এই সরকারের সকল কর্মকাণ্ড গণতন্ত্র বিরোধী: জাফরুল্লাহ চৌধুরী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

  • Font increase
  • Font Decrease

এই সরকারের সকল কর্মকাণ্ড গণতন্ত্র বিরোধী উল্লেখ করে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, আমাদের সংবিধানে আমার কথা বলার অধিকার আছে, আমার সংগঠন করার অধিকার আছে, জনগণের কাছে আমার বক্তব্য দেওয়ার অধিকার আছে। সেটা আমাকে করতে দেওয়া হচ্ছে না।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন তিনি। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দাবি বাতিল পরিষদ’র উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। আরও বক্তব্য দেন- ভাসানী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মমতাজ চৌধুরী, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, এনডিপির মহাসচিব সৈয়দ মনজুর হোসেন ঈসা, বাংলাদেশ স্বাধীনতা পার্টির সাধারণ সম্পাদক এফএম এম ফয়েজ হোসেন, ইসলামী ঐক্যজোট ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা শওকত আমিন, গ্রিন পার্টির চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ প্রমুখ।

জাফরুল্লাহ বলেন, দেশে আজ গণতন্ত্র নেই। আজকে দেশে ভিন্ন নামে বাকশাল প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। এটা চলতে পারে না। আজকে জনগণকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। এ জাতীয় বাধা দেওয়ার কারণে কী হয়? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যতগুলো কাজ আপনি করছেন ক্রমেই তা ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। যেমন ধরেন- সদ্য নারী নিপীড়ন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে যে আইনের সংশোধনী এনেছেন- ফাঁসি। এই ফাঁসি দিয়ে পৃথিবীর কোথাও কোনো পরিবর্তন হয় নাই। এটা মধ্যযুগীয় শাস্তি।

তিনি বলেন, আজকের জনগণকে প্রকৃত মানবিক এবং সুষ্ঠু গণতন্ত্র দিতে হবে। সবাইকে কথা বলার অধিকার দিতে হবে। সুষ্ঠু ও মানবিক গণতন্ত্র ছাড়া আমাদের মুক্তির কোনো পথ নেই। রাজনীতি করার এবং বক্তব্য দেওয়ার অধিকার আমার আছে। কিন্তু সেটা আমাকে করতে দেওয়া হচ্ছে না। আপনারা পত্রিকা খুলে দেখেন, এই আইন করার আগে ও পরে এক ফোঁটাও অপরাধ কমেনি। বরং বেড়েছে। এখন বাড়তে বাড়তে শিশুর ওপরই হচ্ছে, স্কুলে হচ্ছে, মাদরাসায় হচ্ছে। এতো বড় ভুল কি করে উনি (প্রধানমন্ত্রী) করলেন?

ভারতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আজকের পত্রিকায় আছে- ভারত আমাদের কতটা লুণ্ঠন করেছে। গত ২০১৮ সালে ভারত বাংলাদেশ থেকে পেয়েছে ১২৮ বিলিয়ন ডলার। আর সারা মুক্তিযুদ্ধে উনাদের ১০০ মিলিয়নও খরচ হয় নাই। ওটা উপলক্ষ্য করে আজকে দেখলাম তোফায়েল (তোফায়েল আহমেদ) সাহেব বলেছেন, ‘আমার আর কিছু পাওয়ার নাই। বঙ্গবন্ধুর স্নেহ পেয়েছি’। এটা উনার আক্ষেপের কথা। তার মতো লোক হাসিনার পাশেই থাকা উচিত। দলের রাজনৈতিক নেতাদের সাথে প্রধানমন্ত্রী আলাপ করেন না, আমাদের সাথে আলাপ করবে কেন?

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় আটক দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক আবুল আসাদ ও সদ্য গ্রেপ্তার ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর প্রসঙ্গ টেনে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘শুধুমাত্র কথা বলার কারণে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আবুল আসাদকে এক বছর যাবৎ আটকে তাকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। অথচ যারা লক্ষ-কোটি টাকা পাচার করেছে তাদের জামিন আগেই হয়ে যায়। এটা কি গণতন্ত্র হতে পারে?

বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হলে জজ সাহেবদের বিবেকবান হতে হবে। জজ সাহেবরা এত ভীত যে এখনো লুকিয়ে থাকেন। ভার্চুয়াল কোর্ট করে বেড়ান। রাস্তায় আমরা বের হচ্ছি না, গাড়ি-ঘোড়া চলছে না? কার বুদ্ধিতে এসব করা হচ্ছে জানি না। তবে আমাদের সামনে সমূহ বিপদ। আমার শেষ আবেদন আমাদের সবাইকে রাস্তায় থাকতে হবে। সবাইকে গণতান্ত্রিক অধিকার ফেরত দিতে হবে।