রাজশাহীতে উপজেলা ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
চাঁদা দাবি করা আতিকুর রহমান আতিক, ছবি: সংগৃহীত

চাঁদা দাবি করা আতিকুর রহমান আতিক, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

‘তিন লাখ টাকা খরচ করে আমি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি। পৌর কমিটিতে স্বাক্ষর করতে আমাকে ৫০ হাজার টাকাতো দিতেই হবে। তা নাহলে পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করব না।’

উপরের কথাগুলো রাজশাহীর দূর্গাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিকের। উপজেলা শাখার অধীনে দূর্গাপুর পৌরসভা শাখা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে খোদ দলীয় নেতাদের কাছে এমন আবদার তার। আতিক জেলা ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিরও সদস্য।

তার বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিতে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেছেন দূর্গাপুর পৌরসভা শাখা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটির সভাপতি শাকিল খান ও রাজু আহমেদ।

সোমবার (৯ মার্চ) সংগঠনের প্যাডে ছাত্রলীগ নেতা শাকিল ও রাজু দীর্ঘ অভিযোগ লিখে তাতে নিজেদের স্বাক্ষরযুক্ত করেছেন এবং তা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্যের কাছে পাঠিয়েছেন। রাতে অভিযোগের অনুলিপি দিয়েছেন দুর্গাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা প্রেসক্লাবে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে দুর্গাপুর পৌর ছাত্রলীগের আংশিক কমিটির সভাপতি শাকিল ও সম্পাদক রাজুর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগ দেয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তারা দাবি করেন- দীর্ঘদিন ধরে আতিকুর চাঁদা দাবি করে আসছেন। না দেওয়ায় কমিটি অনুমোদন করছেন না। এতে অতিষ্ঠ হয়ে তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ‘চাঁদাবাজ’ ছাত্রলীগ নেতা আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর দুর্গাপুর পৌরসভা শাখা ছাত্রলীগের দুই সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এক মাসের মধ্যে তাদেরকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিতে বলা হয়। পরে আংশিক কমিটির সভাপতি-সম্পাদক পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া তালিকা উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাদের কাছে জমা দেন। তবে ছয়মাস পার হয়ে গেলেও কমিটি অনুমোদন দেয়নি উপজেলা ছাত্রলীগ।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করতে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাজেদুর রহমান মিঠু সম্মতি দিলেও সাধারণ সম্পাদক আতিকুর তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। ছাত্রলীগ নেতা আতিক তাদেরকে বলেন, ‘তিন লাখ টাকা খরচ করে আমি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি। পৌর কমিটিতে স্বাক্ষর করতে আমাকে ৫০ হাজার টাকাতো দিতেই হবে। নাহলে কমিটি অনুমোদন করবো না।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্গাপুর উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ কমিটির যে খসড়া তালিকা পৌর শাখা ছাত্রলীগ দিয়েছে, সেখানে বিএনপি-জামায়াতের সমর্থকরা ছিল। তাই অনুমোদন দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’

জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘আমি বিষয়টি এখনও জানি না। অভিযোগের কপিও হাতে পাইনি। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো চাঁদাবাজকে ছাত্রলীগে ঠাঁই দেওয়া হবে না।’

আপনার মতামত লিখুন :