পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন করেন।

এবারের পুলিশ সপ্তাহ ২০২৪-এর মূল প্রতিপাদ্য ‘স্মার্ট পুলিশ, স্মার্ট দেশ; শান্তি প্রগতির বাংলাদেশ।’ বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে শুরু হবে কর্মসূচি। চলবে ৬ দিন।

এদিকে, পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে ২০২৩ সালে অসীম সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ, মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা প্রদর্শন, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের জন্য ৪০০ জন বিপিএম ও পিপিএম পদক পাচ্ছেন। পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের অসীম সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ৩৫ জন পুলিশ সদস্যকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’ , ৬০ জনকে ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা প্রদর্শন, কর্তব্য নিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ৯৫ জন পুলিশ সদস্যকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম-সেবা)’ এবং ২১০ জনকে ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা)’ পদক প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী পদকপ্রাপ্তদেরকে পদক প্রদান করবেন।

পুলিশ সপ্তাহর উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতির ভাষণ, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারদের উদ্দেশে ভাষণ, ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে প্রধান বিচারপতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইজিপির সম্মেলন, আইজি'স ব্যাজ, শিল্ড প্যারেড, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার পুরস্কার বিতরণ ইত্যাদি।

 

 

   

বদলে যাচ্ছে গাইবান্ধার ‘শ্রুতিকটু’ ৯ বিদ্যালয়ের নাম



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, গাইবান্ধা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ধুতিচোরা, পাগলার চর, গলাকাটি'র মতো বিভিন্ন রকমের শ্রুতিকটু ও নেতিবাচক নাম থাকা গাইবান্ধার ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করেছে সরকার।

গত ৩ এপ্রিল প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ২৪৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বদলে দেওয়া দেশের ২৪৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে গাইবান্ধার দুটি উপজেলার নয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামও রয়েছে।

এর মধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলার চারটি এবং ফুলছড়ি উপজেলার পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ফুলছড়ি উপজেলার 'গলাকাটি' সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পাল্টে হচ্ছে 'আনন্দ বাজার' সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, 'পাগলার চর' সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পাল্টে 'ভোরের পাখি' সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, 'নাপিতের হাট' সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পাল্টে 'থানাপাড়া আদর্শ' বিদ্যালয়, 'বাজে ফুলছড়ি' সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পাল্টে 'চর ফুলছড়ি' প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং 'কঞ্চিপাড়া ১ নং' সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরর নাম পাল্টে হচ্ছে 'কঞ্চিপাড়া আদর্শ' প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এছাড়া গাইবান্ধা সদর উপজেলার 'পঁচারকুড়া' সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরর নাম পাল্টে হচ্ছে 'গিদারী কৃষ্ণচূড়া' সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, 'বাজে চিথুলিয়া' সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পাল্টে 'পশ্চিম চিথুলিয়া' সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, 'ধুতিচোরা' সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পাল্টে 'রহমাননগর' সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং 'পূর্ব ধুতিচোরা' সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পাল্টে নতুন নাম হচ্ছে 'গিদারী আনন্দনগর' সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এ বিষয়ে গাইবান্ধার মালিবাড়ি বোরহানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাজাদী হাবিবা সুলতানা বার্তা২৪.কমকে বলেন, দেশে এমন কিছু বিদ্যালয়ের নাম আছে যেসব নাম উচ্চারণ করতেও মুখে বাধে। প্রতিনিয়ত শিশুরা ওইসব নাম নিয়ে ট্রলের বা ঠাট্টার শিকার হন। সারা দেশের শ্রুতিকটু নামের বিদ্যালয়গুলো চিহ্নিত করে পরিবর্তন জরুরি।

গাইবান্ধা ফুলছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলাল হোসেন মোবাইল ফোনে বার্তা২৪,কমকে বলেন, ফুলছড়ি উপজেলার পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পাল্টেছে। পাল্টে যাওয়া নামগুলো ছিল শ্রুতিকটু । যা শিশুদের মনে খারাপ প্রভাব ফেলত।

তিনি আরও বলেন, রমজান ও ঈদের ছুটি শেষে তাপদাহের কারণে আবারও বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেল। বিদ্যালয় খুললে নাম পাল্টে যাওয়া বিদ্যালয়গুলোর দেয়ালে বা সাইনবোর্ডে নাম পাল্টে দেওয়া হবে। প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই সকল পেপারসে নাম পরিবর্তনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম মোবাইল ফোনে বার্তা২৪.কমকে বলেন, অর্থহীন বা বিদঘুটে নামগুলো থেকে উদ্দীপনা বা অনুপ্রেরণা পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। যার কারণে মানুষ সন্তানের খুঁজে খুঁজে উজ্জ্বল-সুন্দর এবং অর্থপূর্ণ নাম রাখেন। একইরকম বিদ্যালয়গুলোর নামের বেলাতেও।

তবে, যেকোনো কারণে হোক সারা দেশেই স্থানীয় পর্যায়ের লোকজনের মাধ্যমে কিছু বিদ্যালয়ের বিদঘুটে বা শ্রুতিকটু নাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ওইসব নাম পরিবর্তনের উদ্যেগটি একটি ভাল দিক। আমি মনে করি, পরিবর্তন করা অর্থপূর্ণ, শ্রুতিমধুর এবং ইতিহাস সমৃদ্ধ এসব নাম কোমলমতি শিশুদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সাথে শিশুরা গর্বের সঙ্গেই তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম উচ্চারণ করবে।

গাইবান্ধায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৪৬৬টি। এসব বিদ্যালয়ের বিপরীতে শিক্ষকের সংখ্যা ৮ হাজার ২১৩ জন এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখ ৩ হাজার ৪৭৩ জন।

;

‘প্রচণ্ড তাপদাহে ধানের বোঝা নিয়ে হাঁপিয়ে ওঠছি’



মৃত্যুঞ্জয় রায়, ডিসট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সাতক্ষীরা
‘প্রচণ্ড তাপদাহে ধানের বোঝা নিয়ে হাঁপিয়ে ওঠছি’

‘প্রচণ্ড তাপদাহে ধানের বোঝা নিয়ে হাঁপিয়ে ওঠছি’

  • Font increase
  • Font Decrease

 

খাঁ খাঁ রোদে প্রচণ্ড গরমে ১০০ আঁটি ধানের বিচুলি কাঁধে বা মাথায় করে নিয়ে যাওয়া যে কতটা কষ্টসাধ্য সেটা আমরা জানি। একদিকে ধানের গরম আর অন্যদিকে প্রচণ্ড তাপদাহ। এই তাপদাহে ধানের বোঝা নিয়ে হাঁপিয়ে ওঠছি। কিন্তু কী করব টাকার বিনিময়ে কাজ করতে আসছি। সেই সকাল ৬টা থেকে কাজ করছি। সকাল-সকাল কাজ শুরু করলে একটু কষ্ট কম হয় কিন্তু যখনই রোদ উঠে আর গরম পড়া শুরু করে তখনই মনে হয় দম বের হয়ে যাচ্ছে। এই গরমে ধানের বোঝা কাঁধে নিয়ে এমনই কষ্টের কথা বলছিলেন জব্বার।

শনিবার (২১ এপ্রিল) সরেজমিনে তালার উপজেলার মুড়াগাছার গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রচণ্ড গরমে কৃষকদের ইরি ধান মাঠ থেকে ঘরে তোলার ব্যস্ততা। এই গরমে মাঠের দিকে একটু যেতেই দেখা যায় ধানের বোঝা মাথায় নিয়ে আসার লম্বা লাইন। ফাঁড়ি দিয়ে সামনে এগিয়ে তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলাম।

এই গরমে মানুষ বাড়িতে বসে যেখানে স্বস্তি পাচ্ছেন না আপনারা সেখানে ধানের বোঝা নিয়ে কীভাবে পারছেন, এই প্রশ্নে জবাবে তারা বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমরা যে শ্রমিক। টাকার বিনিময়ে কাজ করে খাই। আমাদের গরম বলতে কিছু নেই। গরম লাগে তো বাবু-মানুষদের। যারা এসি রুমে বসে বসে আরাম করে খায়। আমাদের মতো কাজ করে খেলে গরম একটু কম লাগত। কাজ করা শরীর তো তাই এমন খিটখিটে কথা। কী বলব আর বলুন, প্রচণ্ড গরম সহ্য করা যাচ্ছে না । তারপরও কাজ করতে হচ্ছে। ধান কাটার সময়ে একটু কাজ থাকে, তাই কাজ করে কয়টা টাকা ধরে নিচ্ছি। গরমের জন্য বসে থাকলে তো পেটে ভাত যাবে না। তাই কষ্ট হলেও কাজ করতে হচ্ছে।

যেদিকে চোখ যায় সেদিকে ধান আর ধান। খাঁ খাঁ রোদ্দুর, প্রচণ্ড তাপদাহ, নেই কোনো বাতাস, রয়েছে শুধু ভ্যাপসা গরম। প্রচণ্ড গরমে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত ঠিক তখনই আরেকটু একটু এগোতেই দেখা যায় একদল পুরুষ এবং মহিলারা ধান কাটায় ব্যস্ত। এই গরমে নারী পুরুষ যেন পাল্লা দিয়ে চলছে কাজ। গরমে কাবু হলেও হার মানছেন না তারা সোনার ফসলের কাছে। তাই তো গরমকে অপেক্ষা করে সোনার ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

ধান কাটতে থাকা মনিকা মন্ডল বার্তা২৪.কমকে বলেন, প্রচণ্ড গরমে জীবন বের হয়ে যাচ্ছে। ঘড়ির কাটা ১১টায় গেলে বাঁচি। নারী-পুরুষ সমান-সমান ধান কাটছি, কিন্তু টাকার বেলায় নারীদের কম। সমান কাজ করেও আমাদের বেলায় অবহেলা। এই গরমে জীবন বের হয়ে যাচ্ছে। একদিকে ধানের গরম অন্য দিকে রোদের তাপ। কীভাবে পারব। একটু ধান কাটা বাদ দিয়ে যে দাঁড়াব তাও উপায় নেই, পেছন থেকে তাড়া দিচ্ছে। এই গরমে কাজ ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই। গরম থেকে যে কবে মুক্তি পাব ঈশ্বরই জানেন!

;

গরমে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় চাষি



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, যশোর
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চলমান তাপপ্রবাহে সবজি জাতীয় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা। গরমে আম, কাঁঠাল, লিচু ও ড্রাগন ফলের ফুল-ফল ঝরে যাচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে তাপে পুড়ছে যশোর জেলার মানুষ। বৈশাখের শুরু থেকে টানা তাপ প্রবাহ চলছে।

কৃষি অফিসের তথ্য মতে, আরও চারদিন এ অবস্থা বিরাজ করতে পারে। তীব্র তাপের কারণে সবজির উৎপাদন কমে যেতে পারে। পানির অভাবে গাছের ফল-ফুল শুকিয়ে যেতে পারে।

কৃষকরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে তাপমাত্রায় লতা জাতীয় সবজি নেতিয়ে পড়ছে। অনেক গাছ শুকয়ে যাচ্ছে। ফল ধরার আগেই ঝরে যাচ্ছে ফুল।

সরেজমিনে দেখা যায়, যশোর জেলার লেবুতলা ইউনিয়নের মাঠে উচ্ছে, পটল গাছ লাল বর্ণের হয়ে গেছে। অনেক গাছ দুমড়ে গেছে। ঘন ঘন সবজি ক্ষেতে সেচ দিয়েও পানি ধরে রাখতে পারছেন না কৃষক। আম এবং লিচুর গুটিও ঝরে পড়ছে।

যশোর আবহাওয়া অফিস জানায়, জেলায় ২০ এপ্রিল রেকর্ড তাপ ছিল ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

যশোর কৃষি অধিদফতরের তথ্য মতে, যশোর জেলায় সবজি চাষ হয়েছে ১১ হাজার ৮'শ হেক্টর জমিতে। সবজি চাষের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে। এদিকে যশোরে মোট ফলের চাষ হয়েছে ১৩ হাজার ৩'শ ৩০ হেক্টর। এর মধ্যে আম চাষ হচ্ছে ৩ হাজার ৯'শ ২৩ হেক্টর, লিচুর চাষ ৬'শ ২৫ হেক্টর, পেয়ারা ৯'শ ৯৯ হেক্টর, কাঁঠাল ৭'শ ৫০ হেক্টর ও ড্রাগনের চাষ হয়েছে ২'শ ৭ হেক্টর জমিতে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকারের ফল চাষ হচ্ছে ৬ হাজার ৮'শ ২৬ হেক্টর জমিতে।

বীরনারায়ণপুর গ্রামের কৃষক ইমন হোসেন জানান, এই তাপে সবজি হবে না। কয়েক দিন ধরে দেখছি তাপের কারণে উচ্ছে গাছ নেতিয়ে গেছে। মাঠের অনেক গাছ লাল হয়ে যাচ্ছে।

বাঘারপাড়া উপজেলার কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, এ গরমে জমিতে পানি দেওয়ার পরের দিন শুকিয়ে যাচ্ছে। এভাবে চললে পানি দিয়ে পারা যাবে না। মাঠে কাজও করা যাচ্ছে না। দুপুরে উচ্ছে গাছ মনে হচ্ছে সব মরে গেছে।

সিতারামপুর গ্রামের ফল চাষি আব্দুস সাত্তার জানান, দেড় বিঘা জমিতে লিচুর চাষ রয়েছে। এ বছর মোটামুটি ভালোই ফুল ও ফল দেখা যায়। কিন্তু কয়েক দিন ধরে দেখছি লিচু ঝরে যাচ্ছে। কয়েকবার স্প্রে করলেও ঝরে পড়া বন্ধ হচ্ছে না। এ তাপে কোন ফল গাছে থাকবে না। আম ও কাঁঠালও ঝরে পড়া শুরু করেছে।

যশোর কৃষি অধিদফতরের উপপরিচালক ড. সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, সাধারণত অতিরিক্ত তাপে মাঠিতে পানির অভাব দেখা দেয়। বর্তমানে যশোর জেলায় যে পরিমাণ তাপ তাতে লতা জাতীয় সবজি মুচড়ে যাচ্ছে। এভাবে তাপপ্রবাহ চলতে থাকলে সবজি এবং ফল জাতীয় ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই গরমে কৃষকের করণীয় ঘন ঘন সেচ দেওয়া এবং জমিতে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা। ফল জাতীয় গাছগুলোতে খড় বা আবর্জনা দিয়ে মালচিংয়ের ব্যবস্থা করে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা।

;

প্রথমবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী শিল্প উৎসব



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪. কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রথমবারের মতো ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী শিল্প উৎসব। আগামী ২৬ ও ২৭ এপ্রিল রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে সুন্দরম ও আইআইডি'র সহযোগিতায় যৌথভাবে এই উৎসবের আয়োজন করছে ঢাকা থিয়েটার ও ব্রিটিশ কাউন্সিল।

রোববার (২১ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানায় উৎসবের আয়োজকরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী শিল্প উৎসবের উৎসব পরিচালক নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, 'সকলের সাথে, সকল মিলে মানবিক বিশ্ব গড়বো' স্লোগান নিয়ে আগামী ২৬ ও ২৭ এপ্রিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী শিল্প উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে৷ দু’দিনব্যাপী এই উৎসবে বাংলাদেশের ৮ বিভাগের ৯টি নাটক, কলকাতার পশ্চিমবঙ্গের দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড- এ জার্নিসহ সর্বমোট ১০টি নাটকের প্রদর্শনী করা হবে। এছাড়া অদম্য প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, প্রতিবন্ধীদের নির্মিত শিল্প সমাহার, সেমিনারও থাকবে।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ এক যুগের প্রতিবন্ধী নাট্য ও শিল্পচর্চার নিরলস কাজ করার অভিজ্ঞতায় আজ ঢাকা থিয়েটার ও ব্রিটিশ কাউন্সিল এই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে৷ এই সুদীর্ঘ কঠিন ও পরিশ্রমী যাত্রায় দেশের ৮ বিভাগে জন্ম নিয়েছে প্রতিবন্ধী শিল্প সংগঠন সুন্দরম। যোগ দিয়েছে আই আই ডি। সব মিলে একটি মহাযজ্ঞের আয়োজন করছি আমরা।

তিনি আরো জানান, দুই দিনব্যাপী এই উৎসব প্রতিদিন সকাল ১১টায় শুরু হয়ে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলমান থাকবে। ২৬ এপ্রিল সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এছাড়া ২৭ এপ্রিল রাত ৮টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নাহিদ ইজাহার খান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সচিব খলিল আহমেদ।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- ব্রিটিশ কাউন্সিলের ডিরেক্টর প্রোগ্রামস ডেভিড নক্স, আর্টস প্রোগ্রাম ম্যানেজার ও আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী শিল্প উৎসবের উৎসব কমিটির কো-পরিচালক সৌরদীপ দাশগুপ্ত, আইআইডি এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী সাঈদ আহমেদ, আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী শিল্প উৎসবের উৎসব কমিটির সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ।

;