টেকনাফে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায়



নুরুল হক, উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, টেকনাফ (কক্সবাজার)
টেকনাফ স্থলবন্দর

টেকনাফ স্থলবন্দর

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতেও কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে ২০১৯-২০ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। এই অর্থবছরে ১৬১ কোটি ১০ লাখ ৪৩ হাজার টাকার রাজস্ব আদায় হয় বলে জানিয়েছেন শুল্ক বিভাগ। এছাড়া আগের অর্থ বছরে আদায় হয়েছিল ১৭৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

এদিকে, করোনাভাইরাসের প্রভাব মিয়ানমার ও বাংলাদেশেরে মধ্যে নানান সমস্যা ও মাদকের বিরূপ প্রভাব সত্ত্বেও পণ্য আমদানি হওয়ায় রাজস্ব আদায় বেশি হয় বলে জানায় বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

টেকনাফ স্থলবন্দর শুল্ক কর্মকর্তা আবছার উদ্দীন জানান, সদ্য সমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরের মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি করে ১৬১ কোটি ১০ লাখ ৪৩ হাজার টাকার রাজস্ব আদায় হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক এই বছর ১৫০ কোটি ৯ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ কোটি ১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। তবে মিয়ানমার থেকে হিমায়িত মাছ, শুঁটকী, সুপারি, কাঠ, আচার, ক্যালসিয়াম, তেঁতুল, বড়ই, হলুদ, তৈরি পোশাক, বাঁশ, বেত, আদা, ধনিয়া, স্যান্ডেল, গরু, মহিষ, ছাগল ইত্যাদি আমদানি হয়।

তিনি আরও জানান, একই অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৩৬ কোটি ৬৯ লাখ ৬ হাজার টাকার পণ্য মিয়ানমারে রফতানি হয়েছে। এর আগের অর্থবছরে রফতানি হয়েছিল ২১ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার টাকার পণ্য। তবে আগের অর্থ বছরের চেয়ে রফতানি বাড়লেও সীমান্ত বাণিজ্যে পণ্য আমদানির তুলনায় রফতানি হয় অনেক কম। যার ফলে আমদানি ও রফতানির বৈষম্য দিন দিন বেড়েই চলছে। এই বৈষম্য দূরীকরণের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

শুল্ক কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘করোনার কারণে গত কয়েক মাস ধরে পণ্য আমদানি- রফতানিতে প্রভাব পড়েছিল। করোনার কারণে দেশে সাধারণ ছুটি চললেও শুধুমাত্র নিত্য পণ্য আমদানির লক্ষ্যে সীমিত আকারে বন্দর চালু রাখা হয়। এ সময় পণ্য আমদানি তেমন হয়নি। এরপরও শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টা, নিরলস পরিশ্রম ও পণ্যের সঠিক নিরীক্ষায় রাজস্বের টার্গেটের চেয়ে অতিরিক্ত আদায় সম্ভব হয়েছে। তবে মিয়ানমারে দেশীয় পণ্য রফতানিও আগের চেয়ে বাড়ছে।’

সীমান্ত বাণিজ্য ব্যবসায়ীরা বলেন, বাণিজ্য ব্যবসায় সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করছে না। তাদের নানা সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। বাণিজ্যিক পণ্য আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে নানা সমস্যা লেগে আছে। মিয়ানমার পণ্য আমদানিতে যেমন সমস্যা, তেমনি দেশীয় পণ্য রফতানিতেও হয়রানি রয়েছে। তবে ডলারের মাধ্যমে পণ্য আমদানি-রফতানি হয়ে থাকে। এছাড়া এলসির ব্যবস্থা না থাকায় সীমান্ত বাণিজ্যের পণ্যের টাকা নিয়ে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাণিজ্য ব্যবসায় পরিবেশ না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী এই বন্দর ছেড়ে অন্য বন্দরে চলে গেছেন। বাণিজ্য ব্যবসার সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশংকা রয়েছে।