ভারত হলো প্রতিভার পাওয়ার হাউস: মোদী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনা মহামারির সময়ে পুনর্জাগরণের বিষয়ে কথা বলা স্বাভাবিক। বৈশ্বিক পুনর্জাগরণ এবং তার সঙ্গে ভারতের সম্পৃক্ততাও স্বাভাবিক। সবাই বিশ্বাস করে বৈশ্বিক পুনর্জাগরণে ভারত অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। ভারতীয় প্রযুক্তি শিল্প এবং প্রযুক্তি পেশাদারদের কে ভুলতে পারে? কয়েক দশক ধরে তারা পথ দেখিয়ে চলেছে। ভারত হলো প্রতিভার পাওয়ার হাউস যেখানে সবাই অবদান রাখতে আগ্রহী এবং শেখার জন্য প্রস্তুত।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইন্ডিয়া গ্লোবাল উইক-২০২০ উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, এই অনুষ্ঠান বিগত কয়েক বছরে ইন্ডিয়া আইএনসির অসাধারণ কাজেরই একটা অংশ। এই অনুষ্ঠানগুলো বিশ্বব্যাপী মানুষের কাছে ভারতকে তুলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছে। আপনারা ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করেছেন। এ বছরের অনুষ্ঠানটি আমাদের অন্য অংশীদারদের কাছেও পৌঁছেছে। আশা করি, পরের বছর আপনারাও সেন্টার কোর্টে থাকার এবং উইম্বলডন উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, সবাই বিশ্বাস করে বৈশ্বিক পুনর্জাগরণে ভারত অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। আমি এর দু’টি কারণ দেখতে পাই। প্রথমটি হলো ভারতীয় প্রতিভা। বিশ্বব্যাপী আপনারা ভারতের মেধার অবদান দেখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ভারতীয় পেশাদার চিকিৎসক, নার্স, ব্যাংকার, আইনজীবী, বিজ্ঞানী, অধ্যাপক এবং আমাদের পরিশ্রমী কর্মীরা।

দ্বিতীয় বিষয়টি হলো ভারতের সংস্কার ও পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষমতা। ভারতীয়রা প্রাকৃতিক সংস্কারক, ভারত সামাজিক বা অর্থনৈতিক দিক থেকে প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে অতিক্রম করেছে তার সংস্কার ও পুনরুজ্জীবনের চেতনার মাধ্যমে। এই চেতনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, একদিকে ভারত একটি বৈশ্বিক মহামারির বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই করছে। জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি আমরা অর্থনীতির প্রতিও সমানভাবে গুরুত্বারোপ করছি। ভারতের পুনর্জাগরণের অর্থ হলো- যত্ন সহকারে পুনর্জাগরণ, সহানুভূতির সঙ্গে পুনর্জাগরণ, পরিবেশ এবং অর্থনীতি উভয়ের জন্যই টেকসই পুনর্জাগরণ।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগ-আয়ুষ্মান ভারত প্রচলনের মাধ্যমে ভারত পরবর্তী পর্যায়ে উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করেছে। ভারতীয়দের অসম্ভবকে জয় করার স্পৃহা রয়েছে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ভারতে আমরা ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখতে পাচ্ছি। আমরা অর্থনীতিকে আরও উৎপাদনশীল, বিনিয়োগবান্ধব এবং প্রতিযোগিতামূলক করে তুলছি।

তিনি বলেন, ভারত বিশ্বের অন্যতম উন্মুক্ত অর্থনীতি। সমস্ত বৈশ্বিক সংস্থাগুলোকে আমরা ভারতে স্বাগত জানাই। খুব অল্প সংখ্যক দেশই ভারতের মতো এ ধরণের সুযোগসুবিধা দিয়ে থাকবে। ভারতে বিভিন্ন নতুন ও দ্রুত বর্ধনশীল খাতে অনেক সম্ভাবনা এবং সুযোগ রয়েছে। আমরা বিনিয়োগকারীদের জন্য আমাদের কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমে সরাসরি বিনিয়োগের জন্য দরজা উন্মুক্ত করেছি।

ভারতের ওষুধ শিল্প নিয়ে বলেন, এই মহামারি আবারও দেখিয়েছে যে ভারতের ওষুধ শিল্প কেবল ভারতের নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি সম্পদ। বিশেষত উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওষুধের ব্যয় হ্রাসে এটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ভারতে তৈরি টিকাদিয়ে বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ বাচ্চাদের টিকা দেওয়া হয়। আমাদের সংস্থাগুলো কোভিড-১৯ এর টিকা আবিষ্কার ও উৎপাদনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাতে সক্রিয় রয়েছে। আমি নিশ্চিত যে টিকা আবিষ্কার হওয়ার পরে এটির বিকাশ এবং উৎপাদনে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন :