অকারণেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে: জিএম কাদের



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জিএম কাদের/ ছবি: সংগৃহীত

জিএম কাদের/ ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএ কাদের বলেছেন, মহামারিকালে অনেক যৌক্তিক কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়েছে। কিন্তু এখন কোনও কারণ ছাড়াই প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে জাপার বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দ।

জিএম কাদের বলেন, দেশে বেকারের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে, পরিবারের খরচ বেড়ে যাচ্ছে কিন্তু মানুষের আয় বাড়ছে না। শিক্ষিত অনেক বেকার যুবক কাজ না পেয়ে মাদকে আসক্ত হচ্ছে। কিন্তু কারো যেনো কিছুই করার নেই। বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামেই আমাদের মহান স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। তখন আমাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করেছে পশ্চিম পাকিস্তান আর এখন আমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছি দেশের ভেতরে। দেশে সুশাসনের অভাব আছে। তাই ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে না । কিছু মানুষ কোটি কোটি টাকা খরচ করতে বিদেশে যাচ্ছে, দেশের টাকা পাচার করে বিদেশে অট্টালিকা তৈরি করছে। দেশে মাথাপিছু আয় বেড়েছে কিন্তু দেশের বেশির ভাগ মানুষের পরিবার চালাতে দুঃশ্চিন্তাও বেড়েছে। দুঃশ্চিন্তায় মানুষ ঘুমাতে পারছে না। দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। আয়ের চেয়ে ব্যয় কম হলেই মানুষ সংসার চালিয়ে কিছু সঞ্চয় করতে পারবে, বিপদের সময় সেই সঞ্চয় কাজে লাগে। সঞ্চয় তো দূরের কথা এখন দেশের মানুষ ভালোভাবে দিনই চালাতে পারছে না।

তিনি বলেন, নির্বাচন আর আন্দোলনের সময় সবাই গণতন্ত্রের কথা বলে। কিন্তু, নির্বাচন শেষ হলে গণতন্ত্রের কথা ভুলে যায়। রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি ও রাজনৈতিক বিকৃতির কারণে দেশপ্রেমিক মানুষেরা রাজনীতির মাঠে টিকতে পারছে না। যারা রাজনীতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তারা গণমানুষের কথা ভাবেনা। কারণ, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী গণতন্ত্র চর্চা সম্ভব নয়। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি সৎ ও আদর্শবান রাজনীতিবিদদের নিয়ে এগিয়ে যাবে। সত্য ও ন্যায়ের বিজয় একদিন হবেই।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, প্রতিটি গ্রামে গ্রামে জাতীয় পার্টির কমিটি করতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে থাকতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে দলকে আরও সুসংহত করতে হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে শক্তিশালী জাতীয় পার্টি লড়াই করবে। গণমানুষের আস্থা নিয়ে জাতীয় পার্টি দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে। আগামী দিনে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবে জাতীয় পার্টি।

নব-নিযুক্ত মহাসচিবকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির কো- চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, এডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিন্টু, প্রাক্তন সৈনিক পার্টির সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন, তাড়াইল উপজেলার সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম শাহীন, করিমগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আসমা বেগম, চান মিয়া।

উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, এডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, উপদেষ্টা মনিরুল ইসলাম মিলন, ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াহ ইয়া চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব মো. জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, ফখরুল আহসান শাহজাদা, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হুমায়ুন খান, সাইফুদ্দিন খালেদ, আনোয়ার হোসেন তোতা, সৈয়দ ইফতেকার আহসান হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, এমএ রাজ্জাক খান, এসএম আল জুবায়ের, গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।