১০ বছর ধরে নারীদের ব্যবস্থাপনায় দুর্গোৎসব

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ময়মনসিংহ
নারীদের ব্যবস্থাপনায় দুর্গোৎসব, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

নারীদের ব্যবস্থাপনায় দুর্গোৎসব, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ময়মনসিংহ নগরে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় রয়েছে ৭৮টি মণ্ডপ। এর মধ্যে ব্যতিক্রম শিববাড়ী মন্দির। কারণ এখানে এ পূজার উদ্যোগ, আয়োজন এবং তা বাস্তবায়ন করেন নারীরা। কেনাকাটা থেকে শুরু করে অর্থ সংগ্রহ, আপ্যায়ন ব্যবস্থা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, মঞ্চ সাজানো, প্রসাদ বিতরণ, প্রচারণাসহ সব ব্যবস্থাপনাতেই থাকেন নারীরা।

সক্রিয়ভাবে কোনো পুরুষের অংশগ্রহণ ছাড়া শুধু নারীদের মাধ্যমে বছরের পর এমন আয়োজনে পুরো নগরেই সনাতন ধর্মাবলম্বী, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে সৃষ্টি হয় এক ভিন্ন আমেজ ও উৎসাহ। পূজার সময় এ মন্দিরে ঢল নামে সব বয়সী নারীর। তাতে পরিণত হয় এক মধুর মিলনমেলায়।

ব্যতিক্রমী এই আয়োজনের শুরু ২০০৯ সালে। সেই থেকে প্রতিবছরই এভাবে পূজা আয়োজন করে আসছে 'নারীশক্তি' নামের একটি সংগঠন। এবারের আয়োজনটি দশমবারের মতো।

এটি সফল করতে বিভিন্ন উপকমিটি কাজ করছে মূল কমিটির পাশাপাশি। এই কমিটি ও উপকমিটিতে যারা আছেন তাদের সবাই নারী। সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী সুমিতা নাহা। নারীদের মধ্য থেকেই দুর্গোৎসব উদযাপন পরিষদ নামে একটি কমিটি গঠন করে পূজা উদযাপনের বিভিন্ন দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়। পূজা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষে তাদের আবার কয়েকটি উপকমিটি গঠন করে দেওয়া আছে। তবে প্রথম থেকে যেভাবে দায়িত্ব বণ্টন করা আছে, এখন পর্যন্ত সেই কমিটির অধীনেই পূজা পরিচালিত হয়ে আসছে।

কমিটির সার্বিক কার্যক্রম দেখভাল করার জন্য একটি উপদেষ্টা কমিটিও রয়েছে। প্রথম আয়োজনে ১৩৫ জন নারী সংগঠিত হয়ে এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের উদ্যোগ নেন। তখন নগরের সর্বস্তরের মানুষ তাদের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। পূজা উদযাপনে সব সদস্যকে দৈনিক ৫ টাকা হারে চাঁদা দিতে হয়। এই টাকা দিয়েই তারা যাবতীয় ব্যয়ভার মেটান। তারা অন্য কোথাও চাঁদার জন্য হাত পাতেন না।

চাঁদার অর্থ দিয়ে প্রতিবছরই এই নারীরা একই রকমের শাড়ি কিনেন। অষ্টমী পূজা থেকে বিজয়া দশমীর বিসর্জন পর্যন্ত সবাই এই এক রকমের শাড়ি পরে পূজায় অংশ নেন। সিঁদুর খেলার দৃশ্য তাদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয়। বিসর্জনেও তারা ব্রহ্মপুত্র নদে দল বেধে প্রতিমা বিসর্জন দিতে যান।

পূজা উদযাপন ছাড়াও এই নারীরা জনকল্যাণমূলক ও সমাজসেবায় স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, বিনামূল্যে রক্তদান, গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, বন্যাদুর্গতদের সহায়তা, বাল্যবিবাহ বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সারা বছরই কাজ করে যাচ্ছেন এই নারীরা।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে একটি স্মরণিকাও প্রকাশিত হয় প্রতিবছর। আর তাতে বাণী দিয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাষ্ট্র ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।

আয়োজকরা জানান, এখন পর্যন্ত তাদের সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৫ জনে। তাঁদের সবাই ময়মনসিংহ নগরের বাসিন্দা নন। ভারতেরও কয়েকজন নারী রয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন প্রবাসী বাঙালি নারী রয়েছেন। পূজা উপলক্ষে তারা দেশে এসে এই মিলনমেলায় যোগ দেন।

এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন প্রসঙ্গে শিববাড়ী মন্দিরের দুর্গোৎসব উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুচিত্রা সেন জানান, দুর্গাপূজায় মণ্ডপে সব আয়োজনের নেপথ্যে থেকে নারীরাই যাবতীয় কাজ সম্পাদন করেন। তারা নেপথ্যের এই কাজকে প্রত্যক্ষভাবে সবার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :