মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে সোনার বাংলা গড়ার আহ্বান

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

২৫ মার্চ বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে ভয়াবহ দিন। ১৯৭১ সালের এ দিনে বাংলাদেশে সংঘটিত হয় বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও নিষ্ঠুরতম গণহত্যাগুলোর একটি। ২৫ মার্চের এই গণহত্যাকে স্মরণ করে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাণীতে তিনি বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাঙালি জাতি দীর্ঘ ২৩ বছর পাকিস্তানি শাসকদের নিপীড়ন এবং বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই করে। ১৯৭০ সালের ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচনে জাতির পিতার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পূর্ব বাংলার ১৬৯ আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন পেয়ে নিরুষ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠি বাঙালিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু তৎকালিন রেসকোর্স ময়দানে স্বাধীনতার ডাক দিয়ে ঘোষণা করেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা।

তিনি আরও বলেন, পকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আলোচনার নামে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। পূর্ব বাংলায় সৈন্য সমাবেশ করে। ২৫ মার্চ সার্চ লাইট এর নামে গণহত্যার আদেশ দিয়ে গোপনে পাকিস্তানে চলে যায় ইয়াহিয়া খান। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সেই কালরাতে অতর্কিত নিরীহ ও নিরস্ত্র বাঙালির উপর হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। মাত্র ৯ মাস পাকিস্তানি বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসরা রাজাকার আলবদর, আল শামস বাহিনীর সদস্যরা সারা দেশে ৩০ লাখ মানুষ হত্যা করে। এত অল্প সময়ে এত মানুষ হত্যা করার নজির পৃথিবীর আর কোথাও নেই। সম্ভ্রমহানি করা জয় ২ লাখ মা বোনের। লাখ লাখ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট করা হয়। বাড়িঘর ছেগে প্রায় ১ কোটি মানুষ ভারতে শরণার্থী ‍হিসেবে আশ্রয় নেয়। অভ্যান্তরীণভাবে বাস্তচ্যুত হয় আরও প্রায় ৩ কোটি মানুষ।

গণহত্যা দিবস নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ২০১৭ সালের ১১ মার্চ মহান জাতীয় সংসদে এ দিনটিকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় এবং ২০ মার্চ মন্তিপরিষদ ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধসমূহ (ট্রাইব্যুনালস) আইন-১৯৭৩ প্রণয়ন করেছিলেন। সেই আইনের আওতায় অনেকের বিচার শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ বন্ধ করে দেয় এবং তাদের মুক্তি দেয়। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের রাষ্ট্র ক্ষমতায় অংশীদার করে। পরবর্তীকালে খালেদা জিয়াও গণহত্যার দোসর নিজামী-মুজাহিদদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দেয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য পরিচালনা করে আসছে। বেশ কিছু বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত থাকবে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংগঠিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের ব্যাপারে আমরা সর্বাত্নক উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন প্রকৃত অর্থে মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি জাতির চিরন্তন শ্রদ্ধার স্মারক এবং সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। আসুন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে গড়ে তুলি জাতির পিতার ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত ও সুখী সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।

আপনার মতামত লিখুন :