১০ দিন ধরে ৫ বাড়িতে রহস্যময় অগ্নিকাণ্ড

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
আগুন আতঙ্ক থেকে বাঁচতে নিরাপদ দূরত্বে রাখা হয়েছে আসবাবপত্র, ছবি: বার্তা২৪.কম

আগুন আতঙ্ক থেকে বাঁচতে নিরাপদ দূরত্বে রাখা হয়েছে আসবাবপত্র, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় দশ দিন ধরে পাশাপাশি ৫ বাড়িতে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। অন্তত পৃথকভাবে ১২টি অগ্নিকাণ্ডের রহস্য পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস উদঘাটন করতে না পারায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে আশপাশের গ্রামে। আর এসব ঘটনার সংবাদ যত ছড়িয়ে পড়ছে ততই ঘটনাস্থলে বাড়ছে উৎসুক লোকজনের ভিড়।

জানা গেছে, গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের চেংমারী মধ্যপাড়ায় গত মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) রাতে প্রথম আগুন লাগে দুলাল মিয়ার বাড়ির খড়ের গাদায়। গাদার ভেতর ধোঁয়ার কুণ্ডলী থেকে লাগা আগুন নিয়ে রহস্য শুরু হয়। এরপর একইভাবে লাগা আগুন আরও পাঁচবার নেভাতে হয় দমকল কর্মীদের।

এভাবে গত দশ দিনে একই গ্রামের বকুল, বাবুল, অহেদ ও আহাম্মদ আলীর বাড়ির উঠানে খড়ের গাদায় বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘর, বিছানা ও আলনার কাপড়-চোপড়েও আগুন লাগে অন্তত সাত বার। এসব ঘটনার কূলকিনারা বের না হওয়ায় আতঙ্কিত স্থানীয় পরিবারের লোকজনসহ আশপাশের গ্রামবাসী।

স্থানীয়রা জানান, খড়ের গাদায় আকস্মিকভাবে জ্বলে ওঠা আগুনে তেমন উত্তাপ নেই। হাত দিয়ে আগুন ধরা যায়। আবার সহজেই নিভিয়ে ফেলাও গেছে। যেখানে লোকজন থাকে না সেখানেই আগুন লাগছে। এটার উৎস উদঘাটন করতে না পারায় আতঙ্কে স্থানীয়রা বাড়ি ঘর ছেড়ে খোলা আকাশে নিচে অবস্থান করছে। এখন পর্যন্ত আগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তেমন বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

এদিকে, গত বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক ওহিদুল ইসলাম, সিনিয়র স্টেশন অফিসার খোরশেদ আলম, গঙ্গাচড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার নাসিম রেজা নীলু, সাব অফিসার আইয়ুব আলী গ্যাস ডিডেক্টর মেশিন দিয়ে ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে কোনো ধরনের ধাতব দ্রব্যের সন্ধান পাননি।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষজ্ঞ দলকে সঙ্গে নিয়ে রংপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ফরহাদ হোসেন, গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসলীমা বেগম, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত বিন কুতুব, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান আল সুমন আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এসময় ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার খোঁজখবর সার্বক্ষণিক রাখার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের বিশেষজ্ঞ দলকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে অনুসন্ধান করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :