ময়লার স্তূপ থেকে নবজাতক উদ্ধার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, পটুয়াখালী
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পটুয়াখালী শহরের বেসরকারি ক্লিনিকের সামনে ময়লার স্তূপ থেকে এক নবজাতক শিশুকে উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। উদ্ধার শেষে শিশুটিকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। 

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পটুয়াখালী শের-ই বাংলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এক বেসরকারি ক্লিনিকের সামনে  ময়লার স্তূপ থেকে স্থানীয় এক যুবক তার গৃহস্থালির ময়লা ফেলতে গেলে সেখানে একটি বাচ্চার কান্না শুনতে পায়। পরবর্তীতে ঝোপের মধ্যে শিশুটিকে নড়তে দেখে স্থানীয়দের  ডাকে এবং শিশুটিকে সেখান থেকে উদ্ধার করে। 

প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ ইয়ামিন বলেন, আমি আমার ঘরের ময়লা ফেলতে রাস্তার পাশে যাই। এ সময় একটি বাচ্চার কান্না শুনতে পেয়ে ঝোপের মধ্যে তাকাই তখন বাচ্চাটিকে নড়াচড়া করতে দেখি। আশেপাশের সবাইকে ডাক দিলে তারা এসে বাচ্চাটিকে বের করতে সাহায্য করে। পরে বাচ্চাটিকে নিয়ে আমরা হাসপাতালে ভর্তি করি।

নার্গিস আক্তার বলেন,‌ হঠাৎ করে শুনতেপাই রাস্তার পাশে একটি শিশু পাওয়া গেছে। ঘটনাটি শুনে দৌড়ে আসি। এসে দেখি ঝোপের মধ্য থেকে স্থানীয়রা একটি নবজাতক শিশুকে বের করছে,  শিশুটির শরীরে তখন্ব রক্তমাখা ছিল। 

স্থানীয় ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলাউদ্দীন আলাল বলেন, আমি শের-ই বাংলা সড়কের নির্বাচনী প্রচারণার কাজে গিয়েছিলাম। তখন জানতে পারি  একটি নবজাতক শিশু রাস্তার পাশে পড়ে আছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করি। শিশুটি এখন ভালো আছে।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্ক্যানু বিভাগে কর্মরত এক সিনিয়র স্টাফ নার্স বলেন, নবজাতক শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তার অক্সিজেন লেভেল চেক থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেছি। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ আছে। নবজাতক শিশুটি একটি ছেলে বাচ্চা।  

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জসিম বার্তা২৪-কে বলেন, ঘটনাটি জানার সাথে সাথে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনা স্থলে যায়। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে এবং সুস্থ আছে। আমরা জেলা সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করেছি, তারা পরবর্তীতে এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

   

নববর্ষ বরণে রাঙামাটিতে চলছে সাংগ্রাই জলোৎসব



আলমগীর মানিক, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট,বার্তা২৪.কম,রাঙামাটি
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

‘পার্বত্য অঞ্চলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সংস্কৃতি বিকাশে এগিয়ে আসার আহ্বানে উচ্ছ্বাস আর আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যদিয়ে রাঙামাটিতে সর্ববৃহৎ সার্বজনীন সাংগ্রাই জলোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মারমা যুবক যুবতীরা একে অপরের প্রতি জল ছিঁটিয়ে পুরোনো বছরের দুঃখ, গ্লানি, বেদনাকে ভুলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায়। এ যেন এক প্রাণের উৎসবে মিলিত হয়েছেন তারা। 

মারমা সংস্কৃতি সংস্থা (মাসস) এর আয়োজনে মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে রাঙামাটিস্থ চিংহ্লা মং মারী স্টেডিয়াম মাঠে ঐতিহ্যবাহী এই অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার। এর আগে উক্ত অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।

মারমা সংস্কৃতি সংস্থা (মাসস) সভাপতি ও রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য বেগম ওয়াসিকা আয়েশা খান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য জ্বরতী তঞ্চঙ্গ্যা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান সুপ্রদীপ চাকমা, রাঙামাটির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোহেল আহমেদ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন খান, পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদসহ সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন দপ্তরের উদ্বর্তন কর্মকর্তাগণ ও রাজনৈতিক, সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নববর্ষকে বরণ এবং পুরানো বর্ষকে বিদায় উপলক্ষে মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাঁই জল উৎসবের অন্যতম জনপ্রিয় গানটি গেয়ে যখন মারমা শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করার সাথে সাথেই হাজার হাজার লোকের কলরবে মুখরিত হয়ে উঠে চিংহ্লা মং মারী স্টেডিয়াম মাঠ।

;

সেই অঙ্কিতা পেলো নতুন বই-জামা-টাকা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম ব্যুরো
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

আগুনে পুড়ে যাওয়া বাসার ধ্বংসস্তূপের মাঝখানে বসে কেঁদেই চলেছিল অঙ্কিতা দাশ। হাতে আধ পোড়া বই-কোনোটি অর্থনীতি, কোনোটি আবার ব্যবস্থাপনা। আর কদিন পরেই তার এইচএসসি পরীক্ষা শুরু। তার আগে আগুনে সব বই হারিয়ে চোখে যেন শর্ষে ফুল দেখছিল ১৭ বছরের মেয়েটি। তাই তো তার চোখে এত কান্না, এত জল।

অঙ্কিতার সেই কান্নার ছবি আর দুঃখের গল্প তুলে ধরেছিল বার্তা২৪.কম। সেই প্রতিবেদন ছড়িয়ে পড়ার পর অঙ্কিতার পাশে দাঁড়িয়েছেন অনেকেই। কেউ দিয়েছেন নতুন বই, কেউবা নতুন জামা। আবার কেউ দিয়েছেন পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য টাকাও।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ডের টেক পাড়া ও এয়াকুব নগরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান। এ সময় তিনি অঙ্কিতার হাতে পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য ১০ হাজার টাকা তুলে দেন। এর আগে তাকে এইচএসসির ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের সবগুলো বই কিনে দিয়েছেন কোতোয়ালি থানা ছাত্রলীগের সভাপতি অনিন্দ্য দেব। আগুনের খবরে এক কাপড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েছিল অঙ্কিতা। সেজন্য তাকে কেউ কেউ কিনে দিয়েছেন নতুন জামাও।

নতুন বই ও ফরম পূরণের টাকা পেয়ে খুশিতে কেঁদে দেয় অঙ্কিতা দাশ। তিনি বলেন, ‘এত অল্প সময়ে আমার বই ও ফরম ফিলাপের টাকা জোগাড় হয়ে যাবে কল্পনাতেও ভাবিনি। আগুন লাগার পর আমার পরিবার নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর আমার পরিবারের সঙ্গে অনেকেই যোগাযোগ করেছেন। অনেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এ সহযোগিতা ও আন্তরিকতা কখনোই ভুলবার নয়। আমি এবং আমার পরিবার সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’

;

সড়কে কমছেই না মৃত্যুর মিছিল: জিএম কাদের



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সড়কে কমছেই না মৃত্যুর মিছিল। গত সাত দিনে (৮ থেকে ১৪ এপ্রিল) ১১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১২২ জন নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১৯৫ জন। 

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) ফরিদপুরের কানাইপুরে ও ময়মনসিংহে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জনসহ মোট ১৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি। শোকবার্তায় তিনি সড়ক দুর্ঘটনার ক্রমাগত বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে এই কথা বলেন।

এসময়ন তিনি নিহতদের বিদেহী আত্মার শান্তি ও আহতদের দ্রুত সুস্থ্যতা কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি নিহতদের পরিবারে যৌক্তিক ক্ষতিপূরণ প্রদান ও আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

শোকবার্তায় তিনি আরও বলেছেন, প্রতিদিনই সড়কে প্রাণ যাচ্ছে, কোন প্রতিকার নেই। সড়কে প্রতিদিনের অপমৃত্যু যেনো স্বাভাবিক ঘটনা। প্রতিদিন এমন দুর্ঘটনার সংবাদ মেনে নেয়া যায় না। তদন্ত করে দুর্ঘটনার কারণ প্রকাশ করতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। সড়ক ব্যবস্থাপণায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। 

 

;

সমৃদ্ধি ও সুযোগ সৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করতে চায়: পিটার হাস



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও সুযোগ সৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করতে চায় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর এক হোটেলে ইউএসএআইডি এবং দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ঢাকার ইউনাইটেড স্টেটস্ এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট (ইউএসএআইডি) এবং দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন যৌথভাবে আটলান্টিক কাউন্সিলের নতুন বৈশ্বিক স্বাধীনতা ও সমৃদ্ধি প্রতিবেদন (গ্লোবাল ফ্রিডমের অ্যান্ড প্রসপারিটি রিপোর্ট) ফলাফল জানাতে সমৃদ্ধি ও সুশাসন সম্মেলনের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে সেখানে পিটার হাস তার বক্তব্যে জানান, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অপরিহার্য। প্রত্যেক দেশ দুর্নীতির মতো বিষয়ে এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষিত রাখার জন্য লড়াই করছে। কিন্তু মূল সমস্যাগুলো এড়িয়ে না গিয়ে, সক্রিয়ভাবে স্বীকার করে তা মোকাবিলা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২২ বছর ধরে প্রায় সবগুলো সূচকে অবনতি হচ্ছে বাংলাদেশের। এ বছর ১৬৪ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪১ তম।

সমৃদ্ধি সূচকে ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে অসমৃদ্ধ’ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৪ দেশের মধ্যে ৯৯ তম, যা মধ্যম আয়ের দেশ ও সরকারের রুপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের পথে বিরাট বাঁধা।

সমৃদ্ধি ও সুশাসন সম্মেলনে সরকার, নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী, দাতা, একাডেমিয়া এবং থিঙ্ক ট্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আটলান্টিক কাউন্সিলের ফ্রিডম অ্যান্ড প্রসপারিটি সেন্টারের পরিচালক জোসেফ লেমোইন অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন। তিনি প্রতিবেদনটির মূল ফলাফল তুলে ধরেন, যা স্বাধীনতা সূচকের মাধ্যমে দেশগুলোর গণতান্ত্রিক এবং শাসন বিষয়ক নির্দেশকগুলো পরিমাপ এবং ক্রম নির্ধারণ করে এবং সমৃদ্ধি সূচকের মাধ্যমে, যা একটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি পরিমাপ করে।

;