শিগগিরই মাঠের রাজনীতিতে ফিরছে আওয়ামী লীগ



মো. আরমান আলী, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনা মহামারিতে একরকম ঘরোয়াভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এবার চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে দলটি। স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে তৃণমূলের মাঝে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিবেন দলের নীতিনির্ধারণী কমিটির নেতারা। এ নিয়ে বাস্তবতার আলোকে করণীয় ঠিক করতে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে বসবেন নেতারা। প্রায় এক বছর পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সাথে আলোচনা করবেন। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে করণীয় বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেবেন। আগামী বছরের জাতীয় কাউন্সিল, সংসদ নির্বাচন, সমসাময়িক ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়কে সামনে রেখে তৃণমূল থেকে সংগঠনকে সুসংগঠিত করার কৌশল নির্ধারণ করা হবে বৈঠকে। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সাংগঠনিক রোডম্যাপ নিয়ে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দেবেন বলে ধারণা করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে সীমিত পরিসরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত বছর ৩ অক্টোবর সর্বশেষ সীমিত পরিসরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

বৈঠকের বিষয়ে বার্তা২৪.কমকে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, 'আমাদের ওয়ার্কিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বরাবরের মতো আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় বর্তমান পরিস্থিতিতে বাস্তবতার আলোকে সাংগঠনিক কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, তার বিভিন্ন দিক নিয়ে নির্দেশনা দিতে পারেন শেখ হাসিনা। খুব তাড়াতাড়ি আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ করে সভার তারিখ জানিয়ে দেব।'

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওয়ামী লীগের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৪৩টি এখনো মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১৫টি, চট্টগ্রামের সাতটি, ময়মনসিংহের পাঁচটি, রাজশাহীর চারটি, বরিশালের চারটি, রংপুরের তিনটি, খুলনার চারটি এবং সিলেট বিভাগের একটি সংগঠনিক জেলা।

অন্যদিকে সারা দেশে আওয়ামী লীগের উপজেলা, থানা ও পৌর কমিটির সংখ্যা প্রায় ৬৫০ মতো। এরমধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৬০টি, চট্টগ্রামে ১২৯টি, রাজশাহীতে ৮৩টি, খুলনায় ৭৪টি, রংপুরে ৬৬টি, বরিশালে ৫৩টি, সিলেটে ৪৯টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৯টির মতো কমিটি রয়েছে। জাতীয় সম্মেলনের আগে ১৩৮টির মতো উপজেলা, থানা ও পৌরসভা কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের পরও বেশ কিছু উপজেলা, থানা ও পৌরসভা কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তবে সাড়ে ৬৫০ কমিটির মধ্যে এখনো ৩৫০ অধিক কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। এছাড়া সম্মেলন হওয়া কমিটির অর্ধেকের বেশির পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের শেষের দিকে সারাদেশে ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন, জেলা পরিষদের নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকারের যে নির্বাচনগুলো হবে সেগুলো নিয়ে বিভিন্ন কৌশল নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে আলোচনার একটা বড় অংশজুড়ে থাকবে সামনের বছরে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হতে যাওয়ায় নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে। কীভাবে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন হবে এবং সেখানে আওয়ামী লীগের কি ধরনের ভূমিকা থাকবে।

এছাড়াও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নির্দেশনা আসতে পারে। ওয়ার্কিং কমিটির সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সাংগঠনিক রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে তৃণমূলের মাঝে বিভিন্ন গাইডলাইন দেবেন বলে ধারণা করছেন নেতারা।

আলোচনার বিষয় কি হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল অবঃ ফারুক খান বার্তা২৪.কমকে বলেন, 'সভার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাকে এখনও জানানো হয়নি। তবে এ ধরণের সভায় সাধারণত দলের বিভিন্ন পর্যায়ের চলমান কাউন্সিল নিয়ে আলোচনা হয়। করোনার বর্তামান অবস্থা বিবেচনায় দলের করনীয় এবং সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।'

তবে নতুন করে মেয়াদ শেষে গঠিত নির্বাচন কমিশনের রুপরেখা নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে তিনি জানান।

গত বছর মার্চে করোনা মহামারি শুরু হলে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে নেতা কর্মীদের পুনরায় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করতে নির্দেশ দেন দলীয় সভাপতি। কিন্তু করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের কারণে মাঠ পর্যায়ের সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে মানবিক সহায়তা নিয়ে মানুষের পাশে থাকার কার্যক্রম চলমান রাখে ক্ষমতাসীন দলটি।