দক্ষিণবঙ্গের সবচেয়ে বড় পশুর হাটে ক্রেতা শূন্য

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বেনাপোল (যশোর)
দক্ষিণবঙ্গের সবচেয়ে বড় পশুর হাটে ক্রেতা শূন্য

দক্ষিণবঙ্গের সবচেয়ে বড় পশুর হাটে ক্রেতা শূন্য

  • Font increase
  • Font Decrease

কিছুদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। করোনার প্রাদুর্ভাবে এবার দক্ষিণবঙ্গের সবচেয়ে বড় পশুর হাট শার্শার সাতমাইল এখনো জমে উঠেনি। গরুর দামও কম। এতে বিক্রেতারা চিন্তায় থাকলেও কম দামে গরু কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারা।

গেল বছর এই হাট অনেকটা ভারতীয় গরুর দখলে থাকলেও এ বছর দেশি গরু, ছাগলে ভরপুর। তবে করোনায় খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থকষ্টে ব্যবসায়ীরা গরু, ছাগলগুলোকে খুব একটা স্বাস্থ্যবান করতে পারেনি।

জানা যায়, দক্ষিণবঙ্গের সবচেয়ে বড় পশুর হাট যশোরের শার্শা উপজেলার সাতমাইল। যশোর ও সাতক্ষীরা দুই জেলার গরু আসে এ হাটে। এখান থেকে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা গরু কিনতে আসেন। সপ্তাহে মঙ্গলবার ও শনিবার দুই দিন হাটে গরু বেচা কেনা হয়।

গরু বিক্রেতা আব্দুর রশিদ জানান, ভারতীয় গরু না এলেও এ বছর করোনার কারণে ভালো দামে গরু বিক্রি করতে পারছে না তারা। এছাড়া গো-খাদ্যের দিন দিন যেভাবে মূল্য বাড়ছে তাতে লাভ থাকছে না। ফলে আগামীতে হয়তো এ পেশা বাদ দিতে হবে।

বাজারের ইজারাদার নাজমুল হাসান জানান, বাজারটি এক বছরের জন্য সরকারিভাবে ৫ কোটি টাকা দিয়ে ডেকে নেওয়া হয়েছে। যার প্রতি হাট হিসাবে সরকারকে দেওয়া লাগে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। করোনার কারণে সরকারের নির্দেশনায় আমরা দুই মাসের বেশি সময় এই পশু হাটটি বন্ধ রেখেছিলাম। হাট বন্ধ থাকায় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তবে সরকারের কাছে দাবি আমাদের এই ক্ষতিটা যেন পুষিয়ে নেওয়ার একটা সুযোগ পাই।

বাগআঁচড়া সাতমাইল পশুর হাটের সহ-সভাপতি আবু তালেব জানান, দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ এ হাটের সব প্রস্তুতির পরে স্থানীয় খামারিসহ ব্যাপারীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানির পশু বিক্রির জন্য নিয়ে আসছেন। তবে করোনায় বিক্রেতা থাকলেও নেই ক্রেতা। এ বছর এই হাট সরকারিভাবে ৫ কোটি টাকা দিয়ে ইজারা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে করোনায় হাটে ক্রেতা কম থাকায় পশু কেনা বেচাও কম হচ্ছে যাতে করে ইজারার টাকাও উঠছে কম। এতে করে লোকসানে জর্জরিত হতে হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, করোনায় ক্রেতা-বিক্রেতার যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে তার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়া পশুর হাটটি সার্বক্ষণিক প্রশাসনের তদারকিতে আছে।

শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাসুমা আখতার জানান, এবার ভারতীয় গরু-ছাগল না আসলেও করোনায় কোরবানির পশুর হাটে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। যশোরে জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ১৩টি পশুর হাট রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় পশুর হাট হচ্ছে শার্শা উপজেলার সাতমাইল পশু হাট। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা যাতে হাটে আসে সেদিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :