তথ্য অধিকার সুশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বক্তৃতা দিচ্ছেন ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বক্তৃতা দিচ্ছেন ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া

  • Font increase
  • Font Decrease

রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হচ্ছে জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে সুশাসন রক্ষা করা। বিশ্বব্যাপী তথ্য অধিকার সুশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, কারণ এগুলো সরকারের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। শুধু তাই নয় এর মাধ্যমে নাগরিকরা ক্ষমতায়িত হয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দুর্নীতি কমে বলে মন্তব্য করেছেন ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া।

মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আয়োজিত তথ্য অধিকার কনভেনশন ২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ নিঃসন্দেহে একটি উত্তম আইন। জনগণের ক্ষমতায়নে মাইলফলক। আইনটির অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, দেশের প্রচলিত অন্য সব আইনে কর্তৃপক্ষ জনগণের ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকে; কিন্তু এ আইনে জনগণ কর্তৃপক্ষের ওপর ক্ষমতা আরোপ করে। এটি একটি শক্তিশালী নাগরিক বান্ধব আইন। প্রকৃতই জনগণের আইন। সর্বজনীন আইন। শ্রেণিগত ভেদাভেদ-নির্বিশেষে সর্বস্তরের নাগরিককে রাষ্ট্রের তথ্য পাওয়ার অধিকার দেয়। তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনে পাশ হয়েছিল । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আইনটিকে ‘নবযুগের সূচনাকারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন ।

তিনি বলেন, আমি মনে করি দেশে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সেবা গ্রহণ ও সেবা প্রাপ্তি বাড়াতে হলে এই আইনের কোন বিকল্প নেই । তাই সব পক্ষ থেকেই জোড়ালো ভাবে এই আইন প্রয়োগে উদ্যোগ নিতে হবে । বিশেষ করে জনগণকে আরও অনেক সচেতন হতে হবে নিজেদের অধিকার আদায়ে । তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণে সরকারি প্রচেষ্টা বা উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

তিনি আরও বলেন, অবাধ তথ্য প্রবাহের জন্য প্রয়োজন ইন্টারনেটের ব্যাপক বিস্তৃতি ও সহজলভ্যতা। এ লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নকল্পে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্প সারা দেশে প্রায় ৪৫০০+ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার গড়ে তুলেছে। জনগণ সচেতন হয়ে যখন তথ্য জানতে চাইবে তখন এই আইন আরও সফল হবে।

এসময়, শুধু ঢাকা শহরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে সভা সেমিনার না করে জনসাধারণকে তথ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সভা সেমিনার করার জন্য সংগঠনগুলোকে আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহিন আনম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ডিএফআইডি এর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ জুডিথ হারবার্টসন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মারসি মিয়াং টেমবন, প্রধান তথ্য কমিশনার মর্তুজা আহমেদ প্রমুখ।