রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আজ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা রাজশাহী, ছবি: বার্তা২৪.কম

ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা রাজশাহী, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

টানা পাঁচদিন ধরে রাজশাহীর ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। যার প্রভাবে রাজশাহীতে আজ সকালে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এই মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক কামাল উদ্দিন জানান, গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে রাজশাহীতে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে গত ১৯ ডিসেম্বর রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০ ডিসেম্বর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তিনি আরও জানান, গত ২১ ডিসেম্বর তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি বেড়ে দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তবে সব শেষ ২৫ ডিসেম্বর সকালে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখন পর্যন্ত এটিই মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

কুয়াশার চাদরে ঢাকা, ছবি:বার্তা২৪.কম 

টানা শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে সূর্য উঠলেও তাপ থাকছে না। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে পুরো শহর। হাড় কাঁপানো শীতে কাবু হয়ে পড়ছেন শহরের পথে-ঘাটে থাকা ছিন্নমূল মানুষ। দিন-রাত সমানতালে বইছে হিমালয় ছুঁয়ে আসা ঠাণ্ডা বাতাস। এতে রাতে খোলা জায়গায় থাকা মানুষগুলোর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। শীতের প্রভাবে মানুষের পাশাপাশি এখন কাবু হয়ে পড়ছে পশু-পাখিরাও। এরই মধ্যে রাজশাহী জেলা প্রশাসন কম্বল বিতরণ শুরু করলেও চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন শীতার্ত মানুষরা।

অপরদিকে, শৈতপ্রবাহের কারণে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-জ্বরসহ ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগের প্রকোপ বেড়েছে জেলাজুড়ে। এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছেন আক্রান্ত রোগীরা। ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে বিশেষ টিম।

রামেকের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, চলতি শীতে ঠাণ্ডাজনিত কারণে রামেক হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১২০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এর মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যায় বেশি।

ডা. সাইফুল ফেরদৌস আরও জানান, শীতে রোগীদের কথা বিবেচনা করে রামেক হাসপাতালে ওয়ার্ডগুলোতে রুম হিটারের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি বাইরের ঠাণ্ডা বাতাস প্রতিরোধের জন্য খোলা বারান্দায় পর্দা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিবুলাইজারসহ প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত ওষুধ মজুদ রাখা হয়েছে। শীতজনিত কারণে ভর্তি শিশুদের জন্য শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ বেলাল হোসেনকে প্রধান করে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। তারা শীতজনিত রোগে ভর্তি রোগীদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন।

আপনার মতামত লিখুন :