সাভারে অভিনেতা অনন্ত জলিলের প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের বিক্ষোভ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
সাভারে অভিনেতা অনন্ত জলিলের প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের বিক্ষোভ

সাভারে অভিনেতা অনন্ত জলিলের প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের বিক্ষোভ

  • Font increase
  • Font Decrease

মহান মে দিবসেও শ্রমিকদের কাজে যেতে বাধ্য করার অভিযোগ এনেছেন অভিনেতা অনন্ত জলিলের এজেআই গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা। প্রতিবাদে কয়েক হাজার শ্রমিক ঢাকা-মানিকগঞ্জ মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছেন। এ সময় সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, তিনদিন হাজিরা কাটা হবে এমন ভয় দেখিয়ে তাদের সরকারি ছুটির দিনেও কারখানায় আসতে বাধ্য করা হয়েছে।

শ্রমিকরা বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানালে সাংবাদিকরা কারখানায় যায়। সাংবাদিকদের সামনে শ্রমিকরা কর্মস্থল ছেড়ে একযোগে বের হয়ে সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় মালিকের বিরুদ্ধে শ্রমিকরা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করলে লাঠি হাতে তেড়ে আসেন আরেকদল শ্রমিক। শ্রমিকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। এ সময় বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও লাঞ্ছিত হন।

তিনদিন হাজিরা কাটা হবে এমন ভয় দেখিয়ে তাদের সরকারি ছুটির দিনেও কারখানায় আসতে বাধ্য করা হয়েছে

একাধিক শ্রমিক অভিযোগ করেন, শিল্পাঞ্চলের অন্যান্য কারখানা খোলার আগেই ২১ এপ্রিল অভিনেতা অন্তত জলিলের হেমায়েতপুর এলাকার এজেআই গ্রুপের কারখানা খুলে দেয়া হয়। সেখানে তাদের স্বাস্থ্যকর মাস্কও দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। আমাদের এখানে সাবান নয়, হুইল পাউডারের পানি দিয়ে হাত ধোয়ানো হয়। বাইরে থেকে কেউ যাতে বুঝতে না পারে সেজন্যে পেছনের ফটক দিয়ে শ্রমিকদের কারখানায় ঢোকানো হয়।

মে দিবসেও কারখানা খুলে দেবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন শিল্প পুলিশ সাভার জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আরিফ।

তিনি জানান, কেবল এজেআই গ্রুপই নয়, এদিন এই শিল্পাঞ্চলে আরো ৫টি কারখানা খোলা রাখা হয়েছে।

এজেআই গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক অভিনেতা অনন্ত জলিলের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তিনি ফোন ধরেন নি।

মে দিবসে কাজ করানোর প্রতিবাদে কয়েক হাজার শ্রমিক ঢাকা-মানিকগঞ্জ মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছেন

তার পক্ষে গ্রুপের প্রধান মানব সম্পদ কর্মকর্তা জাহিদুল হাসান মীর জানান, করোনাভাইরাসে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্র (পিপিই) তৈরির জন্য শ্রমিকদের কারখানায় আনা হয়েছিলো। শ্রমিকরা কাজ করতে ইচ্ছুক নন এটা বোঝার সাথে সাথেই তারা কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছেন।

তবে জাহিদুল হাসান মীরের এমন বক্তব্য মিথ্যা বলে দাবি করেছেন শ্রমিকরা। শ্রমিকরা বলেন, সব মিথ্যা কথা। কারখানার ভেতরে যান, দেখেন আমাদের দিয়ে পিপিই নয়, গেঞ্জি ও প্যান্ট বানানো হচ্ছিলো।

এ বিষয়ে সরেজমিনে দেখার জন্যে ফ্যাক্টরির ভেতরে যেতে চাইলেও পরে তিনি আর কথা বাড়ান নি।

খবর পেয়ে ট্যানারি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এদিকে ক্রমাগত করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সাভার ও আশুলিয়ায় সকল কারখানা বন্ধের সুপারিশ করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। অন্যদিকে শ্রমিকদের জটলা এড়াতে  সাভারে বাতিল করা হয়েছে মে দিবসের সকল কর্মসূচি। তা সত্ত্বেও মহান মে দিবসে শ্রমিকদের জোর করে কাজে যোগদান এবং সামাজিক দূরত্ব এছাড়াও স্বাস্থ্য বিধি না মেনে বিক্ষোভ করায় সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে অসংখ্য শ্রমিক।

আপনার মতামত লিখুন :