পদ্মায় নৌকাডুবি: নববধূসহ নিখোঁজ ১৭, ২ শিশুর মরদেহ উদ্ধার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
নদীর পাড়ে স্বজনদের ভিড়, ছবি: বার্তা২৪.কম

নদীর পাড়ে স্বজনদের ভিড়, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

 

রাজশাহী নগরীর শ্রীরামপুর এলাকার বিপরীতে পদ্মা নদীতে ৩৫ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

তারা হলো-মরিয়ম খাতুন (৮) ও রোশনি খাতুন (৬)। রোশনি ডাঙেরহাট গ্রামের শামীম ইসলামের মেয়ে। সে কনের মামাতো বোন।

উদ্ধারকৃতদের একজন, ছবি: বার্তা২৪.কম

 

শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৭ জন নিখোঁজ রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৮ জনকে উদ্ধার করার খবর নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

বরসহ উদ্ধার জীবিত ১৭ জনের মধ্যে ১২ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর সাঁতরে তীরে আসা দু’জন জানিয়েছেন- দুই নৌকায় বর ও কনে পক্ষের যাত্রী ছাড়াও স্থানীয় কয়েকজন ছিল। ফলে নিখোঁজের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পদ্মার ওপারে পবা উপজেলার চরখিদিরপুর গ্রামের রুমন আলীর (২৬) সাথে এপারের ডাঙেরহাট গ্রামের সুইটি খাতুনের (২০) বিয়ে হয়। বিয়ের পর সুইটি শ্বশুর বাড়িতে ছিলেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) কনেপক্ষ বরের বাড়ি থেকে নবদম্পতিকে আনতে যায়। সন্ধ্যার কিছুসময় আগে তারা বরের বাড়ি থেকে বের হয়ে দু’টি নৌকায় করে কনের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। নৌকায় দুই পরিবারের অন্তত ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুর রউফ বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর সাঁতরে তীরে আসা ব্যক্তিরা বলছেন- হঠাৎ নৌকা দুটি মাঝারি গতির বাতাসের মুখে পড়ে। মধ্যনদীতে বাতাসে টালমাটাল হয়ে পড়ার একপর্যায়ে মাঝি নৌকার নিয়ন্ত্রণ হারালে তা ডুবে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনা শুনে বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যৌথ অভিযান চালাচ্ছে। আমি নিজেও ঘটনাস্থলে রয়েছি। তবে এখনো দুর্ঘটনাকবলিত নৌকা দু’টির কোনো সন্ধান মেলেনি। আমরা নৌকা ও নিখোঁজদের উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি।’

এদিকে, ঘটনার পর বর রুমন আলী জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হলেও নববধূ সুইটি খাতুন এখনো নিখোঁজ। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে জীবিত ছয়জন হলেন- খাদিমুল ইসলাম (২৩), রতন আলী (২৮) ও তার স্ত্রী বৃষ্টি খাতুন (২২), সুমন আলী (২৮) ও তার স্ত্রী নাসরিন বেগম (২২) এবং মেয়ে সুমনা আক্তার (৬)।

রতন ও তার স্ত্রী বৃষ্টি খাতুন জীবিত উদ্ধার হলেও তাদের মেয়ে মরিয়ম খাতুন (৮) মারা গেছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাবা-মায়ের সঙ্গে তাকে উদ্ধার করা হয়। আর মেয়েকে নিয়ে সাঁতরে উঠেছিলেন আরেক দম্পতি সুমন-নাসরিন। তারা এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে, নৌকাডুবির পর আশপাশের অসংখ্য মানুষ এবং স্বজনরা শ্রীরামপুর এলাকায় নদীপাড়ে ভিড় করেছেন। রয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারাও। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে তল্লাশি শুরু করেছে। বিজিবি সদস্যরাও স্পিডবোট নিয়ে নদীতে ভাসমান মানুষ খুঁজছে। প্রস্তুত রয়েছে অ্যাম্বুলেন্সও।

আপনার মতামত লিখুন :