কে এই ব্যারিস্টার চৌধুরী মৌসুমী ফাতেমা কবিতা?



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ব্যারিস্টার চৌধুরী মৌসুমী ফাতেমা কবিতা

ব্যারিস্টার চৌধুরী মৌসুমী ফাতেমা কবিতা

  • Font increase
  • Font Decrease

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার চৌধুরী মৌসুমী ফাতেমা কবিতা যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।  এরপর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাথে তার বেশ কিছু পুরনো ছবি ভাইরাল হয়েছে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, বিএনপি নেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে বা বসে আছেন তিনি।

আর এই নিয়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। কেউ কেউ দাবি করছেন তিনি বিএনপি-জামাত মতাদর্শী। তার সম্পর্কে ভালো করে যাছাই না করেই যুবলীগের পদ দেওয়া হয়েছে।

তবে এই আইনজীবীর দাবি, তিনি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জড়িত ছিলেন। এ কারণে অনেকের সঙ্গে ছবি তুলেছেন। প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী ছবিগুলো ছড়িয়ে দিয়ে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হতে চেয়েছিলেন। দলীয় মনোনয়ন ফরমও জমা দিয়েছিলেন।

ব্যারিস্টার চৌধুরী মৌসুমী ফাতেমা কবিতা ছোটবেলা থেকে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জড়িত ছিলেন

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির মেয়ে চৌধুরী কবিতা। বালিয়াকান্দি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় হতে ১৯৯০ সালে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাশ করেন। শিশুকাল থেকেই তিনি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন এবং জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেও একাধিকবার পুরস্কারপ্রাপ্ত হয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে এলএলবি অনার্স, মাস্টার্স ও এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে এলএলবি অনার্সও বিপিটিসি’র পর লিংকন ইন থেকে অর্জন করেছেন বার-অ্যাট-’ল। ২০০২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হন। এরপর ৯ নভেম্বরের ২০০৩ সালে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্য হন। সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় সক্রিয় ব্যারিস্টার চৌধুরী মৌসুমী কবিতা বর্তমানে ইউজিসি, বিডব্লিউডিবি, বিটিসিএল, বিজিএফসিএল, সোনালী ব্যাংক, আরপিসিএল ও সোনালী ব্যাংকের প্যানেল আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যারিস্টার চৌধুরী মৌসুমী ফাতেমা বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সক্রিয় সদস্য।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে চৌধুরী মৌসুমী ফাতেমা

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে শামসুননাহার হলের অনাবাসিক ছাত্রী ছিলেন। ওই সময় সরাসরি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত না থাকলেও ছাত্রলীগ সমর্থিত ছাত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের আওয়ামীপন্থী শিক্ষক এবং মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মিজানুর রহমানের অত্যন্ত স্নেহভাজন ছিলেন এবং তারই তত্ত্বাবধানে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি আওয়ামীপন্থী শিক্ষক প্রফেসর ড. মোঃ রহমতুল্লাহ এর সরাসরি ছাত্রী ছিলেন। তারা দুজনই তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচয় সম্পর্কে অবগত আছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পুলিশের পদক নিচ্ছেন চৌধুরী মৌসুমী ফাতেমার ভাই

মৌসুমী ফাতেমার পারিবারিক পরিচয়ে দেখা যায়, তার বাবা একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন। মা গৃহিনী, তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্ধ ভক্ত। ছোট ভাই মাবুবুল কবির হিমেল জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক। তিনি বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের সংক্রিয় সদস্য। এক ভাই চৌধুরী মনিরুল কবির সুপ্রিম কোর্টের আওয়ামীপন্থী আইনজীবী। আরেক ভাই মাহফুজুল কবির জুয়েল শেরে বাংলা নগর থানার ২৭ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক। চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির বর্তমানে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআিইজি এবং র‌্যাব পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি সাতক্ষীরায় দায়িত্বপালনকালে জামাত-শিবির-বিএনপি অধ্যুষিত সাতক্ষীরায় শান্তি ফিরিয়ে এনেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এসএসএফ-এর দায়িত্বকালে চৌধুরী মৌসুমী ফাতেমার ভাই 

চৌধুরী মৌসুমী ফাতেমা কবিতা বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমি কবে কোথায় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এটা কি কেউ বলতে পারবে? আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা অবশ্যই মিথ্যা। ছোটবেলা থেকে সকল আমলের সরকার প্রধানের সঙ্গে আমার ছবি আছে। এরশাদের সঙ্গেও ১৯৮৯ সালের আমার ছবি আছে। এছাড়া রওশন এরশাদের সঙ্গেও আমার ছবি আছে। যে ছবিগুলো ভাইরাল হয়েছে, সে ছবিগুলো আছে, এগুলো আসলে আমি পুরস্কার নেয়ার সময় তোলা। ছোটবেলা থেকে আমি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলাম। এ কারণে সব আমলের সরকার প্রধানের সঙ্গেই আমার ছবি আছে। ছোট থেকেই তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করে বেড়ে উঠেছি। যুবলীগের সদস্য হিসেবে নিজের সেরাটুকু দিয়ে দলের জন্য কাজ করে যাবো। 

ভাইরাল হওয়া ছবি প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার এক ভাই চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির সহকারী পুলিশ সুপার থাকাকালীন ২০০০ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে ২০০৩ সালের ১০ আগস্ট পর্যন্ত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। তখন তিনি তার ভাইয়ের উৎসবে বিশেষ করে ঈদের দিন এসএসএফের পারিবারিক সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে অতিথি হয়ে গিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছবিও তুলেছেন। এগুলো সেই ছবি।

তার পরিবারের কোন সদস্য কখনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেন চৌধুরী মৌসুমী ফাতেমা।