গোপন প্রতিবেদন দেবে জাপার বিভাগীয় সাংগঠনিক টিম

সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় পার্টির বিভাগীয় সাংগঠনিক টিম সারাদেশ সম্পর্কে একটি গোপন প্রতিবেদন তৈরি করবে। এতে চিহ্নিত করা হবে লাঙ্গলের সম্ভাবনাময় আসন ও সম্ভাব্য জনপ্রিয় প্রার্থীর নাম। আগামী নির্বাচনে পার্টির চেয়ারম্যান সহজেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি এমপি।

বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে তিনি বলেন, ‘পার্টির চেয়ারম্যানের পক্ষে যেহেতু প্রতিটি জেলা-উপজেলায় গিয়ে খোঁজ খবর নেওয়া কঠিন, সে কারণে সাংগঠনিক টিমগুলো গোপন প্রতিবেদন চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেবে। আর যেসব জেলায় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেসব জেলায় কাউন্সিলের ব্যবস্থা করবে।’

যদিও জাতীয় পার্টির এ বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের কার্যক্রমে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা খুশি হতে পারছেন না। তারা যেভাবে প্রস্তাব করেছিলেন, যেভাবে রেজাল্ট আশা করেছিলেন, কিন্তু তার ধারের কাছেও নেই কমিটিগুলো। যে প্রস্তাবের ভিত্তিতে এসব টিম করা হয়, সে প্রস্তাবের কোনো প্রতিফলনই না থাকায় হতাশ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

গত জুন মাসে মতিঝিল এজিবি কলোনি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সভায় জেলার নেতাদের দাবির প্রেক্ষিতে সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়। তাদের প্রস্তাব ছিল, জেলা-উপজেলা কমিটিগুলো ঝিমিয়ে পড়েছে, অনেক জায়গায় দ্বন্দ্ব-গ্রুপিং, কোথাও আবার রয়েছে মান-অভিমান।

ওই সভায় দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি জুলফিকার হোসেন বলেছিলেন, ‘আমাদের পার্টিতে নির্বাচনের ১৫ দিন আগে মনোনয়ন বাণিজ্য হয়। এটা বন্ধ করতে হবে। আগামী নির্বাচনের জন্য এখনই প্রার্থী মনোনীত করে তাকে মাঠে নামিয়ে দিতে হবে। এজন্য সাংগঠনিক টিম পাঠিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে হবে। সাংগঠনিক টিমকে যেন স্থানীয় এমপি ও পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা প্রভাবিত করতে না পারেন। পদ দিয়ে লাভ নেই, কর্মসূচি দেন, আমাদের কাজ দেন, তাহলেই পার্টি ঘুরে দাঁড়াবে। বিএনপি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। এ সময়ে আমরা এগিয়ে গেলে জনগণ আমাদের কাতারে এসে দাঁড়াবে।’

এর আগে অন্যান্য জেলার নেতারাও সাংগঠনিক টিম গঠনের পক্ষে মত দেন। জুলফিকার হোসেনের বক্তব্যের জবাবে সেদিন জাতীয় পার্টির সেই সময়ের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছিলেন, ‘আমরা আট বিভাগে আটটি সাংগঠনিক টিম গঠনের চিন্তা করছি। কেউ বলছেন, স্ব-স্ব বিভাগ থেকে টিম করার জন্য, কেউ বলছেন বাইরে থেকে করার জন্য। আপনারা এ বিষয়ে মতামত দিতে পারেন, কোনটা হলে ভালো হয়।’

আলোচনা ও দাবির প্রেক্ষিতে বিভাগীয় সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়। প্রধান দাবি ছিল, সরেজমিন ভিজিট করার। কিন্তু সে জায়গা থেকে সরে এসে চলছে কার্যক্রম। বেশিরভাগ বিভাগীয় কমিটি ঢাকায় বসে তাদের দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছেন। জেলা ও বিভাগের নেতাদের ঢাকায় ডেকে মিটিং করে সিদ্ধান্ত দেওয়ার চেষ্টা চলছে। রংপুর, সিলেট, বরিশাল, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিটি এ পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে যায়নি।

অন্যদিকে ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি একটি/দু’টি করে জেলা ঘুরে দায় সেরেছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় টিম প্রথম কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলা সফর করে আশার সঞ্চার করেছিল। এরপর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না তাদের। ঢাকা বিভাগীয় টিম মাদারীপুর ও নরসিংদী জেলা সফর করে ঢেকুর তুলছে। রাজশাহী বিভাগীয় টিম একদিনের জন্য রাজশাহী সফর করে থমকে আছে।

অথচ জেলার নেতাদের সবচেয়ে বেশি দাবি ছিল, বিভাগীয় কমিটি যেন সরেজমিন ঘুরে দলকে সংগঠিত করে। অভিমান করে দূরে সরে যাওয়া নেতাদের ফিরিয়ে আনা এবং ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করার দাবিও ছিল। তৃণমূলের নেতারা মনে করছেন, বিভাগীয় সাংগঠনিক টিম কক্ষচ্যুত হয়েছে। তারা যেভাবে জেলার নেতাদের ডেকে প্রেসক্রিপশন দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তাতে কাঙ্ক্ষিত সফলতা আশা করা যায় না। দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় গ্রুপিংয়ের কারণে যারা দূরে সরে গেছেন, আবার কেউ কেউ অভিমান করে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন, তাদের ফিরিয়ে আনার। রানিং কমিটির গুটি কয়েক নেতাকে ঢাকায় ডেকে সেই কাজটি সম্ভব না।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় টিমের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘হ্যাঁ এ কথা সঠিক যে জেলায় জেলায় না গিয়ে প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল করা সম্ভব না। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে এসব কর্মসূচি সফল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অন্যান্য জেলায়ও যাওয়ার সিডিউল করেছিলাম। কিন্তু একজনের অসুস্থতার কারণে তা থেমে আছে। অবশ্যই জেলায় জেলায় যাওয়া হবে।’

জেলা সফর না করে ঢাকায় ডেকে বৈঠক প্রসঙ্গে সিলেট কমিটির নেতা ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, ‘আসলে আমরা জেলায় যাব। তারিখ নির্ধারণ করতে নেতাদের ডেকে আলোচনা করেছি। অন্যান্য কমিটিও হয়তো তাই করছে। ঢাকায় বসে সব করা হবে, বিষয়টি এমন নয়।’

আপনার মতামত লিখুন :

এ সম্পর্কিত আরও খবর