এমপিদের প্রশ্ন পরিবর্তন হয় কিনা? খতিয়ে দেখার আশ্বাস স্পিকারের

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সংসদ সদস্যগণ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মন্ত্রীদের প্রশ্ন করে থাকেন। মন্ত্রীরাও সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। প্রশ্ন দুই ধরনের হয়ে থাকে। তারকা চিহ্নিত যা মৌখিক উত্তরদানের জন্য। আর একটা হচ্ছে তারকাবিহীন, সেটা লিখিত উত্তরদানের জন্য। এমপিদের প্রশ্ন করতে হলে মিনিমাম ১৫ দিন পূর্বে সংশ্লিষ্ট নোটিশ শাখায় লিখিত আকারে দিতে হয়। পরে সেখান থেকে বাছাই করে প্রশ্ন যাচাই বাছাই কমিটির সিদ্ধান্তে কোনো প্রশ্ন গ্রহণ করা হয় আবার কোনোটি বাদ করা হয়।

তবে এমপিরা যেভাবে প্রশ্নটি করেন ঠিক সেভাবেই মুদ্রিত কপিতে থাকে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। তিনি বলেছেন, আমরা যেভাবে দেই সেভাবে প্রশ্নটি রাখা হয় কিনা একটু দেখবেন। এরপর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি উত্থাপন করে হারুনুর রশীদ স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, প্রসিডিংস থেকে যেকোনো বিষয় এক্সপান্স করার ক্ষমতা আপনি রাখেন। কিন্তু আমরা কষ্ট করে তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন বিভিন্ন নোটিশ শাখায় জমা দেই, তার আলোকে আপনি আপনার ক্ষমতাবলে যেটা গ্রহণ করেন সেই অনুযায়ী মন্ত্রীরা উত্তর দিয়ে থাকেন। আবার অনেকগুলো গ্রহণ করেন না। কিন্তু আমরা যেভাবে প্রশ্নটা জমা দেই সেভাবেই আসা উচিত। পরিবর্তন করার ক্ষমতা নিশ্চয়ই... নাও নিতে পারেন। কিন্তু আপনার মতো করে পরিবর্তন করতে পারেন না।

এ সময় উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সোমবার মৌখিক উত্তরদানের প্রশ্ন তালিকায় ৩৮ নম্বর তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন ছিল স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে। সেখানে বলেছিলাম স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী অনুগ্রহ করিয়া বলবেন কি বাংলাদেশে মেডিকেল এবং ডেন্টাল কলেজসমূহে অসাধু উপায়ে যারা ভর্তি হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন কি? না করে থাকলে তার কারণ কি?

উত্তরে মন্ত্রী বলেছেন, 'কেন্দ্রীয়ভাবে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কলেজ স্বাস্থ্য শিক্ষা ক্যাডার অন্তর্ভুক্ত এবং স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সারাদেশে একযোগে ২০টি কেন্দ্রে সরকারি মেডিকেল ডেন্টাল কলেজ ভর্তি এবং শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় গোয়েন্দা নজরদারিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়। ভর্তি পরীক্ষায় অসাধু উপায় অবলম্বনের মাধ্যমে ভর্তির বিষয়ে কোনো পক্ষ হতে কোনো অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে'।

হারুন বলেন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল, চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা যারা সার্টিফিকেট দিয়েছেন। গত ২৪ জুলাই দৈনিক প্রথম আলো এবং মানবজমিনসহ জাতীয় পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। তাতে মামলা হয়েছে, সিআইডি তদন্ত করে তার তথ্য পেয়েছে, অনেকের গ্রেফতার করা হয়েছে। অনেককেই লাখ লাখ কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে সম্পদ গড়েছে। সেটা স্পষ্টভাবে জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে। মন্ত্রীর উত্তর একেবারে বাতিল করতে হবে। এটি সঠিক নয়।

এর পর তাকে থামিয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আপনি প্রথম অংশে কার্যপ্রণালী বিধি সংক্রান্ত প্রশ্ন পরিবর্তন করা হয় কিনা জানতে চেয়েছেন, সে বিষয়টি আমি দেখব। কিন্তু আপনি প্রশ্ন করেছেন মন্ত্রী উত্তর দিয়েছেন এটা নিয়ে আর পয়েন্ট অব অর্ডারে বলার সুযোগ নেই। এরপর মৃদু হৈ চৈ হয়। তার স্পিকার সংসদের বৈঠক বুধবার সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।