মেজাজ গেল বিগড়ে মাঝ রাতে ফোন দিলাম এরশাদকে



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ

  • Font increase
  • Font Decrease

 

পরদিন সকাল ১০টায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাতীয় পার্টির জনসভা, প্রধান অতিথি সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। টানা ১৫ ঘণ্টার জার্নি শেষে রাত সাড়ে ১১টায় শ্যামনগর হোটেলের রুম দেখে রক্ত মাথায় ওঠার জোগাড়।

হোটেল বুকিং দিয়েছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এইচএম গোলাম রেজা। তাকে ফোন দিয়ে অস্বস্তির কথা জানানো হলো, তিনি খানিকটা বিরক্ত হলেন মনে হলো। বললেন, এখানে এর চেয়ে ভালো হোটেল নেই, ওই একটি মাত্র হোটেল রয়েছে। একটি রাতের বিষয়তো কষ্ট করে থাকতে হবে। আর কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ফোন কেটে দিলেন। এবার মেজাজ গেল আরও বিগড়ে। অথচ সন্ধ্যায় যখন সাতক্ষীরা শহর অতিক্রম করি, তখন গোলাম রেজাই ফোনে বলেছিলেন, আপনারা চাইলে সাতক্ষীরা শহর কিংবা শ্যামনগর যেখানে ইচ্ছা থাকতে পারেন, ভালো ব্যবস্থা রয়েছে।

আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, রাতেই পথটা এগিয়ে রাখতে, যেহেতু এরশাদ সকাল ১০টায় আসবেন শ্যামনগরে। সকালে একটু সময় নিয়ে বিছানা ছাড়তে যারা চান তাদের ইচ্ছাটা খানিক বেশিই ছিল। সংসদ সদস্যের আচরণে টিমের সকলেই মহাবিরক্তি প্রকাশ করলেন। এবার বাধ্য হয়ে ফোন দিলাম জাতীয় পার্টির তৎকালীন মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে। টানা দুই বার কল করলেও রিসিভ করলেন না।

সাত-পাঁচ কিছু না ভেবেই ফোন দিয়ে বসলাম হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে। দ্বিতীয়বার রিং বেজে উঠবার আগেই রিসিভ করলেন। সিরাজ কোন সমস্যা, এতো রাতে ফোন দিয়েছো যে! তাকে জানালাম, স্যার আপনিতো জানেন আমরা কয়েকজন সাংবাদিক শ্যামনগরে এসেছি আপনার সাতক্ষীরা সফর কভারেজ দেওয়ার জন্য। এখানে যে হোটেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে দম বন্ধ হয়ে আসার মতো অবস্থা। এখানে কেউ কোন দিন থেকেছে বলে মনে হয় না। জবাবে এরশাদ বললেন, তোমরা রেজাকে জানাওনি সমস্যার কথা? জানিয়েছিলাম রাতটুকু কষ্ট করে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। আমি দেখছি, তোমরা চিন্তা করো না বলে ফোন কেটে দিলেন।

মিনিট কয়েকের মধ্যেই হন্তদন্ত হয়ে ছুঁটে এলো জাপার সংসদ সদস্য গোলাম রেজা। প্রথমেই সরি দিয়ে বাক্য শুরু করলেন। বললেন, সুন্দরবন ঘেষা মুন্সীগঞ্জে সুশীলন রিসোর্টে থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। পথে যাতে কোন সমস্যা না হয় তার জন্য কতগুলো মোটরবাইক স্কর্ট দিতে পাঠালেন। কারণ রাস্তাটি ছিল ডাকাতি প্রবণ। ভাঙা রাস্তা ঘণ্টা দেড়েক লাগলো সুশীলনে পৌঁছতে। সেখানে গিয়ে দেখি সব ভিভিআইপি কক্ষগুলো রেডি করে রাখা হয়েছে। ডগমগে চাঁদনি রাতে সুশীলন থেকে সুন্দরবন দৃশ্যমান। মাঝে শুধু একটি নৌচ্যানেল, নিরাপত্তা প্রহরীরা জানালেন চ্যানেল পেরিয়ে এদিকটায় বাঘের আসার অনেক রেকর্ড রয়েছে।

যথারীতি পরদিন হেলিকপ্টার যোগে শ্যামনগরে নামলেন এরশাদ। ৫ দিনের সফরের প্রথমদিনে ২টি জনসভা ও কয়েকটি পথসভায় অংশ নিলেন। এরশাদের সাতক্ষীরা সার্কিট হাউসে রাত্রীযাপনের ব্যবস্থা ছিল। পরদিন ছিল তালা ও কলারোয়া উপজেলায় জনসভা।

সকালে নাস্তার পর রুমে এসে বেরুনোর প্রস্তুতি নিচ্ছি, এরশাদের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আব্দুর রহিম এসে জানালেন, স্যার আপনাকে ডেকেছেন। ট্যুরে গেলে তিনি সবসময় কথা বলেন, আমি মনে করেছিলেন তেমন কিছু হবে হয়তো। রুমে ঢুকে দেখি মুখ গম্ভীর করে সোফায় বসে আছেন এরশাদ। আর পাশের লম্বা সোফায় মুখ কালো করে বসে আছেন গোলাম রেজা, তারপাশে বসা এরশাদের ব্যক্তিগত সহকারী মেজর (অব.) খালেদ আখতারের আতঙ্কিত চেহারা। কিছু একটা হয়েছে আঁচ করলাম, কিন্তু তখনও বিস্ময়ের খানিকটা বাকি। আমাদেরকে উল্টো দিকের সোফায় বসতে বলে, পাশের রুমে থাকা রুহুল আমিন হাওলাদারকে ডাকতে বললেন। রুমের মধ্যে পিনপতন নিরবতা। হাওলাদার রুমে ঢুকতেই কথা শুরু করলেন এরশাদ। প্রথমে গোলাম রেজাকে ঝাড়লেন ছোটলোক, অসামাজিক অনেক বিশেষণ যোগ করলেন। বললেন, আমি ওদের (সাংবাদিকদের) পাঠিয়েছি, ব্যবস্থা ঠিকমতো হলো না কেনো। তুমি দায়িত্ব নিতে পারবানা তাহলে আগে জানালে কেনো। আমাকে ফোন দিতে হলো কেনো? তোমার মতো ছোট লোকের দরকার নেই আমরা পার্টিতে, তুমি রিজাইন দিয়ে দাও। আরও অনেক আক্ষেপ ঝাড়লেন, গোলাম রেজা হাত জোড় করে হাঁটুর মধ্যে গুজে মাথা নিচু করে থাকলেন পুরো সময়।

এরপর শুরু ধরলেন পার্টির মহাসচিব হাওলাদারকে। তাকে প্রথমেই প্রশ্ন করলেন তুমি ওদেরকে (সাংবাদিক) পাঠিয়ে দায় সারলে। ওদের খোঁজ নিয়েছিলে কি? ওরা ঠিকমতো পৌঁছাল কিনা। তাদের কোন সমস্যা আছে কিনা! মহাসচিবের নিরবতা দেখে, অগ্নিমূর্তি এরশাদ বললেন, তুমি পার্টি চালাতে না পারলে রিজাইন দাও। তোমার মতো মহাসচিবের দরকার নেই আমার। এরপর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারির হাতে ১ লাখ টাকার একটি বান্ডিল ধরিয়ে দিয়ে বললেন, রহিম তুমি এই ছোটলোকদের আশায় থাকবা না। ওরা (সাংবাদিকরা) যখন যা খেতে চায় খাওয়াবা। কোন যেনো সমস্যা না হয়, টাকা শেষ হলে আবার নিবা।

আরেকটি ঘটনা ২০১৩ সালের দিককার হবে মনে হয়। মুন্সীগঞ্জ জেলায় বিশাল জনসভা, আয়োজক জাতীয় পার্টির ডোনার খ্যাত যমুনা গ্রুপের অন্যতম কর্নধার সালমা ইসলাম। দুপুর দেড়টায় জনসভায়, সিডিউল ছিল সার্কিট হাউসে খেয়ে জনসভায় যোগ দেবেন এরশাদ। জ্যামের কারণে পৌঁছাতে বেলা ৩টা গড়িয়ে যায়। সার্কিট হাউস গিয়ে খাবার সারেন এরশাদ। নিজের খাওয়া শেষে ডাইনিং টেবিলে বসেই জানতে চাইলেন সাংবাদিকরা খেয়েছে কিনা। ৩ জন সাংবাদিকের খাওয়া হয়নি জানতে পেরে, ডাইনিং টেবিলে তার ডান পাশ বসা কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্যকে তুলে দিয়ে সেই চেয়ারগুলোতে বসতে বললেন। খাবার দিতে দেরি হচ্ছে দেখে আবার তাগাদা দিলেন। খাবার পরিবেশনকারী বয়টি বললেন, স্যার খাবারতো শেষ হয়ে গেছে, দ্বিগুণ লোক খাইয়েছি আমরা। ওই সময়ে সালমা ইসলাম এসে এরশাদকে অনুরোধ করলেন, স্যার এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে, লোকজন চলে যাচ্ছে। ওনারা (সাংবাদিকরা) খেয়ে আসুক আপনি সভামঞ্চে উঠুন। এবার এরশাদ বলে উঠলেন, তাহলে সভা বাতিল করে দাও। ওরা খাবে তারপর উঠবো আমি। আমরা ভীষণ লজ্জার মধ্যে পড়ে গেলাম, অনুরোধ করেও তার সিদ্ধান্ত থেকে টলানো গেলো না। হোটেল থেকে বিরিয়ানির প্যাকেট এনে খাইয়ে তারপর ডাইনিং টেবিল থেকে উঠলেন এরশাদ।

সভাশেষে ঢাকায় ফেরার সময় বললেন, তোমরা সবসময় আমার গাড়িকে ফলো করবা। আমার পিছে পিছে চলে আসো। ঢাকা ফিরে সোজা সোনারগাঁও হোটেলে গিয়ে ঢুকে পড়লেন। টেবিলে গিয়ে বললেন, আমি দুঃখিত দুপুরে তোমাদের খাবারটা ঠিকমতো হয়নি। এখানে শান্তি করে খেয়ে নাও।

আমার সাংবাদিকতা জীবনে এরশাদ ছাড়া অনেক রাজনীতিবিদ, অনেক বড় বড় আমলা ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে দেশ বিদেশ সফর করেছি। জাতীয় পার্টির পাশাপাশি বিএনপির চাঁপাই লংমার্চসহ একাধিক বড় বড় কর্মসূচি কভারেজ দিয়েছি। এরশাদ ছিলেন অনন্য ও অসাধারণ। আমার দৃষ্টিতে সাংবাদিকদের খাতির যত্নে তিনি ছিলেন অতুলনীয়। তাকে ডিঙানো থাক তো দূরের কথা সমকক্ষ কাউকে দেখিনি। খোঁজ করলে হয়তো তারও ভুঁড়ি ভুঁড়ি দোষ পাওয়া যাবে। আমরা না হয় তার ভালো গুণগুলোকেই ধারণ করবো।

   

আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভা শনিবার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভা বসবে শনিবার। এদিন সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাসময়ে সভায় উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার (৩ মে) আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

এর আগে, গত ২৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ ফরম বিক্রি শুরু হয়ে ২৯ এপ্রিল বিকেল পর্যন্ত চলে। এসময়ের মধ্যে ঝিনাইদহ-১ আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান ২৫ জন।

শনিবারের সভায় আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড ওই আসনের উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করবে।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই গত ১৬ মার্চ ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া এ আসনে আগামী ৫ জুন ভোটগ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

;

জনগণের কাছে হেরে যাওয়ার আগে ক্ষমতা ছেড়ে দিন: ফারুক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪. কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ জয়নুল আবেদিন ফারুক বলেছেন, জনগণের কাছে হেরে যাওয়ার আগে ক্ষমতা ছেড়ে দিন।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতকালের সংবাদ সম্মেলনে একটি বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকলে বড় কথা বলা যায়। ক্ষমতায় থাকলে গ্রেফতারও করা যায়। ক্ষমতায় থাকলে বিনা কারণে খালেদা জিয়াকে জেলে রাখা যায়। কিন্তু জনগণ যখন রাস্তায় নেমে পড়বে তখন এ সকল কথায় কোন কাজ হবে না। তখন ক্ষমতা আপনাকে ছাড়তেই হবে। তাই বলবো, জনগণের কাছে হেরে যাওয়ার আগে ক্ষমতা ছেড়ে দিন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইনটা পাস করে দিয়ে নিরবে বিদায় নেন।

শুক্রবার (৩ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে 'দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সহ সকল জাতীয় নেতৃবৃন্দের নিঃশর্তে মুক্তির দাবিতে' আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিক্ষোভ সমাবেশেটির আয়োজন করে স্বাধীনতা অধিকার আন্দোলন।

জয়নুল আবেদিন ফারুক বলেন, বিএনপির তো অস্তিত্বই নাই। বিএনপি নাকি টিকবে না, বিএনপি অসত্য কথা বলে। বিএনপি বাসে আগুন দেয় বিএনপি মানবাধিকার লঙ্ঘন করে তাই বিএনপি'র অস্তিত্ব থাকতে পারে না। এই সকল কথাগুলো আওয়ামী লীগ নেতাদের মুখ থেকে ১ টি বছর যাবত শুনে আসছি এবং এখনো শুনতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, গতকাল প্রধানমন্ত্রীর একটি সংবাদ সম্মেলন পত্রিকায় এসেছে। যে দেশে মানবাধিকার এবং সংবিধান লুন্ঠিত হচ্ছে এমন একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন , আমাকে ছাড়া আর এদেশে কাকে প্রধানমন্ত্রী করবে, কেইবা আছে। কিন্তু আমি বলব আপনাকে সরাবার ইচ্ছা আমাদের ছিল না। কারণ বিএনপি এমন একটি নেতার দল যে নেতা বাংলাদেশকে তলা বিহিন ঝুড়িতে রূপান্তরিত করেছে। তাই এমন নেতার দল কস্মিনকালেও ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করতে পারে না।

ষড়যন্ত্র মূলত আওয়ামী লীগ করে এমন মন্তব্য করে জয়নুল আবেদিন ফারুক বলেন, আপনারা যদি ষড়যন্ত্র না করতেন তাহলে ২০১৪ সালে কেন বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচনে গেলেন। কেন ২০১৮ সালে বিএনপি'র সঙ্গে অঙ্গীকার করার পরও দিনের ভোট রাতে করলেন। কেন ২০২৪ সালের ৭ই জানুয়ারি ভাই ভাই ডামি ভোট করলেন। এ সকল কথার উত্তর আপনাকে একদিন দিতে হবে।

জয়নুল আবেদিন ফারুক বলেন, বিএনপি আপনাকে এবং আপনার দল আওয়ামী লীগ কে ক্ষমতা থেকে সরাতে চায় এই কারণে যে জনগণ চায় না আপনারা আর ক্ষমতায় থাকেন। কারণ জনগণ চায় না তিন টাকার কলা ১৪ টাকায় কিনুক। দ্রব্যমূলের এই ঊর্ধ্বগতির মধ্যে আপনি বিরোধী দলের নেতাদেরকে যেভাবে বিনা কারণে জেলখানায় রাখছেন, তাতে জনগণ মনে করে আপনার দ্বারা সুষ্ঠু নির্বাচন কখনোই সম্ভব না। আর আপনার আমলে অর্থনৈতিক কোন কালেই চাঙ্গা হবে না। তাই জনগণ চাচ্ছে আপনি সরে যান। যার প্রমাণ জনগণ ৭ জানুয়ারির ভোটে দিয়েছে, কয়েক পার্সেন্টও ভোট পড়েনি।

জয়নুল আবেদিন ফারুক বলেন, ক্ষমতায় থাকলে বড় কথা বলা যায়। ক্ষমতায় থাকলে গ্রেফতারও করা যায়। ক্ষমতায় থাকলে বিনা কারণে খালেদা জিয়াকে জেলে রাখা যায়। কিন্তু জনগণ যখন রাস্তায় নেমে পড়বে তখন এ সকল কথায় কোন কাজ হবে না। তখন ক্ষমতা আপনাকে ছাড়তেই হবে। তাই বলবো জনগণের কাছে হেরে যাওয়ার আগে ক্ষমতা ছেড়ে দিন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইনটা পাস করে দিয়ে নিরবে বিদায় নেন।

স্বাধীনতা অধিকার আন্দোলনের ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপার্সন উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবীব, বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দীকী, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য আলমগীর হোসেন, ওলামা দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আলমগীর হোসেন, সাবেক ছাত্র দলের সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, মৎস্যজীবী দলের ইসমাইল হোসেন সিরাজী, আদর্শ নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি মীর আমির হোসেন আমু প্রমুখ।

;

নওগাঁয় আ. লীগ নেতার নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণ: ছাত্রদলের ২ নেতাকে শোকজ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নওগাঁ
ছবি: সংগৃহীত, বিল্লা ও সৌরভ - নওগাঁ পত্নীতলার ছাত্রদল নেতা

ছবি: সংগৃহীত, বিল্লা ও সৌরভ - নওগাঁ পত্নীতলার ছাত্রদল নেতা

  • Font increase
  • Font Decrease

নওগাঁর পত্নীতলায় প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ‘ঘোড়া’ মার্কার প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক চৌধুরীর নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণ করায় ছাত্রদলের দুই নেতাকে শোকজ করা হয়েছে।

আব্দুল খালেক চৌধুরী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। বৃহস্পতিবার রাতে নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ফরহাদ হোসেনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

শোকজ পাওয়া ছাত্রদলের দুই নেতা হলেন, নজিপুর পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ হোসেন সৌরভ ও নজিপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ন আহ্বায়ক আবু হোরাইরা বিল্লা।

শোকজ নোটিসে উল্লেখ করা হয়, পত্নীতলা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আপনি এক প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছেন। দল যেখানে নির্বাচন থেকে দূরে আছে, যা দলীয় শৃঙ্খলা, এমন অবস্থায় আপনার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় কেন সাংগঠনিক চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, চিঠি পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরাসরি উপস্থিত হয়ে নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নিকট লিখিত জবাব প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হইলো৷ অন্যথায়, আপনার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শোকজের বিষয়ে জানতে ছাত্রদল নেতা বিল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সবাই জানে যে, চৌধুরী সাহেবের সঙ্গে বেশি চলাফেরা। তার সঙ্গে থাকি। একটু ঘোরাঘুরি করেছি। সেজন্য জেলা থেকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে।

অন্যদিকে, আরেক ছাত্রদল নেতা আরিফ হোসেন সৌরভের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মামুন বিন ইসলাম দোহা বলেন, নজিপুর পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ হোসেন সৌরভকে আমরা ভিডিওতে প্রচারণায় দেখতে পেয়েছি। এই জন্য আমরা তাকে বহিষ্কার করবো এবং নজিপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু হোরাইরা বিল্লাকে ফোন করা হলে ‘পরবর্তীতে এমন ভুল হবে না’ জানিয়ে আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

;

বিএনপি নেতাদের অবহেলার জন্য বেগম জিয়ার বিচার প্রলম্বিত হচ্ছে: কাদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি নেতাদের অবহেলার জন্য বেগম জিয়ার বিচার প্রলম্বিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার (৩ মে) দুপুরে ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন।

বেগম জিয়ার বিদেশে চিকিৎসায় সরকার বাধা দিচ্ছে বিএনপির এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আওয়ামী লীগ করেনি। সেই মামলায় গ্রেফতার ও বন্দি হয়েছেন। আমি বলবো বিএনপি নেতাদের অবহেলার জন্য, বেগম জিয়া আদালতের হাজিরা প্রলম্বিত করা, এক বছরের বিচার দশ বছরেও শেষ হয়নি এটার জন্য বিএনপির নেতারা দায়ী। রাজপথেও তারা মুক্তির দাবিতে দেখার মতাও বিক্ষোভ মিছিলও করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং শেখ হাসিনার উদারতার জন্য শাস্তি স্থগিত রেখে বাড়িতে থাকা ও চিকিৎসা করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনকি বিদেশ থেকে চিকিৎসক এনে চিকিৎসা করায় সহযোগীতা করেছে।

দেশি-বিদেশি চাপের বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, যুক্তিযুক্ত কতটা সেটা আমরা দেশ চালাচ্ছি, সেটা তো আমরা উপলব্ধি করি। কিভাবে আমাদের উপর চাপ দেয়া হয় সেটা আমরা দেশ শাসন করতে গিয়ে, দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এই চাপগুলো আমরা অনুভব করি। নির্বাচনের আগে প্রকাশ্যে হুমকি, ধমকি ছিলো, নিষেধাজ্ঞার ভয় ছিলো। এগুলো তো প্রকাশ্যেই দেয়া হয়েছিলো। এখানে কোনো গোপনীয়তার বিষয় ছিলো বলে আমার জানা নেই। এখানে তো কোনো সিক্রেট বিষয় ছিলো না। এই বিষয়ে আমাদের বক্তব্যও পরিষ্কার।

আওয়ামী লীগ বিরোধী দলের ষড়যন্ত্র কিভাবে মোকাবেলা করবে এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের সুসংগঠিত হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ১৪ দলীয় জোটকেও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে কাছে টানতে হবে। সব কিছু মিলিয়ে আমাদের নিজেদের সাবজেক্টিভ প্রিপারেশন এর উপর নির্ভর করে আমরা বাস্তব কঠিন পরিস্থিতি কে মোকাবেলা করতে সক্ষম।

উপজেলা নির্বাচনে অনেকেই দলের নির্দেশনা মানেনি, তাদের বিষয়ে দল কি ব্যবস্থা নিবে এমন প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, অনেকেই এর মধ্যে প্রত্যাহার করতে শুরু করেছেন। আমাদের কয়েকজন আগেই প্রত্যাহার করেছেন। আমাদের গোলাম দস্তগীরের ছেলে প্রত্যাহার করেছেন। আপনারা প্রশ্ন করতে পারেন, আমার স্বজনও একজন উপজেলায় প্রার্থী হয়েছেন। সেখানে প্রশ্ন টা হচ্ছে, আমাদের সমর্থন আছে কি না। আমি তার পক্ষে প্রশাসন বা নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে কি না সেটাই সেটাই দেখার বিষয়। পার্টির কারো এর সঙ্গে কোন সংযোগ নেই, নেতৃস্থানীয় কারো এর সঙ্গে কোন সমর্থন নেই। আমার সমর্থনের তো প্রশ্নই উঠে না। শেষ পর্যন্ত সরে যাবে না সেটাও বলা যায় না। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর যে গাইডলাইন সেটা আমি মুখে বলবো একটা আর কাজে করবো আরেকটা এটাই আমি বিশ্বাসী নই। কোনো প্রকার স্বজনপ্রীতি আমি কোন অবস্থাতেই প্রশ্রয় দিবো না।

স্বজন বলতে প্রধানমন্ত্রীর যে সংজ্ঞা সে বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমার কথা হচ্ছে, ভাই হউক, স্বজন হউক আমি তাকে দাঁড় করিয়েছি কি না। আমি তার পক্ষে সমর্থন দিচ্ছি কি না, আমার দল সমর্থন দিচ্ছে কি না সেটা হচ্ছে বড় কথা। আমি বা আমার দল যদি পক্ষে না থাকে তাহলে কেউ বিচ্ছিন্নভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার বিষয়ে জড়িত নেই।

প্রধানমন্ত্রীর বলা পরিবারের মধ্যে যেনো সব কিছু কেন্দ্রীভূত না করে এমন বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বজনদের সব কিছু দেয়ার জন্য যদি সব কিছু কেন্দ্রীভূত করা হয় দলের দীর্ঘ দিনের ত্যাগী নেতারা যাবে কোথায়? একথা আমাদের সভাপতি বলেছেন। আমাদের সকলের বক্তব্য সেটাই।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।

;