তরমুজ চাষির কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ

তোফায়েল হোসেন জাকির, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, গাইবান্ধা
তরমুজ চাষির কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ

তরমুজ চাষির কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ

  • Font increase
  • Font Decrease

আর্থিক লাভের আশায় বালুচরে তরমুজ চাষ করেছিলেন আব্দুল করিম (৫০)। এ ক্ষেতে বাম্পার ফলন হলেও করোনার প্রভাবে করিমের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করিম। তিনি চলতি মৌসুমে কৃষি অফিসের সহযোগিতায় বেলকাচরে ১৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের তরমুজ চাষ করেন। ফলনও হয়েছে অনেক ভালো হয়েছে। আর এ ফসল বিক্রির পূর্ব মূহূর্তে দেশে দেখা দিয়েছে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। ফলে এর প্রভাবে পরিপক্ক তরমুজ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আবদুল করিম।

কারণ, করোনা সংক্রমণ ঝুঁকিতে সব কিছু বন্ধ রয়েছে। এ কারণে দেখা দিয়েছে পাইকার ও পরিবহন সংকট। একই সঙ্গে বাজার দরও কম। সবমিলে উৎপাদিত তরমুজ যেন গলার কাঁটা হয়েছে আব্দুল করিমের। তরমুজ বিক্রিতে ও লোকসানের আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে তাকে।

বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কৃষি বিভাগে যোগাযোগ করেন কৃষক আব্দুল করিম। এরপর ওই কর্মকর্তারা সর্বাত্মক সহযোগিতায় ক্ষেতের তরমুজগুলো বিক্রির ব্যবস্থা করে দেন। এতে কিছুটা স্বস্তি পান তিনি।

কৃষক আব্দুল করিম জানান, স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেয়ে ১৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ বপন করেছিলাম। এতে প্রায় ৭ লাখ টাকা খরচ হয়। বর্তমান বাজার মূল্যে অনুযায়ী খরচ বাদে কিছুটা লাভ থাকবে। গতবছরের ন্যায় এবছর দাম ভালো থাকলে, প্রায় ২০ লাখ টাকা লাভ করা সম্ভব হতো তার।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার রেজা-ই-মাহমুদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, আব্দুল করিমের সমস্যা সমাধানের জন্য রংপুর ও গাইবান্ধা শহরের পাইকারদের সঙ্গে কথা বলে তরমুজ বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লুতফুল হাসান বার্তা২৪.কমকে বলেন, শেষ পর্যন্ত পাইকার পাওয়া গেলেও, পরিবহন করতে সমস্যা হচ্ছিল। পরে এটিও সমাধা করা হয়। কৃষি পণ্য সরবারহে আব্দুল করিমকে প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :