৩০ বছরে একদিনও ছুটি নেননি শিক্ষক আব্দুল রশিদ

মো. জুয়েল রানা, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুড়িগ্রাম
শিক্ষক আব্দুল রশিদ

শিক্ষক আব্দুল রশিদ

  • Font increase
  • Font Decrease

মো. আব্দুল রশিদ খন্দকার (৬০)। একজন আদর্শ শিক্ষকের নাম। লেখাপড়াজীবন শেষ করে ১৯৮৬ সালে পেশা হিসেবে নেন শিক্ষকতা। চাকরি নেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় ২ নং চর যাত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ওই বিদ্যালয়ে ৩০ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন। এ পর্যন্ত চাকরিজীবনে সরকারি ছুটি ব্যতীত একদিনও তিনি ব্যক্তিগত ছুটি কাটাননি। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চর যাত্রাপুর গ্রামের মৃত আপাজুদ্দিন খন্দকারের ৫ ছেলে-মেয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চর যাত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮৫ সালে স্থাপিত হলেও ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়। মো. আব্দুল রশিদ খন্দকার প্রথমে এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসাবে ১৯৮৬ সাল থেকে চাকরি জীবন শুরু করলেও ২০১৮ সালে এসে সহকারী শিক্ষক হিসাবে শিক্ষকতা করছেন। ২নং চর যাত্রাপুরের এই বিদ্যালয়টি ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের কবলে পরে ৭-৮ বার নদীগর্ভে বিলীন হয়, সেই সঙ্গে ওই শিক্ষকের বাড়িও ৭-৮ বার নদীতে বিলীন হয়েছে। স্কুল যে এলাকায় গেছে আব্দুল রশিদ খন্দকারের বাড়িও সেই এলাকায় নিয়ে যেতো।

মানুষ গড়ার এই শিক্ষক চাকরি জীবনে কুড়িগ্রাম জেলা শহরে সামান্য একটু জায়গা কিনে বাড়ি করতে পেরেও তিনি শহরে বসবাস না করে ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় স্কুল সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করছেন। তিনি এই স্কুলের মায়া ত্যাগ করতে না পারায় থাকছেন চরাঞ্চলে। ৩০ বছর শিক্ষকতা জীবনে সরকারি ব্যতীত একদিনও ব্যক্তিগত ছুটি কাটাননি। আর ৬ মাস পর অবসরে যাবেন তিনি। এখন স্কুল বন্ধ থাকায় সময় কাটছে বাড়িতে পড়াশোনা করে।

মো. আব্দুল রশিদ খন্দকার ৪ ছেলে সন্তানের জনক। বড় ছেলে ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করছেন আর ৩ ছেলে লেখাপড়া করছেন।

মো. আব্দুল রশিদ খন্দকার বার্তা২৪.কম-কে বলেন, আমি আমার বিদ্যালয়ে ৩০ বছর যাবৎ কর্মরত আছি। এই চাকরি জীবনে সরকারি ব্যতীত একদিনও ব্যক্তিগত ছুটি নেই নাই। আমার আর সাড়ে ৬ মাস চাকরি আছে আল্লাহ পাক আমাকে সুস্থ রাখলে এই কয়েকটা দিন সঠিকভাবে স্কুলের দায়িত্ব পালন করে অবসরে যেতে চাই। আপনারা আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।

২ নং চর যাত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছা. শাহিনা বেগম বার্তা২৪.কম-কে জানান, আমি এই স্কুলে এসেছি বেশিদিন হয়নি। আমি শুনেছি এই স্কুলটি তিনি নিজ হাতে অনেক শ্রম দিয়ে সরকারি করেছেন। তিনি স্কুলকে খুব ভালোবাসেন সেই সঙ্গে ছাত্র-ছাত্রীদেরকেও।

আপনার মতামত লিখুন :