সংসার। এই ইরি ধানই সারাবছর তাদের খাবার জোগায়। কিন্তু নতুন চালের ভাত খাওয়ার আগেই ধানে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে সব শেষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, যুগলের জমির ধান সব চিটা হয়ে গেছে। ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে ধান গাছের পাতা আছে তবে ধানের ফল নেই। জমির বাঁধে যুগুল মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে আর তার একটু সামনে তার স্ত্রী ধানের অবশিষ্ট খর কাঁচি দিয়ে কাটছে। এদিকে তাদের ছোট্ট শিশুপুত্র আপন মনে একপাশে খেলা করছে।

যুগুলের স্ত্রী বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমাদের বলতে আর কিছু নেই। আমাদের এলাকায় একটাই ফসল হয় আর সেই ইরি ধানে আমরা মাইর খেলাম। কি খাবো না খাবো ভেবে পাচ্ছি না। একদিকে ঋণের বোঝা আর এদিকে পেটের জ্বালা। কিভাবে শোধ করবো ইরি ধান করা লোনের টাকা। এই ফসল ছাড়া আমাদের এদিকে আর কোনো ফসল হয় না। আমরা এই ফসলের উপর ভরসা করে থাকি। কিন্তু সেই ফসল আমাদের পেটের খাবার কেড়ে নিল।

ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে ধান গাছের পাতা আছে তবে ধানের ফল নেই

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ধানের ব্লাস্ট (Blast) একটি মারাত্মক ছত্রাকজনিত রােগ। পাইরিকুলারিয়া গ্রিসিয়া (Pyricularia grisea) নামক ছত্রাক দ্বারা হয়ে থাকে। হালকা মাটি বা বেলেমাটি যার পানি ধারণক্ষমতা কম সেখানে রােগ বেশি হতে দেখা যায়। জমিতে মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া সার এবং প্রয়ােজনের তুলনায় কম পটাশ সার দিলে এ রােগের আক্রমণ বেশি হয়। দীর্ঘদিন জমি শুকনা অবস্থায় থাকলেও এ রােগের আক্রমণ হতে পারে। রাতে ঠান্ডা, দিনে গরম এবং শিশির থাকলে এ রােগের প্রকোপ বেড়ে যায়।

এদিকে কৃষি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধানের থোর অবস্থায় ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ধানের ফুল অবস্থায় ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রা চলে গেলে; থোরের ভেতর ভ্রুণের গর্ভপাত হতে পারে। ফলে ধানের থোর থেকে ফুল বের হওয়ার পরপরই সাদা মরা অপরিপক্ক মন্জুরী দেখা যায়।

ধানের থোর বা ফুল অবস্থায় তাপমাত্রা যদি ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি চলে যায় তা হলেও ধান চিটা হয়ে যেতে পারে।

এছাড়া অনাকাঙ্খিত ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ধানের থোর ও ফুল অবস্থায় আঘাতজনিত ইনজুরির কারণেও ধান সাদা চিটা হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ কোল্ড ইনজুরি বা হিট ইনজুরির কারণেও ধানের থোরের মধ্যে ভ্রুণের গর্ভপাত হয়ে ছড়ার আংশিক সাদা হয়ে মরা বের হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে ধান ক্ষেতে কোনো ওষুধ দিয়েও লাভ হয় না।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনাকাঙ্খিত ঝড়- শিলাবৃষ্টি, অসময়ে অতি শীত, অতি গরম ধান চাষে কৃষকদের নতুন নতুন সমস্যা, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

;

তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে মানুষ



গুলশান জাহান সারিকা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভ্যাপসা গরম ও তীব্র তাপদাহের মধ্য দিয়ে চৈত্রের বিদায়। বৈশাখের শুরু থেকেই রাজধানীতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠানামা করছে। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীসহ আশেপাশে একপশলা বৃষ্টি হলেও কমেনি তাপদাহ। আজ সকাল থেকে আবার তীব্র তাপদাহ বইছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে।

অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে মানুষ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা। রোদ ও গরমে দেহে পানিশূন্যতা, মাংসপেশিতে টান ধরা, ক্লান্তি, অসার ভাব, হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। এগুলো সবই খরতাপের প্রভাবে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মহাখালী ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ (আইসিডিডিআর, বি) হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে প্রায় সাড়ে তিন হাজার রোগী ভর্তি হয়েছেন ডায়রিয়া ও অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে।

হাসপাতালের তথ্য অনুসারে, সাড়ে তিন হাজার রোগীর তিন ভাগের দুই ভাগই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। প্রচণ্ড গরমে শরীরে পানিস্বল্পতা ও ফুড পয়জনিংয়ের কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধের আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। অতিরিক্ত রোদ, তাপ থেকে নিরাপদ থেকে সচেতনতা অবলম্বন করে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতাল ভর্তি হয়েছেন বেসরকারি চাকরিজীবী খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, বাইরের খাবার খেয়ে আমার এ অবস্থা। গরমে কয়েকদিন রাস্তার ধারের আখের জুস, লেবুপানি খেয়েছি। গতকাল রাত থেকে খারাপ অবস্থা শুরু হয়েছে, আজ সকালে ভর্তি হয়েছি।

চার বছরের ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আসমা বেগম। তিনি জানান, ফুড পয়জনিং থেকে ছেলের ডাইরিয়া হয়েছে। হঠাৎ অতিরিক্ত গরমে আর বাইরের খাবারের জন্য সম্ভবত এমন হয়েছে।

আইসিডিডিআর বি হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা আফরোজ বার্তা২৪.কমকে বলেন, প্রতিদিন প্রায় ৫০০ রোগী ভর্তি হচ্ছে পানিশূন্যতা ও ডায়রিয়া নিয়ে। মার্চের শেষ থেকে গরমের প্রভাব বাড়ার কারণে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে বয়স্ক ও শিশুর সংখ্যা বেশি বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, তীব্র তাপদাহে সুস্থ থাকতে প্রথমত সচেতন হতে হবে। প্রাত্যহিক রুটিনে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিতে হবে। অতিরিক্ত তাপে হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে বাইরে কম বের হতে হবে। বেশি করে নিরাপদ বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। ডিহাইড্রেশন হতে দেওয়া যাবে না। বাইরের খাবার, বোতলজাত ফলের জুস, ফুটপাতের খাবার, ভাজাপোড়া, তেলযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে, কম মশলাযুক্ত ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। চা, কফি কম খেতে হবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে বারবার সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে, নিয়মিত গোসল করতে হবে।

বাচ্চাদের ঘরের বাইরে যেতে দেওয়া যাবে না। মানসিক চাপ মুক্ত রাখতে হবে। গরমে হালকা পোশাক পরতে হবে। ডায়রিয়া হলে সঠিক নিয়মে স্যালাইন খেতে হবে।

এছাড়া বেশি অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

;