বরিশালে হিজড়াদের মানবেতর জীবনযাপন

জহির রায়হান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, বরিশাল
বরিশালের হিজড়া সম্প্রদায়, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বরিশালের হিজড়া সম্প্রদায়, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সাধারণত হিজড়াদের প্রতি মানুষের অবহেলা ও বৈষম্য লক্ষণীয়। তাই বৈষম্য দূর করতে ও সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ২০১৩ সালের নভেম্বরে হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় সরকার। ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি হিজড়াদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এরপর থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিজড়া সম্প্রদায়ের জন্য আবাসন ব্যবস্থা করা হলেও অবহেলিত রয়েছেন বরিশালের হিজড়ারা। ফলে তারা এখনো কীর্তনখোলা নদী সংলগ্ন নগরীর রসুলপুর কলোনিসহ বিভিন্ন বস্তিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সোহাগী হিজড়া জানান, হিজড়া বলে তাদের সব থেকেও কিছুই নেই। পরিবারের কাছ থেকে এখন আলাদা বসবাস করছেন। কিন্তু বাসা ভাড়া নিতে গেলে হিজড়া বলে তাড়িয়ে দেন বাড়ির মালিকরা। পরে বাধ্য হয়ে বস্তিতেই থাকতে হচ্ছে তাদের।

সালমা হিজড়া জানান, সরকার যদি তাদের জন্য থাকা-খাওয়ার যথাযথ ব্যবস্থা করে তাহলে মানুষের কাছে হাত না পেতে সামাজিকভাবে কাজ করবেন তারা।

তিশা হিজড়া জানান, মানুষের বাড়িতে নেচে-গেয়ে এবং হাট-বাজার থেকে চাঁদা তুলে তাদের চলতে হচ্ছে। এসব করে দিনে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পান তারা। তবে মাঝে মাঝে সেটাও হয় না। ফলে অনেক কষ্টে তাদের জীবন-যাপন করতে হয়। কারণ গুরুমাতার নির্দেশে তারা এখন মানুষের কাছ থেকে জোর করে টাকা নেন না।

বরিশাল হিজড়াদের গুরুমাতা কবরী হিজড়া বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি পাওয়ার পর বরিশালে আমাদের কোনো স্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা করা হয়নি। জেলা প্রশাসক আসে আর যায়। কিন্তু আমাদের কথা কেউ ভাবছে না। শুধুই বলে ঘরবাড়ি বানিয়ে দেবে। কিন্তু কবে দেবে- তা কেউই বলে না।’

বরিশালের হিজড়া সম্প্রদায়

তিনি আরও বলেন, ‘সবার মতো আমাদেরও বাঁচতে ইচ্ছে করে, ভালো জায়গায় থাকতে ও ভালো খাবার খেতে ইচ্ছা করে। হিজড়া হয়েছি বলে সমাজে এতটাই তুচ্ছ হয়ে গেলাম? আমরা সরকারে কাছে শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ চাই। পাশাপাশি অশিক্ষিতদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে হবে।’

বরিশাল সমাজসেবা অফিসার জাবির আহমেদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘হিজড়া সম্প্রদায়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মানোন্নয়নে বৃত্তিমূলক দর্জিবিজ্ঞান, কম্পিউটার, পার্লারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নগরীর ৪৭ জন হিজড়াকে তিনমাস পর পর ৬০০ টাকা করে মোট এক হাজার ৮০০ টাকার বিশেষ বয়স্ক ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া তাদের স্থায়ীভাবে আবাসন ব্যবস্থা করে দিতে কাজ করছে জেলা প্রশাসন।’

বরিশালের জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘সরকার হিজড়াদের পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। হিজড়াদের অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে মূল স্রোতধারায় আনতে সমাজসেবার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।’

বরিশালের হিজড়া সম্প্রদায়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভূমিহীনদের ভূমি, গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করার সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলেও জানান তিনি।

জানা গেছে, বরিশালে বর্তমানে ৮৪ জন হিজড়া আছেন। এর মধ্যে ৬১ জনকে মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়েছে এবং বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :