পুষ্টি ঘাটতি পূরণে স্কুল টিফিনে ডিম অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ

নিউজ ডেস্ক
চট্টগ্রামে পোল্ট্রি সেক্টরে সুশাসন প্রকল্পের উদ্যোগে অ্যাডভোকেসি সভা

চট্টগ্রামে পোল্ট্রি সেক্টরে সুশাসন প্রকল্পের উদ্যোগে অ্যাডভোকেসি সভা

  • Font increase
  • Font Decrease

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্কুল কর্তৃপক্ষ বা শিক্ষার্থীদের পরিবারের নিজস্ব উদ্যোগে টিফিন দেওয়া হলেও সেখানে পুষ্টির ঘাটতি পূরণে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান ডিম অনেক সময়ই থাকে না। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশের দোকান থেকে জাঙ্ক ফুড, ফাস্ট ফুড গ্রহণ করে। এসব খাদ্য স্বাস্থ্যসম্মতভাবে উৎপাদিত হয়েছে কিনা সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। ওইসব খাদ্যে পুষ্টি ঘাটতি কতটুকু পূরণ হয় তাও নিশ্চিত নয়।

এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী অপুষ্টিতে ভুগছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় অমনযোগী এবং তাদের মেধা বিকাশ ও শরীর গঠন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিফিনে ডিম অন্তর্ভুক্ত করা হলে শিক্ষার্থীদের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে।

একই সাথে সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন কাঁচাবাজারগুলির স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ অবকাঠামো উন্নয়ন করা সম্ভব না হলে বাজার থেকে কেনা সামগ্রী নিরাপদ হবে না। বাজারগুলিতে যত্রতত্র ময়লা ফেলা, বর্জ্য অপসারণের কার্যকর সুবিধা না থাকায় বাজারগুলি জীবাণু সংক্রমণের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে। আবার অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বাজারগুলি ভোক্তা ও নারীবান্ধব নয়। তাই বাজারগুলিতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি ভোক্তাবান্ধব ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন অ্যাডভোকেসি সভার বক্তারা।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) বন্দরনগরী চট্টগ্রামের টাইগারপাসস্থ সিটি কর্পোরেশন কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত ক্যাব’র পোল্ট্রি সেক্টরে সুশাসন প্রকল্পের উদ্যোগে সিটি করপোরেশন, প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ও ভোক্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত অ্যাডভোকেসি সভায় উপরোক্ত সুপারিশ করা হয়।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক জসিমের সভাপতিত্বে অ্যাডভোকেসি সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।


বক্তব্য রাখেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, নাহার অ্যাগ্রোর মহাব্যবস্থাপক ও প্রাণিসম্পদের সাবেক কর্মকর্তা ডা. আবদুল হাই, থানা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরমিন আক্তার, ডা. জাকিয়া খাতুন, ক্যাব দক্ষিণ জেলা সভাপতি আলহাজ আবদুল মান্নান, ক্যাব মহানগরের যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, ক্যাব পাঁচলাইশের সেলিম জাহাঙ্গীর, সেলিম সাজ্জাদ, ক্যাব নেতা জানে আলম, নবুয়ত আরা সিদ্দীকি, সালাহউদ্দীন আহমদ, প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান, এমদাদুল করিম সৈকত, অধ্যক্ষ মনিরুজ্জমান, নার্গিস আকতার নীরা, ক্ষুদ্র খামারী মোসলেম উদ্দীন, ফিড বিক্রেতা মোহাম্মদ যুবাইর, চিটাগাং বার্ড ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের মীর রাজওয়ান হোসেন ও ক্যাব চট্টগ্রামের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর তাজমুন নাহার হামিদ, শম্পা কে নাহার, জেড এইচ শিহাব প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে টিফিনে ডিম সরবরাহ করে শিক্ষার্থীদের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে উদ্যোগ নেবার কথা জানান। সুষম খাদ্য ও পুষ্টির ঘাটতি পূরণে অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মাঝে সচেতনতা ও উদ্বুদ্ধকরন সভা আয়োজন, ডিম সম্পর্কে বিভ্রান্তি দূর করার ওপর গুরত্ব আরোপ করেন তিনি।

এছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন কাঁচাবাজারগুলির অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত, বাজারগুলিতে পোল্ট্রি কর্নার স্থাপন, গবাদি পশুর পাশাপাশি পোল্ট্রির জন্য পৃথক কসাইখানা স্থাপনের বিষয়ে উদ্যোগ নেবার কথা জানান চট্টগ্রামের মেয়র।

সভায় বলা হয় বায়ো সিকিউরিটি সমৃদ্ধ (কন্ট্রোল শেড) খামারে ব্রয়লার মুরগি উৎপাদন করলে অ্যান্টিবায়োটিকের নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। আর যত্রতত্র, অপরিষ্কার, অপরিছন্ন স্থানে মুরগি জবাই করে ভোক্তার কাছে মুরগি সরবরাহ করার কারণে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ ব্রয়লার মুরগি ঝুঁকির মধ্যে আছে। তাই স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ ব্রয়লার মুরগি পেতে হলে ফ্রোজেন (প্রক্রিয়াজাতকৃত) মুরগির বিকল্প নেই। আবার সুপারশপগুলিও তাদের ভেন্ডরদের মাধ্যমে যে সমস্ত উৎস থেকে মুরগি ক্রয় করে থাকেন, সেখানেও অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত কিনা তা জানা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ভোক্তাদের কাছে নিরাপদ ব্রয়লার মুরগির মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে উৎসস্থল মুরগির খামার থেকে গৃহিণীর রান্নায় পরিবেশন পর্যন্ত নিরাপদ খাদ্যের অনুসরণীয় নিয়মাবলী কঠোরভাবে মেনে চলার বিকল্প নেই। তাই সুপার শপগুলিতে বায়োসিকিউরিটিযুক্ত, প্রাণিসম্পদ অফিসের সনদপ্রাপ্ত, যথাযথ মান পরীক্ষা নিশ্চিত করে বাজারজাতকৃত মুরগি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ড্রেসড (প্রক্রিয়াজাতকৃত) ব্রয়লার মুরগি বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :