স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলিত করতে প্রয়োজন ‘নিশ্ছিদ্র আইন’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
‘মেডিকেল নেগলিজেন্স অ্যান্ড ইমপ্যাক্ট অন হেলথ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়ন ফোরাম আয়োজিত সাপ্তাহিক ওয়েবিনার

‘মেডিকেল নেগলিজেন্স অ্যান্ড ইমপ্যাক্ট অন হেলথ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়ন ফোরাম আয়োজিত সাপ্তাহিক ওয়েবিনার

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলিত করতে নিশ্ছিদ্র আইন প্রয়োজন, যা চিকিৎসা সেবা গ্রহীতা, সেবা দাতা ও ব্যবস্থাপকের অধিকার সংরক্ষণ করবে। জবাবদিহিতা-স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্নীতি ও সহিংসতা প্রতিরোধে সহায়ক হবে।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে ‘মেডিকেল নেগলিজেন্স অ্যান্ড ইমপ্যাক্ট অন হেলথ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়ন ফোরাম আয়োজিত সাপ্তাহিক ওয়েবিনারে বক্তারা নতুন আইন প্রণয়নের এ প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

করোনাকালে দেশ চারটি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে জানিয়ে হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, আমাদের চিকিৎসা সুরক্ষা আইন দরকার। যে আইনটি তিন পক্ষের অধিকার রক্ষা করবে। করোনার এই সময়টাতে দেশ করোনাভাইরাস, অদক্ষতা-অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি- এই  চার সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। আজকের পৃথিবীতে ব্যক্তির পক্ষে কোন কিছুই করা সম্ভব না, তাকে নির্ভর করতে হচ্ছে সে যে ব্যবস্থাপনার ভেতর দিয়ে কাজ করবে তার ওপরে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র চাচ্ছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা বেসরকারি খাতে চলে যাক। এর ওপরে যে ধরনের নজরদারি করা হচ্ছিল সেটি আর করা হবে না। মুক্তবাজার অর্থনীতি বলতে আমরা মনে করি, যার যা ইচ্ছা তাই করবে। এটিকে যে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সেটি ভুলে গেছি।

এই চিকিৎসক বলেন, রিজেন্ট একটি প্রতারক প্রতিষ্ঠান। গত ছয় বছর যাবত তার লাইসেন্স নেই। তার সঙ্গে সরকারি একটি এমওইউ সাক্ষর হলো; সেই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন, ডিজি হেলথ ছিলেন। সরকার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমওইউ সাক্ষর করছে, সেই প্রতিষ্ঠানটি বৈধ না অবৈধ তারা এইটুকু দেখার প্রয়োজন বোধ করলেন না। তার মানে, তারা জানেন না তাদের কাজ কী।

আইনের শাসনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মেডিকেল নেগলিজেন্সির ঘটনা ঘটেছে কোভিড-১৯ আসার পরে। সিদ্ধান্ত হলো করোনায় আক্রান্ত রোগীদের কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। এ ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকরা ভুলে গেলেন, প্রজ্ঞাপন জারি করলে তার সঙ্গে আরও যে ঘটনা ঘটবে সেসব সমাধান করার জন্য অনেকগুলো বিধিবিধান থাকা দরকার। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর দেশের মানুষের কেন আস্থা থাকবে? আমাদের ডিজির করোনা হলো; তিনি তার আওতাধীন কোনো হাসপাতালে ভর্তি হলেন না। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলেন। কারণ তিনি জানেন, তার সময় এবং এখন কী হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য প্রয়োজন আইনের শাসন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা বলেন, শিক্ষিত পরিবারেও এক ধরনের স্টিগমা আছে— আমরা পোস্টমর্টেম করতে দিতে চাই না। যে কারণে অনেক সময় নেগলিজেন্সের প্রমাণ করা যায় না। মেডিকেল নেগলিজেন্স প্রমাণ করার জন্য দুজন চিকিৎসকের সমর্থন দরকার হয়। ডিজি হেলথ কিংবা তার ক্ষমতায়নে কোন ব্যক্তি ছাড়া মামলা করা যায় না। অর্থাৎ আমরা একটি বলয় তৈরি করেছি যাতে কোনোভাবেই কেউ অন্যায়ের বিরুদ্ধে যেতে না পারে।

আইনি সীমাবদ্ধতা দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ব্রি. জেনারেল আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের আইনি সীমাবদ্ধতা দূর করতে হবে। আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, ২৫ শতাংশ চিকিৎসক সময় মতো অফিসে আসেন না এবং সময়ের আগেই বের হয়ে যান। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের হাসপাতাল পরিদর্শন বাড়াতে হবে। চিকিৎসকদের সমস্যা শুনতে হবে এবং পোস্টিং, ট্রান্সফার ও প্রমোশন জটিলতা দূর করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :