খণ্ডিত মরদেহের সঙ্গে নারীর পোশাক, কৌশল নাকি প্রতিশোধ?

উবায়দুল হক,স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম,ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সঙ্গে মেয়েদের জামাগুলো উদ্ধার হয়, ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সঙ্গে মেয়েদের জামাগুলো উদ্ধার হয়, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গত দুই দিনে ময়মনসিংহ ও কুড়িগ্রাম থেকে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার একটি ডোবা থেকে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত ব্যক্তির দেহ বিচ্ছিন্ন হাত, একটি পা ও মাথা এবং আগের দিন সোমবার (২১ অক্টোবর) কুড়িগ্রাম সদরের বেলগাছা ইউনিয়নের পশ্চিম কল্যাণ এলাকার একটি পুকুর পাড় থেকে অন্য আরেকটি পা উদ্ধার করে পুলিশ।

এদিকে, সোমবার ময়মনসিংহ নগরের পাটগুদাম এলাকার শম্ভুগঞ্জ ব্রিজের নিচ থেকে পরিত্যক্ত একটি লাগেজ থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির হাত-পা-মাথা বিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

কাছাকাছি সময়ে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সবগুলো খণ্ডাংশ একই পলিথিন ও কালো সুতা দিয়ে প্যাঁচানো থাকায় পুলিশের ধারণা দুই জায়গায় পাওয়া মরদেহের অংশগুলো একই ব্যক্তির।

কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম বলেন, ‘ময়মনসিংহে লাগেজের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির দেহাংশের সঙ্গে কুড়িগ্রামে উদ্ধার হওয়া অঙ্গগুলোর যোগসূত্র রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সেগুলো মিলিয়ে তার পরিচয় জানারও চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিচয় পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।’

এদিকে, এসব খণ্ডিত দেহের সঙ্গে উদ্ধার হয়েছে নারীর ব্যবহৃত জিনিসপত্র। ময়মনসিংহে উদ্ধার হওয়া লাগেজে ছিল নারীর পোশাক ও কুড়িগ্রামে খণ্ডিত অংশের সঙ্গে পাওয়া গেছে একটি লুঙ্গি, গেঞ্জি ও নারীদের ব্যবহৃত হ্যান্ডব্যাগ। নারী সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রতিশোধমূলক এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকার বিষয়টিও মাথায় রাখছে পুলিশ।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন জানান, কোনো নারী সংক্রান্ত ঘটনায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে কিনা কিংবা হত্যাকাণ্ডে পুলিশের নজর ভিন্ন দিকে নিতে হত্যাকারীরা মরদেহটিকে খণ্ডিত করে পৃথক স্থানে ফেলার পাশাপাশি নারীর পোশাক-ব্যাগ ব্যবহার করতে পারে। তাই সব ধরনের সম্ভাবনা যাচাই করে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :