‘অভিশ্রুতি-বৃষ্টি’ জটিলতায় আটকে গেল লাশ হস্তান্তর

  • স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
  • |
  • Font increase
  • Font Decrease

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বেইলি রোডে গ্রিন কোজি কটেজ নামের বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নারী সাংবাদিক গোপনে ধর্মান্তরিত হন। পারিবারিকভাবে ইসলাম ধর্মের অনুসারী হলেও ঢাকায় এসে সনাতন ধর্মাবলম্বী হয়ে যান। বাবা-মায়ের বড় মেয়ে বৃষ্টি খাতুন হয়ে যান অভিশ্রুতি শাস্ত্রী। আর এতেই মৃত্যুর পর নাম ও ধর্মীয় পরিচয়ের জটিলতায় আটকে আছে মরদেহ হস্তান্তর।

এমন পরিস্থিতিতে লাশ হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত জানতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সবুজ শেখের তিন মেয়ের মধ্যে সবার বড় ছিলেন বৃষ্টি খাতুন। তিনি ইডেন মহিলা কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। একটা সময়ে ইডেন ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরবর্তীতে অনলাইন পত্রিকা দ্য রিপোর্টের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার হিসেবে কাজ করতেন। ১ মার্চ অপর একটি প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল।

শুক্রবার দুপুরে আগুনে পুড়ে মেয়ের নিহতের খবর পেয়ে লাশ নিতে ঢাকায় আসেন নারী সাংবাদিক বৃষ্টি ওরফে অভিশ্রুতির বাবা সবুজ শেখ। কিন্তু হাসপাতালে সহকর্মীদের শনাক্ত করা নাম ও বাবা সবুজ শেখের দাবি করা নামের মিল না থাকায় শুরু হয় জটিলতা।

বিজ্ঞাপন

বার্ন ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, রমনা কালী মন্দিরের পুরোহিত লাশের দাবি করেন। তিনি জানান, ৮ মাস ধরে রমনা কালী মন্দিরে হিন্দু ধর্মের অনুসারী হিসেবে যাতায়াত ও প্রার্থনা করতেন অভিশ্রুতি। এমন কী মন্দিরে নিজেকে সনাতন ধর্মের পরিচয় দিয়ে অভিশ্রুতি জানিয়েছেন তার পরিবার ভারতে বানারাস থাকেন।

ফলে নিজের মেয়ের নাম বৃষ্টি জানিয়ে লাশ নিতে চাইলে আটকে দেয় মন্দির কর্তৃপক্ষ। যদিও বাবা সবুজ দাবি করেন, তার মেয়ের নাম বৃষ্টি, যার প্রমাণ তার শিক্ষাসনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রে রয়েছে।

লাশ হস্তান্তর না হলেও ইতোমধ্যে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট মর্গ থেকে ডেড সার্টিফিকেট তৈরি করা হয়েছে, যেখানে নিহত সাংবাদিকের নাম বৃষ্টি খাতুন উল্লেখ করা হয়েছে। বাবার নাম লেখা হয়েছে সবুজ শেখ। ঠিকানা কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা।

ডেড সার্টিফিকেট তৈরি হলেও লাশ হস্তান্তর না হওয়ার বিষয় জানতে চাইলে রমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমাদের কিছুই আর করার নেই। আমরা আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখন আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন লাশ কার কাছে যাবে!

সবুজ শেখ ছাড়া আর কেউ লাশের দাবি করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাবা পরিচয়ে কুষ্টিয়ার সবুজ শেখ লাশ নিতে চেয়েছেন। আর রমনা কালি মন্দির কর্তৃপক্ষও লাশের দাবি করেছে। তাই, এই সিদ্ধান্ত এখন আদালতের মাধ্যমে নিতে হবে। কেউ যদি লাশ নিতে চায়, তাহলে আদালতে আবেদন করতে হবে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ নামের ভবনটিতে লাগা আগুনে এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এ পর্যন্ত ৪৩ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুটি লাশের দাবি করেছেন চারজন। তাই, তাদের ডিএনএ টেস্ট করা হবে। আর নারী সাংবাদিকের লাশ নামের জটিলতায় আটকে আছে।