শিশুপ্রহরে আগুন নেভাতে ব্যস্ত কচিকাঁচারা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
শিশুপ্রহরে আগুন নেভাতে ব্যস্ত কচিকাঁচারা

শিশুপ্রহরে আগুন নেভাতে ব্যস্ত কচিকাঁচারা

  • Font increase
  • Font Decrease

বইমেলা প্রাঙ্গণ থেকে: বইমেলায় চলছে শিশুপ্রহর। সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া শিশুপ্রহরে বাবা-মার সঙ্গে মেলার শিশুচত্বর মাতিয়ে রেখেছেন কচিকাঁচারা। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) শিশু চত্বরের পাশে অবস্থিত ফায়ার সার্ভিসের তত্ত্বাবধানে থ্রিডি ফায়ার সিমুলেশন গেম জোনে শিশুরা শিখছে কিভাবে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

মূলত একটি বড় ডিসপ্লেতে দেখানো হচ্ছে, কয়েলের আগুন থেকে কিভাবে একটি রুমে আগুন লেগে যায়। সেই আগুন নেভানোর জন্য ডিসপ্লের সামনে একটি টেবিলে রাখা আছে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। আগুন লেগে যখন ঘর পুড়ে যাবার উপক্রম ঠিক তখনই টেবিলের ওপরে রাখা সেই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রটির পিন খুলে আগুন বরাবর হর্স পাইপ ধরে রেখে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে শিশুরা। ডিজিটাল প্রোগ্রামের মাধ্যমে গেম খেলতে খেলতে প্রাথমিকভাবে আগুন নেভানোর কৌশল এভাবেই রপ্ত করছে শিশুপ্রহরে কচিকাঁচারা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মেলার ফায়ার সেফটি ও ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটের দায়িত্বে থাকা স্টেশন অফিসার শাহেদুল বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রথম অবস্থায় ছোট থাকে। সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে খুব সহজেই রক্ষা করা যায় নিজেদের। মূলত এই চিন্তা থেকেই ঘরে থাকা শিশু ও নারীদের আমরা অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক স্তরেই যেন নেভানো যায় সেটি শেখাতে থ্রিডি কার রেসিং এর মতো একটি গেমের মাধ্যমে খুব সহজে আগুন নেভানোর প্রশিক্ষণ দিচ্ছি এখানে। শিশুরা এখানে গেম খেলার মাধ্যমে যেভাবে আগুন নেভাবে বাস্তবেও ঠিক সেভাবেই আগুন নেভানো যায়। গেমে অংশগ্রহণ করার আগে শিশু ও নারীদের উদ্দেশ্যে একটি সংক্ষিপ্ত ব্রিফ দিয়ে দেওয়া হয় যাতে সার্বিক বিষয়গুলো বুঝতে তাদের সহজ হয়।

ফায়ার সার্ভিসের তত্ত্বাবধানে শিশুরা শিখছে কিভাবে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা যায়

এদিন শিশু চত্বরে খেলতে খেলতে একজন ক্ষুদে দমকল কর্মী হয়ে উঠতে দেখা গেছে খেলায় অংশগ্রহণ করা শিশুদের। প্রশিক্ষণটি খেলার মত হওয়ায় দলবেঁধে শিশুরা সেখানে এসে ভিড় করছে এবং থ্রিডি ফায়ার সিমুলেশন পর্বটি বেশ উপভোগ করতেও দেখা গেছে।

থ্রিডি ফায়ার সিমুলেশন খেলে বেশ আনন্দ পেয়েছেন আফনান নামে এক শিশু বন্ধু। খেলা শেষে আনন্দ নিয়ে এই ছোট্ট বন্ধু জানায়, এখন আমি বাসায় আগুন লাগলে এই যন্ত্রটির (অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র) মাধ্যমে নেভাতে পারব। আমি আর আগুন ভয় পাই না।

এদিকে শিশুপ্রহর উপলক্ষে সিসিমপুরের আয়োজনে ইকরি ও হালুমের সঙ্গে শিশুদের খেলাধুলার পর্বও উপভোগ করেছে শিশুপ্রহরে আগত কচিকাঁচারা।

বইমেলার শিশুপ্রহর পরিদর্শনে এসেছিলেন সংস্কৃতি-বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, খুব সুন্দর ও গোছানোভাবে এবার বইমেলা অতিবাহিত হচ্ছে। শিশুদের উপযোগী ও মানসম্মত পর্যাপ্ত বই আছে এবারের মেলায়।

বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া শিশুপ্রহর চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। এসময় বইমেলায় শিশু চত্বরে শিশুদের জন্য থাকবে নানা আয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন :