পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ জানালেন মন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা, জাতীয় সংসদ ভবন থেকে
সংসদ অধিবেশনের ফাইল ছবি

সংসদ অধিবেশনের ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজ কম উৎপাদন ও ভারত রফতানি বন্ধ করায় হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেছেন, দেশে বর্তমানে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২৪ লাখ মেট্রিক টন। আর গত বছর পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ২৩ দশমিক ৩০ লাখ মেট্রিক টন। তার মধ্যে ৩০ শতাংশ সংগ্রহকালীন এবং সংরক্ষণকালীন ক্ষতি বাদ দিলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ৩১ লাখ মেট্রিক টন। যা দিয়ে চাহিদা মেটানোর পক্ষে যথেষ্ট নয় বলে জানান মন্ত্রী।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে সরকারি দলের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খানের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হূমায়ুন সংসদকে এ তথ্য জানান। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দিনের কার্যসূচি শুরু হয়।

মন্ত্রী বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ বিশেষ করে ভারত থেকে প্রতিবছর নির্দিষ্ট পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। সম্প্রতি ভারতের মহারাষ্ট্রে বন্যা হওয়ার কারণে পেঁয়াজের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারেও পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

এছাড়া ভারত সরকার গত ১৩ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজের সর্বনিম্ন রফতানি মূল্য প্রতি টন ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করেছে। যা পূর্বে প্রতি মেট্রিক টন ছিল ২৫০-৩০০ ডলার। সে দেশে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পেঁয়াজের রফতানি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশে পেঁয়াজের বাজার উর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। এছাড়া বিশ্ব বাজারে রসুনের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে।

পেঁয়াজ রসুনের দাম ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে প্রতিদিন ৪টি করে মোট ২৮টি মনিটরিং টিম ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন বাজারে মূল্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়া টিসিবি’রি ডিলারদের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে ঢাকা মহানগরীতে ৩৫টি পয়েন্টে ন্যায্য মূল্যে ট্রাক সেলের মাধ্যমে খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে।

এছাড়া মিশর ও তুরস্ক হতে পেঁয়াজ আমদানির জন্য প্রতিষ্ঠিত আমদানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে পেঁয়াজের রফতানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য দিল্লীস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের কমার্শিয়াল কাউন্সিলরের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমানের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রীর পক্ষে শিল্পমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজের একটা সংকট ছিল, হঠাৎ করেই আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে বন্যার কারণে সেখানে পেঁয়াজের বাজার কিছুটা গরম হয়ে যায়। পরে আমরা অতিসত্ত্বর সেগুলো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসি। এই সিজনের পেঁয়াজ এখনো ওঠে নাই। সেখানেও (ভারতে) উঠতে একটু সময় লাগবে। তার মধ্যে মিয়ানমার থেকে বিশেষ করে তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানির ব্যবস্থা করছি।

মন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গেও এলসি চালু হয়েছে। পেঁয়াজের বাজার যেটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল, তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে এসেছে। অতি অল্প সময়ের মধ্যে আমরা জেলাগুলোতে মোবাইল কোর্ট চালু করেছি। যাতে বেশি দামে বেচাকেনা না হয় সেজন্য মোবাইল কোর্ট চালু আছে।

আপনার মতামত লিখুন :