বাঁচতে চান মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন।

মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন।

  • Font increase
  • Font Decrease

বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন। একাত্তরে লড়েছেন স্বাধীনতার জন্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। স্বাধীনতার পরও দেশ গড়ার যুদ্ধে লড়েছেন। এখন লড়ছেন নিজের জীবন বাঁচানোর যুদ্ধে।

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন। তিন তিনবার অন্নদানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে কাজ করেছেন এলাকার উন্নয়নে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে পীরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেছেন। বর্তমানে তিনি রংপুর জেলা পরিষদের সদস্য।

গত ২ মে হঠাৎ ব্রেইন স্ট্রোক করেন তিনি। বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। চিকিৎসার জন্য অর্থাভাবে মৃত্যুর প্রহর গুনতে হচ্ছে লড়াকু এই মানুষটিকে। হাসপাতালের কেবিনের শয্যায় থাকা দুইবারের স্বর্ণপদক জয়ী এই জনপ্রতিনিধি এখন চোখ খুললে অন্ধকার দেখছেন। বাঁচার আকুতি থেকে তার দু'চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছে।

জানা গেছে, সারাজীবন মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন আপোসহীন। নিজের জন্য কিছুই করেননি। মানুষের ভালোবাসাই ছিলো তার বড় সম্পদ। শিক্ষানুরাগী এই মানুষটি নিজ উদ্যোগে এলাকায় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। শিক্ষার প্রসারে বহু জমি দান করেছেন। করোনা মহামারির শুরুর দিক থেকে গ্রামের মানুষকে সচেতন করেছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিয়েছেন। দিয়েছেন নিজের সামর্থ্য থেকে খাদ্য সহায়তা।

অথচ আজ তার চিকিৎসার জন্য অন্যের আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন। জীবন যুদ্ধে বড়ই অসহায় সময় কাটছে তার। প্রতিদিন চিকিৎসা বাবদ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। নিজের যা ছিল, সবই শেষ। এখন ভরসা অন্যের সহযোগিতা।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রংপুর জেলা ইউনিটের সহকারী কমান্ডার (প্রকল্প ও সমবায়) আনোয়ার হোসেনকে বাঁচাতে এখন আর্থিক সহায়তা দরকার বলে জানান তার ছেলে মাজহারুল সোহাগ।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘সারা জীবন আমার বাবা মানুষের জন্য কাজ করেছেন। মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছেন। যুদ্ধ করেছেন দেশ ও মানুষের জন্য। কিন্তু আজ এই দুর্দিনে তার পাশে কেউ নেই। এই মানুষটি যখন থাকবে না তখন শুভাকাঙ্ক্ষীরা এসে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলবে আনোয়ার হোসেন খুব ভালো মানুষ ছিলেন। আমি সেই সব শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুরোধ করছি, সাহায্য করতে না পারলেও আমার বাবার শেষ সময়ে তার কাছে গিয়ে একটিবারের জন্য যদি বলেন আপনারা তার পাশে আছেন। হয়তো মানুষটি শান্তি পাবেন।’