ফেঁসে যাচ্ছেন মেয়র জাহাঙ্গীর, শুক্রবার সিদ্ধান্ত



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম

  • Font increase
  • Font Decrease

বঙ্গবন্ধু ও মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তির ঘটনায় ফেঁসে যেতে পারেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। দলীয় ও মেয়র পদ হারানোর পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা হতে পারে বলে দলীয় সূত্র আভাস দিয়েছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় গাজীপুর সিটি মেয়রের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। শোকজের জবাব সন্তোষজনক হয়নি বলেই বিষয়টি সভায় উঠছে। মেয়র যেসব কথা বলেছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। তাকে শাস্তি দেওয়া না হলে দলের চেইন অব কমান্ড ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ভবিষ্যতে আরও অনেকেই এমন কটূক্তি করার দুঃসাহস দেখাতে পারেন। তাই আওয়ামী লীগ তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দিকেই অগ্রসর হচ্ছে।

অল্প বয়সে মেয়র হয়ে চমকে দেওয়া জাহাঙ্গীর আলমের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে। সেই অডিওতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে নানা রকম মনগড়া তথ্য উত্থাপন করেছেন তিনি। এতে বঙ্গবন্ধুকেও খাটো করা হয়েছে। অডিও ফাঁসের পর ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তারা মেয়রের কুশপুত্তলিকা দাহসহ ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

মেয়র জাহাঙ্গীর প্রথম থেকেই অডিওটি এডিটিং করা বলে দাবি করে আসছেন। তার এসব বক্তব্যে স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করতে চাইছে না। তাদের বক্তব্য হচ্ছে তাহলে মেয়র নিজেই প্রমাণ করুক বিষয়টি মিথ্যা।

স্থানীয়দের বিক্ষোভের পর কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ গত ৩ অক্টোবর শোকজ নোটিশ পাঠায় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদককে। ইতিমধ্যেই শোকজের জবাব দিয়েছেন মেয়র জাহাঙ্গীর। তবে, তার সেই জবাব নিয়ে গত ২২ অক্টোবর আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়।

পরদিন (২৩ অক্টোবর) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ অন্যান্য আরও কিছু সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী উপস্থাপনীয় অভিযোগ আগামী ১৯ নভেম্বর গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভায় উত্থাপিত হবে।

গাজীপুরে মেয়রের কুশপুত্তলিকা দাহসহ ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন

এবিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ গণমাধ্যমকে বলেছেন, মেয়র জাহাঙ্গীরের যে বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে সেটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আমাদের আহত করেছে।

তিনি আরও জানান, জাহাঙ্গীরের বক্তব্যের সত্যতা খুঁজে পাওয়া গেছে বলেই তাকে শোকজ করা হয়েছে। ইস্যুটির মীমাংসা করতে কার্যনির্বাহী সংসদের সভা আহ্বান করা হয়েছে ১৯ নভেম্বর। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তি করা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। সেই আলোকেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তরুণ এই মেয়রের জীবনটাই রহস্যে ঘেরা। এক যুগ আগেও হারিকেন এলাকায় ফজলুর রহমান মুন্সীর বাসায় ভাড়া থাকতেন। আর এখন তার বিত্তবৈভবের ইয়াত্তা নেই, বিশাল জমির ওপর প্রাসাদতম বাড়ি করেছেন। বাসার গ্যারেজে শোভা পাচ্ছে একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি। বাসা থেকে বের হন ক্যাডার পরিবেষ্টিত গাড়ির বহর নিয়ে। যদিও উল্লেখ করার মতো দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা নেই। স্থানীয়রা দাবি করেছেন তার প্রধান আয়ের পথ হচ্ছে শিল্পনগরী গাজীপুরে চাঁদাবাজি, আর জমির দেন দরবার। তাকে বখরা না দিয়ে ব্যবসা করা প্রায় অসম্ভব বলে জনশ্রুতি রয়েছে। আর নতুন শিল্প করতে গেলে তো কথায় নেই। কৌশলে জমি-জমা নিয়ে জটিলতা বাঁধিয়ে দেওয়া হবে। এরপর সমঝোতার নামে বাসায় ডেকে লাইনে আনা হয়।

আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষনেতার আনুকূল্য পেয়ে অন্যদের থোড়াই কেয়ার করেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তার কাছে কোনই গুরুত্ব নেই, যারাই তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার চেষ্টা করেছে তাদেরকেই নানাভাবে শায়েস্তা করেছেন।

গত বছরের মে মাসে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (অঞ্চল-৪) নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। রহস্যবৃত্ত ওই হত্যাকাণ্ড নিয়েও নানা রকম জনশ্রুতি রয়েছে। মৃত্যুর কয়েক মাস আগে প্রকৌশলী দেলোয়ার তার (নুরুন নবীর) ছেলেকে বলেছিলেন, সে আর চাকরি করবে না। এতো চাপ সহ্য হয় না। অনেক সময় তাকে মোবাইলে ফোন করে চাপ প্রয়োগ করা হতো।

মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাহাড় পরিমাণ। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প গৃহায়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, ভূমিখোরদের সাথে আতাত, অধিগ্রহণকৃত ভূমির মূল্যপরিশোধে টালবাহানা, অবৈধ দখলদারদের সাথে সখ্য, সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স নবায়নে অনীহা, দুর্নীতি স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতায় সিটির বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমতউল্লাহ খান গণমাধ্যমকে জানান, দুর্নীতি স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃতি এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ, দলীয় হাই-কমান্ড দলের গঠনতন্ত্র এবং আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আওয়ামী লীগ কখনো অন্যায়ের সাথে আপোষ করেনি। দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ, ভাবমূর্তি নষ্টকারী, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃতিকারী কারও ঠাঁই আওয়ামী লীগে হবে না।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মামুন মন্ডল বলেন, গাজীপুর মহানগরের হাজার হাজার ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। শত শত পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে রাস্তায় বসবাস করছে। জমি দখল ও ঘরবাড়ি ভেঙে রাস্তা নির্মাণ করার নামে বহু পরিবার তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে। তিনি বিভিন্ন সময়ে সময় মতো সিটি করপোরেশনের মাসিক সভা না করেই এককভাবে অনেক নীতি বর্হিভূত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। টেন্ডার না দিয়েই অনেক কাজ করিয়েছেন। যা নিয়ে কাউন্সিলরদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মেয়র জাহাঙ্গীরকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে এসএমএস দিলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

শাবিপ্রবি'র শিক্ষার্থীদের সমর্থনে দেশব্যাপী 'প্রতীকী অনশন' করবে ছাত্রদল



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে দেশব্যাপী 'প্রতীকী অনশন' করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

সোমবার (২৪ জানুয়ারি) ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক সোহেলের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদ্যমান অবৈধ অগণতান্ত্রিক সরকারের পদলেহী ভিসি ও বাকশালি পুলিশ কর্তৃক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ে আন্দোলনরত নিরীহ শিক্ষার্থীদের উপর নির্বিচারে গুলি ও বর্বর হামলার প্রতিবাদে ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবীর প্রতি সংহতি জানিয়ে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ।

কর্মসূচি:

আগামী ২৫ দেশের সকল জেলা, মহানগর ও জেলা সমমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত 'প্রতীকী অনশন' কর্মসূচি পালন করবে। একইভাবে ছাত্রদলের প্রতিটি উপজেলা, থানা, পৌরসভা ও উপজেলা সমমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইউনিট স্ব স্ব উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩ টা পর্যন্ত 'প্রতীকী অনশন' কর্মসূচি পালন করবে।

আগামী ২৮ জানুয়রি থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি ও তাদের যৌক্তিক দাবীর স্বপক্ষে সারাদেশে ছাত্রদলের প্রতিটি ইউনিটে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচার প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল ঘোষিত কর্মসূচি পালন করার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সকল নেতা-কর্মীদের আহবান জানিয়েছেন।

;

বিএনপির মরা গাঙের খরা কাটেনি: কাদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রচুর পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ ও বিদেশে লবিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রের নতুন নতুন নাটক মঞ্চায়ন করেও বিএনপির মরা গাঙের খরা কাটেনি। তাই তারা উদ্ভ্রান্তের মতো প্রলাপ বকতে শুরু করেছে।

রোববার (২৩ জানুয়ারি) আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের বিভ্রান্তিকর মন্তব্য ও লাগাতার মিথ্যাচারের প্রতিবাদে এসব কথা বলেন তিনি।

বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনীতির মাঠে পরাজিত বিএনপি এখন নির্বাচন কমিশন গঠন আইন নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। এই আইনকে শুধু নয়, তারা বরাবরের মতো নির্বাচন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাঁয়তারা করছে। বিএনপি নেতৃবৃন্দ উত্থাপিত আইনটি সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে না জেনে এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে এই প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিপ্রায়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর মন্তব্য ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

গণতান্ত্রিক কাঠামো ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি বিএনপির কোনো শ্রদ্ধাবোধ নেই উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বন্দুকের নলের মুখে অসাংবিধানিক ও অবৈধ পন্থায় ক্ষমতা দখল করে যাদের নেতা নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করতে পারে আইনি কাঠামোর প্রতি তাদের আস্থা থাকবে না এটাই স্বাভাবিক।সংবিধান ও আইন লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে যাদের জন্ম তাদের কাছে যে কোনো আইনি কাঠামোই তামাশা মনে হবে। কারফিউ মার্কা গণতন্ত্রের যে প্রহসনের বীজ তাদের অস্থিমজ্জায় প্রথিত তা থেকে এখনো তারা বেরিয়ে আসতে পারেনি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি আইন প্রণয়নের দাবি সর্বমহল থেকে উঠে এসেছে। দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন-২০২২’ নামে আইনের একটি খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দিয়েছে। এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, একই সাথে এই আইন পাসের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে জটিলতা নিরসনে সমাধানের স্থায়ী পথ উন্মুক্ত হতে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় মহান জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপিত হয়েছে। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী সংসদে উত্থাপিত বিলটি আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে সুপারিশ আকারে সংসদের বৈঠকে উঠবে এবং সংসদীয় বিধান অনুযায়ী সংসদে আলোচনার মধ্য দিয়ে আইনটি চূড়ান্ত হবে। এটাই আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠন আইন সম্পর্কিত বিলটির ওপর জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সকল রাজনৈতিক দল আলোচনা করবেন এবং নিজেদের মতামত ব্যক্ত করবেন। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী আইন প্রণয়নের ক্ষমতা মহান জাতীয় সংসদের ওপর ন্যস্ত রয়েছে। সে মোতাবেক সংসদে উত্থাপিত বিলটি যথাযথ প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক রীতি-নীতির মধ্য দিয়েই পাস হবে বলে আশা রাখে।

;

গোপালপুরে আওয়ামী লীগের ৮ নেতা বহিষ্কার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, টাঙ্গাইল
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ৬ষ্ঠ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পাঁচটি ইউনিয়নে ভোট অনুষ্ঠিত হবে ৩১শে জানুয়ারি । উক্ত নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় নির্দেশনা অমান্য করা ৭জন বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ৮ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. আবু ফারুক মিঞা, উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক মো. মফিজুর রহমান লুৎফর, উপজেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক সেলিম আজাদ, হাদিরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আলমগীর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. গোলাম মোস্তফা আঙুর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. আ. হাই, উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শফিক তালুকদার।

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম, এমপি স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ আদেশ দেয়া হয়।

;

সরকারের সমালোচনা আর রাষ্ট্রদ্রোহিতা এক জিনিস নয়: রিজভী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারের সমালোচনা আর রাষ্ট্রদ্রোহিতা এক জিনিস নয় বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ যারা বিদেশে আছেন-প্রবাসী, তারা যদি এই সরকারের সমালোচনা করেন তাদের পাসপোর্ট বাতিল হয়ে যাবে। তাদের নাগরিকত্ব থাকবে না। সরকারের সমালোচনা আর রাষ্ট্রদ্রোহিতা তো এক জিনিস নয়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে এটার আলোচনা হয়েছে। পাসপোর্ট তো একটা ট্রাভেল ডকুমেন্টস এটা বাতিলের মধ্য দিয়ে আপনারা কী বোঝাতে চাচ্ছেন? তাহলে তো আন্তর্জাতিকভাবেই তাদেরকে নাগরিক শূন্য করে দিলেন। তার কোন রাষ্ট্র থাকলো না। রাষ্ট্রহীন একজন নাগরিক হিসেবে বাতাসে বাতাসে ভেসে বেড়ানো ছাড়া তার আর কোন উপায় থাকবে না।

রোববার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় তাঁতীদলের উদ্যোগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের বিরোধীতা করলে দেশে গুম হয়ে যায় মন্তব্য করে রিজভী বলেন, সরকারের সমালোচনা করলে বিচারবহির্ভূত হত্যার স্বীকার হতে হয়। তাই দেশের বাহিরে বসে যারা সরকারের সমালোচনা করছেন, তাদের ধরতে এখন গবেষণায় বসছেন। সেজন্য দেখা যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কেউ বক্তব্য দিচ্ছে তার বোনকে ধরে নিয়ে গিয়ে কারাগারে রাখা হচ্ছে। এত জুলুমবাজ, এত ভয়ঙ্কর অত্যাচারী সরকারের দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে আর নেই।

রিজভী বলেন, সরকার বিরোধী দল শূন্য বাংলাদেশ চায়, সরকার বিরোধী মত শূন্য বাংলাদেশ চায়। এখন নাগরিক শূন্য রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টায় লিপ্ত এই সরকার।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ৭২ সালের সংবিধানে নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি আইন করার নির্দেশনা দেওয়া আছে। অনেকেই বলছে আইন নাই, আইন নাই। সরকার ভাবলো আমরা এটার একটা সুযোগ নেই। আপনি তো আইন করবেন একটি বাকশালী পার্লামেন্টে। পার্লামেন্টে দু'একজন ছাড়া সবই তো আপনার।

তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে বিএনপির তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম খান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, তাঁতীদলের সদস্য সচিব মুজিবুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

;