চিরনিদ্রায় জিয়াউদ্দিন বাবলু



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু

জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু

  • Font increase
  • Font Decrease

মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু।

শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯ টায় রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। শনিবার বাদ এশা গুলশানের আজাদ মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

এর আগে দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় কাকরাইল চত্বরে রাখা হয় জিয়াউদ্দিন বাবলুর মরদেহ। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীরা তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে হাসপাতালে ভর্তি হন জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কারণে তাকে একবার লাইফ সাপোর্টেও নেয়া হয়েছিল।

২০২০ সালের ২৬ জুলাই তাকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব হিসেবে নিযুক্ত করেন পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।জাতীয় পার্টির মহাসচিব পদে এটি ছিল তার দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব পালন।

এর আগে রুহুল আমিন হাওলাদারকে সরিয়ে ২০১৪ সালের এপ্রিলে জিয়াউদ্দিন বাবলুকে পার্টির মহাসচিব নিযুক্ত করেছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ওই দফায় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তুলে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ১৯৮৬, ১৯৮৮ এবং ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদসের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সত্তরের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ও প্রতাপশালী ছাত্রনেতা ছিলেন বাবলু। নির্বাচিত হয়েছিলেন ডাকসুর জিএস পদে। এরশাদ সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা ছাড়াও পরবর্তী সময়ে এই দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বেও ছিলেন কিছুদিন। চট্টগ্রামের রাউজানের কদলপুরে তার গ্রামের বাসিন্দা বাবলু, ১৯৫৪ সালে ৩১ ডিসেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন।

সরকারি কর্মকর্তা ফরিদা সরকারের সঙ্গে ১৯৮৩ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ফরিদা সরকার ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে ২০০৫ সালে মারা যান। একমাত্র ছেলে আশিকের কথা চিন্তা করে দীর্ঘদিন দ্বিতীয় বিয়ে করেনি। পরে ২০১৭ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের ভাগনির সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।