লেজুড়বৃত্তি করছি না: জিএম কাদের

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রতিনিধি সভা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রতিনিধি সভা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের (এমপি) বলেছেন, ‘বিগত নির্বাচনে জোট করেছি, আমরা লেজুড়বৃত্তি করছি না। লেজুড়বৃত্তি করলে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই নিতে পারতাম। আমরা সংসদে সোচ্চার রয়েছি, শুধু ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ করিনি।’

সোমবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানের ইমানুয়েলস কনভেনশন সেন্টার মিলনায়তনে জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রতিনিধি সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

জিএম কাদের বলেন, ‘দেশের প্রধান তিনটি দলের মধ্যে জাতীয় পার্টি একটি। প্রধান দলগুলো যদি জোটবদ্ধ হয় আমরা বাইরে থাকতে পারি না। তাই আমরা জোটবদ্ধ নির্বাচন করেছি। আমাদের যখন যা দরকার তাই করছি। আন্দোলন করা প্রয়োজন হলে করতে হবে। লোক দেখানো সমাবেশ, লোক ভাড়া করে সমাবেশ করলে চলবে না। লোকজড়ো করার সংগঠন চাই না। এমন লোকজন থাকবে যারা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও পাশে থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংস্কারক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ওনার আরেকটি প্রস্তাব রয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার। বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থা ক্রটিপূর্ণ। ওনার প্রস্তাব ছিল আনুপাতিক হারে নির্বাচন ও ফেডারেল সরকার ব্যবস্থা। আমরা এটিকে বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগী হবো।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি লোভ লালসা কিংবা ব্যক্তিগত চাওয়ার ভিত্তিত্বে সিদ্ধান্ত নেই না। আমার কাছে অনেকে আসেন কথা বলি। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে তা কোনোভাবে প্রভাবিত করতে পারে না। রাজনীতিতে শূন্যতা রয়েছে। মানুষ জাতীয় পার্টির দিকে চেয়ে আছে। দল হিসেবে জাপাকে ভালোবাসে। মানু্ষ চায় জাপা আরও এগিয়ে আসুক।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে কোনো সিস্টেম ছিল না। কে কতদিন রয়েছে তার কোনো রেকর্ড নেই। তাই কিছুটা ভুলত্রুটি হয়েছে। তবে আমরা আশা করছি ভবিষ্যতে এমন অভিযোগ উঠবে না।’

সভায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘পাঁচজন আওয়ামী লীগার হলে পাঁচ গ্রুপ, কিন্তু জাতীয় পার্টি মাত্র একটি গ্রুপ জিএম কাদেরের। এ জন্য আমরা বেশি শক্তিশালী।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসে কেউ রাক্ষস কেউ বাঘ হয়ে গেছে। আমরা সরকারের কোনো দোষ নেব না। আমাদের কর্মীদের ওপর অত্যাচার চলছে। সময় আসুক জবাব দেওয়া হবে। আমি জানি কিভাবে জবাব দিতে হয়। প্রধানমন্ত্রী এক কথা বলেন, মন্ত্রীরা আরেক কথা বলেন, তৃণমূলের নেতা করেন অন্য রকম কর্মকাণ্ড।’

রাঙ্গা বলেন, ‘আমরা সমর্থন করেছিলাম, এজন্য আওয়ামী জাতীয় পার্টি বলা হয়। কিন্তু তারা সেই বন্ধুত্বের কোনো মর্যাদা দিচ্ছেন না। আমরা এমন বন্ধুত্ব রাখতে চাই না। যারা মানুষের টাকা মেরেছে, অত্যাচার করেছে তারা এখন জেলে যাচ্ছে। আরও অনেককে জেলে যেতে হবে। আওয়ামী লীগ যদি তাদের জেলে না নেয়, তাহলে আল্লাহর গজব নেমে আসবে।’

দারুস সালাম জাতীয় পার্টির সভাপতি হামিদ হাসান বলেন, ‘জাতীয় পার্টিকে এখন আওয়ামী জাতীয় পার্টি বলা হয়, আমরা এমন জাতীয় পার্টি চাই না। প্রকৃত জনবান্ধব জাতীয় পার্টি দেখতে চাই। নেতাদের বাসায় যারা ঘুরঘুর করে তাদের নেতা বানাবেন না। এরা পার্টিকে, আপনাকে বিক্রি করবে।’

মহানগর উত্তর জাতীয় পার্টির সভাপতি প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সল চিশতীর সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা (এমপি), অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম (এমপি), মিরপুর থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, পল্লবী থানার সভাপতি আমানত হোসেন আমানত, কাফরুল থানার সভাপতি শামসুল হক, শাহআলী থানার সভাপতি মাহফুজ মোল্লা বক্তব্য দেন।

এসময় অন্যদের মধ্যে প্রেসিডিয়াম সদস্য নাজমা আক্তার (এমপি), ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরু, বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবুল, আহসান আদেলুর রহমান (এমপি), যুগ্ম দফতর সম্পাদক এমএ রাজ্জাক খান, মহানগর মহিলা পার্টির সভাপতি ডা. সেলিমা খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :

এ সম্পর্কিত আরও খবর