ইকবাল এতোদিন কোথায় ছিল?- প্রশ্ন ফখরুলের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • Font increase
  • Font Decrease

কুমিল্লার পূজামণ্ডপের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া যুবক ইকবাল হোসেন এতোদিন কোথায় ছিলো তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শারদীয়া দুর্গাপূজার সময়ে বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপে হামলার কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে শুক্রবার (২২ অক্টোবর) বিকালে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এই প্রশ্ন তুলেন।

তিনি বলেন, ‘এটা তো পরিষ্কার পত্র-পত্রিকাগুলো সব দেখেন, দেখলেই বুঝতে পারবেন। এটা সত্য ঘটনা সবাই এটা মানে যে, সরকারের মদদ ছাড়া কখনো সাম্প্রদায়িক সমস্যা তৈরি হয় না। যারা সরকারে থাকে তারাই করে।'

‘আজকে যে পত্র-পত্রিকায় লেখা হচ্ছে, এই যে ইকবালের কথা কিছুক্ষণ আগে একজন বললেন। ইকবাল নামে একজন বলা যেতে পারে একটা অপ্রকৃতিস্থ এবং মাদকসেবী তাকে ধরা হয়েছে। এটা (ইকবাল) এত দিন কোথায় ছিলো? এই বিশ্বাসটা কে করবে? কারা তাকে সেখানে নিলো?'

শারদীয়া দুর্গাপূজার মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে নানুয়া দীঘির পাড়ে দর্পন সংঘের পূজামন্ডপে হনুমানের মূর্তির কোলে মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআর রাখা দেখে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। হামলা, ভাংচুর চালানো হয় অন্তুত শহরের আটটি মন্দিরে। তার জের ধরে সেদিনই চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মন্দিরে হামলা হয়, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয় পাঁচজন। এর পরের কয়েকদিনে নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ কয়েকটি জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপরে হামলা হয়। তাতে নোয়াখালীতে নিহত হয় দুই জন।

সারা দেশে পূজামণ্ডপে সংঘটিত হামলা ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে সরকারকে উদ্দেশ্যে করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘কেনো আপনারা (সরকার) ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে গেলো সেখানে কোনো পুলিশ পাঠালেন না বা পুলিশ গেলো না বা পুলিশ থেকেও কোনো ব্যবস্থা নিলো না। কেনো এটা হলো?'

‘রংপুরের ঘটনায় দেখলাম আমরা একদিকে ওসি, চেয়ারম্যান সবাই মিলে আলোচনা করছে একটা আপোষ করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বাইরে থেকে এসে লোকজন মাঝি পাড়া জ্বালিয়ে দিয়েছে। দুর্ভাগ্য। তাহলে কি আমরা বলব যে, তাদের ছত্রছায়ায় এই ঘটনা ঘটেছে।'

তিনি বলেন, কুমিল্লার ঘটনার পর ওবায়দুল কাদের সাহেব কী করলেন? যখনই সেইদিন ঘটনাগুলো ঘটলো প্রথমে ওবায়দুল কাদের সাহেব বললেন, এটা বিএনপি-জামায়াতের লোকেরা করেছে। কথায় কথায় উনি একটাই কথা বলেবেন যে, যত দোষ নন্দ ঘোষ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকার একেক সময়ে একেকটা বিভাজন তৈরি করছে। সেই বিভাজনে একেক সময় একেকটাকে সামনে নিয়ে আসে। স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি, বিপক্ষের শক্তি, গণতন্ত্রের পক্ষে শক্তি, বিপক্ষের শক্তি। এখন তারা ধর্মীয় বিভাজনে নেমে পড়েছে কি করে মানুষের মূল যে সমস্যা সেই সমস্যা থেকে তাদেরকে বিভ্রান্ত করা যায়।'

দেশের অবস্থা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, 'দেশের মানুষ দুঃসহ অবস্থার মধ্যে বাস করছে। একদিকে প্রতিদিন জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়ছে। চাল, তেল, লবন, চিনির দাম বেড়ে গেছে। কিন্তু মানুষের প্রকৃত আয় বাড়েনি। যার ফলে মানুষ গরীব থেকে আরো গরীব হচ্ছে আর আওয়ামী লীগের লুটেরারা ধনী থেকে ধনী হচ্ছে। দুর্নীতি এমন একটা পর্যায় গেছে এখন বলা হয় যে, সিষ্টেম অব দ্য স্টেট হচ্ছে দুর্নীতি।'

সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ের মিলনায়তনে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপলক্ষে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭৪ সালে মাওলানা আবদুল মতিনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ লেবার পার্টি প্রতিষ্ঠা হয়।