বিএনপি ঈদের দিনেও সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছে: কাদের



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি ঈদের দিনেও সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার-অপপ্রচার করতে ছাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।  

মঙ্গলবার (১৮ জুন) আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে কোরবানি কমেছে বিএনপির এমন অভিযোগ সত্য নয়, গত বছরের চেয়ে কোরবানি বেড়েছে। সমস্যা হচ্ছে বিএনপি ও মির্জা ফখরুলদের।

তিনি বলেন, আমিতো ঈদের দিনে বিরোধীদলকে কোনো কটাক্ষ করিনি। সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। ঈদের দিনটা অন্তত পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি থেকে বিরত থাকি।

তিনি আরও বলেন, গতবছর ঈদুল আজহার প্রথমদিনে ১ কোটি ৩ হাজার কোরবানি হয়েছিল, এবার প্রথম দিনেই ৩ লাখ বেশি হয়েছে। আজ ও কাল সময় রয়েছে। মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে এ কথা স্বীকার করি। তবে পাকিস্তানের মতো ২৫ শতাংশ, তুর্কিয়ের মতো ৭০ শতাংশ কিংবা আর্জেন্টিনার মতো ৩০০ শতাংশ হয় নি। এত প্রোপাগান্ডা, সমালোচনা, কিছু বুদ্ধিজীবীতো বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কা বানিয়ে ছাড়তে চেয়েছিল। আমাদের আন্তরিকতা রয়েছে, চেষ্টা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অতীতের ভুলত্রুটি সংশোধন করার মানসিকতা রয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, সর্বোভৌমত্বের প্রতি কোথায় আঘাত হলো। সেন্টমাটিন থেকে জাহাজ সরে গেছে, ভেতরে যারা অনুপ্রবেশ করেছিল তাদেরও তারা ফিরিয়ে নিয়েছে। আরাকান বিদ্রোহীদের একটি গুলি সেন্টমার্টিনের দিকে এসেছিল। তারাতো সেদেশের সরকারের বিরুদ্ধে লড়ছে, মিয়ানমারের যে সরকার, যেভাবেই থাক। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা বা সংঘাত সরকারের পক্ষ থেকে উসকানি দেওয়া হয় নি। আমরাতো মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের আগেই বলেছি, আমরা কাউকে উসকানি দিবো না। তবে আক্রান্ত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি এবং তারা দায়িত্বে থাকার সময় কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এমন প্রশ্রের জবাবে বলেন, সরকারের নজরে আসার আগে কীভাবে ব্যবস্থা নেবে, ব্যক্তির দুর্নীতি তখন দুদকও তদন্ত করেনি, তখন আমরা কি করে জানবো। দুদকও এবং বিচার বিভাগ স্বাধীন তারা যে কারো দুর্নীতি তদন্ত করতে পারে, মামলা করতে পারে। এখানে সরকারের পক্ষ থেকে কোন রকম বাধা দেওয়া হয় নি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিকে আশ্রয় প্রশয় দেন নি। যেই হোক তাকে বিচারের আওতায় আসতে হবে। কিন্তু যদি বিএনপি ও জাতীয় পার্টির শাসনামলের কথা বলি তখন কিন্তু অনেক দুর্নীতি ও সন্ত্রাস ছিল। তাদের বিচার হতো না।

কোটার উদ্দেশ্য আ.লীগের পেটুয়া বাহিনীদেরকে সরকারের ভেতর ঢুকানো: ফয়জুল করীম



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম, জামালপুর
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়েখে চরমোনাই

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়েখে চরমোনাই

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়েখে চরমোনাই বলেছেন, চাকরিতে কোটার আসল উদ্দেশ্য হলো আওয়ামী লীগের পেটুয়া বাহিনীদেরকে সরকারের ভেতর ঢুকানো। ৫৬ শতাংশ সরকারি চাকরিজীবী হবে কোটার ভিত্তিতে এটা সহ্য হয় না। এটা হতে পারে? এটার কোনো যুক্তি আছে?

মেধার দাম কোথায়? বাবা মুক্তিযোদ্ধা, ছেলে মুক্তিযোদ্ধা কোটা, নাতিও কোটা, তারপরেও কোটা, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ কি গর্তে যাবে? যারা কোটাবিরোধী আন্দোলন করছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে, হুমকি দেয়া হচ্ছে।

শনিবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে শহরের চালাপাড়া এলাকায় জামালপুর সুইড বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুল অডিটোরিয়ামে জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ জামালপুর জেলা শাখা আয়োজিত উলামা মাশায়েখ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ময়লার সব অংশই যেমন খারাপ, তেমনি বর্তমান শিক্ষা সিলেবাসের সব লাইনই খারাপ, সব অংশই খারাপ। মুসলমানদের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। আমাদের মুসলিম শাসক ও যোদ্ধাদের ডাকাত ও লুটেরা হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা চলছে। আমাদের আর বিচ্ছিন্ন থাকলে হবে না, এখন সকল উলামা মাশায়েখদের একত্রিত হতে হবে।

জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে সমাবেশে জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতী রেজাউল করীম আবরার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি সৈয়দ ইউনুস আহাম্মেদসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর মঙ্গল কামনা করে দোয়া করা হয়।

;

সৈয়দপুরে আ.লীগ নেতার হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করে টাকা দাবি



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নীলফামারী
মোকছেদুল মোমিন (৬৫)

মোকছেদুল মোমিন (৬৫)

  • Font increase
  • Font Decrease

নীলফামারীর সৈয়দপুরে মোকছেদুল মোমিন (৬৫) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করেছে হ্যাকাররা। এ ঘটনায় সৈয়দপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

শনিবার (১৩ জুলাই) রাতে তিনি বার্তা২৪.কমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ।

মোকছেদুল মোমিন সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

থানায় লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন মানুষের কাছে সমস্যার কথা বলে টাকা চেয়ে মেসেজ করেন হ্যাকাররা।এসময়ে তারা একটি ১১ সংখ্যার বিকাশ নাম্বার ব্যবহার করেন । পরে তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরে তার ফেসবুক আইডি থেকে একটি সর্তকীকরণ বার্তা পোস্ট করেন।

এ বিষয়ে মোকছেদুল মোমিন বলেন, আমার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ক্লোন করে পরিচিত অনেকের কাছে টাকা চাইছে একটি চক্র। যাদের কাছে টাকা চাচ্ছে তাদের সন্দেহ হওয়ায় তারা আমাকে বিষয়টি জানান। পরে নম্বরটি ক্লোন করা হয়েছে বলে বুঝতে পারি। ওই নম্বর থেকে কারো কাছে ফোন গেলে যেন সতর্ক থাকেন।

থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

;

চট্টগ্রাম বিএনপি: নতুন কমিটির ‘অভিষেকে’ সামনে এলো বিভেদ



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম বিএনপি

চট্টগ্রাম বিএনপি

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের এক সপ্তাহ পর মাঠে দেখা গেল দুই নেতাকে। তবে তাদের সেই ‘অভিষেক’ অনুষ্ঠানে ছিলেন না সদ্য বিলুপ্ত হওয়া কমিটির দুই শীর্ষ নেতা। ছিলেন না নগর বিএনপির প্রথম সারির অন্য নেতারাও। এর মধ্যে দিয়ে নগর বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে দলের অন্দরের চাপা ক্ষোভটা যেন প্রকাশ্যে আসল।

গত ৭ জুলাই নগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এরশাদুল্লাহকে আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রদল নেতা নাজিমুর রহমানকে সদস্যসচিব করে দুই সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে ১৩ জুন ডা. শাহাদাত হোসেন এবং আবুল হাশেম বক্করের নেতৃত্বাধীন আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। তবে আন্দোলন সংগ্রামে সোচ্চার এবং হামলা-মামলায় নেতাকর্মীদের পাশে থাকায় এই দুই নেতা আবারও কমিটিতে আসতে পারেন বলে দলে আলোচনা ছিল। কিন্তু সেটি হয়নি। তা নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও ভেতরে ভেতরে দুই নেতা ও তাদের অনুসারীরা ক্ষুব্ধ আছেন।

দায়িত্ব পাওয়ার ছয়দিনের মাথায় শুক্রবার (১৩ জুলাই) বিকেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের মধ্যে দিয়ে কর্মসূচি শুরু করে নতুন কমিটি। জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদে এই আয়োজন শেষে নেতাকর্মীরা কাজির দেউড়ি এলাকায় অবস্থিত নাসিমন ভবনের দলীয় কার্যালয়ে যান। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন নতুন কমিটির আহ্বায়ক এরশাদুল্লাহ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মীর হেলাল উদ্দিন। নতুন কমিটি গঠনের পেছনে এই নেতার ভূমিকার কথা দলে আলোচনা আছে। সমাবেশের সময় তিনি এরশাদুল্লাহ ও নাজিমুর রহমানের মাঝখানে ছিলেন।

তবে বক্তব্যে ঐক্যের ডাক দেন এরশাদুল্লাহ। তিনি বলেন, এই কার্যালয় আমাদের কোনো ব্যক্তিগত অফিস নয়, এটা আমাদের বিএনপির অফিস। এটা আপনাদের অফিস। আপনারা সবসময় এখানে আসবেন। বিএনপি অফিসে আপনাদের আনাগোনা-বিচরণ সবসময় থাকবে। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব। বিএনপিকে ঘুরে দাঁড় করানোর জন্য আমাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই দায়িত্ব আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব। আমাদের অঙ্গীকার হবে আমরা সবাইকে নিয়ে দল গঠন করব। সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

অবশ্য নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত কমিটির দুই নেতা কেন ছিলেন না বা তাদের কি দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল কিনা সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তবে দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে শাহাদাত ঢাকায় অবস্থান করছেন।

;

এখনো অন্ধকারেই এরশাদের ‘আমার জীবনের অবশিষ্ট অধ্যায়’ পাণ্ডুলিপি



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত, হুসেইন মহম্মদ এরশাদ

ছবি: সংগৃহীত, হুসেইন মহম্মদ এরশাদ

  • Font increase
  • Font Decrease

জীবদ্দশায় অসমাপ্ত আত্মজীবনী (‘আমার জীবনের অবশিষ্ট অধ্যায়’) প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সবকিছু চূড়ান্ত করে এনেছিলেন। আর কয়েকটা দিন সময় পেলে প্রকাশনা উৎসব করে যেতে পারতেন তিনি। কিন্তু তা আর করে যেতে পারেননি এরশাদ।

জীবদ্দশায় কেন এত তাড়াহুড়ো করেছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, তা সমর্থকেরা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারছেন এখন।

যে বইটির প্রচ্ছদ থেকে সবকিছু চূড়ান্ত, শুধু ছাপানো বাকি, সেই কাজটুকু করার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি গত ৫ বছরে।

এরশাদের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি (জাপা) নিয়ে যতটা টানাহেঁচড়া চলছে, তার সিকিভাগও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না এরশাদের লিখিত ‘আমার জীবনের অবশিষ্ট অধ্যায়’ বইটি নিয়ে।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিজেই বইটির নামকরণ করেন- আমার জীবনের অবশিষ্ট অধ্যায়

এতে স্থান পেয়েছে, জেল থেকে বের হওয়ার পর তার রাজনীতি, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট। থাকছে, নানান রকম ঘটনা প্রবাহ ও জাপার ভাঙাগড়ার নানা রকম উত্থান-পতন। বইটির প্রচ্ছদে এরশাদের কোট, টাই পরা পোর্টেট ছবি। আর পেছনের প্রচ্ছদে গোধূলিলগ্নে চিন্তমগ্ন এরশাদের সাদাকালো ছবি প্রয়াত এই রাষ্ট্রপতি নিজেই পছন্দ করেছিলেন। বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮শ ৩২।

হুসেইন মহুম্মদ এরশাদের প্রেস ও পলিটিক্যাল সেক্রেটারি সুনীল শুভরায় বইটির অনুলিখন করেছেন।

এরশাদের দীর্ঘ সময়ের এ সহযোগী বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, ‘স্যারের (এরশাদ) মৃত্যুর পর বইটির পাণ্ডুলিপি জিএম কাদেরের হাতে দেওয়া হয়। তিনি নিজেও বের করলেন না আবার আমাদেরকেও বের করতে দিলেন না। অথচ তার নিজের (জি এম কাদের) লেখা অখাদ্য-কুখাদ্য বই প্রকাশ করেছেন। অবশেষে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাষ্ট থেকে বইটি প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, কয়েক মাসের মধ্যেই প্রকাশিত হবে’!

কী কী বিষয় স্থান পাচ্ছে বইটিতে এমন প্রশ্নের জবাবে সুনীল শুভ রায় বলেন, 'জেল থেকে মুক্তির পর ২০১৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত অনেক অজানা সত্য জানতে পারবেন পাঠক। তবে এরপরও কিছু সেন্সর থেকেই যায়। কারণ, সব কথা বলা সম্ভব হয় না!’

বইটির সঙ্গে জড়িত এমন একজন নাম প্রকাশ না-করার শর্তে বার্তা২৪.কমকে জানিয়েছেন, ‘আমার জীবনের অবশিষ্ট অধ্যায়’ বইটির বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। কীভাবে জাতীয় পার্টিকে ভাঙা হয়েছে। তাঁর দলের সদস্যের মন্ত্রিসভায় থাকা না থাকার বিষয়। এরশাদ কী চেয়েছিলেন আর কী হয়েছে অনেকখানি, খোলাসা করার চেষ্টা হয়েছে বইটিতে।

তিনি বলেন, অবশ্য ওই বইটি এরশাদের প্রথম জীবনীগ্রন্থ নয়। ২০১৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে আমার কর্ম আমার জীবন

এই বইয়ে স্থান পেয়েছে তাঁর বেড়ে ওঠা, স্কুলজীবন, সেনাবাহিনীতে প্রবেশ, রাষ্ট্রপতি হওয়া, ক্ষমতা হস্তান্তরের পর জেলে যাওয়া এবং জেল থেকে মুক্তি পর্যন্ত। ৮শ ৬৪ পৃষ্ঠার বইটিতে অনেক অজানা তথ্য তুলে ধরেছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের লেখা প্রথম গ্রন্থ- 'আমার কর্ম আমার জীবন' ২০১৬ সালে প্রকাশিত হয়, ছবি- সংগৃহীত 

প্রথম বইয়ে নায়িকার নাম প্রকাশ না-করলেও অকপটে স্বীকার করেছেন তার প্রথম প্রেমপত্রের চিঠির অনুভূতি। সেই চিঠির ভেতরে থাকা গোলাপের পাঁপড়ির ঘ্রাণ। চিঠির সেই নায়িকার প্রতি আকর্ষণের কারণে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই প্রেয়সীর সাড়া না মেলায় বেশিদূর এগুতে পারেননি এরশাদ।

তিনি অকপটে তুলে ধরেছেন তার সেসব অনুভূতির কথা। আবার জীবনে প্রথম অন্যের টাই পরে চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়া, চাকরিতে যোগদান, রওশনের বাবার সঙ্গে টেনিস খেলা থেকে কীভাবে পরিণয়, সবই তুলেছেন তার প্রথম বইয়ে।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জীবদ্দশায় বইটি চূড়ান্ত করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ হাসপাতালে চলে যাওয়ায় বইটির প্রকাশনা থেমে যায়। দেখতে দেখতে পরলোকগমনের পাঁচ বছর পেরিয়ে গেল, তবুও সেই বইটি আলোর মুখ দেখছে না।

প্রথমদিকে অর্থ সংকটের কথা বলা হলেও সাধারণ কর্মীরা এটি মানতে নারাজ। তারা মনে করছেন, এরশাদ অনেকটা অনাদরে থাকছেন শীর্ষনেতাদের কাছে। যতটুকু নিজেদের জন্য প্রয়োজন, সেটাই করছেন।

জাতীয় পার্টির একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য নাম প্রকাশ না-করার শর্তে বলেছেন, দেখেন, আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সামনে রেখে রাজনীতি করছে। বিএনপির জিয়ার আদর্শকে ‘ক্যাশ’ (পুঁজি) করে রাজনীতি করছে।

জাতীয় পার্টিকেও বাঁচতে হলে এরশাদের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। জাতীয় পার্টি কিন্তু সেই কাজটি যথাযথভাবে করতে পারছে না। এমন অবস্থা অব্যাহত থাকলে জাতীয় পার্টি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে।

জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এরশাদকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়ে এসেছে। আয়-ব্যয় সবই ছিল এরশাদকেন্দ্রিক। এরশাদ প্রয়াত যাওয়ার আগেই তার সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ট্রাস্টের নামে লিখে দিয়েছেন। সেই ট্রাস্টও এখন পুরোপুরি জাতীয় পার্টি তথা জিএম কাদেরের হাতছাড়া। আবার নানা কারণে বিশেষ অনুদানের প্রবাহও কমে গেছে। প্রকৃত অর্থেই জাপা কিছুটা আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। তবে বই প্রকাশ করতে পারবে না, এতটা খারাপ নয়। সদিচ্ছার অভাব দেখছেন নেতাকর্মীরা।

;