উদ্বোধনের আগেই নতুন ভবন চারবার মেরামত!

রাকিবুল ইসলাম রাকিব, উপজেলা করেসপন্ডেট, বার্তা২৪.কম, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)
ডেকুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন, ছবি: বার্তা২৪.কম

ডেকুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডেকুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভবন নির্মাণে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করার কারণে নির্মাণাধীন ওই ভবনটি ইতিমধ্যে চারবার মেরামত করতে হয়েছে। তারপরও জোড়াতালি দিয়ে কোনো মতে নির্মাণ কাজ শেষ করে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ভবন উদ্বোধনের আগেই নির্মাণ কাজে এমন অনিয়ম উঠে আসায় ক্ষুব্ধ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকরাও।

নতুন ভবনে আবারও চলছে খোঁড়াখুঁড়ি! ভেঙে গেছে দরজা-জানালার হুক, উঠে গেছে পলেস্তারা, ফোরের নেট সিমেন্ট ফিনিশিং আর ছাদের জলছাদে ভাঙন দেখা দিয়েছে। চারবার মেরামতের পরেও নতুন ভবনে চলছে জোড়াতালির কাজ! শুধু ভবন নয়, ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের নামফলকও মুছে গেছে!

উপজেলা এলজিইডি ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এ বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের সঙ্গে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের জন্য নিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ময়মনসিংহ সদরের মেসার্স মঞ্জু এন্টারপ্রাইজ। ভবনটি নির্মাণের জন্য প্রাক্কালিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬৫৮ টাকা। এনবিআইডিজিপিএস প্রকল্পের অর্থায়নে এ নির্মাণ কাজ চলছে।

কক্ষের মেঝেতে কংক্রিটের অংশ উঠে আসছে

সরজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভবনের ভিত্তিপ্রস্তরের নামফলক মুছে গেছে। ভবনের সিঁড়ির বিভিন্ন অংশে পলেস্তারা খসে পড়ছে। দরজা ও জানালায় ব্যবহার করা হয়েছে অত্যন্ত নিম্নমানের রড ও সিট। ভবনের প্রত্যেকটি কক্ষের মেঝেতে কংক্রিটের অংশ উঠে পড়ছে। ছাদের জলছাদ ভেঙে চৌচির। ভবনের দেয়ালের ফাটল দেখা দিয়েছে। দরজা ও জানালার কবজা ও হুক টান দিলেই উঠে আসবে এমন অবস্থা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. অলি উল্লাহ জানান, দ্বিতীয়তলার কক্ষে লাগানো দরজা ভেঙে গেছে। ক্লাসরুমের জানালায় নিম্নমানের সিট আর লোহার দণ্ড ব্যবহার করায় ব্যবহারের আগেই এখন বেহাল অবস্থা। এসব দরজা-জানালা এক বছরও টিকবে না।

পলেস্তারা খসে পড়ছে

বিদ্যালয়ের অভিভাবক গিয়াস উদ্দিন বলেন, 'নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই বিদ্যালয়ের ছাদ একাধিকবার মেরামত করা হয়েছে। ভবনের ছাদে যদি এতো বার মেরামত করা লাগে। এ ছাদের নিচে সন্তানরা নিরাপদ থাকবে কিনা তার নিশ্চয়তা দিতে হবে। নইলে এই ভবনে আমার সন্তানকে পড়তে দিবো না।'

উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, 'আমি ভবনের কাজ দেখেছি, অত্যন্ত জঘন্যতম খারাপ কাজ চলছে। প্রকৌশল বিভাগকে বিষয়টি অবহিতও করেছি।'

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আবু সালেহ মোহাম্মদ ওয়াহেদুল হক সাংবাদিকদের জানান, ভবনটি নির্মাণের সময়ই আজে-বাজে অবস্থা করেছে ঠিকাদার। যে সব স্থানে সমস্যা দেখা গেছে, সেগুলোতে মেরামত চলছে। নতুন ভবনে মেরামত করা হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। এ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কোন শঙ্কা নেই।

আপনার মতামত লিখুন :