দুর্যোগপ্রবণ এলাকার ২ লাখ মানুষ পাবে সুপেয় খাবার পানি

মানজারুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, খুলনা
২৫ উপজেলার মানুষের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করছে সরকার,  ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

২৫ উপজেলার মানুষের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করছে সরকার, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

খুলনা বিভাগের দুর্যোগপ্রবণ এলাকার ২ লাখ মানুষ পাবে নিরাপদ সুপেয় খাবার পানি। ২০২০ সালের মধ্যে বিভাগের ২৫ উপজেলায় বসবাসকারীদের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করছে সরকার। এসব এলাকার লবণাক্ততা ও আর্সেনিক মুক্ত এবং দুর্যোগ সহনশীল সুপেয় পানির জন্য ইতিমধ্যেই কয়েকটি প্রকল্পের কাজ চলছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের সূত্রমতে, দুর্যোগ প্রবণ অঞ্চলে সুপেয় খাবার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায়ই ভেঙে পড়ে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। খুলনার বিভাগের ২৫টি উপজেলায় খাবার পানি পৌঁছানোর জন্য গ্রহণ করা কয়েকটি প্রকল্পের কাজ যা আগামী বছর জুনে শেষ হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ৪৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে আরো জানা যায়, ২০০৯ সালের ২৫ মে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ আইলায় খুলনার বিভাগের অন্তর্ভুক্ত সাতক্ষীরার জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি, তালা, খুলনা জেলার কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, বাগেরহাট জেলার মংলা, রামপাল, শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জ উপজেলায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দেয়। এছাড়া বৃহত্তর খুলনার অন্যান্য উপজেলায় আর্সেনিক ও লবনাক্ততার কারণে বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দেয়। বিশেষ করে শ্যামনগর, কয়রা, দাকোপ ও মংলার প্রত্যন্ত এলাকায় মানুষ বিশুদ্ধ পানির সংকটের ফলে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে রাখে। সেখানেও অনেক ক্ষেত্রে শ্যাওলাসহ জীবাণু দেখা দেয়। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছিলো এসব এলাকার মানুষ। অস্থায়ীভাবে কিছু সমস্যার সমাধান হলেও কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। 

এ সংকট নিরসনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্প গ্রহণ করে। ২০১৭ সালের জুলাইতে নেওয়া প্রকল্প এ বছরের জুনে শেষ করার কথা থাকলেও সার্বিক বিবেচনা করে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত সময় বর্ধিত করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় ৬৬৪ টি গভীর নলকূপ, ৫টি উৎপাদক নলকূপ, ১৪ কিলোমিটার পাইপলাইন, ১২৫ টি পিএসএফ মেরামত, ৫০ সোলার সিস্টেম পন্ড স্যান্ড ফিল্টার ও ৫ হাজার ২০টি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংক স্থাপন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৮৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এস এম ইসমাইল হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর. কম-কে বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা কারণে বিশুদ্ধ সুপেয় পানির সংকট দেখা দেয়। তবে এবার ২৫টি উপজেলায় এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষে প্রকল্পের কাজ চলছে। উপকূলের অধিকাংশ এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ফুলতলা উপজেলায় ওভারহেড ট্যাংকার স্থাপন কাজ চলছে। আর্সেনিক প্রবণ ও সুবিধা বঞ্চিত এলাকায় মানুষ বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছে। শুধুমাত্র বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে ফুলতলায় দুটি ও আশাশুনিতে ৩টি উৎপাদক নলকূপ চালু করা সম্ভব হয়নি।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদ পারভেজ বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বিবেচনা করেই প্রকল্পের কাজ চলছে। সুপেয় পানির ব্যবস্থার লক্ষে নলকূপ স্থাপনের জন্য নির্দিষ্ট সাইট ম্যাপিং, উপকারভোগী নির্বাচন এবং কমিউনিটি ব্যবস্থাপনা কাঠামো গঠন করা হচ্ছে। এছাড়া বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, পুকুরভিত্তিক পানি শোধনাগার নির্মাণ, আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসনসহ আরো অনেকগুলো প্রকল্পের কাজ চলছে। খুলনা জেলার মধ্যে পাইকগাছা, রূপসা, ডুমুরিয়া ও তেরখাদায় এ প্রকল্পের কাজ চলছে। আগামী বছর জুন থেকেই এ প্রকল্পের উপকারভোগীরা বিশুদ্ধ সুপেয় খাবার পানি পাবে।

আপনার মতামত লিখুন :