অপরিকল্পিত লকডাউনে জনজীবন বিপন্ন: মির্জা ফখরুল



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারের ‘অপরিকল্পিত লকডাউনে জনজীবন বিপন্ন’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, এই ভয়াবহ বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সময়ে এই সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়েছে। তাদের উদাসীনতা, অযোগ্যতা, ব্যর্থতা ও দুর্নীতিতে আজকে দেশকে এবং দেশের মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে ফেলেছে। জীবিকাকে বিপন্ন করে ফেলেছে।

সোমবার (২৫ জুলাই) দুপুরে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, এই যে অপরিকল্পিত লকডাউন এবং তারা যে সব ব্যবস্থা নিচ্ছে- হাসপাতালগুলোতে বেড নেই, অক্সিজেন নেই, আইসিইউ বেড নেই এবং ওষুধ নেই। এই একটা অবস্থা তারা (সরকার) সৃষ্টি করেছে। এর ভয়াবহতায় জনগণের জীবন আজকে বিপন্ন। করোনা হবে চিকিৎসা পাবে না, ভুল চিকিৎসা হবে, গরিব মানুষ চিকিৎসার অভাবে রাস্তায় পড়ে থাকবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছিলাম প্রান্তিক মানুষকে যেন তিন মাসের জন্য যে সময়টা লকডাউন চলবে সেই সময়টাতে এককালীন ১৫ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়। তারা (সরকার) সে সমস্ত কোনো কথাই শুনেনি। আজকের পত্রিকাতে আছে যে, তারা ওই যে, ২৮ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়েছে তার শতকরা ৮৬% ভুয়া। অর্থাৎ তারা যে নামগুলো দিয়েছে সেখানেও তারা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নামগুলো দিয়েছে যাতে করে তারা সেই টাকা নিয়ে নিতে পারে। এটা সর্বক্ষেত্রেই হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে ভয়ংকর করোনা সংক্রমণ মহামারি চলছে। এর মধ্যেও তারা (নির্বাচন কমিশন) সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন করছেন। এতো বলার পরেও হাইকোর্টে রিট করার পরেও তারা সেটা থেকে বিরত হননি। জোর করে এই নির্বাচন করে আরও একটা বিরাট অংশকে তারা বিপদের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছেন। এই নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করছি না। অথচ আমাদের নেতা-কর্মীদের অস্থির করে রেখেছে, বাড়ি বাড়ি রেইট করছে, নেতা-কর্মীদের হয়রানি করছে, তাদেরকে গ্রেফতার করছে।

বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়া

মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য, একদলীয় একটা শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য যেটা তারা ১৯৭৫ সালে করেছিলো বাকশাল সৃষ্টির মাধ্যমে আজকে তারা সেটা করতে ওই অবস্থাটাই সৃষ্টি করেছে। এটা একদিনে হয়নি, ধীরে ধীরে ক্রমান্বয়ে সুচতুরভাবে এই অবস্থাটা তারা সৃষ্টি করেছে। এর মূল বিষয়টা ছিলো ১/১১ যে ঘটনা। ১/১১ এর মূল লক্ষ্য ছিলো বিরাজনীতিকরণ করা। সেটাই হচ্ছে এখন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সার্বিকভাবে একটাই কথা- এই সরকারকে যদি না সরানো যায় তাহলে ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের যে মূল লক্ষ্য ছিলো সেই লক্ষ্য পুরোপুরিভাবে ধবংস হয়ে যাবে। এখন এটা সারাদেশের মানুষের দায়িত্ব এই সরকারকে সরাতে হবে, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। বিএনপির দায়িত্বটা বেশি যে বিএনপিকেই এর নেতৃত্ব নিতে হবে এবং সেজন্য আমাদের যেটা প্রয়োজন- আমাদের কখনো হতাশ হওয়া যাবে না, হতাশা ও ব্যর্থতা নিয়ে এগুনো যাবে না। আমাদেরকে অবশ্যই আশাবাদী হতে হবে, জনগনকে সংগঠিত করতে হবে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সেই লক্ষ্যে কাজ করছেন। অনেক বাধা-বিপত্তি, অনেক সুবিধা-অসুবিধার মধ্যেও কাজ হচ্ছে, সেই কাজগুলোকে আমাদের একত্রিত করতে হবে।

প্রয়াত আউয়াল খানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপি মহাসচিব।

বিএনপির প্রয়াত সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আবদুল আউয়াল খান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘স্মৃতিতে অম্লান’ শীর্ষক এই ভার্চুয়াল স্মরণ সভা হয়।

গত বছরের ২০ জুলাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান আবদুল আউয়াল খান। আবদুল আউয়াল খান ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা সাবেক হুইপ মনিরুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও ফাউন্ডেশনের আহবায়ক অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় এই ভার্চুয়াল আলোচনায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ ও প্রয়াত আবদুল আউয়াল খানের ছেলে আসাদুজ্জামান খান বক্তব্য রাখেন।